বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮
Thu, 28 Dec, 2017 05:02:07 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ (আইডিএমভিএস) এর আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর. সি. মজুমদার মিলনায়তনে হয়ে গেল এক বিশেষ মিডিয়া কর্মশালা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ড. আসম মাকসুদ কামাল, ডিন, ভূ এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
 
আরো উপস্থিত ছিলেন আইডিএমভিএস এর পরিচালক ড. মাহবুবা নাসরীন; ফ্রেন্ডশিপ এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান; অজয় চক্রবর্তী, ডেপুটি সেক্রেটারি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রান মন্ত্রনালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার; এমিরেটাস প্রফেসর শ্রীকান্ত চট্টোপাধ্যায়, স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিনান্স, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসি, নিউজিল্যান্ড। এছাড়াও যাদের জন্য আয়োজন সেই সংবাদকর্মীরা ছাড়াও সেখানে আরও ছিলেন বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা থেকে আসা উন্নয়ন কর্মীরা।
 
অজয় চক্রবর্তী, ডেপুটি সেক্রেটারি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রান মন্ত্রনালয় বলেন, ‘দূর্যোগ ঝুকির দিক থেকে আমরা বিশ্বে ৫ নম্বরে আছি। ভৌগলিক কারনেই আমরা দূর্যোগপ্রবণ এলাকায় বাস করছি। এবছরই আমরা একের পর এক দূর্যোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তাই এধরনের গবেষনা খুবই সময়োপযোগী এবং এরকমটা আরও হওয়া দরকার।’
 
রুনা খান বলেরন, ‘আমরা ফ্রেন্ডশিপে আগে টাকা জোগার করে প্রজেক্ট খুজিনা। আমরা সমস্যা সনাক্ত করে তারপর টাকা খুজি। এতে করে সম্যাগুলোর সমাধানটি স্থায়ী হয়। আমরা
 
বেনিফিশিয়ারিদের রিলিফ দেবার সময় তাদের আত্মসম্মান বোধ ঠিক রাখি। আমরা ছড়িয়ে ছিঠিয়ে অনেক কাজ না করে একটা ছোট জায়গায় একদম গভীরে ঢুকে কাজ করতে পছন্ত করি। এতে করে তার সমাধানটি অনেক স্থায়ী হয়। আমরা সংখ্যার পেছনে না ছুটে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করছি শুরু থেকেই। এই প্রজেক্ট সেই কথাই বলছে।”
 
ড. আসম মাকসুদ কামাল, ডিন, মৃত্তিকা এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ বলেন, ‘গবেষনার কাজ খুব ভাল হয়েছে। আমি এই উন্নয়ন প্রকল্প দেখেও অত্যন্ত উৎসাহ বোধ করছি। আমরা যে ফলাফলগুলো দেখতে পাচ্ছি সেটা খুবই আশাব্যঞ্জক। আমরা এভাবে স্থায়ী দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য কাজ করতে থাকলে আমাদের জিডিপি বাড়বে, সর্বোপরি আমাদের মানুষরা ভাল থাকবে।’
 
প্রকল্প সম্পর্কে:
কমিউনিটি ম্যানেজড ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন (সিএমডিআরআর) নামের এই প্রকল্পটির উপর প্রান্তিক মূল্যায়ন গবেষনাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ এর উদ্যোগে পরিচালিত হয়। তিনজন শিক্ষকর একটি দল এই গবেষনাটি সম্পাদন করেন। যার প্রধান ছিলেন প্রফেসর ড. মাহবুবা নাসরিন, পরিচালত ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ এবং তার দুই সহযোগী গবেষক ড. দিলারা জাহিদ, সহকারী অধ্যাপক এবং মোঃ জুয়েল মিঞা, প্রভাষক।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ২০১২ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ (আইডিভিএস) প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই কমিউনিটি ম্যানেজড ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন (সিএমডিআরআর) প্রকল্পটি এপ্রিল, ২০১৪ থেকে এপ্রিল ২০১৭ সময়ে বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পটি ফ্রেন্ডশিপ লাক্সেমবার্গ এবং লাক্সেমবার্গ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সহায়তায় বাস্তবায়ন করে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ। দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করা মানুষের ঝুঁকি হ্রাস করাই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল। ফ্রেন্ডশিপ এই প্রকল্পটি উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম এবং উপকূলীয় দক্ষিণ অঞ্চলের পটুয়াখালী, বরগুনা ও সাতক্ষীরা জেলায় বাস্তবায়ন করে।
এই গবেষনার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্পটির উপর প্রান্তিক মূল্যায়ন করা। আদৌ এতে সফলতা এসেছে কিনা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপকারে এসেছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা।
বিভিন্ন সেবাপ্রদানকারী সংস্থাগুলো (যেমন-ইউডিএমসি, উপজেলা প্রশাসন, ওয়াাশ কমিটি ইত্যাদি) এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত যোগসূত্রের প্রতিষ্ঠার মধ্যেই প্রকল্পের সরাসরি প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। স্থানীয়দের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতীতের তুলনায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবীরা এখন প্রাথমিক সতর্কতা, আশ্রয় ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক চিকিৎসা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং ত্রাণ অপারেশন ছড়িয়ে দেওয়ায় আরও দক্ষ হয়েছে। তারা সাহায্য সংগঠনগুলির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত থাকে। কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরে  প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং সচেতনতা প্রচারণার সাথে জড়িত থাকে।
প্রকল্পের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। প্রকল্পটি সমগ্র স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য আশা সৃষ্টি করেছে। প্রশিক্ষণ এবং সমর্থনের মাধ্যমে তারা বিশেষ করে নারীরা এখন আরো আত্মনির্ভরশীল এবং আত্মবিশ্বাসী। পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পর স্থানীয় বাজারে উদ্বৃত্ত সবজি ও ফসল বিক্রয় করে প্রকল্পের অংশগ্রহনকারীরা তাদের পরিবারকে উন্নত করে তুলেছে। এবং আশেপাশের সবার কাছে নিজেদেরকে অনুকরণযোগ্য করে তুলেছে।
 
এই বিবেচনায়, নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি সুপারিশ করা হল:
 
১.  প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা
২.  আইনী সহায়তা সহ সামাজিক নিরাপত্তা প্রোগ্রামগুলিতে তাদের অংশগ্রহন সহজতর করা
৩.  সরকারী ও বেসরকারী পরিষেবা প্রদানকারীর সাথে সংযোগ স্থাপন করে সম্প্রদায় বা প্রাসঙ্গিক প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মাধ্যমে পরিবেশকে সক্রিয় করা। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা এবং বিশেষ উদ্যোগগুলি চালু করা।
 
নতুনবার্তা/কিউএমএইচ

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top