বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

অ্যাভেঞ্জার্স এন্ড গেম: সিনেমাপ্রেমীদের আবেগের নাম

মাহমুদুর রহমান: এ বছরের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সিনেমা সম্ভবত ‘অ্যাভেঞ্জার্সঃ এন্ড গেম’। মার্ভেল কমিক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি এই ফ্রাঞ্চাইজ আপাতত পৃথিবী জুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সিনেমাটি, কিংবা সিরিজটি এতোই জনপ্রিয় যে ‘এন্ড গেম’ এর টিকেটের জন্য হুরোহুরি লেগেছে পৃথিবীর সবখানে।
সিনেমা শুরু হয় এর আগের পর্ব অর্থাৎ ইনফিনিটি ওয়ার এর পর থেকে। গত পর্বে অনেক নায়ক হারিয়ে গেছেন যারা কাজ করছিলেন পৃথিবীর মানুষের জন্য। খলনায়ক থ্যানোসের কারনে মারা গেছে অনেক মানুষ, সঙ্গে বেশ কিছু আভেঞ্জার্স। তাই থ্যানোসকে হত্যার জন্য স্পেসে চলে গেছে আয়রন ম্যান। এখান থেকেই ‘এন্ড গেম’ শুরু।

মূলত মার্ভেল কমিকের নানা চরিত্র একত্রিত করে তৈরি হয়েছে আভেঞ্জার্স। সেখানে প্রতিটি চরিত্রের রয়েছে আলাদা গল্প। ‘আয়রনম্যান’, ‘ব্ল্যাক উইডো’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’, ‘হাল্ক’, ‘স্পাইডারম্যান’, অন্য জগত থেকে আসা ‘থর’ এবং আরও অনেকে। তাদের সকলকে নিয়ে তৈরি দল ‘আভেঞ্জার্স’ আপাতত তাদের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি, যার নাম থ্যানোস। মূলত এন্ড গেম সিনেমায় আছে মার্ভেলের অন্য আরও অনেক সিনেমায় দেখানো গল্পে থাকা সমস্যার সমাধান। আসলে মার্ভেল টিম, তাদের সকল সিনেমার সঙ্গে অ্যাভেঞ্জার্সকে যুক্ত করার জন্য ছোট ছোট বিষয় রেখে দিয়েছিল সব সিনেমায়। ক্যাপ্টেন আমেরিকার সঙ্গে আয়রন ম্যানের সম্পর্ক, তাদের অতীত ইত্যাদি। এসব বিষয় খুব সুন্দর করে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে সিনেমায়।

এন্ড গেমের গল্প থ্যানোসকে পরাজিত করার গল্প। সে কাজটি করতে গিয়ে আরেকবার সমস্ত অ্যাভেঞ্জার্স কি করে একত্র হয় সে গল্প দেখানো হয়েছে এখানে। একটা টিম হিসেবে কাজ করতে হলে, কোন মহৎ উদ্দেশ্য সাধন করতে হলে প্রত্যেককে কিছু না কিছু ত্যাগ করতে হয়। যারা অ্যাভেঞ্জার্স দেখেছেন তারা বুঝবেন ব্যপারটা যে থ্যানোসকে হারাতে হলে এই টিমকে কতোটা শক্তির মোকাবেলা করতে হবে। সেখানে ব্ল্যাক উইডো, আয়রন ম্যান, হাল্ক, ক্যাপ্টেন আমেরিকা সবাইকে কিছু না কিছু ত্যাগ করতেই হবে। কে কতোটা করলেন সে উত্তর এন্ড গেমেই পাওয়া যাবে।

অ্যান্থনি এবং জো রুশো, দুই ভাইয়ের পরিচালনায় অ্যাভেঞ্জার্স সিনেমার শেষ কিস্তি আসলে একটা লম্বা যাত্রার পরিনতি। সে যাত্রায় যারা শুরু থেকে সাথে ছিলেন তাদের জন্য ‘এন্ড গেম’ নিছক কোন সিনেমা নয় বরং একটা আবেগ। সে আবেগের চূড়ান্ত প্রকাশই হয়েছে সিনেমায়। এমনকি রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, স্কারলেট জোহানসন, ক্রিস ইভান্স, হেমসওয়ার্থ, সকলের অভিনয়ের ভেতরেই সে বহিঃপ্রকাশ ছিল। মাল্টিস্টারার সিনেমায় সকলেই স্ক্রিনে অল্প সময় পেলেও অভিনয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন। এমনকি সবচেয়ে কম সময় পাওয়া ডক্টর স্ট্রেঞ্জরুপী বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচের অভিব্যক্তিও ছিল দারুণ।

স্পেস, এলিয়েন এবং আধুনিক ধারার সিনেমা বলে প্রচুর গ্রাফিক্সের কাজ আছে এবং তা দারুণ ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই সিনেমার স্বাদ পুরোপুরি পেতে হলে থিয়েটার কিংবা এইচডি প্রিন্ট দেখা আবশ্যক। এবং একথা বলতে হয় যে প্রযুক্তির ব্যবহারেও দারুণ কাজ করেছে সিনেমার টিম। অ্যাভেঞ্জার্স একটা যাত্রা আর সেই যাত্রার একটা ‘স্টপেজ’ হলো ‘এন্ড গেম’। দর্শকের মনে অ্যাভেঞ্জার্সের কলাকুশলীরা জায়গা করে নিয়েছেন। সিনেমায় কে বাঁচলো কে মরলো তা থেকে বড় কথা এই চরিত্রগুলো বেঁচে থাকবে ভক্তদের মনে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker