বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও : বিস্ময়কর এক অভিনেতা

সাইদুর বিপু: ভাবুন তো ডিক্যাপ্রিও কে ছাড়া টাইটানিকের জ্যাক চরিত্রের কথা। আপনি না ভাবলেও ডিক্যাপ্রিও নিজে ঠিকই ভেবেছিলেন তিনি এই ধরনের চরিত্র করবেন না। ভাগ্যিস করেছিলেন, আর করেছিলেন বলেই এখনো মানুষের মনে তিনি জ্যাক হিসেবেই বেশি পরিচিত।

এমনকি তিনি তার এই ভারিক্কি নামও পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। ক্যাপ্রিওর যখন ১০ বছর বয়স ঠিক তখন তার ভারিক্কি নামটি পরিবর্তন করে একটি হালকা ফ্রেন্ডলি মার্কিন নাম দেয়ার পরিকল্পনা ছিলো। নামটি সম্ভবত ছিলো লেনি উইলিয়ামস। কিন্তু কোনো এক কারণবশত ক্যাপ্রিও নামটি প্রত্যাখ্যান করে। কে জানে হয়তো তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছিলো এই নামটিই তার খ্যাতি কুড়িয়ে আনবে! কিংবা মায়ের প্রতি ভালোবাসার কারণেই নামটি আর পরিবর্তন করতে চাননি।

“লিওনার্দো” নাম হওয়ার পিছনেও চলচ্চিত্রের গল্পের মতন এক গল্প আছে ক্যাপ্রিও’র। ক্যাপ্রিও যখন মায়ের পেটে, তখন তার মা ইতালিতে মিউজিয়ামে “লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি”র আঁকা ছবি দেখছিলেন এবং ক্যাপ্রিও তখন লাথি মারে প্রথম মায়ের পেটে। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৭৪ সালের ১১ নভেম্বর জন্ম নেয় হলিউডের মহারথী নায়ক লিওনার্দো। পুরো নাম লিওনার্দো উইলহিল্ম ডি ক্যাপ্রিও। জার্মান ও ইতালি’র নাগরিক মা-বাবার ঘরে জন্ম লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও’র এবং পূর্ব পুরুষ রাশিয়ান। শৈশবের কিছু সময় জার্মানিতে কাটে। জার্মান ও ইতালিয়ান ভাষায় ক্যাপ্রিও কথা বলতে পারে। সিডস এলিমেন্টারি স্কুল, জন মার্শাল হাইস্কুল, লসএঞ্জেলসে তার শিক্ষাজীবন কাটে। মা এমিলিন এবং বাবা জর্জ ডিক্যাপ্রিও আন্ডারগ্রাউন্ড কমিকস আর্টিস্ট ও কমিক বুকস ডিস্ট্রিবিউটর। শৈশবেই বাবা-মা দুজন পৃথক হয়ে যান এবং অনেকটা সময় জীবনে মা’র সাথে কাটিয়ে দেয় ডিক্যাপ্রিও, কিন্তু বাবার সাহচর্য থেকে কখনোই দূরে থাকা হয়নি। বাবা-মা দুজনেই সৃষ্টিশীল মানুষ, তার ইচ্ছের প্রতি তাকে দারুণভাবে উৎসাহ দিয়ে যায়।

ক্যাপ্রিও প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের পর্দায় আসেন ১৯৯০ সালে প্যারেনহুড সিরিজের মাধ্যমে। যার মূল চরিত্রটি করতো জোয়াকিন ফিনিক্স। তবে এর মূল সিনেমাতে ফিনিক্সের গ্র্যান্ড ফাদারের চরিত্রটি করেছিলো জেসন রবার্টস যার সঙ্গে ডিক্যাপ্রিওর চেহারার এক অদ্ভূত মিল! শুরু হয় তার পথচলা…

তার নামের মতোই অস্কারের সাথে অদ্ভুত সম্পর্ক তার। সেই ১৯৯৪ সাল থেকে নমিনেশন পেতে পেতে শেষমেশ অস্কার নামের আরাধ্য পুরস্কারটি কপালে জুটে ২০ বছর পর ২০১৬ সালে ‘দ্য রেভেন্যান্ট’ সিনেমার জন্য। যদিও ভক্তরা বলে থাকেন ‘দ্য রেভেন্যান্ট’ এর চেয়ে আরো অনেক ভালো সিনেমা/অভিনয় তিনি করেছিলেন, সেসবে তিনি অস্কার পাননি!

সারাবিশ্বে যখন এক বিস্ময়কর অভিনেতার নাম লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও সেখানে এর পেছনে শিক্ষাগুরুর নাম আপনাতেই চলে আসে। হলিউড বিখ্যাত গান কোচ থেল রিড এর কাছে প্রশিক্ষিত হয়েছে বিখ্যাত এই অভিনেতা। এছাড়াও ব্র‍্যাড পিট সহ ভাল কিমার, এডওয়ার্ড নর্টন, রাসেল ক্রো ও বেন ফোস্টারসহ আরো বিখ্যাত অভিনেতাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অস্কারজয়ী এই অভিনেতা। আমেরিকান সাইকো সিনেমাটির জন্য লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওকে মূল চরিত্রটির জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু নানা ব্যস্ততার কারণে সময়ের অভাবে সিনেমাটি করতে পারেননি এই অভিনেতা। পরবর্তীতে ক্রিশ্চিয়ান বেল সিনেমাটি সম্পন্ন করেন। অত্যন্ত জনপ্রিয় সিনেমা স্পাইডারম্যান এর মূল চরিত্র পিটার পার্কার করার জন্য পরিচালকের সর্বপ্রথম পছন্দ ছিলো লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। কিন্তু নানা কারণে ক্যাপ্রিও সিনেমাটি না করার পর এই সিনেমাটিতে সুযোগ করে দেয় ছেলেবেলার বন্ধু টবি মেগুইরকে।

ক্যাপ্রিও এর অভিনেতা, লেখক ও প্রযোজক পরিচয়ের বাহিরেও আরও কিছু পরিচয় আছে। নিজ নাম একটি ফান্ড আছে তার ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি ফাউন্ডেশন। এছাড়া ওয়াইল্ড লাইফ ফান্ড, দ্য ন্যাশানাল রিসোর্স ডিফেন্স কাউন্সিল ও ‘ইন্টারন্যাশানাল ফান্ড ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার’ এর সাথে যুক্ত আছে ক্যাপ্রিও। ২০০০ সালে “আর্থ ডে” উদযাপন উপলক্ষ্যে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এর একটি ইন্টারভিউ নেয় লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও।

একটা মানুষ, একটা জীবন। সে জীবনকে নানা ভাবে রাঙিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সাথে সাথে রাঙিয়ে যাচ্ছেন সারা দুনিয়ার কোটি ভক্তদের হৃদয়। একটা সময় বিশ্বের সুন্দরতম পুরুষের তালিকায় নাম ছিলো। হয়তো একদিন আর অভিনয় করবেন না তিনি তবে মানুষের মনে ভালোবাসায় যে নাম তিনি লিখেছেন সে নাম কখনো মুছে যাবে না এটা কোন দ্বিধা ছাড়াই বলা যায়। আজ এই বিস্ময়কর অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর জন্মদিন। জন্মদিন শুভ হোক প্রিয় অভিনেতা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker