মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
Wed, 25 Oct, 2017 12:10:56 AM
নড়াইল প্রতিনিধি
নতুন বার্তা ডটকম

নড়াইল: নড়াইলে অনুমতি ছাড়াই ড্রেজার দিয়ে দূর্বাজুড়ি এলাকায় বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে বালি উত্তোলন এলাকার পাশে থাকা সরকারি একটি রাস্তা, বসত বাড়ি হুমকীর মুখে । প্রাকৃতিক বিপর্যয়সহ এলাকার পরিবেশ ভারসম্যহীন হয়ে পড়বে বলে  পরিবেশবিদরা আশংকা করছেন। অবিলম্বে বালি উত্তোলন বন্দের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

 লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, নড়াইল শহর থেকে  প্রায় ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে মুলিয়া ইউনিয়ন অবস্থিত । এ ইউনিয়নের ৭৭ নং দূর্বাজুড়ি গ্রাম  । এ এলাকা ফয়জুর রহমান বুলবুল তার নিজস্ব জমিতে আর রহমান এগ্রো ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন । সেখানে মাছ চাষের ঘের রয়েছে । সম্প্রতি তিনি তার পুকুর থেকে সরকারি কোন অনুমতি ছাড়াই গত ৫-৬দিন আগে থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করে তা পাইপ এর মাধ্যমে প্রায় ১ কিলোমিটার দুরে ফেলছেন। এতে ঐ এলাকায় অবস্থিত গ্রামবাসিদের যাতায়াতে জন্য একটি সরকারি রাস্তা রয়েছে মাত্র ২০ গজ দুরে । এছাড়া ঐ এলাকায় পাকা কাচাঁ মিলে প্রায় ২৫টি পরিবার বসবাস করছেন । এতে ঐ এলাকার ভারসম্য হারানোসহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে জানান পরিবেশবিদরা ।

দূর্বাজুড়ি এলাকার বাসিন্দা ও শিক্ষক সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস বলেছেন, আমার বাড়ি থেকে মাত্র ২৫ গজ দুরে  ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে । শুধু তাই নয়  বালি উত্তোলনের স্থান থেকে  ২০ গজ দুরে রয়েছে আমাদের গ্রামবাসিদের যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা একটি রাস্তা । যেভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে তাতে কয়েক বছরের মধ্যেই এলাকার বিপর্যয় ঘটবে । তিনি আরো জানিয়েছেন বর্তমানে এলাকার চারি দিকেই পানি রয়েছে । কিছুদিনের মধ্যে পানি কমে গেলেই এলাকা ডেবে যাওয়ার আশংকা দেখা দেবে ।এ কারণে আমরা এলাকাবাসিদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি ।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আর রহমান এগ্রো ফার্ম এর মালিক ফায়জুর রহমান বুলবুল  এর ০১৯১৪-৪১২৪১২ মুঠোফোনে কমপক্ষে ২০ বার ফোন  দেওয়া হয়। কিন্তু তার মুঠোফোনটি খোলা পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে পরিবেশ নিয়ে কাজ করা কাজী হাফিজুর রহমান বলেছেন, সরকারি নিয়ম-কানুন রয়েছে কৃষি জমিকে নস্ট করা যাবে না । কৃষি জমিতে  কোন স্থাপনা  করা হলে তা অবশ্যই সরকারি অনুমোদন লাগবে । এ সকল আইনকে উপেক্ষা করে কেউ যদি কিছু করে তা আইনের লংঘন । এলাকার পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে  এবং পরিবেশের ভারসম্যের ক্ষতি হয় এমন কাজ না করতে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা সেলিম বলেছেন, বালি উত্তোলনের নিয়ম নেই । বালি উত্তোলন বন্ধের জন্য ঐ এলাকা থেকে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আমি বা এসিল্যান্ড সাহেব যে কেউ এলাকায় যাব । সেখানে গিয়ে বিষয়টি দেখার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  গ্রহন করা হবে।  

নতুন বার্তা/কেকে


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top