লাইফস্টাইলস্বাস্থ্যহেলথ টিপসহোমপেজ স্লাইড ছবি

করোনা সংক্রান্ত যেসব বিষয় নিয়ে কথা বলা দরকার

বাংলাদেশ যেহেতু মাত্রই করোনা মহামারীর চূড়ান্ত চিত্রে প্রবেশ করল, করোনা সংক্রান্ত কিছু ধারণা নিয়ে আলাপ করা দরকার বলে মনে করছি। আমার ব্যক্তিগত অভিমত আজকের লেখাটি বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় ভীষণভাবে জরুরী।

১) ভেন্টিলেটর কিংবা আইসিইউ বেড না থাকলে শুধু শুধু হাসপাতালে গিয়ে কী হবে?

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে, বাংলাদেশে ভেন্টিলেটরের সংখ্যা মাত্র ১১২ টির মতো। আইসিইউ বেডও খুব বেশী নয়। করোনা ভাইরাস জটিল আকার ধারণ করলে মানুষকে আইসিইউতে নিয়ে ভেন্টিলেটর দিয়ে কৃত্রিমভাবে নানা সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। এখন যে দেশে ভেন্টিলেটর এত কম সে দেশে ডাক্তাররা হাসপাতালে নিলে কি আর করোনা রোগীদের কোন সাহায্য করতে পারবে?

আসলে পারবে। এই ব্যাপারটিই জেনেছি নানা চিকিৎসক বন্ধু যারা সরাসরি দেশ-বিদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের সাথে কথা বলে। এক ডাক্তার বন্ধু অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন, তিনি দেখেছেন যে, নিজে হেঁটে হাসপাতালে আসা এক রোগী যখন ইমার্জেন্সিতে, তখন তার শরীরে অক্সিজেন কনজাম্পসানের মাত্রা ৯৯% ছিল। অথচ মাত্র ৫ মিনিট পরেই সেটি কমে ৭০ ভাগের নিচে চলে গেল। এই রোগীকে পরবর্তীতে ভেন্টিলেটর ছাড়াই হাই প্রেসার অক্সিজেন সরবরাহ এবং নিয়মিত চেক-আপ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করে সুস্থ করা গেছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শতকরা ৮০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই ভেন্টিলেটর বা আইসিউ বেডের দরকার হয় না। নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ সরবরাহ ও হাই প্রেসার অক্সিজেন দিয়ে তাদের সুস্থ করা যায়। যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আইসিইউতে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেয়া রোগীদের ৬৫ শতাংশই মারা গেছেন, সেখানে আইসিইউর বাইরে সাধারণ বেডে ভর্তি হওয়া বেশীরভাগ রোগীদের হাই প্রেসার অক্সিজেন, ও অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে সুস্থ করা গেছে।

তার মানে আইসিইউ না থাকলে বা ভেন্টিলেশন না থাকলেই যে হাসপাতাল আর ডাক্তারদের কোন কাজ নেই, বা রোগীদেরও আর কোন সাপোর্ট পাবার সুযোগ নেই, ব্যাপারটা তেমন নয়। তবে নিঃসন্দেহে ঘরে কোয়ারেন্টাইনে থেকে সুস্থ থাকতে পারাটাই এই সময়ে সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি।

উল্লেখ্য করা জরুরী যে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ করার জন্য ডাক্তাররা হাসপাতালে অনেক কিছু করেন। ফুসফুস, শ্বাসযন্ত্র, কিডনীসহ নানা অংগ-প্রত্যংগকে সুস্থ ও কার্যকরী রাখতে যেসব কাজ করা লাগে সেগুলা সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি বুঝিনি, তাই এখানে লিখিওনি। কিন্তু যে তথ্যগুলো জানা জরুরী তা হচ্ছেঃ

– ঘরে কোয়ারেন্টাইনে থেকে আক্রান্ত না হওয়াটাই সেরা সিদ্ধান্ত

– করোনাতে আক্রান্ত ৮০ শতাংশ রোগী শুধু মাত্র ২ সপ্তাহ বিশ্রাম নিলেই সুস্থ হয়ে যাবেন। এই ৮০ শতাংশের অনেকে জানবেনও না যে তাদের করোনা হয়েছিল।

– বাকি ২০ শতাংশের মধ্যে মধ্যে আশি শতাংশ যদি হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সের নিয়মিত সেবা পান, ওষুধ ও হাই ফ্লো অক্সিজেন পান, তাহলে সুস্থ হয়ে যাবেন।

– বাকি দূর্ভাগা যে অল্প কিছু রোগী থাকবেন (বাংলাদেশের জনসংখ্যার অনুপাতে সেই অল্প রোগীর সংখ্যাও লক্ষাধিক হয়ে যেত পারে), তাদের ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ বেড অবশ্যই লাগবে। এবং আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটর পাবার পরও তাদের ন্যূনতম ৬৫ ভাগকেই হয়ত বাঁচানো যাবে না।

(যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে আইসিইউতে রাখলেও কিন্তু ভেন্টিলেটর দেয়া লাগেনি, হাই ফ্লো অক্সিজেন ও অন্যান্য সেবা দিয়েই তিনি মোটামুটি সুস্থ হয়ে গেছেন।)

২) অহেতুক কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেসন কিংবা লকডাউন জারি রেখে অর্থনীতির বারোটা বাজানো কি ঠিক হচ্ছে?

জ্বী ভাই। কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেশন কিংবা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। খুব পরিষ্কারভাবে জেনে রাখুন করোনা ভাইরাসের কোন চিকিৎসা নেই। ভ্যাক্সিন নাই, ওষুধ নাই, কিছুই নাই। যে হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্বের কথা বলা হচ্ছে সেগুলো কোনটিই করোনার জন্য নতুন আবিষ্কার হওয়া কোন ব্যবস্থা নয়। এগুলো গত অর্ধ শতাব্দী ধরে সামাজিক ও আচরণগত বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনেক ছোঁয়াচে রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

কেউ প্রকাশ্যে বলছেন, কেউ বলছেন না – কিন্তু কোন দেশই মনে করে না যে খুব সহসাই করোনার ভ্যাক্সিন বা ওষুধ আবিষ্কার হয়ে যাবে। পরীক্ষামূলক নানা যেসব ওষুধের কথা আমরা শুনছি সেগুলো মূলত করোনার নানা উপসর্গ কমিয়ে নিয়ে আসার জন্যই ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু পৃথিবীর সব দেশই বিশ্বাস করে, করোনা দূর হবার জন্য মূলত পৃথিবীর ৮০ শতাংশ মানুষকে একবার হলেও করোনা আক্রান্ত হতে হবে। একবার করোনা হয়ে গেলে, তার করোনা প্রতিরোধ করার সক্ষমতা অর্জন করার কথা, ফলশ্রুতিতে সেটাই হবে করোনা ভাইরাস ঠেকানোর মূল অস্ত্র।

তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে, সবাইকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দিলেই তো অল্প কয়েক দিনের মধ্যে সবাই আক্রান্ত হয়ে আবার সুস্থও হয়ে যেতে পারে, তাহলে ল্যাঠা চুকে যায়। এত কোয়ারেন্টাইন, লক ডাউন ইত্যাদি করে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করার দরকারটা কী?

দরকার আছে। কারণ করোনায় ৬০ বছরের বেশী বয়সী মানুষরাই মূলত বেশী আক্রান্ত হন, মৃত্যুর হারও প্রায় ৯৫ শতাংশই তাদের মধ্যে। এর নিচে অল্প কিছু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার খুবই কম। এখন দেশগুলো যদি কোন ব্যবস্থা না হয়, তাহলে একবারে সবাই অসুস্থ হলে লাখ লাখ বয়স্ক মানুষের আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে, হাসপাতালে সাধারণ বেড লাগবে, অক্সিজেন লাগবে, ওষুধ লাগবে, ডাক্তার লাগবে – যেটা পৃথিবীর কোন দেশেরই নেই। কিন্তু কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেসন ও লক ডাউনের মাধ্যমে যদি এই আক্রান্ত হবার প্রক্রিয়াটাকে ন্যূনতম ৬ মাসে ছড়িয়ে দেয়া যায়, তাহলে সব দেশই তাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে কিছুটা হলেও চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে, নাহলে শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থা নয়, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে।

তার মানে হচ্ছে এই বিদ্যমান পদ্ধতি করোনাকে প্রতিরোধ করার জন্য নয়, বরঞ্চ করোনাকে ধীরে ধীরে সামলানোর একটি বিশেষ সামাজিক ও আচরণগত রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি। তাই আমাদের অবশ্যই আরও দীর্ঘদিন সব ধরণের সতর্কতা মেনে চলতে হবে।

৩) মানুষজন মসজিদে গেল, গার্মেন্টস কারখানায় আসল, কারওয়ান বাজারে গেল – তাইলে আর এখন লকডাউন জারি রেখে কোন লাভ আছে?

আছে। আপনি যদি ১৭ কোটি মানুষকেই টানা ১৪ থেকে ২১ দিন বাসায় আটকে রাখতে পারতেন, তাহলে মোটামুটি নিশ্চিত আপনি করোনাকে প্রায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। তাও পুরোপুরি পারতেন না, সীমান্তে আনাগোনা থাকে, পণ্যের চলাচল হয়। কিন্তু এই যে সাম্প্রতিক হাজার হাজার মানুষ বাজারে যাচ্ছে, মসজিদে যাচ্ছে, গার্মেন্টসে আসছে, তাতে করে অবশ্যই লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে, কিন্তু তবু যতটা লকডাউন সম্ভব হচ্ছে, তাতেও কাজ কম হচ্ছে না।

যেমন ধরুন, আমার আব্বা-আম্মা গত ২০ দিন ধরে পুরোপুরি বাসায়। তারা কোথাও যান না, কাউকে বাসায় আসতে দেন না, বুয়া আসেন না, আমার বোন যায় না, পত্রিকা নেয়া বন্ধ (পত্রিকার মাধ্যমে অবশ্যই করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে। আপনার হকার যদি পত্রিকায় বিরাট একটা হাঁচি দিয়ে আপনার দরজার নিচে দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়, তবে অবশ্যই আপনার করোনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থেকে যায়)। অন্য সময় হলে আমার আব্বা মসজিদে যেতেন, আম্মা পাশের রোডে খালার বাসায় যেতেন। আমার কেয়ারটেকার, বুয়া বাসায় আসত। এদের কারো মাধ্যমে করোনা আমার আব্বা আম্মাকে আক্রান্ত করলে, তারা সেটি আবার আমার খালা, বোন, বুয়া, কেয়ারটেকার, মসজিদের মুসুল্লী, ড্রাইভার, এবং তাদের মাধ্যমে তাদের পাড়া-প্রতিবেশীসহ আরও হাজার হাজার মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারতেন।

লাখ লাখ মানুষ যেমন নিষেধাজ্ঞা মানছেন না, তেমনই কোটি মানুষ নিষেধাজ্ঞা মানছেন। তাই যতদিন সম্ভব লকডাউন বজায় রাখতে হবে। লকডাউন উঠে গেলে যাদের সামর্থ্য আছে তাদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, যতদিন পারা যায়। প্রতিটা মানুষের এই আত্মত্যাগ আরও হাজারটা মানুষকে এক ধাক্কায় আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে। এভাবে একবারে কম কম করে আক্রান্ত হলে; হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের পক্ষেও ভালো সেবা দেয়া সম্ভব হতে পারে।

৪) আমার (জনৈক তরুণ, আমি না) বয়স তো ৩৯ বছর। আমার তো করোনা হবে না। হইলেও মরব না। তাহলে আমি একটু টুইংকেলের সাথে দেখা করে আসি ভাই?

নাহ সরি। ঝিম মাইরা ঘরে বসে থাকেন ভাই। একথা সত্য যে পৃথিবীর বেশীরভাগ দেশে ৬০ বছরের নীচে মানুষের আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম, মৃত্যু তো আরও কম। তাই অল্প বয়সী মানুষদের মৃত্যুর ঝুঁকি নগণ্য। কিন্তু অল্প বয়সী মানুষ নিজেরা কম ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও তারা বেশী বয়স্ক মানুষের জন্য বিরাট ঝুঁকি। তারা বয়স্ক মানুষদের আক্রান্ত করে মৃত্যুর মুখে ফেলতে পারেন।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর অনেক হিসাব নিকাশই যেন বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে মিলছে না। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের বয়সের ব্যাপ্তি খুব অদ্ভুত ভাবে প্রায় সব বয়সীদের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একইভাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্যানাডায় অনেক তরুণ বাংলাদেশী আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন।

বাংলাদেশী চিকিৎসক বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানা গেল, উন্নত দেশে ৬০ বছর বয়স্ক মানুষের শারীরিক গঠন ও ঝুঁকি যেই মাত্রায়, বাংলাদেশীদের মধ্যে সেই একই ঝুঁকি অনেক সময়ে ৫০ বছরে এমনকি তার কম বয়সীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। সুতরাং, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ৬০ বছরের মানুষদের যে ঝুঁকি বাংলাদেশীদের হয়ত ৪০ বছরের পরেই সেই ঝুঁকি, যেমন ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, উচ্চরক্তচাপ, ফুসফুস বা কিডনীর প্রদাহ প্রকট হয়ে দেখা দেয়।

সুতরাং আপনি যদি ৬০ বছরের কম বয়সী বাংলাদেশীও হন, আপনার কপাল খারাপ। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকেন।

৫) বাইরে তো চরম গরম। রোদে মাথার তালু পুড়ে যাচ্ছে। এই তাপমাত্রায় তো করোনা মরে ভূত। তাইলে ঘুরতে যাই নাকি?

দুঃখিত! এই বিষয়েও এখনও কোন নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। তাপমাত্রার একটা প্রভাব করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে যে ভূমিকা রাখতে পারে, এই ব্যাপারে বহু বিজ্ঞানী আশাবাদী হলেও, শক্তিশালী কোন তথ্য প্রমাণ এখনও পান নাই। মার্চের শুরু পর্যন্ত কিছু গবেষণায় আশাবাদী তথ্য পাওয়া গেলেও, তখন পর্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রার দেশগুলোতে করোনার সংক্রমণ খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় আমি উচ্চ তাপমাত্রায় করোনা থাকবে না, এই ব্যাপারে খুব আশাবাদী হচ্ছি না।

একটা ব্যাপার মোটামুটি নিশ্চিত যে ড্রপ্লেটের (হাঁচি, কাশি, কথা বলার সময়ে ছড়ানো হালকা জলকণা) মাধ্যমে করোনা ছড়ায়, সে ড্রপলেট কড়া রোদে দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে ড্রপলেট শুকিয়ে গেলে তার মধ্যে করোনার টিকে থাকা কঠিন। কিন্তু রোদের বাইরেও ঘরের ভেতর নানা উপকরণ দিকে ভিত্তি করে করোনা হর হামেশাই ছড়ায়, তাই শুধু তাপমাত্রার উপর ভরসা করে হাত পা ছড়িয়ে বসে থাকলে চলবে না।

৬) একবার করোনা হলে বললেন যে আর হয় না, কিন্তু অমুক পত্রিকায় পড়লাম তমুক আপার নাকি আবার হইছে?

ভাই এটা নিয়েও নানা জল্পনা কল্পনা চলছে। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত আশাবাদী যে একবার যার করোনা হবে তার দ্বিতীয়বার হবে না। কিছুক্ষেত্রে দেখা গেছে কারও কারও নাকি দ্বিতীয়বার করোনা হয়েছে, কিন্তু তারা কেউ মারা গেছেন, এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে যাদের দ্বিতীয়বার করোনা ধরা পড়েছে, তাদের প্রথমবারের টেস্টটা ঠিক মতো করা হয়েছিল কিনা এটা নিয়ে বিজ্ঞানীরা সন্দিহান। ডাক্তাররা বলছেন, এমন হতে পারে প্রথমবার টেস্টে যদিও দেখা গেছে তাদের করোনা ছিল, আসলে তাদের হয়ত করোনা ছিলই না, ভুল টেস্ট রিপোর্ট এসেছিল। প্রতি ১০০ জনের টেস্টে এমন ৫ শতাংশ ফলস পজিটিভ (অর্থাৎ করোনা নাই, কিন্তু ধরা পড়েছে আছে) অথবা ফলস নেগেটিভ (অর্থাৎ করোনা আছে কিন্তু ধরা পড়েছে নাই) হতে পারে। তারা ধারণা করছেন দ্বিতীয়বার করোনা ধরা পড়া কেইসগুলো মূলত এমন। আবার অনেকে বলছেন, এই ক্ষেত্রে ফলস নেগেটিভ হলেও, ফলস পজিটিভ হবার সুযোগ নেই, কিন্তু ম্যানুয়াল বা হিউম্যান এরোর থাকতে পারে।

ডাক্তাররা বলছেন করোনার ক্ষেত্রে আসলে প্রথম টেস্টের ৪৮ ঘন্টা পর আবার টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া গেলে খুব ভালো হতো, কিন্তু মহামারীর বর্তমানে এমন অবস্থা, যাদের একবার দরকার, তাদেরই করা যাচ্ছে না, সুতরাং কারও দ্বিতীয়বার করার মতো অবস্থা নাই। সুতরাং আমরা এখন পর্যন্ত আশা করতে পারি, করোনা একবার হলে হয়ত আর নাও হতে পারে। এইক্ষেত্রে যদি আমরা ভুল হই, তাহলে কপালে খারাপই আছে। এই ভুল রেজাল্টের কারণেই বেশীরভাগ উন্নত দেশই র‍্যাপিড টেস্টে বিশ্বাস করে না। র‍্যাপিড টেস্টে ফলস নেগেটিভের হার ১৫ শতাংশেরও বেশী, যেটি মহামারীর ক্ষেত্রে আত্মঘাতী। তাই র‍্যাপিড টেস্টের ব্যবহার সীমিত রাখা জরুরী।

অনেকগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি আজকে। বেশ কিছু পড়ালেখা করেছি গত একসপ্তাহ ধরে এইজন্য। কথা বলেছি বেশ কজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে। বিশেষ করে আমার যুক্তরাজ্য প্রবাসী ডাক্তার বন্ধু সালমা হাসানের সাথে আলাপ করে অনেক চিন্তার উন্মেষ ঘটেছে। তবুও তথ্যে ঘাটতি থাকতে পারে। এটি একটি নতুন রোগ। শতবর্ষের প্রথম মহামারী। আমরাও শিখছি। ভুল-ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এই বিষয়গুলো আপনার পরিচিত সবার সাথে আলোচনা করুন। এগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামনের দিনগুলিতে করোনার সাথে অর্থনীতি, জনসংখ্যাসহ আরও কিছু বিষয়ের সংশ্লেষ নিয়ে আলাপ করার ইচ্ছা আছে। তার আগে প্রচুর পড়তে হবে। এখন সেই কাজটি করছি।

বাংলাদেশ এখন খুব দূর্যোগপূর্ণ অবস্থানে আছে। এখনই সময় সামাজিক সংযোগ ও আচরণে সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াবার (দূরত্ব বজায় রেখে)। খুব ভালো থাকবেন। পজিটিভ থাকবেন। নেগেটিভিটি থেকে দূরে থাকবেন।

শামীম আহমেদ
সোশাল এন্ড বিহেভিয়ারাল হেলথ সায়েন্টিস্ট
ইউনিভার্সিটি অফ টরোন্টো

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker