ঢাকা: সাভারে রানা প্লাজা বিধ্বস্ত হবার একমাস পূর্ণ হলো শুক্রবার।
বাংলাদেশের শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির এই ঘটনা বহু সাধারণ মানু্ষের মনে একটি চিরস্থায়ী দাগ কেটেছে।
মর্মান্তিক সব ঘটনার বর্ণনা উঠে আসছে ...
ঢাকা: রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল। শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু।
তিনি ...
বগুড়া: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “উন্নয়নে এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক। তবে বিরোধী দল আগামী অধিবেশনে সংসদে যোগ দিলে সংকট ...
ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আওয়ামী লীগ আতঙ্কে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।
শুক্রবার বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ...
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছেন দলের সহযোগী সংগঠন যুবদলের কর্মীরা। এ সময় ক্ষুব্ধ কর্মীরা মওদুদের ছবিসংবলিত কুশপুত্তলিকায় জুতাপেটা করেন।
শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যারলয়ের পশ্চিম দিকে স্কাউট ...
ঢাকা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুটি শূন্য পদ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। দলের দুই প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে এ পদে বসানো হচ্ছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া ...
ঢাকা: চলমান আন্দোলন গতিশীল করতে ঢাকা মহানগরীর থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলোর কমিটির অনুমোদন করেছে বিএনপি। শুক্রবার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন সংক্রান্ত ...
ঢাকা: কয়েক দফা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে মেয়র হানিফ উড়াল সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী আগামী মাসেই এর একাংশ ...
ঢাকা: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তাদের জেরার মুখে পড়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ম্যাচ গড়াপেটা ইস্যুতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডার এ ব্যাটসম্যানকে।
বিমান বন্দরের কাছে হোটেল রিজেন্সিতে অবস্থান করছেন আইসিসির ...
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি মোবাইল থেকে তাকে হুমকি দেয়া হয়।
মোবাইলে কে বা কারা তাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে নিজের নিরাপত্তা ...
ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেটে তিনি বারবার নানাভাবে আলোচিত হয়েছেন। কখনো ইতিবাচকভাবে, কখনো নেতিবাচক। এই মুহূর্তে তিনি আলোচিত হচ্ছেন স্পট ফিক্সিংয়ের সন্দেহে আইসিসির জিজ্ঞাসাবাদের কারণে।গত দুই দিন তাকে জেরা করেন আইসিসির প্রতিনিধিরা।
বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ঢাকার ম্যাচ পাতানোর ঘটনায় আশরাফুলকে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের (আকসু) সামনে হাজির হতে হয়েছে পর পর দুই দিন। আইসিসির জেরায় কী কী প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে আশরাফুলকে? এ নিয়ে ক্রিকেটানুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল। কিন্তু মিডিয়ার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে চান না আশরাফুল। নতুন বার্তা ডটকমকে তিনি বলেছেন, “আমার কাছে তাদের জানার কিছু নেই।”
শুক্রবার রাতে আশরাফুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হলে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, “মিডিয়ার কাছে সব প্রশ্নের জবাব তো দেয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরো বলেন, “আমার কাছে আকসু যা যা জানতে চেয়েছে, আমি সঠিক জবাব দিয়েছি। আসলে, আমার কাছ থেকে তাদের আর কিছু জানার নেই। আর অন্যদের বিষয় জানি না।”
বাগেরহাট: নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, “অচল মংলা বন্দরকে সরকার জীবন্ত করেছে। এ কারণে বর্তমানে এই বন্দরে জাহাজ আগমন বেড়ে গেছে। বন্দরের প্রধান সমস্যা চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ শীঘ্রই শুরু করা হবে। এছাড়া বন্দরের জন্য আরো একটি নিজস্ব ড্রেজার ক্রয় করা হবে। এর ফলে মংলা বন্দরে বিরাজমান নাব্যতা সমস্যা কেটে যাবে।”
শুক্রবার সকালে মংলা বন্দরের নতুন গাড়ি ইয়ার্ড ও জেটি পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “নদী পথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উজ্বল সম্ভাবনা রয়েছে, এ কারণে একটি গভীর সমুদ্র বন্দরসহ পায়রা নামের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর চালুর কাজ করছে সরকার। এছাড়া মংলা বন্দরের গুরুত্বের কারণে প্রতিবেশি দেশগুলো এ বন্দর ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে।”
পরে নৌমন্ত্রী বন্দরের সম্মেলন কক্ষে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এ সময়ে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর হাবিবুর রহমান ভূইয়া, মংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র জুলফিকার আলীসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা: দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মা এবং আমার দেশ পাবলিকেশন্সের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে করা মামলা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বুধবার বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত ১৩ মে মাহমুদা বেগম মামলা বাতিলে এ আবেদন করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
গত ১৩ এপ্রিল রাতে রমনা থানায় দৈনিক সংগ্রামের ছাপাখানায় বেআইনিভাবে দৈনিক আমার দেশ ছাপানোর অভিযোগে মামলাটি করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রকাশনা) নাসরিন সুলতানা। মামলায় মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা বেগম ছাড়াও আসামি করা হয় দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে।
প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ৩২ ও ৩৩ ধারা অনুযায়ী এ মামলা করা হয়।
ইতিমধ্যে এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন মাহমুদা বেগম এবং আবুল আসাদ।
জামিন আবেদনে বলা হয়েছিল, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পত্রিকাটির প্রিন্টিং প্রেস সিলগালা করে দেয়া হয়। সরকার নতুন করে আমার দেশ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করেনি। ডিক্লারেশন আছে এমন একটি অনুমোদিত পত্রিকা যদি কোনো কারণে নিজ ছাপাখানায় পত্রিকা ছাপাতে না পারে, তাহলে প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন)-১৯৭৩ আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী অন্য ছাপাখানায় ছাপাতে পারে। সে কারণে আমার দেশ পত্রিকা আল ফালাহ প্রিন্টং প্রেসে ছাপানো হয়েছে। এই পত্রিকা ছাপানোর বিষয়টিও গোপন করা হয়নি। পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে তা উল্লেখ করা হয়েছিল এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তাই প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) আইনের ৩২ ও ৩৩ ধারায় যে মামলা করা হয়েছে, তা চলতে পারে না।’
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কথিত স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশ এবং রাষ্ট্রদ্রোহসহ নানা অভিযোগে গত ১১ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা: তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
শুক্রবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘এনহেন্সিং ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট’ সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ মালয়েশিয়ান চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) আয়োজিত মুঠোফোন অপারেটর রবি প্রেজেন্টস শোকেস মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় দিনের এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবি আজিয়াটা লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট (করপোরেট, রেগুলেটরি অ্যান্ড লিগ্যাল) মোহাম্মদ শাহেদুল আলম।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচনা করেন এয়ারটেল বাংলাদেশের করেপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান আশরাফ এইচ চৌধুরী ও এক্সপোপ্রোয়ের সিইও মো. মামুনুর রহমান।
মোহাম্মদ শাহেদুল আলম বলেন, বাংলাদেশের রেগুলেটরি এনভায়রনমেন্ট আনপ্রেডিক্টেবল। এ কারণে এখানে বিদেশি বিনিয়োগ অনুৎসাহিত হচ্ছে। ডবল ট্যাক্সেশন, স্পেকট্রামের উচ্চমূল্য এবং সঠিক নীতি না থাকার কারণে টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও আশার কথা হলো, টেলিঘনত্ব বাড়ছে। বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। ২০০৪ সালে মোবাইল ফোনের পেনিট্রেশন ছিল ৩ শতাংশ। গত বছরের শেষে এটি দাঁড়ায় ৬৫ শতাংশে। ইন্টারনেট পেনিট্রেশন এখন ২০ শতাংশ।
স্বাগত বক্তব্যে বিএমসিসিআইয়ের সভাপতি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে এখানে বিনিয়োগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিনিয়োগ করে নেতিবাচক অভিজ্ঞতাই বেশি। তাই অনেকে বিনিয়োগ করতে চাইছেন না।
আশরাফ এইচ চৌধুরী বলেন, “রাজনৈতিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা খুবই দরকার। এটি না থাকলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবেই। তার ওপর এত দিনেও আমাদের একটি ভালো বিনিয়োগ নীতিমালা হয়নি। কোনো সরকারই এদিকে নজর দেয়নি।”
মোঃ সবুর খান বলেন, “রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে কোনোভাবেই বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য রাজনীতিবিদদের দেশের উন্নয়নে একমত হয়ে কাজ করতে হবে। এখানে অনেকে বিনিয়োগ করতে আসেন, কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে ফিরে যান। এ থেকে আমাদের উন্নয়ন জরুরি।”
চট্টগ্রাম: রাজধানীর উদয়ন স্কুলের কিছু ছাত্রীর জামার ফুলহাতা কেটে দেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
তিনি বলেছেন, “শুধু স্কুল কেন, কোনো প্রতিষ্ঠানেরই কারো ধর্মীয় বিধান ও নিয়ম মানার ব্যাপারে বাধা সৃষ্টির অধিকার নেই। আধুনিক বিশ্বও এটা সমর্থন করে না। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটতে পারে, ভাবাই যায় না।” হেফাজতের দাবি বাস্তবায়িত হলে দেশে এমন দুঃসাহস কেউ দেখাতে পারত না বলে তিনি দাবি করেন।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির এসব কথা বলেন।
আল্লামা শফী বলেন, উদয়ন স্কুলের শিক্ষিকা ছেলেদের সামনে ছাত্রীদের ড্রেসের হাতা কেটে শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতেই আঘাত করেননি, বরং এটা ইসলামের একটি অলঙ্ঘনীয় বিধান পালনে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধ।
বিশ্বে নিরাপত্তা বাহিনীই কেবল কঠোরভাবে ড্রেসকোড মেনে চলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, তার পরও ভারতীয় পুলিশ, বিএসএফ ও সেনাবাহিনীতে শিখদের তাদের ধর্মীয় পাগড়ি পরিধানে বাধার সৃষ্টি করা হয়নি। তিনি বলেন, একটা মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের অপরিহার্য বিধান পর্দা পালনে বাধা সৃষ্টি করে কোনো ড্রেসকোড প্রচলন করা ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষ ছাড়া আর কিছু নয়।
বিবৃতিতে আল্লামা শাহ আহমদ শফী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষিকা মাহবুবা খানম কল্পনা ও প্রিন্সিপাল উম্মে সালমা বেগমের বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ ধরনের ঘটনার বিচার না হলে ইসলামের দুশমনরা দেশের সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বিনষ্টে ষড়যন্ত্র করতে উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আল্লামা শফী আগ্রহী ছাত্রীদের ফুলহাতা ড্রেস ও হিজাব পরে ক্লাসে আসতে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, তৌহিদি জনতা কোনোভাবেই ইসলামের বিরুদ্ধে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা নীরবে সইবে না।
তিনি দেশের শান্তিশৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা বিধানে অবিলম্বে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে দেশকে সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
লন্ডন: বৃটেনে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশী নাগরীক মোঃ ফারুক চৌধুরী। তিনি যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের নির্বাচিত লর্ড মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হন।
গত ২১ মে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাকজমক পূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায়ী মেয়র পিটার মেইন তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাঙালি তথা এশিয়ান লর্ড মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হলেন। বাংলাদেশী নাগরিক ফারুক চৌধরীর এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিলেতে বাঙালির গৌরবে আরেকটি পালক যুক্ত হলো।
১১৪ বছরের ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের ইতিহাসে প্রথম কোনো এশিয়ান এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত হলেন। ফারুক চৌধুরী ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এই অল্প সময়ে তার এই অর্জন বৃটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন অনেকেই।
আনুষ্টানিক দায়িত্ব গ্রহণকালে ফারুক চৌধুরী বলেন, “বিশ্বের মানচিত্রে ক্ষুদ্র একটি দেশ বাংলাদেশ। এর মধ্যে এক ছোট গ্রাম থেকে আমি এসেছি। আমার আজকের এই সফলতা স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটি ও স্থানীয় জনগণের জন্যই সম্ভব হয়েছে শুধু ব্রিস্টল নয় সব বাংলাদেশীকে আমার এই অর্জন আমি উৎসর্গ করছি।আগামী দিন গুলোতে আমি সুবিধাবঞ্ছিত শিশুদের জন্য বিশেষভাবে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।
ফারুক চৌধুরী সিলেটের গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, ব্যক্তিগত জীবনে এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি।
উল্লেখ্য ২০০৭ সালে প্রথম তিনি লেবার পার্টি থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৮৩০ সালে ব্রিস্টলে প্রথম এশিয়ান এসেছিলেন রাজা রাম মোহন রায়। ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিল শ্রদ্ধাভরে এখনও ধরে রেখেছে রাজা রাম মোহন রায়ের অনেক স্মৃতি। কাউন্সিল অফিসের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে তার ভাস্কর্য, তার নামে করেছে স্থানীয় রাস্তার নামকরণ। সেই পথ ধরেই ইতিহাসকে সঙ্গে নিয়ে আরেক ইতিহাস গড়লেন ফারুক চৌধুরী।
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, “আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ আগে বলতেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই নির্বাচন হবে। এখন ওই জায়গা থেকে সরে এসে বলছেন শেখ হাসিনাই যে প্রধানমন্ত্রী হবেন এমন কোনো কথা নেই। এতটুকু এগিয়ে আসার জন্য আশরাফকে ধন্যবাদ জানাই। তারা আরেকটু এগিয়ে এলেই চলমান সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়নতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া ও জাতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভায় মওদুদ একথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি শামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফের ছেলে মারুফ খন্দকার প্রমুখ।
সৈয়দ আশরাফকে ধন্যবাদ জানিয়ে মওদুদ বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আন্দোলন করছি না। আমরা আন্দোলন করছি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য। আগামীতে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।”
তিনি বলেন, “৪২ বছরে কেন গণতন্ত্রকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে পারিনি। এর একটি কারণ ১৯৭৫ সালে একদলীয় ব্যবস্থা কায়েম করা। ওই সময়েও তারা বিরোধী দলকে সহ্য করতে পারেনি। আজকে এরই ধারাবাহিকতা সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব অব্যাহত রেখেছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নিজেদের আয়ত্বে রেখে নির্বাচন কমিশন, দুদক ধ্বংস করেছে। আগামীতে আমরা সরকারে গেলে এসব প্রতিষ্ঠান স্বাধীন করে দেব। বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস থেকে মুক্ত করবো। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো।”
মওদুদ বলেন, “সরকার মুখের কথায় দেশ পরিচালনা করছে। যখন সরকারের জনসমর্থন চেলে যায় তখন সরকার একদলীয় ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করছে, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে, রাতের আঁধারে হত্যা করেছে। এগুলোর জবাব জনগণ একদিন দেবেন।”
জনসমর্থন যেহেতু নেই, তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোর করে শাসনক্ষমতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চাই, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে চাই। সেজন্যই সংঘাত থেকে দূরে থাকছি।
বিএনপি এই নেতা হুঁশিয়ার করে বলেন, “স্বাভাবিকভাবে যদি নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা না দেন তাহলে এমন একদিন আসবে যখন আপনারা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে বাধ্য হবেন।”
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার প্রশাসনের ড্রোন ব্যবহার করে হামলাকে সমর্থন করেছেন। তিনি এ জাতীয় ড্রোন হামলাকে বৈধ, কার্যকর এবং ন্যায় সঙ্গত হিসেবে দাবি করেছেন।
ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া নীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে এ সব কথা বলেছেন ওবামা।
তিনি বলেন, আমেরিকা একটি সংস্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে এবং তাদের প্রতিহত করা না হলে নির্বিচারে মার্কিন নাগরিকদের হত্যা করবে তারা; কাজেই এটা একটা যুদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা এখনো আমেরিকার জন্য হুমকি হয় রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার মধ্য দিয়ে এ হুমকির মুখে আমেরিকা পড়েছে বলে জানান তিনি।
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো কার্যকর হয়েছে এবং আমেরিকাকে নিরাপদ দেশে পরিণত করেছে বলেও দাবি করেন ওবামা।
২০১১ সালে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত ঘাতক ড্রোনের হামলায় পাকিস্তান ও ইয়েমেনে চার মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছে বলে ওয়াশিংটন এই প্রথম স্বীকার করার একদিন পরই এ ভাষণ দিলেন ওবামা।
মার্কিন কংগ্রেস নেতাদের কাছে লেখা এক চিঠিতে দেশটির এটর্নি জেনারেল এরিখ এইচ হোল্ডার জুনিয়র ড্রোন হামলায় মার্কিন নাগরিকদের নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে এর আগে জানিয়েছে দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস।
ঢাকা: তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে আক্রান্ত অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী৷ ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকায়৷ তার গাড়িতে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায় বলে তিনি জানিয়েছেন৷ এদিন সকালে শুটিংয়ে যাওয়ার সময় সোনারপুরের নাজিরাবাদে তার গাড়ি লক্ষ্য করে, ইট ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা৷ তাকে হুমকিও দেয়া হয় বলেও অভিযোগ৷
বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে সোনারপুরের নাজিরাবাদ উত্তপ্ত ছিল বলে, স্থানীয় সূত্রে খবর৷ স্থানীয় একটি মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেশ কয়েকদিন যাবত্ই তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে গণ্ডগোল চলছিল, ওই এলাকায়৷ শুক্রবার সকালে তা রীতিমতো সংঘর্ষের আকার নেয়৷
আর এদিন সকালে ওই পথেই শুটিংয়ের কাজে স্টুডিও যাচ্ছিলেন শঙ্কর চক্রবর্তী৷ নাজিয়াবাদের কাছকাছি আসতেই ঘটে বিপত্তি৷ কয়েকজন তাকে গাড়ি নিয়ে যেতে বাধা দেন৷ তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে নেয়ার কথা বলেন৷ তা সত্ত্বেও, তার গাড়ি লক্ষ্য করে আধলা ইট ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ৷ কাঁচও ভেঙে যায় তার গাড়ির৷ অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি৷ শঙ্কর চক্রবর্তীর দাবি, হামলাকরীদের মধ্যে কয়েকজন তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়েও দাঁড়িয়ে ছিলেন৷
যদিও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা৷ ঘটনায় শঙ্কর চক্রবর্তী অভিযোগ দায়ের করেন সোনারপুর থানায়৷ ঘটনাস্থলে যান সোনারপুর থানার আইসি৷ পুলিশ তদন্তে নেমেছে৷ সূত্র: ওয়েবসাইট।
১৫ সম্পাদকের বিবৃতি সম্ভবত কিঞ্চিৎ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বেশ কিছু সংগঠন ও বিশিষ্টজন বিবৃতি দিয়ে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য প্রকাশ করে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কারও ভাষা নমনীয়, কারও বেশ শানিত। মাহমুদুর রহমান ও তার আমার দেশ প্রসঙ্গে সুশীল সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট : এ পত্রিকাটি ও তার সম্পাদক সাংবাদিকতার স্বাধীনতার নামে দিনের পর দিন স্বেচ্ছাচার করেছেন।
তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অনিবার্য ছিল। 'আপাতত' বন্ধ করে দেওয়া টিভি চ্যানেল দুটি হেফাজতের তাণ্ডবের দিনে সংঘাত-সংঘর্ষ ছড়িয়ে দিতে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালিয়েছে_ এতেও সন্দেহ নেই। রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে ১৫ সম্পাদকের বিবৃতির ব্যাপারে ক্ষোভের কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, সম্পাদকরা সম্ভবত 'না জেনেই' বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মাহমুদুর রহমানের ব্যাপারে 'ওকালতি' না করার সুপরামর্শও দিয়েছেন। ছাপোষা ১৫ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রীর এই হিতোপদেশ গুরুত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন। গত বুধবার সহযোগী ডেইলি স্টার 'না বুঝেই' একটি সম্পাদকীয় লিখে ফেলেছে। সম্পাদকীয়টির শিরোনাম : রাইজিং ইনটলারেন্স :ইনফরমেশন মিনিস্টার্স লিটারাল ওয়ার্নিং। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মন্ত্রীর বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, দেশের অধিকাংশ শীর্ষ দৈনিকের সম্পাদক 'তথ্য' না জেনেই যৌথভাবে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। আসল তথ্য
সম্ভবত শুধু মন্ত্রীই জানেন। আমার অনেক শুভার্থী মনে করেন, বিবৃতিতে আমার স্বাক্ষর না করাই শ্রেয় ছিল।
বারবার নিজের কথা বলা যে শোভনীয় নয়, তা জেনেও সবিনয়ে বলতে চাই, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ও ব্যক্তি গোলাম সারওয়ারের মধ্যে একটি বিভাজন রেখা রয়েছে। উদার গণতান্ত্রিক মতাদর্শ সমকালের সম্পাদকীয় নীতির মূল স্তম্ভ। প্রকাশক, সম্পাদকসহ পুরো সমকাল পরিবার এ নীতি অনুসরণে দায়বদ্ধ। ব্যক্তি গোলাম সারওয়ারের দায়বদ্ধতার পরিধি একটু বিস্তৃত। এই দায়বদ্ধতা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অবিচল অনুসারী হিসেবে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হিসেবে। বিবৃতিটিতে স্বাক্ষর করেছে সমকাল সম্পাদক_ এখানে তার ব্যক্তি-পরিচয় নিতান্তই গৌণ।
সম্প্রতি গভীর রাতে টক শোতে অংশগ্রহণ কমিয়ে দিয়েছি। 'না' 'না' করেও কস্ফচিৎ-কদাচিৎ দু'একটি চ্যানেলে যেতে হয়। সেদিন 'সময়'-এর ডাকে সাড়া দিলাম এ জন্য যে, সম্পাদকদের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে দু-চারটি কথা বলা প্রয়োজন। সময়ের 'সম্পাদকীয়' অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিক ও আমার প্রিয় মানুষ রাশেদ খান মেনন এবং 'নিউজ টুডে' সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদও ছিলেন। মেনন ভাই এ প্রসঙ্গে তেমন মন্তব্য করেননি। আমরা দুই সম্পাদক প্রায় অভিন্ন ভাষায় একটি কথাই বলার চেষ্টা করেছি_ ১৫ সম্পাদকের অবস্থান সম্পূর্ণ পেশাগত। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ব্যাপারে চিরদিনই আমরা পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়েছি।
বাংলাদেশের সাংবাদিকরা এ জন্য গর্ব করে আসছেন। সম্পাদকরা মনে করেছেন, আমার দেশ প্রকাশে বিঘ্ন সৃষ্টি ও তার সম্পাদককে গ্রেফতার এবং দুটি টিভি চ্যানেল সাময়িকভাবে বন্ধ করতে যে প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে, তা বিধিসম্মত হয়নি। আমাদের আপত্তির মূল জায়গাটি এখানেই। গণমাধ্যমে প্রাণ খুলে যা খুশি বলার, হাত খুলে যা খুশি লেখার অধিকার নিশ্চিত করেছে বর্তমান সরকার। রাতের টক শো, সকালের সংবাদপত্রই তার প্রমাণ। তাই কোনো মিডিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়মের আশ্রয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ সরকারের সহিষ্ণুতা কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বিস্ময়কর ঘটনা 'গণজাগরণ মঞ্চে'র আবির্ভাব। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে যে নতুন জীবন ও যৌবনের দূতরা গর্জে উঠেছিলেন, তাদের প্রতি প্রথম দিন থেকেই সমকাল ও সমকাল সম্পাদকের অখণ্ড ও অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে সমকালের প্রথম পাতায় ব্যানার শিরোনাম ছিল_ 'এ রায় মানি না'। তরুণরা এক সন্ধ্যায় শাহবাগ চত্বর লাখো মোমের আলোয় উদ্ভাসিত করে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি তুলেছিলেন। পরদিন সমকালের প্রথম পাতায় মোমের আলোর সেই ছবি ছিল পুরো পৃষ্ঠাজুড়ে। ক্যাপশন ছিল : আলোর পথযাত্রী। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংবাদপত্র এভাবে একটি আন্দোলনের প্রতি এ রকম অখণ্ড সমর্থন ব্যক্ত করেছে বলে আমার জানা নেই। সমকাল দীর্ঘদিন যাবৎ 'গণজাগরণ মঞ্চ' নিয়ে চার পৃষ্ঠার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের বিস্তারিত সংবাদ, বিশেষ করে গভীর রাতে শাপলা চত্বর দুর্বৃত্তমুক্ত করতে বিশেষ অভিযানের বিশদ বিবরণ ও ছবি একমাত্র সমকালই ছেপেছে। সমকাল কর্মীরা এ জন্য অম্লান বদনে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন।
আমি অতীতের ন্যায় এখনও মনে করি, 'আমার দেশ' সাংবাদিকতার নীতিমালা পুরোপুরি বিসর্জন দিয়ে দিনের পর দিন সাংবাদিকতার নামে অসাংবাদিকতার নিন্দনীয় পথ অনুসরণ করেছে। মিথ্যা প্রচারে দেশজুড়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। মাহমুদুর রহমান তার পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় নিজের ছবিসহ যে লেখা প্রতিদিনই লিখেছেন, তাতেও সাংবাদিকতার নীতিমালা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। সত্যের অপলাপ করা হয়েছে। কখনও তিনি নোংরা ভাষাও ব্যবহার করেছেন। তিনি আমার বিরুদ্ধেও খারাপ ভাষায় তার পত্রিকায় বিষোদ্গার করেছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানে যথেচ্ছাচার, অপপ্রচার, মিথ্যা প্রচার নয়। এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও যুক্ত। 'হঠাৎ সম্পাদক' মাহমুদুর রহমানের সাংবাদিকতার নীতিমালা, স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতার বিষয় জানার প্রয়োজন নেই। বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তার সম্পাদক হিসেবে আবির্ভাব। আমার দেশের 'ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক' হিসেবে তিনি তার ওপর অর্পিত মিশনই পালন করেছেন। উলি্লখিত নানা কারণে আমার দেশের ডিক্লারেশন বাতিল করা যেত। বিদ্যমান আইনে সম্পাদক, প্রকাশকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রতিকারের জন্য প্রেস কাউন্সিলে যাওয়া যায়। এর কিছুই করা হয়নি। আমাদের আপত্তি সেখানেই। দুটি চ্যানেলের ব্যাপারে একই বক্তব্য। তারাও সাংবাদিকতার নীতিমালা বিসর্জন দিয়ে দিন-রাত উস্কানিমূলক প্রচারণা চালিয়েছে। ৫ মে সরকারের এক শীর্ষ নেতাকে বলেছিলাম, দুটি চ্যানেলে অপপ্রচার চলছে। টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স নেওয়ার সময় যে শর্ত তারা মেনে নিয়েছেন, তা তারা সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করছেন। ওদের সতর্ক করে দেওয়া উচিত। শেষ রাতে এ দুটি চ্যানেল যেভাবে বন্ধ করা হলো, তাও বিধিসম্মত হয়নি।
কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার জন্য এ লেখা নয়। ১৫ সম্পাদকের বিবৃতির প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধের প্রশ্নটিই উত্থাপন করছি। আমাদের বিবৃতির প্রেক্ষাপটে এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রকৃতি, এর সীমারেখা এবং এর সঙ্গে দায়িত্ববোধের জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে আমাদের একটি প্রেস কাউন্সিল আছে। সংবাদ কিংবা মন্তব্য নিয়ে সংক্ষুব্ধ যে কেউ সেখানে যেতে পারেন। কাউন্সিল বড়জোর সতর্ক কিংবা তিরস্কার করতে পারে। তাদের রায়ের পুরো বিবরণ সংশ্লিষ্ট পত্রিকা পাতাজুড়ে ছাপে (এখন প্রথম আলো ছাপছে), ব্যস এ পর্যন্ত। প্রেস কাউন্সিলকে সত্যিকার অর্থে ন্যায়পালের ভূমিকা দেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি। সে ক্ষেত্রে কাউন্সিলের গঠন-প্রকৃতির বর্তমান ধারণাটি বদলে দিতে হবে। এখন ক্ষমতাসীন সরকারের আস্থাভাজনরাই এ কাউন্সিলের সদস্য হন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ বাস্তবতা মেনে নিয়েও বলা যায়, দায়িত্বশীল ও প্রাজ্ঞ লোকদের মধ্য থেকেও 'আস্থাভাজন'দের বেছে নিতে পারে সরকার। গত কয়েকটি কাউন্সিলের দিকে তাকালে কি আমরা সে চিত্র পাই? স্বাধীনতা ভোগের পাশাপাশি গণমাধ্যম কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে, সে প্রশ্নও অনেকেই তুলেছেন। এর জবাব দিতে গিয়ে আমাদের ইতস্তত করতে হয়। কী ছাপব, কী ছাপব না, কতখানি ছাপব এবং কী সম্প্রচার করব, কী করব না কিংবা কতখানি করব_ এ নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার। বিশ্বজুড়ে বড় বড় সংবাদপত্রের নিজস্ব আচরণবিধি রয়েছে। বিবিসি, সিএনএনসহ বড় বড় সম্প্রচার মাধ্যমও কঠোরভাবে নীতিমালা অনুসরণ করে। এ ব্যাপারে আমরা যত দ্রুত দায়িত্বশীল আলোচনা শুরু করতে পারি, ততই মঙ্গল।
(লেখাটি শুক্রবার দৈনিক সমকালে বিশেষ সম্পাদকীয় হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে)
মুম্বাই: মিডিয়ার প্রথাটাই বুঝি এমন, বয়স বাড়ে আর সঙ্গে নিয়ে আসে ঝোলায় ভরা ভীমরতিটাকে। পাশ্চাত্যের রিচার্ড গেয়ার থেকে শুরু করে প্রাচ্যের বিগ বচ্চন। বয়সের ভার যাদের যতটুকু না নুইয়েছে, চিরসবুজ ব্যক্তিত্বে ততটাই বারবার ঝলসে উঠেছেন এক একটা চলচ্চিত্রে। ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’-এর সর্বশেষ ছবিটা দেখে কে বলবে রিচার্ড বাবু ছুঁয়েছেন ষাটের কোঠা? কিংবা জিয়া খানের সঙ্গে রোমান্টিকতায় কি কমতি ছিল অমিতাভ বচ্চনের ‘নিঃশব্দ” সিনেমায়? ‘বুড্ড হোগা তেরা বাপ’-এ তো পুরো বিপ বিপ দিয়ে তাকে বুড়ো বলা জনগোষ্ঠীকে একহাত নিয়েই ফেলেছেন।
এই যখন মিডিয়ার হালহকিকত, সেখানে মাত্র ৬২ বছরের যুবক হয়ে কেনই-বা পিছিয়ে থাকবেন বলিউডের অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, সেটা একটা যৌক্তিক প্রশ্নই বটে। তার অভিনয়ের মুনশিয়ানা নিয়ে অবশ্য নতুন করে বলার কোনো অবকাশ নেই। সেই ১৯৭৫ সাল থেকে ‘নিশান্ত’ ছবির মাধ্যমে খোলা রানের খাতায় যোগ হয়েছে নব্বইয়ের বেশি রান। অপেক্ষায় আছেন সেঞ্চুরির। কিন্তু কেউ বলতে পারবেন না, অভিজ্ঞতার ঝুলি বাড়াতে কখনো মনের সঙ্গে আপস করেছেন শাহ। কখনো মাথায় কাউবয় হ্যাট চাপিয়ে ‘হিরো হীরালাল’, কখনো-বা আবক্ষলম্বিত শ্বেতশ্মশ্রু মাওলানার বেশে ‘ইন দ্য নেম অব গড’ ছবির ধর্মীয় বাতাসে কিংবা ধোপদুরস্ত ইউনিফর্মে পিস্তল আর গুলির শব্দে পর্দা কাঁপিয়েছেন ‘আ ওয়েডনেসডে’র মতো সিনেমাগুলোতে।
প্রতিটি চরিত্র এতটাই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে নাসিরুদ্দিনের অভিনয়শৈলীতে, যেন মনে হয় গল্পটা এ মানুষটাকে নিয়েই লিখেছিলেন গল্পকার। ২০১০ সালের ‘ইশকিয়া’তেও হয়েছে এমন। ছিঁচকে-চোরা বুদ্ধি হয়েও বাঘা বাঘা অপরাধীর সঙ্গে পাল্লা দেয়া এক বিগতযৌবন জেলফেরত আসামির ভূমিকায় যেমন সাবলীল ছিলেন নাসিরুদ্দিন, তেমনি বিদ্যা বালানের সঙ্গে মানিয়েছিলও বেশ। যদিও ছবিতে শেষ পর্যন্ত শিকে ছিঁড়েছিল আরশাদ ওয়ার্সির ভাগ্যে, কিন্তু বিদ্যার সঙ্গে রসায়নটা নেহাত ভালো ছিল বলেই হয়তো সিল্ক স্মিতারূপী বিদ্যার সঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহকে ছাড়া আর কাউকেই ভাবতে পারেননি মিলন লুথারিয়া। একবার ভেবে দেখুন, কোনো ছবিতেই যেখানে সহশিল্পীর সঙ্গে একটু ঘনসন্নিবিষ্ট হতে ছাড়েন না ইমরান হাশমি, সেখানে পুরো ছবিতেই বিদ্যার শরীরের রাজত্বে ছড়ি ঘোরালেন নাসিরুদ্দিন। পাশাপাশি অবশ্য অভিনয়ের পর বিদ্যার গুণমুগ্ধতায় পঞ্চমুখ হতেও পিছপা হননি নাসিরুদ্দিন, যাতে পাছে দর্শকরা আবার তাদের এই অনস্ক্রিন রসায়ন থেকে নতুন কোনো গল্পের জন্ম না দিয়ে বসে।
শোনা যাচ্ছে, বিশাল ভরদ্বাজের ‘ইশকিয়া’র ব্যাপক সাফল্যে উদ্বেলিত হয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে এর সিক্যুয়াল। আর দিন দিন যতই বুড়ো হোক না কেন, তার পরিণত বয়সের গ্ল্যামারের জেল্লাটাই তার ছবির জন্য চান পরিচালক অভিষেক চৌবে। যত যা-ই হোক, শরীরের বয়সটা বাড়াক না কেন, মনের বয়সটা তো নাসিরুদ্দিন শাহের থমকে গেছে সেই ১৯ কি ২০-এ। নইলে কি আর ‘ইশকিয়া’য় গাইতেন ‘দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি’। আসছে দিনগুলোতেও এমন আরো রসনির্ভর রসায়নের উপস্থাপন নিয়ে ফিরে আসবেন নাসিরুদ্দিন শাহ- এমনটাই আশা বলিউড চলচ্চিত্রশিল্পের।সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: তৃতীয় বারের মতো শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমী মালোয়েশিয়ার বাণিজ্য মেলা ‘রবি-শো কেস মালোয়েশিয়া’। বৃহস্পতিবার হোটেল শেরাটনে তিন দিনের এই মেলার উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার এইচ.ই নরলিন বিন্টি ওথম্যান, এসিসিসিআইএম এর সাধারণ সম্পাদক তানশ্রি দাতো সুই হং, এফবিসিসিআই এর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, বিএমসিসিআই এর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর জলিল ও টাইটেল স্পন্সর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (সিআরএল) মাহমুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পণ্য উৎপাদক, রপ্তানিকারক, ব্যবসা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা ছাড়াও সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন ব্যাংক, ইন্সুরেন্স, তথ্য প্রযুক্তি, ট্যুরিজম, স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম (মেডিসিন) প্রস্তুতকারকরা এতে অংশ নিচ্ছে। ৪০টি প্রতিষ্ঠানের স্টল নিয়ে সাজানো মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত।
মালয়েশিয়ান বাণিজ্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (এমএ ট্রেড) এবং সাউথ অ্যাসোসিয়েশন (এমএএসএসএ) এর সহযোগিতায় ঢাকায় অবস্থিত মালয়েশিয়ান হাইকমিশন এবং কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন যৌথভাবে মেলার আয়োজন করেছে।
মেলার টাইটেল স্পন্সর রবি আজিয়াটা লিমিটেড শো-কেসে দুটি এক্সক্লুসিভ বিক্রয়কেন্দ্র (আউটলেট) স্থাপন করেছে।
নিউ ইয়র্ক: গৃহস্থালি কাজে এখন প্লাস্টিকের পাত্র এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। সামান্য ফলমূল কিংবা পানি থেকে শুরু করে যেকোনো খাবার রাখতে প্লাস্টিকের পাত্রের ব্যবহার বেড়ে গেছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্লাস্টিকের রাসায়নিক উপাদান খাবারের সঙ্গে মিশে আমাদের রক্তচাপকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর উচ্চ রক্তচাপ মানে হৃদরোগসহ ভয়ানক সব রোগের কারণ।
আমেরিকার চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা নতুন এক গবেষণা শেষে প্লাস্টিকের পাত্র নিয়ে এ হুঁশিয়ারি জানান। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গন মেডিকেল সেন্টার, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ও পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের গবেষকরা ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী তিন হাজার শিশু-কিশোরের ওপর একটি জরিপ চালান। তারা প্রথমবারের মতো প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা খাবার গ্রহণ ও এর সঙ্গে রক্তচাপের সম্পর্ক পরীক্ষা করে দেখেন।
গবেষকরা জানান, খাবার ও পানীয় প্যাকেট বা বোতলজাত করতে যেসব প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, সেসব প্লাস্টিকের মূল উপাদান থ্যালেট বা ডাই-এথিহেক্সিলপথ্যালেট। দেখা গেছে, খাবারের সঙ্গে মিশে গিয়ে ওই ডাই-এথিহেক্সিলপথ্যালেট শিশুদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। শিশুদের মূত্র পরীক্ষা করে থ্যালেটের পরিমাণ নিরূপণ করা হয়।
এ নিয়ে জার্নাল অব পেডিয়াট্রিকে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধে গবেষক দলের অন্যতম নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গন মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাবিজ্ঞানী লিওনার্দো ট্রাসান্দে বলেন, থ্যালেট হৃদকোষের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে এবং অক্সিডেটিভ চাপ বাড়িয়ে দেয়। তবে ঠিক কী কারণে থ্যালেট রক্তচাপকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, তা এখনো নিরূপণ করতে পারেননি তারা। সূত্র: জিনিউজ।
ঢাকা: রাজধানীর প্রধান ডাকঘর জিপিও মিলনায়তনে শুরু হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব আমল থেকে বিভিন্ন সভ্যতা ও সমকালীন বিশ্বের মুদ্রার প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার সকালে জিপিও মিলনায়তনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তিন দিনের এই মুদ্রা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাঙালি যে একটি প্রাচীন ও সভ্য জাতি, এ অঞ্চলের মুদ্রার ইতিহাস দেখলেই তা বোঝা যায়। এ অঞ্চলের মুদ্রার বৈচিত্র্যই এ জাতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
তাই ইতিহাস জানার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে মুদ্রা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। মুদ্রার ইতিহাস মুছে ফেলা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। মুদ্রা ইতিহাস ধারণ করে।
প্রদর্শনী কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, ২৩ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত মুদ্রা প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা। এতে ২৪ জন সংগ্রাহক তাদের মুদ্রা প্রদর্শন করছেন। প্রদর্শনীতে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের মুদ্রা থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের নানা প্রান্তের সহস্রাধিক মুদ্রা প্রদর্শিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে খ্রিস্টপূর্ব আমল থেকে চীনা মুদ্রা, এ অঞ্চলের শাসক সম্রাট শশাঙ্কের আমলের স্বর্ণমুদ্রা, ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের প্রথম আগমনকালের মুদ্রা, খলিফা মালেক বিন মারওয়ানের মুদ্রা, আব্বাসীয় মুদ্রা, উমাইয়া খিলাফতের মুদ্রা, মিসরের ফাতেমি মুদ্রা, ভারতের হাবসি সম্রাট ইলতুতমিসের মুদ্রা, মোগল আমলের দিল্লি শাহির মুদ্রা, ভারতে পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ডাচ, ফ্রেন্স ও সর্বশেষ ইংরেজ আমলের মুদ্রা, পাকিস্তান আমলের ও স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন মূল্যমানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুদ্রা প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংক ও বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় এ মুদ্রা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটি।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক নায়েব দেলোয়ার হোসেন, আইএফআইসি ব্যাংকের উপপরিচালক আবদুল কাদের খান, বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটির সভাপতি অমলেন্দু সাহা, সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।