বিনোদনহোমপেজ স্লাইড ছবি

জো ডিম্যাজিও : মেরিলিন মনরোর এক ক্ষ্যাপাটে প্রেমিক

মিরাজুল ইসলাম: ১৯৫৪ সালে সেপ্টেম্বরের এক সন্ধ্যায় মেরিলিন শ্যুটিং করছিলেন The Seven Year Itch সিনেমার। সাথে ছায়ার মতো লেগে আছেন ডিম্যাজিও। ডিম্যাজিও চাইতেন না মেরিলিন অন্তত অনেক রাতে শ্যুটিং থেকে একা বাসায় ফিরুক। স্বামী হিসেবে শুধু নয়, মেরিলিনের জন্য তার ভালোবাসা ছিল অদ্ভুত পাগলাটে ধরনের।

মেরিলিন এই অতিরিক্ত গায়ে গায়ে লেগে থাকা নিয়ে বারবার মানা করেছেন, বকা দিয়েছেন, অনুনয় করেছেন।
– হানি, আমি আর সেই বাচ্চা মেয়ে নেই। প্লিজ এতো দুশ্চিন্তা করো না তো। আমি পারবো রাতে একা ফিরতে।
– শোনো। আমি মাঠে বেসবল ব্যাট দিয়ে খালি বল পেটাই না। চাইলে তোমার ঐ লুচ্চা প্রোডিওসারকে পর্যন্ত পেটাতে পারি।
– কেন ডোনাল্ড (কাল্পনিক নাম) আবার কি করলো?
– সাবওয়ের শ্যুটিংয়েও হঠাৎ বাতাসে তোমার গাউন ওড়ানোর দৃশ্যটা কিন্তু এক শটেই ওকে হয়ে গিয়েছিলো। আমি ক্যামেরাম্যানের মাথা নাড়ানো খেয়াল করেছি। কিন্তু ঐ ব্যাটা বারবার তোমাকে দেখতে চাইবার উসিলায় শটটা এতোবার রিটেক করালো।
– উফ! তুমি এমন কেন? চোখ টিপে বললেন মেরিলিন।

সেই দিনের শ্যুটিং-এর কয়েক মাস পরে মেরিলিন মনরো-ডিম্যাজিও’র বিচ্ছেদ ঘটে। মেরিলিন তালাকের আর্জিতে জানান ম্যাজিও অনেক নিষ্ঠুর মানসিকতার একজন পুরুষ। এমন লোকের সাথে ঘর সংসার করা সম্ভব না।

পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মেরিলিনের তৃতীয় সংসার ভেঙ্গে যায় নাট্যকার আর্থার মিলারের সাথে। তখন আবার মনে মনে মেরিলিন ডিম্যাজিও’র সান্নিধ্য খুঁজতে লাগলেন এবং ডিম্যাজিও নিজেও আক্ষরিক অর্থে যেন এই দিনটির অপেক্ষা করছিলেন।

১৯৬২ সালে ডিম্যাজিও তাঁর কাছের বন্ধু প্রখ্যাত গায়ক ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা’র সাথে বন্ধুত্বের ছেদ ঘটালেন কেবলমাত্র মেরিলিনের কারণে। কারণ কেনেডি পরিবারের সাথে মেরিলিনের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা। এটা ডিম্যাজিও চান নি। তিনি চাইতেন কেনেডি’দের সাথে যেন মেরিলিনের কোন সামাজিক যোগাযোগ না হয়। ওদিকে অল্পদিনের মধ্যে মেরিলিন-কেনেডি’র অন্তরঙ্গতা মিডিয়াতে ফলাও করে প্রকাশ হতে থাকে। ডিম্যাজিও মেরিলিন’কে অনুরোধ করলেন তাকে আবার বিয়ে করতে। তিনি জানতেন লেডিকিলার কেনেডি সুযোগ মতো মেরিলিনকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন।

মেরিলিন নিজেও ডিম্যাজিও’র প্রস্তাবে সম্মত হতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ততদিনে মেরিলিন নিজেও বুঝে গেছেন ডিম্যাজিও’র মতো কোন পুরুষ তাকে এতো ভালোবাসেনি। যদিও ক্যামেরা’র প্রতি মেরিলিনের ভালোবাসা ছিল নিখাদ। কিন্তু তাদের এই পরিকল্পনা সফল হয় নি। ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট মেরিলিনকে তার বাসার বাথটাবে মৃত ও নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গেলো। জগৎবাসী জানলো তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

মেরিলিনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছিলো ডিম্যাজিও’কে। একাই সব কিছু সৎকারের ব্যবস্থা করলেন তিনি। তার স্থির বিশ্বাস ছিলো এটা আত্মহত্যা নয়, মেরিলিন’কে হত্যা করা হয়েছে। হলিউডের অনেক নামী-দামি তারকাকে ডিম্যাজিও আসতে দিলেন না শেষকৃত্যে।

মেরিলিনের কবরে যেন আগামী ২০ বছর ছয়টি করে গোলাপ প্রতি সপ্তাহে তিন দিন দেয়া হয় সেই ব্যবস্থাও করলেন। জো ডিম্যাজিও বুঝিয়ে দিলেন তার মতো করে কেউ মেরিলিন’কে কখনও ভালোবাসেনি।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker