রোববার, ২৭ মে ২০১৮
Sun, 04 Mar, 2018 05:21:30 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম
ঢাকা: ‘পরিবেশ বাঁচলে, দেশ বাঁচবে- এই বিষয়টি আমাদের সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে। আসলে আমরা যথেষ্ট সচেতন কিন্তু সচেতন হয়ে যে দায়িত্ববোধ তা আমাদের নেই। আমরা যদি সত্যিকার পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে চাই তাহলে আমাদের সবাইকে সচেতনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল হতে হবে’। সম্প্রতি ‘ডেটল-চ্যানেল আই পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ পাওয়ার্ড বাই হারপিক’ ক্যাম্পেইনের শেষ পর্ব ‘দেশ আমার দায়িত্ব আমার’-এ অংশ নিয়ে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এসব কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন পরিবেশের কথা বলি তখন আমাদের গাছপালা, মাটি, বন, নদী, পানি, বাতাস, বন এসব কিছু মিলেই আমাদের পরিবেশ। এগুলোতে বাঁচাতে না পারলে আমাদের দেশ বাঁচবে না। যেমন- আমাদের নদী না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না, বায়ু না বাঁচেল দেশ বাঁচবে না। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের এই কাজগুলো সাধারণ মানুষ খুব বেশি জানেনা। তবে, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ধর্মেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে গুরুত্বসহকারে বলা হয়েছে। তবে, একটা দুঃখের বিষয় হলো আমাদের বুড়িগঙ্গা নদীকে দুষণের হাত থেকে বাঁচাতে আমরা নদীর পাশ দিয়ে দেয়াল তুলে দিয়েছি। তবুও মানুষ ওখানেই ময়লা-আবর্জনা ফেলে’।
 
তিনি বলেন, ‘পরিবেশ দুষণের শাস্তির জন্য আমাদের যেসব আইন রয়েছে সেগুলোর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা অনেকটা কমে গেছে। এর একটা কারণ হচ্ছে যে আমরা শাস্তিগুলো সঠিভাবে দিতে পারছি না। আমাদের যে পরিমাণ লোকবল রয়েছে তা দিয়ে পুরোপুরি এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না’। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সেন্টমার্টিনকে আমরা ধ্বংস করছি। খুব সম্ভবত উত্তর দিকের কোরালগুলো দুষণের কারণে মরে যাচ্ছে। এখানে সব শিক্ষিত মানুষই বেড়াতে যাই। তারাই এই দুষণ করছে। সুন্দরবন কিংবা সেন্টমার্টিন বাদেও যেকোনো পার্কে গেলে দেখা যায় ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে রয়েছে’।
 
এ ক্যাম্পেইনের আয়োজক প্রতিষ্ঠান রেকিট বেনকিজার-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর সৈয়দ তানজিম রেজওয়ান বলেন, ‘ক্যাম্পেইনটি মূলত দুইটি ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করছে। একটি হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আরেকটা হচ্ছে সমষ্টিগত বা পারিপার্শ্বিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে। যখন আমরা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে আসি, সেখানে থাকে খাবার আগে ভালোমত হাত ধোয়া, টয়লেট ব্যবহারের পরে হাত ধোয়া, নিজের বাসাবাড়ি পরিস্কার রাখা ইত্যাদি। এর বাইরে আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে পরিস্কার করার কথা আসলে আমাদের সামষ্টিক বিষয়টি চলে আসে। তখনই চলে আসে নিজের সচেতনতাকে কীভাবে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারি। সেই প্রেক্ষাপট থেকেই আমরা দেশব্যাপি পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর চিন্তা করলাম। তখনই আমরা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি হাতে নেই। তারই একটা অংশ হিসেবে আমরা গত বছর কোরবানির সময় ঢাকা শহরে কোরবানির বর্জ্য পরিস্কারের উদ্যোগ নেই। একটি প্রতিষ্ঠান বা একজন মানুষ অল্প পরিসরে কাজ করতে পারে, কিন্তু একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে হলে সকল মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ দরকার। আমরা দেশব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করে যাচ্ছি’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। আমরা প্রতি বছরই নতুন নতুন কাজের পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছি সেটি হলো- আমরা নিজেরা বলছি আজ থেকে আমরা কোনো জায়গা নোংরা করবো না এবং এই প্রতিশ্রুতি করার মাধ্যমে আমরা আরও তিনজনকে চ্যালেঞ্জ করছি। এভাবেই আমরা এই সচেতনতা বৃদ্ধির ক্যাম্পেইনকে দেশব্যাপি ছড়িয়ে দিতে চাই, যাতে মানুষের অভ্যাসগত পরিবর্তন আসে’।
 
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘এই ক্যাম্পেইনের সবচেয়ে ভালো দিক যেটা মনে হয়েছে তাহলো এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদী কর্মসূচি। সাধারণত অন্যরা একটা বা দু’টা প্রোগ্রাম করে এ ধরনের কর্মসূচি শেষ করে। কিন্তু রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের এই কর্মসূচিটি পাঁচ বছর মেয়াদী। আমরা অনেক সময় বলি মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। আমি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখি সেটি হলো- মানুষ হয়তো সচেতন কিন্তু তার মাঝে দায়িত্ববোধের অভাব রয়েছে। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশের প্রথম ধাপই হচ্ছে নিজের ঘর পরিস্কার করা-এটিতে আমরা সবাই সফল। তার পরের ধাপ হচ্ছে নিজের আঙিনা-এটিতে আমাদের কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এরপর রয়েছে শহর, এখানে নাগরকিদের দুর্বলতা বেশিই পাওয়া যাচ্ছে। সকালে পরিস্কার করলে প্রতিমুহুর্তে মানুষ নোংরা করছে। রেকিট বেনকিজার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়ন করলে আশা করি আমরা একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ পাব’।
 
এ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দশ পর্বের অনুষ্ঠানটি প্রতি শনিবার প্রচারিত হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, মা ও শিশুর যত্ন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধির,  সচেতনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্মিত সচেতনতা ও বিনোদনমূলক এই অনুষ্ঠানে সবগুলোতে শিক্ষণীয়  নাটিকা রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সুস্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সচেতন করতে দেশব্যাপি গত বছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছে ক্যাম্পেইনটি। এর অধীনে সরাসরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গণমাধ্যম দ্বারাও জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হচ্ছে, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষকে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করা। ক্যাম্পেইনটির থিম সং ‘মন সুন্দর যার, সেই রাখে দেশ পরিষ্কার’ রিলিজ হয়। গানটি গেয়েছে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড চিরকুট।
 
নতুনবার্তা/কিউএমএইচ
 
 

 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top