বিনোদন

প্রযুক্তির ভালো মন্দ এবং রোবট ২.০

মাহমুদুর রহমান: বলিউডে সুপারহিরো সিনেমা তৈরি হচ্ছে অনেকদিন ধরে। ২০১০ এর পর থেকে সায়েন্স ফিকশন সিনেমাও হচ্ছে কিছু কিছু। সেই পালে বাতাস দিয়েছিলেন দক্ষিণের সুপারস্টার রজনীকান্ত। ২০১০ সালেই তৎকালীন বলিউডে সর্বকালের সবচেয়ে খরুচে সিনেমা ‘রোবট’ তৈরি করেছিলেন। তৈরি বলতে তিনি অভিনয় করেছিলেন। ‘এন্থিরান’ মূল নাম নিয়ে সিনেমাটি আলোড়ন তুলেছিল। ২০১৮ সালে সেই সিনেমার সিক্যুয়েল আমাদের কাছে এলো একটি বার্তা নিয়ে।

বর্তমান সময়ে আমাদের অবশ্য প্রয়োজনীয় একটি অনুষঙ্গ হলো সেলফোন, যাকে আমরা মোবাইল বলে চিনি। সবার হাতে কম করে একটি স্মার্ট ফোন আছেই। এবং এই ফোনের ব্যবহার এতোই বেড়ে গেছে যে ফোন ছাড়া এক মিনিট থাকাও সম্ভব না। আমাদের অভ্যাসের জন্য প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে আরও সেলফোন। সে ফোন চালনার জন্য তৈরি হচ্ছে টাওয়ার। এবং এইসব টাওয়ার থেকে পাঠানো হয় নানা মাত্রার তরঙ্গ।

‘রেডিয়েশন’ বা বিকিরণ একটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সেটি ক্ষতির কারন হয় যখন তা মাত্রা ছাড়ায়। মানুষ থেকে শুরু করে সব জীবেই তার প্রভাব পড়ে। ‘২.০’ সিনেমায় দেখানো হয়েছে মোবাইলের টাওয়ার থেকে যাওয়া রেডিয়েশনে পাখিদের ক্ষতি হয়। কেবল ক্ষতিই নয়, রীতিমত মারা যায় তারা।

পাখিপ্রেমী একজন মানুষ, পক্ষীরাজ তাঁর নাম। মোবাইলের রেডিয়েশন এবং তা থেকে পাখিদের ক্ষতি নিয়ে চিন্তিত মানুষটি মন্ত্রণালয় থেকে কোর্ট পর্যন্ত চেষ্টা করেও রেডিয়েশন কমানোর ব্যপারে কিছু করতে না পেরে আত্মহত্যা করে। এবং তাঁর এনার্জি অর্থাৎ aura থেকে তৈরি হয় একটি শক্তি, যা দেশের  সব সেলফোন এমনকি মানুষদের ধ্বংস করতে চায়। সে তীব্র শক্তিকে আটকাতে ফিরে আসে ‘চিট্টি’।

পক্ষীরাজ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার। প্রথমে একজন মমতাময় বুড়ো এবং পরবর্তীতে খল চরিত্রে দুর্দান্ত কাজ ছিল তাঁর। চিট্টি এবং প্রফেসর ভাসি কারান চরিত্রে রজনীকান্ত বরাবরের মতোই। এবারের নতুন সংযোজন অ্যামি জ্যাকসন। নীলা নামের রোবট চরিত্রে গড়পড়তা কাজ করেছেন তিনি।

শৈল্পিক কিংবা বিনোদনের দিক দিয়ে ২.০ কে হয়ত ভালো নম্বর দেওয়া যায় না, কিন্তু যে ‘মেসেজ’ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে সেদিকে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত। মোবাইলের মাত্রা ছাড়া ব্যবহার এবং প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিকে এখনও দৃষ্টি না দিলে হয়ত এরপর মানব জাতিকে দাম দিতে হবে। সেদিক দিয়ে ২.০ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

এছাড়াও সিনেমার প্রথম দেড় ঘণ্টা যথেষ্ট সুন্দর উপস্থাপনা রয়েছে। প্রশংসা করতে হয় অক্ষয়ের মেকআপ, রজনীকান্ত অক্ষয়, দুজনের অভিনয় এবং কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ের দিকে। যেমন এখানে সিনেমায় ঘটানো ঘটনার পেছনে কিছু তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন aura. পক্ষীরাজ এবং প্রফেসরের স্প্লিট পার্সোনালিটি দেখানোর মাধ্যমে অক্ষয় এবং রজনী দুজনকেই স্ক্রিন টাইম দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পরিচালক, স্ক্রিপ্ট রাইটারের এজন্য প্রশংসা পাওয়া উচিত।

মোদ্দা কথা হলো, ২.০ এ যে বাস্তবতা দেখানো হয়েছে তা নিয়ে আমাদের সবার ভাবা প্রয়োজন। সিনেমা দেখে একটু ‘আহা উহু’ করে ভুলে গেলে হয়ত একদিন সত্যিই কোন পক্ষীরাজ এসে আমাদের উপর হামলা করবে।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker