বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

সেরা তিনটি কোরিয়ান সিনেমা

তাহজীর ফাইয়াজ চৌধুরী: বর্তমান সময়ে আমরা সিনেমা কম বেশি সবাই দেখি। আর কোরিয়ান সিনেমার জনপ্রিয়তা এখন আকাশ ছোঁয়া। রোমান্টিক, থ্রিল, একশনে ভরপর এই সিনেমাগুলো তরুণ-তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। আজ আমরা এমন তিনটি কোরিয়ান সিনেমা নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো সকলের হৃদয় স্পর্শ করে গেছে, যেই সিনেমাগুলো দর্শক দেখেছে বহুবার। তাহলে চলুন জেনে নেই কোরিয়ান শ্রেষ্ঠ তিনটি সিনেমা এবং তার সম্পর্কিত কিছু তথ্য।

মেমোরিস অফ মার্ডার

ড্রামা, একশন, ক্রাইম ঘরাণার সিনেমাটি একটি সাউথ কোরিয়ান ড্রামা যা ২০০৩ সালে মুক্তি পায়। ১৩২ মিনিট দৈর্ঘের এই মুভিটির বাজেট ছিলো আঠাশ লক্ষ ইউ এস ডলার। সিনেমার অরিজিনাল টাইটেল Salinui Chueok।

এই সিনেমার কাহিনী ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত গ্যেওংগি প্রদেশে হয়ে যাওয়া সিরিয়াল কিলিং এর সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। ১৯৮৬ সালে একজন মহিলাকে ধর্ষণ করে হত্যা করে একটী মাঠের পাশে ফেলে রাখা হয়। ডিটেকটিভ পার্ক ডোম্যান এধরনের সিরিয়াল কিলিং এর আগে দেখেন নি। ওই অঞ্চলের পুলিশরা অপরাধী ধরার ক্ষেত্রে ছিলেন অদক্ষ এবিং তাদের কোনো ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট ও ছিলো না। ছবিটিতে মুল চরিত্রে ছিলেন ৩জন ডিটেকটিভ যারা তাদের নিজের মত অনুসন্ধান চালিয়ে যান। এর মধ্যে অনেকগুলো খুন হয়ে যায় এবং সবগুলোই ছিলো ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা। তারা খুঁজে বের করেন যে খুন সবসময় করা হয় বৃষ্টির দিনে এবং যে মহিলারা খুন হচ্ছেন তাদের সকলের পরনে লাল রঙের জামা থাকে, তাদের একই কায়দায় খুন করা হয় এবং খুনি খুন করার সময় স্থানীয় রেডিও স্টেশনে ফোন করে একটা নির্দিষ্ট গান বাজাতে বলে। পুরো রহস্যে ঘেরা এই চলচ্চিত্রটি লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন জোন হো বং।

 নিউ ওয়ার্ল্ড

নেক্সট যে সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা করবো সেটি হচ্ছে নিউ ওয়ার্ল্ড। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালে এবং সিনেমাটির দৈর্ঘ্য দুই ঘন্টা ১৪ মিনিট। এটিও একটি সাউথ কোরিয়ান সিনেমা যা আন্ডার ওয়ার্ড ক্রাইম গ্যাং নিয়ে বানানো। সিনেমার অরিজিনাল টাইটেল Sinsegye.

সিনেমাটিতে দেখানো হয় যে কোরিয়ার সব চেয়ে বড় অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে গোল্ড মুন। গোল্ড মুন তার ক্ষমতা আরো বৃদ্ধির পরিকল্পনা করতে থাকে এমন সময় রহস্যজনক ভাবে গোল্ডমুনের হেড গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। তার মৃত্যুর পর গোল্ডমুনের দায়িত্ব নেয়ার জন্য গোল্ডমুনের দুই উত্তরাধিকারের মধ্যে ক্ল্যাস শুরু হয়। পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের হেড ক্যাং এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চায়। সে প্রোজেক্ট নিউ ওয়ার্ল্ড নামে একটি অপারেশন টম তৈরি করে যাদের লক্ষ হবে গোল্ডমুনের পতন ঘটানো। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় আন্ডারকাভার কর্প জা সিউং কে। জা সিউং আট বছর ধরে সিক্রেটলি গোল্ডমুনের সব কিছু কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের জন্য গোল্ডমুনের সাথে কাজ করছিলো এবং গোল্ডমুনের হেড এর ডান হাত হয়ে গিয়েছিলো। তাই যখন পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে নির্দেশ আসে তখন সে দোটানায় পরে যায় যে সে কি করবে? পুলিশ চীফের নির্দেশ মত অপারেশন পরিচালনা করবে নাকি গোল্ডমুনের কাছে নিজের যে জায়গা তৈরি করেছে সেটা ধরে রাখতে চীফের নির্দেশ অমান্য করবে?

দ্যা ওল্ড বয়

এই সিনেমা মুলত একটি কিডন্যাপ এবং তার সাথে ঘিরে থাকা রহস্যময় কাহিনী নিয়ে তৈরি। দুই ঘন্টার এই সিনেমা পরিচালনা করেছেন ডিরেক্টর চান উক পার্ক। সিনেমাটি রহস্যময়তার জন্য দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

সিনেমায় দেখানো হয় একজন অতিসাধারণ ব্যক্তি ওহ ডাই সু এর মেয়ের জন্মদিনের পার্টি ছিলো। তখন তিনি অত্যন্ত মদ্যপান করেন এবং পুলিশ দ্বারা এরেস্ট হন। তার ভাই তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনেন এবং ডাই সু একটি বুথে যান তার পরিবারকে নিজের অবস্থা জানাতে। কিন্তু বুথ থেকে ডাই সু উধাও হয়ে যান। তার জ্ঞান যখন ফিরে আসে তখন তিনি দেখেন তিনি একটি হোটেল রুমে বন্দী। তার এ বন্দী দশা চলে দীর্ঘ পনেরো বছর। তিনি আত্মহত্যা করতে পারছিলেন না কারন তাকে সেই সুযোগও দেওয়া হচ্ছিলো না। তিনি পনেরো বছর ধরে এই চিন্তাই করেন যে কে তাকে এতোটা ঘৃণা করে যে তাকে একেবারে মেরে না ফেলে এমন অসহ্য যন্ত্রনার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। একদিন হুট করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তাকে কিছু নতুন কাপড়, টাকা আর একটা মোবাইলফোন দেওয়া হয়। ছাড়া পেয়েই তিনি সেই ব্যক্তির সন্ধান করতে থাকেন যে তার সাথে এমন করেছে এবং তিনি তার জীবনের কিছু গভীর সত্যের কথা জানতে পান। কি সেই সত্য?

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker