বিনোদনমিডিয়া ব্যক্তিত্বসিনেমা ও টেলিভিশনহোমপেজ স্লাইড ছবি

অণুপ্রেরণা দেয় যে প্রেমের গল্প

ভারতের চন্ডিগড়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা ছেলে, যার নিজেকে নিয়ে খুব বড় কোনো স্বপ্ন ছিল না! তবে তার বাবা চাইতেন, আর দশ’টা ছেলের মত তার সন্তানও খ্যাতির শিখরে পৌঁছাবে। আর প্রাণচঞ্চল ছেলে’টা চাইতো, কলেজে যে মেয়েটার সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং জমে উঠেছে, তাকে কিভাবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে আটকে ফেলা যায়! মেয়েটির নাম ‘তাহিরা’। দেখতে আহামরি না হলেও ওর মধ্যে কিছু একটা আছে, যা ছেলেটাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে!

ছেলেটা চটজলদি মনের কথা জানানোয় মেয়েটা রাজি হলেও বাঁধ সাধে মেয়ের বাবা! প্রথমত, বেকার তার ওপর ছেলেটা স্বপ্ন দেখে, একদিন মুম্বাইয়ের অলিগলিতে তার নামের বড় বড় পোস্টারে ছেয়ে যাবে! নায়ক হবে! এমন উন্মাদের হাতে মেয়েকে তুলে দেবে কিভাবে? কিন্তু ছেলেটা নাছোড়বান্দা! তাই, একদিন কাউকে না জানিয়েই বিয়ে করে ফেলে তাহিরা’কে৷ এরপর রূপকথার মত সুখেই কাটছিল দিন। চন্ডিগড় ছেড়ে ছেলেটা মুম্বাইয়ে রেডিও স্টেশনে জকির কাজ শুরু করে। ছোট-বড় অ্যাওয়ার্ড শো হোস্ট করতে যেয়ে সুযোগ হয় ছোটপর্দায় অভিনয়ের! কিন্তু স্বপ্ন যেহেতু আকাশছোঁয়া, তাই ছোটপর্দা ছেড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, বড় পর্দায় অভিষেকের! এই দীর্ঘ সংগ্রামে ছেলেটার পাশে ছিল স্ত্রী তাহিরা।

কিন্তু ঝড় আসে, স্বপ্নযাত্রা যখন শুরু হয় তখন! ছেলেটার শুটিং ব্যস্ততা, মিডিয়ার হইচই, আর হিরোইনের সঙ্গে নানান গসিপে ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়ে তাহিরা। একসময় ঠিক করে, সংসার ছেড়ে একেবারেই চলে যাবে সে৷ মানে ডিভোর্স! যেই ভাবনা সেই কাজ মোতাবেক ডিভোর্স লেটারও পাঠিয়ে দেয়। সেসময় ‘বলিউড ইন্ড্রাষ্ট্রির নিউ ক্রাশ’ স্ত্রীর এসব কার্যকলাপ জাস্ট মুচকি হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। ডিভোর্স লেটার ছিড়ে ফেলে প্রেয়সীকে বলেছে, “দিনশেষে সে তাহিরাকেই চায়। যতো কিছু হোক না কেন, ছেড়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব না।”

তাহিরা স্বামীর কথা মেনে নিলেও চূড়ান্তভাবে ভেঙ্গে পড়ে দু’বছর পর শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়লে৷ ততোদিন ছেলেটি শুধু হিরো হিসেবেই খ্যাত না, বলা যায়, বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। মেয়েটার বারবার মনে হয়, অসংখ্য নারী অনুরাগী যায় জন্য পাগল, সে কেন তাহিরার মত ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর সঙ্গে অসুখী জীবন কাটাবে! ভাবে, হয়তো তাহিরার প্রতি করূণাবশত ই তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলতে পারছে না। তাই তাকেই পদক্ষেপ’টা নিতে হবে৷ স্বামীর সুন্দর স্বাভাবিক জীবনের জন্য তাকে ছেড়ে যেতেই হবে! মেয়েটা আবারও ডিভোর্সের কথা বলে, তবে এবার আর রাগের মুখে নয়, সাবলীল আর প্রেমময় ভঙ্গিতে… প্রতিত্তোরে প্রচন্ড রেগে যায় ছেলেটা, তাহিরাকে বুঝায়, “জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাই আসবে, তাই বলে একে অন্যকে ছেড়ে যাওয়া, কোনো সমাধান না!

মেয়েটাকে তার বছর দশেক আগে যেমন ভালো লাগতো, সে পাশে থাকলে, সমস্যাগুলো শেয়ার করলে, যেমন প্রশান্তি অনুভব হতো, আজ ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রীকে পাশে পেয়েও সেই ভালো লাগাই অনুভব করে সে। বরং এই দশ বছরে তাদের নির্ভরশীলতা বেড়েছে, বেড়েছে আন্ডারস্ট্যান্ডিং।” তাহিরাকে আরও বলে, “পারস্পারিক এই মায়া, নির্ভরতা, সহযোগিতা কোন কিছুর বিনিময়ে হারাতে চায় না সে।” বরং ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে তাহিরার পাশে থাকতে চায়৷ এরপরই মেয়েটি যেন নতুন জীবন ফিরে পায়। সাহস পায় ক্যান্সারকে হারিয়ে দেয়ার!

চন্ডিগড়ের সেই সাধারণ ছেলেটিই আয়ুশ্মান খুরানা যার ভালবাসার গল্পটা যে কারো জন্যই অনুপ্রেরণার। অনেকেই বলে থাকে, প্রিয়জনকে পাশে পেতে তার যোগ্য হয়ে উঠতে হয়, এই করতে হয়, ওই করতে হয়… কিন্তু বিশ্বাস করুন, এসব জাস্ট মিথ! “আপনি যা; তাই যথেষ্ট” জীবনের এমন একজন ই থাকে, যে পাশে থাকলেই সব সুন্দর আর সহজ মনে হয়।

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker