আলোচিত যারাবিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

যে অভিনেতার জীবন সিনেমাকেও হার মানায়

মাহমুদুর রহমান: একটা সময় ধারণা ছিল যে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে হলে সুন্দর চেহারা থাকতে হবে। ধীরে ধীরে সে ধারণা ভেঙেছে। কিন্তু অভিনয়, বিশেষত বলিউডের মতো জায়গায় কারও আশীর্বাদপুষ্ট না হয়ে নিজেকে উচ্চতায় তুলে আনা সহজ কাজ না, সেটা এখনও সবাই মানেন। অল্প যে কয়েকজন সে কাজটা করতে পেরেছে, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী তাদের মাঝে একজন। ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের মফস্বল শহর বুধানায় জন্ম নওয়াজের। উত্তর প্রদেশ সম্পর্কে যারা জানেন, তারা সেখানকার অবস্থা আন্দাজ করতে পারেন। গম, আখের বিস্তৃত খেত আর ডাকাতের ভয়। সাধারণ মানুষও ঘোরে বন্দুক কাঁধে নিয়ে। এখানেই বেড়ে ওঠা সিদ্দিকীর।

নওয়াজের পরিবার একটু ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে যখন তাদের শহর ছেড়ে আসে তখন নওয়াজের কেবল গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়েছে। কেমিস্ট হিসাবে চাকরি নিয়েছেন এক পেট্রো-কেমিক্যাল কোম্পানিতে। সে চাকরিতে টিকলেন না বেশীদিন। এরপর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেন। দিল্লীতে কাজ নিলেন। তখন তার পেশা একজন ওয়াচম্যানের। দিল্লীতে কাজ করতে করতে মাঝে মাঝেই থিয়েটার দেখতে লাগলেন। তখনই মনে হলো ঠিক এই কাজটিই তিনি করবেন। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। যোগ দিলেন থিয়েটার দলে। স্বপ্ন দেখতেন নওয়াজ, ছোটবেলা থেকেই। সেই স্বপ্নের পাখায় ভর করে, আরেকটা সাহসের কাজ করলেন। ১৯৯৪ সালে জাতীয় নাট্যশালা স্কুলে ভর্তি হলেন। সেখানের পড়াশোনার পাট চুকলো ১৯৯৬ সালে। একটা ডিগ্রি আর স্বপ্ন নিয়ে পা রাখলেন ভারতের বর্ণিল শহর, স্বপ্নের শহর মুম্বাইয়ে।

কিন্তু মুম্বাই এমন এক শহর যেখানে স্বপ্নের যেমন শেষ নেই, সঙ্কটেরও শেষ নেই। নওয়াজের নেই কোন পরিচিতি। তাকে কে কাজ দেবে। ঘুরতে লাগলেন স্টুডিও থেকে স্টুডিওতে। এক সময় পকেটে এক বেলা খাওয়ার পয়সাও নেই। সে সময়ে নাট্যশালা স্কুলের পরিচিত লোক তাকে থাকার জায়গা দিতে রাজ হন। শর্ত হলো নওয়াজকে দুইবেলা রান্না করতে হবে। ১৯৯৯ সালে বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়লো। আমির খানের ‘সারফারোশ’ সিনেমায় এক পাতি গুণ্ডার চরিত্র পেয়ে গেলেন নওয়াজ। সেই শুরু। এরপর কখনও ছোট কোন রোল, কখনও শর্ট ফিল্মে কাজ করলেন। লেগে থাকলেন, হাল ছাড়লেন না। অনুরাগ কশ্যপ বরাবরই ভিন্ন ধারার সিনেমা তৈরি করেন। তেমনি সিনেমা ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’। এই সিনেমায় নওয়াজ অনেকের চোখে পড়লেন। আর সকলের আগ্রহের কেন্দ্রে আসলেন তিনি ‘পিপলি লাইভ’ সিনেমার মাধ্যমে। স্যাটায়ার ধর্মী এই সিনেমায় এক সাংবাদিকের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন নওয়াজ।

তারপরেও সাত বছর বলতে গেলে শূন্যের কাছাকাছি। একটু একটু করে এগিয়েছিলেন। জহুরীদের চোখে পড়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সবার চোখে পড়লেন ২০১২ সালে। অনেকেরই ধারণা ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’-ই নওয়াজকে সবার চোখে এনে দেয়। কিন্তু মূলত নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী মেইনস্ট্রিম দর্শকের চোখে পড়েন সুজয় ঘোষের ‘কাহানী’ সিনেমার মাধ্যমে। একরোখা পুলিশ অফিসারের এই চরিত্রটি তাকে এনে দেয় জনপ্রিয়তা, দেয় সর্বাধিক পরিচিতি।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker