বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

কাঁদে গিটার তোমার অসীম শূণ্যতায়

“মনে রেখো তুমি
কত রাত কত দিন
শুনিয়েছি গান, আমি ক্লান্তিবিহীন!
অধরে তোমার ফোঁটাতে হাসি
চলে গেছি শুধু
সুর থেকে কত সুরে!”

আর আমাদের মুখে হাসি ফোঁটাতে গিটারে সুর তুলেন আমাদের ব্যান্ড সংগীতের রাজপুত্র আইয়ুব বাচ্চু। অসীম শূন্যতায় চলে গেছেন আমাদের বাংলা গানের এই মহানায়ক।

গিটার হাতে মানুষের সামনে আর কেউ বলে না হাসির শেষে নীরবতা বুঝতে। বলে গিটার ও কাঁদতে জানে। তবুও আজ তার প্রথম প্রয়াণ দিবসে বাঙালি স্মরণ করছে তাকে অনন্ত ভালোবাসায়।

“এই রুপালি গিটার ফেলে
একদিন চলে যাব দুরে, বহুদূরে
সেদিন অশ্রু তুমি রেখো
গোপন করে”।

তিনি যতই অশ্রু গোপন করার অনুরোধ করুক বাঙালি জাতি তার অনুরোধ রাখতে পারে না।
অশ্রু গোপন করতে পারে না কেউ। হৃদয়ের খুব কাছের এই মানুষের শূন্যতা অনুুুভব করে সবচয়ে বাউন্ডুলে ছেলেটাও।

কে আর এমন করে বলবে? মেয়ে, তুমি কি দুঃখ চিনো? কে প্রশ্ন করবে তার প্রেমিকাকে সেই তুমি কেন এত বদলে গেলে?

সবার এই প্রাণের মানুষ গত বছর ১৮ অক্টোবর ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তিনি বেঁচে আছেেন চিরকাল বাঙালির অন্তরে। ঘুম ভাঙা শহরে, মায়াবী সন্ধ্যায় অথবা চাঁদ জাগা এক রাতে, একটি কিশোর ছেলের একাকী স্বপ্নে, হাসি আর গানে বেঁচে থাকবেন আইয়ুুব বাচ্চু।

যেভাবে আজকের আইয়ুব বাচ্চু

তার সঙ্গীতজগতে যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে ১৯৭৮ সালে। তাঁর কন্ঠ দেয়া প্রথম গান “হারানো বিকেলের গল্প”। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত রক্তগোলাপ আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তেমন একটা সাফল্য পায়নি। আইয়ুব বাচ্চুর সফলতার শুরু তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ময়না (১৯৮৮) এর মাধ্যমে।

১৯৯১ সালে বাচ্চু এল আর বি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম এল আর বি প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের “শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি”, “ঘুম ভাঙ্গা শহরে”, “হকার” গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম সুখ ও তবুও বের হয়। সুখ অ্যালবামের “সুখ, “চলো বদলে যাই”, “রূপালি গিটার”, “গতকাল রাতে” উল্লেখযোগ্য গান। “চলো বদলে যাই” বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম কষ্ট। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অবিহিত করা হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে “কষ্ট কাকে বলে”, “কষ্ট পেতে ভালোবাসি”, “অবাক হৃদয়”, ও “আমিও মানুষ”। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ঘুমন্ত শহরে প্রকাশিত হয়। তিনি অনেক বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। “অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে” বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তাঁর গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।

২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনো প্রকাশিত। ২০১১ সালে এল আর বি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। ছয় বছর পর তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প (২০১৫) বাজারে আসে। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। গানের কথা লিখেছেন সাজ্জাদ হোসাইন এবং সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন আইয়ুব বাচ্চু নিজে।

গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত ছিলেন। জিমি হেন্ড্রিক্স এবং জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুনভাবে অণুপ্রাণিত ছিলেন। অনন্ত শূন্যতায় ভালো থাকুক গিটারের জাদুকর, তার প্রথম প্রয়াণ দিবসে এই প্রত্যাশা নতুন বার্তার।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker