বিনোদন

সমসাময়িক বাংলা নাটকের তিন জনপ্রিয় মুখ

মাহমুদুর রহমান: বাংলা নাটক আমাদের বিনোদিত করে। সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বাংলা নাটকের বিকল্প নেই। এবং আমাদের আছে অনেক চমৎকার অভিনয় শিল্পী। সময়ের সাথে টেলিভিশনে আসা মুখ বদলে যায়। একেক সময়ে জনপ্রিয় হন একেকজন। আজ আমরা বাংলা নাটকের সমসাময়িক তিন জনপ্রিয় মুখের কথা জানবো।
১. আফরান নিশো: মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি নামের ছেলেটি নাটকের কল্যাণে আফরান নিশো নামেই পরিচিত। ৮ ডিসেম্বর ১৯৮০ সালে তার জন্ম। টাঙ্গাইলের ছেলে নিশোর ২০০৩ সালে মডেলিং এর মাধ্যমে রুপালি জগতে আগমন ঘটে। ইস্ট ওয়েস্ট থেকে পড়াশোনা করা নিশো এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন। এবং সমসাময়িক কিছু নাটকে অনেকটা ‘অ্যাংরি ইয়াং প্রেমিক’ চরিত্রের কারণে তরুণ সমাজে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। ইদানীং অনেকটা একই ধরনের নাটক, একই ধরনের চরিত্র করছেন আফরান। কিন্তু দর্শক তাকে সেসব চরিত্রেই পছন্দ করছে। এখন একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও নানা সময়ে নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিশো। তার ‘সুখের অসুখ’ (২০০৮), ‘রুমালি’ (২০১১), ‘অভিনেতা’ (২০১৪), ‘গোল্লাছুট’ (২০১৪), ‘নীল চোখ’ (২০১৬), ‘চিরকুট’ (২০১৬) প্রভৃতি নাটক দর্শক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। নিশো নিজেও ভালো অভিনয় করেছিলেন। আর সে স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালে ‘মেরিল প্রথম আলো’ পুরস্কার লাভ করেন। 
২. তিশা: নুসরাত ইমরোজ তিশা, যিনি তিশা নামেই পরিচিত, তাকে অন্য কোন নাম বা বিশেষণে বিশেষায়িত করার প্রয়োজন নেই। ১৯৯৫ সালে নতুন কুড়ি পুরস্কার পাওয়ার পর টেলিভিশনে তার আগমন। বয়স তখন কেবল নয় বছর। এরপর দুই যুগ ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। নাটকের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন অসংখ্য টেলিফিল্মে। পরবর্তীতে সিনেমায়ও অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে নতুন কুঁড়ি পুরস্কার পেয়েছিলেন তিশা। শিশুশিল্পী হিসেবে মূলত গান করতেন। ১৯৯৭ সালে অনন্ত হীরার সাতপেড়ে কাব্য নামে একটি নাটকে শিশুশিল্পী হিসেবে শখের বশে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পদার্পণ করেন। ২০০৩ সাল থেকে অভিনয় ও মডেলিং ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। তিশা এঞ্জেল ফোর নামের একটি ব্যান্ড দলও গঠন করেছিলেন তিনি। কিন্তু এক সময় অভিনয়ই তার পেশা হয়ে দাঁড়ায়। নাটক, টেলিফিল্মের পাশপাশি বিজ্ঞাপন চিত্রে কাজ করেছেন। সিনেমায় অভিনয় করেছেন তবে তা ঠিক বানিজ্যিক ধারার সিনেমা না। সিনেমার শুরুটা মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর সাথে। তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’-তে অভিনয় করেছিলেন। জনপ্রিয় হয়েছিল ফারুকীর ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’। ফারুকীর সঙ্গেই গাঁটছড়া বেঁধেছেন তিশা ২০১০ সালে।
৩.মোশাররফ করিম: বাংলা নাটকের কিংবদন্তী হিসেবে তাঁর নাম নেওয়া যায়। আবুল হায়াত, এটিএম শামসুজ্জামান, জাহিদ হাসানদের পর মোশাররফ করিম একমাত্র অভিনেতা যার অভিনয়ের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকা যায়। বরিশালের ছেলে মোশাররফের অভিনয়ের শুরু স্কুলের থিয়েটারে। যাত্রায় অভিনয় করেছেন একসময়। এরপর তারিক আনাম খানের নাট্যদলে যোগ দেন। টেলিভিশন নাটকে তাঁর আগমন ১৯৯৯ সালে। এক পর্বের নাটক ‘অতিথি’ দিয়ে তাঁর যাত্রা। সে যাত্রায় এখন যুক্ত হয়েছে অজস্র নাম। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে সাবলীল অভিনয়ের অসামান্য প্রতিভা রয়েছে তাঁর। নাটকের পর ‘জয়যাত্রা’ দিয়ে তাঁর সিনেমাযাত্রা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক (৬০০) নাটক, এবং ষাটের বেশি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। এতো বেশি নাটক করায় কখনও কখনও এমন সব চরিত্র করেছেন যা সোজা ভাষায় ‘ছ্যাবলা’ কিন্তু সেসব চরিত্রে করেছেন চমৎকার কাজ। মোশাররফ করিমকে নিয়ে বেশি বলার নেই। অসাধারণ এই অভিনেতা ব্যক্তি জীবনে একজন চিন্তাশীল মানুষ। 

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker