বিনোদন

নো ল্যান্ডস ম্যান: এক অদ্ভুত পৃথিবীকে আবিষ্কারের গল্প?

মাহমুদুর রহমান: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী এখন একটি অনন্য নাম। কেবল নাম শুনে যাদের চিনে ফেলা যায় বাংলাদেশে তেমনি একজন তিনি। কেবল দেশে নয়, বিদেশেও তিনি স্বনামে খ্যাত। ইদানীং তার চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং অন্যান্য কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে একথা সত্য কিন্তু তাতে ফারুকীর কর্মের বৈচিত্র্যই ধরা পড়ে। লক্ষ্য করলে দেখা যায় তার প্রতিটি সিনেমা নতুন কোন ভাবধারা নিয়ে আসে। একই ভাবের গল্প নিয়ে একাধিক কাজ করার প্রবণতা তার নেই। অর্থাৎ বিষয় বৈচিত্র্যে ফারুকী অনন্য। তিনি যেমন নারী পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে চলচ্চিত্র করেছেন, তেমনি করেছেন সামাজিক ধ্যান ধারণা নিয়ে।

এবং অচিরেই আসছে গুলশান ট্র্যাজেডিকে উপজীব্য করে তার সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’। ‘ডুব’ নিয়ে ফারুকী আলোচিত হয়েছেন, হয়েছেন সমালোচিত। ‘শনিবার বিকেল’ নিয়েও আছে অনেক জল্পনা কল্পনা। মজার ব্যপার হলো এ দুটো সিনেমার আগে ফারুকী আরেকটা সিনেমার পরিকল্পনা করেছিলেন। সিনেমার নাম ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’। আন্তর্জাতিক সীমানা এবং সীমান্তে ঘটে যায় প্রতিদিন নানা ঘটনা। কখনও চোরাচালান, কখনও অন্য দেশের সীমান্ত রক্ষীর গুলিতে মৃত্যু। বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তেও এমন ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে ফারুকীর ‘‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ এমনই কোন গল্প অবলম্বনে তৈরি হতে যাচ্ছে। সিনেমার গল্প সম্পর্কে এখনও তেমন কিছু জানা যায়নি। গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে এ সম্পর্কে। ঠিক একই রকম গোপনীয়তা ছিল ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে। তবে একটি তথ্য সামনে এসেছে, এনেছেন ফারুকী নিজেই। তার এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন বলিউডের তুখোড় অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। তিনি ঠিক কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন তা এখনও নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বিষয় এবং অভিনেতা, উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনতে যাচ্ছেন ফারুকী। পূর্বে, তার ‘ডুব’-এ বলিউড অভিনেতা ইরফান খানের অভিনয় এবং বাংলা উচ্চারণ নিয়ে দর্শক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়েছিল।

‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ হতে যাচ্ছে ফারুকীর প্রথম ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র। এর আগে এই ছবির চিত্রনাট্য একাধিক ফেস্টিভালে ফান্ড জিতে নেয়। ২০১৪ সালে প্রথম বুসান ফিল্ম ফেস্টিভালে এশিয়ান প্রজেক্ট মার্কেটে নির্বাচিত হয়। এরপর একই বছর নভেম্বরে ভারতের এনএফডিসি আয়োজিত ফিল্ম বাজারে শ্রেষ্ঠ প্রজেক্টের পুরস্কার লাভ করে। একই বছরের ডিসেম্বরে মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা এবং এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড-এর যৌথ উদ্যোগে দেয়া অ্যাপসা ফিল্ম ফান্ড লাভ করে। প্রতিবছর এশিয়ার দুটি চলচ্চিত্রকে এই ফিল্ম ফান্ডের জন্য নির্বাচিত করা হয়। ২০১৪ সালে এটি পেয়েছিলেন পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ইরানের বিখ্যাত নির্মাতা জাফর পানাহি।

ফারুকীর নতুন ছবিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে ভ্যারাইটিকে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, এই সিনেমার চিত্রনাট্যটা আমি প্রথম যখন পড়ি তখন থেকে এটি আমার সাথে রয়ে গেছে। জোরালো রসবোধ, ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ এবং আবেগের মধ্য দিয়ে আজকের যুগের এক অদ্ভুত পৃথিবীকে আবিষ্কার করে এই চিত্রনাট্য। কিছু সিনেমা আছে যেগুলো আপনার অবশ্যই বানানো উচিত। একজন অভিনেতার সামর্থ্যের বাইরেও এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য আমি নিজের ভিতর একটা তাগিদ অনুভব করছিলাম, কারণ আমার মনে হয়েছে এটা এমন একটা সিনেমা অবশ্যই যেটা তৈরি হওয়া দরকার।

এখন আমাদের অপেক্ষার পালা। দেখা যাক, নওয়াজকে নিয়ে কি ম্যাজিক দেখান ফারুকী?

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker