মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭
webmail
Sat, 03 Jun, 2017 01:39:18 PM
নতুনবার্তা ডেস্ক
ঢাকা: ডাইনোসরের পর  কি তবে এবার মানুষের পালা? ‘মাস এক্সটিঙ্কশন’ বা গণবিলুপ্তির পথে এগুচ্ছে গোটা মানবসভ্যতা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’ এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এমনই আশংকার আভাস দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলেছেন, ষষ্ঠতম এই বিলুপ্তির নাম হবে ‘অ্যানথ্রোপোজেনিক বা হ্যালোসিন এক্সটিঙ্কশন’। যাতে শেষ হয়ে যাবে মানবসভ্যতা। আর এই প্রথম তার জন্য দায়ী থাকবে মানুষ নিজেরাই।
 
জীববিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী চার্লস ডারউইন এ ধরনের বিলুপ্তির নাম দিয়েছিলেন- ‘সার্ভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট’ অর্থাৎ, যে সব প্রাণী জীবন চক্রে বৈরি পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারবে, তারাই কেবল বেঁচে থাকতে পারবে। যার অভিযোজন প্রকৃয়া(পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা) যত বেশি তার টিকে থাকার ক্ষমতাও তত বেশি। বাকিরা সময়ের সাথে সাথে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে। বহু কোটি বছর আগে ঠিক যেমনি ভাবে হারিয়ে গিয়েছিল ডাইনোসরেরা।
 
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীতে এর আগে পাঁচবার এমন গণবিলুপ্তি হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় ২৫ কোটি বৎছর আগে। প্রায় ৯৬% জলচর এবং ৭০% স্থলচর প্রাণী ও উদ্ভিদের মৃত্যু হয়েছিল ওই মহাধ্বংস যজ্ঞে। সেই তালিকায় ছিল ডাইনোসরেরাও। শাকাহারী বা হার্বিভোরাস তো বটেই,  এমনকী বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল ভয়ঙ্কর মাংসাশী বা কার্নিভোরাস ডাইনোসররাও। উল্কাপাত, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে ফলে লাভাস্রোতের মতো নানা প্রাকৃতিক এবং মহাজাগতিক শক্তিই ছিল সেই বিনাশের মূল কারণ।
 
গবেষণায় বলা হয়েছে, অত্যাধিক হারে বংশবৃদ্ধির জন্য গত ৫০ বৎছরে বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৩০%। এই হারে বৃদ্ধিতে ২০৬০ এর মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা পৌঁছবে ১০ লক্ষ কোটিতে। বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্য ও বাসস্থানের জোগান দিতে হিমশিম খাবে মানবসভ্যতা। টান পড়বে প্রাকৃতিক ভাঁড়ারেও। ইতিমধ্যেই ক্রমবর্ধমান দূষণ, চোরাশিকার, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, অন্যান্য হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ আর মানুষের জন্য হওয়া প্রাকৃতিক অবক্ষয়ের কারণে ২৫ শতাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ১৩ শতাংশ পাখি বিলুপ্তির পথে।
 
জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করেই বিবর্তনের গতিপ্রকৃতি বোঝা যায়। তাতেই বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় এই বিনাশ ঘনিয়ে আসবে পৃথিবীর বুকে। কারণ, দ্রুতহারে কুমে আসছে জৈব সম্পদ। মাত্রা ছাড়াচ্ছে দূষণ। সেই সঙ্গে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে বাড়ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরো-ফ্লোরো-কার্বনের মতো গ্রিন হাউস গ্যাস। তার ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উষ্ণতা।
 
বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে নাসার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, তুষার যুগের পর থেকে গত পাঁচ হাজার বছরে পৃথিবীপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে বলেই আশঙ্কা নাসা’র বিজ্ঞানীদের।
 
‘নেচার’ এর ওই গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মানুষের গণবিলুপ্তি’ এর আগেও হয়েছে। তবে খুব বড় আকারে নয়। এই বিলুপ্তির সূচনা হয়েছিল যখন বিবর্তনের ধারায় আধুনিক মানুষ আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে নতুন সভ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। ৫০ হাজার বছর আগে থেকে শুরু করে এই বিলুপ্তির ঢেউ আছড়ে পড়ে পরবর্তী প্রজন্মগুলিতেও। ১০ থেকে ১১ হাজার বছর আগে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ৩ থেকে ১২ হাজার বছর আগে ইউরোপে ব্যাপক হারে গণবিলুপ্তি হয়। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় প্রায় তিন হাজার বছর আগে। অর্ধেকেরও বেশি ‘মেগাফনা’ প্রজাতি অর্থাৎ বৃহৎ স্তন্যপায়ীরা হারিয়ে যায় পৃথিবী থেকে। সেই সঙ্গে বিলুপ্ত হয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও।
 
গণবিলুপ্তিতে লাগাম টানতে সমাধান সূত্রও বাতলেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলেছেন, সংরক্ষণনীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রকৃতি বিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও নীতিনির্ধারকদের একজোট হয়ে সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে পরিবর্তন আনতে হবে মানুষের অভ্যাসেও। তা হলেই বাঁচবে মানুষ। রক্ষা পাবে আগামী প্রজন্ম।
 
 
নতুনবার্তা/কিউএমআর

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close