শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
webmail
Thu, 08 Jun, 2017 09:08:00 PM
নতুনবার্তা ডেস্ক
ঢাকা: ওকাভাঙ্গো ডেল্টা বা বদ্বীপকে গণ্ডারদের স্বর্গ বলা যেতে পারে তা কালো গন্ডরই হোক আর সাদা গন্ডারই হোক৷ প্রয়োজনে ওদের প্লেনে করে ওকাভাঙ্গোয় নিয়ে আসা হয়, কারণ সেটাই তাদের শেষ আশ্রয়৷
 
উত্তর বটসোয়ানার ওকাভাঙ্গো ডেল্টা বা ওকাভাঙ্গো নদীর বদ্বীপকে বন্যপ্রাণীর প্রাচুর্যের দিক থেকে একটি অনন্য পরিবেশ বলে গণ্য করা হয়৷ এ্যাঙ্গোলার মালভূমিতে বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট এই বন ও চারণভূমি আফ্রিকার বড় বড় জন্তুজানোয়ারের পক্ষে একটি আদর্শ বাসস্থান, যেমন কালো গণ্ডার৷
 
বদ্বীপে গণ্ডারদের সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ প্রতিবেশি দেশগুলির সহায়তায় কাই কলিন্স ও তাঁর দল কালো আর সাদা গণ্ডারকে আবার বোতসোয়ানায় আনতে সমর্থ হয়েছেন৷ এই দুই প্রজাতির গণ্ডার দেখতে মোটামুটি এক হলেও, তাদের ঠোঁট একটু অন্যরকম৷ সাদা গন্ডাররা ঘাস খায় বলে তাদের ঠোঁট চওড়া; ওদিকে কালো গন্ডারের ঠোঁট সুঁচালো, যাতে তারা কাঁটাঝোপ থেকে পাতা তুলে খেতে পারে৷
ওয়াইল্ডারনেস সাফারিজ-এর প্রাণিসংরক্ষণ প্রধান কাই কলিন্স বলেন, ‘‘দক্ষিণ আফ্রিকা কিছু গণ্ডার দিয়েছে আর জিম্বাবুওয়েও কিছু গণ্ডার দিয়েছে, এছাড়া আমরা আরো কিছু গণ্ডার কেনার জন্য টাকা সংগ্রহ করতে পেরেছি৷ কাজেই আমরা ব্ল্যাক রাইনোদের বেশ একটা ভালো পপুলেশান গড়ে তুলে বোতসোয়ানা সামরিক বাহিনীর সাহায্যে ওদের ওকাভাঙ্গো ডেল্টায় নিয়ে আসতে পেরেছি – মিলিটারির সুবিশাল সি-১৩০ হার্কিউলিস বিমানে করে৷ এই সব গণ্ডাররা এখানে বেশ ভালোই আছে৷ ইতিমধ্যেই তাদের পাঁচটা বাচ্চা হয়েছে৷ গণ্ডারের এমন একটি দলকে এখানে খাপ খাইয়ে নিতে দেখে আমরা খুব খুশি৷''
 
২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এখানে সর্বকালের বৃহত্তম আন্তঃ-সীমান্ত গন্ডার পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। আফ্রিকার সামগ্রিক কালো গণ্ডার পপুলেশানের মোট এক শতাংশকে এখানে নিয়ে আসা হয়, তবে সেটা যে ঠিক কতোগুলো গণ্ডার, তা কোনোদিন প্রকাশ করা হয়নি৷
পুনর্বাসনের পর-
প্রথমে গণ্ডারদের এই এলাকার বিভিন্ন ঝোপঝাড় ও লতাপাতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়৷ গণ্ডাররা তাদের নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেবার পর তাদের শেষমেষ মুক্তি দেওয়া হয়৷
প্রকল্প কিন্তু সেখানেই শেষ হয় না – প্রতিদিন স্কাউটরা টহলে বেরিয়ে তাদের ‘পোষ্যদের' খোঁজ রাখেন৷ তাদের কাজ হল, একক গণ্ডারগুলোর খোঁজ করে তারা কেমন আছে, তার খেয়াল রাখা৷ কাজটা খুব সহজ নয়, কেননা কালো গণ্ডাররা মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকে৷
 
অ্যাসিস্টান্ট রাইনো মনিটর অফিসার পিটসো মোদিমবুরা বলেন, ‘‘কালো গণ্ডার খুঁজে পাওয়া খুব শক্ত, কেননা প্রতিবারই ওরা গভীর জঙ্গলে ঢুকে যায়৷''
 
চোরাশিকার রোধ-
দুই রাইনো মনিটর অফিসারকে সাহায্য করার জন্য একটি রাইনো স্কোয়াড আছে: এরা হল বোতসোয়ানার সামরিক বাহিনীর বিশেষ চোরাশিকার প্রতিরোধী গোষ্ঠী৷ বেআইনিভাবে গণ্ডার শিকার আপাতত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে৷ কাজেই সামরিক বাহিনী বন্যপ্রাণী সুরক্ষাকে তাদের একটি মূল কর্তব্য বলে বেছে নিয়েছে৷
চিফ রাইনো মনিটর অফিসার জর্জ নিউঞ্জা জেমস একটি গন্ডার দেখিয়ে জানালেন, ‘‘ওর নাম হলো লেরুমো৷ ওর কাঁধে গুলি লেগেছিল আর লেরুমো কথাটার অর্থ হল বুলেট৷ সেইজন্য আমারা ওর নাম রাখি – লেরুমো৷''
 
চোরাশিকারিরা যখন তার শিং কাটতে আসে, তখন লেরুমো পালাতে সমর্থ হয়৷ ওর খুব চোট লেগেছিল৷ সেটা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়, লেরুমোকে বিমানে করে বদ্বীপে আনার আগে৷
 
বোতসোয়ানা ওর নতুন স্বদেশ হয়ে ওঠে, গতবছর ও একটা নতুন বাচ্চাও প্রসব করেছে৷ রাইনোদের সংখ্যা বাড়ানো খুব সোজা কাজ নয়, কেননা গণ্ডাররা প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর অন্তর বাচ্চা দেয়৷''
 
জর্জ নিউঞ্জা জেমস বলেন, ‘‘আমি এই কাজটা নিয়েছি কেননা আমরা যদি এদের না বাঁচাই, তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা এ সব দেখতে পাবে না, এই গণ্ডাররা সব উধাও হবে কিংবা লোপ পাবে৷''
স্থানান্তকরণের খরচ পড়েছে গণ্ডার প্রতি ৮০ হাজার ডলার৷ ইকোটুরিজম অপারেটর ‘ওয়াইল্ডারনেস সাফারিজ' তার অনেকটা দিয়েছে, বাকিটা এসেছে বিদেশ থেকে দান হিসেবে৷ সরকার এখন মনিটরিং-এর খরচের একাংশ বহন করছে৷ অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতিরাও এ থেকে উপকৃত হচ্ছে৷ টহলদারি শুরু হওয়ার পর থেকে এই এলাকায় আর কোনো চোরাশিকারের ঘটনা ঘটেনি৷
 
কাই কলিন্স বলেন, ‘‘অতীতের প্রাণিবৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার জন্য ওকাভাঙ্গো ডেল্টা একটা আদর্শ স্থান৷ একেবারে আদিম বনভূমি৷ এটা গণ্ডারদের স্বর্গ, আর এখানে আসাও খুব শক্ত৷ এর ফলে আমরা গণ্ডারদের রক্ষা করতে পারি৷ এটা হল সেই ধরনের একটি নিরাপদ আশ্রয় এবং অভয়াশ্রম, যেখানে বিভিন্ন প্রজাতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাস করতে পারবে৷''
চোরাশিকার গণ্ডারদের পক্ষে আজও একটি বাস্তব বিপদ৷ বোতসোয়ানার সংরক্ষণকারীরা এই রাজকীয় প্রাণীগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করছেন৷
 
ডিডব্লিউ।
 
নিতুনবার্তা/কিউএমআর

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close