কাবুল: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এক জঙ্গি হামলায় কমপক্ষে সাত জন নিহত হয়েছে। হামলার সময় বিকট বিস্ফোরণের পাশাপাশি কয়েক ঘণ্টা ধরে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনাও ঘটে।
বন্দুকধারী হামলাকারীরা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ মাইগ্রেশন বা আন্তর্জাতিক ...
ঢাকা: সাভারে রানা প্লাজা বিধ্বস্ত হবার একমাস পূর্ণ হলো শুক্রবার।
বাংলাদেশের শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির এই ঘটনা বহু সাধারণ মানু্ষের মনে একটি চিরস্থায়ী দাগ কেটেছে।
মর্মান্তিক সব ঘটনার বর্ণনা উঠে আসছে ...
ঢাকা: রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল। শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু।
তিনি ...
বেনাপোল: ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া শিশুসহ ৪৭ বাংলাদেশী তরুণী দীর্ঘ দুই বছর ভারতে কারাভোগের পর শুক্রবার রাতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরে এসেছেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত ...
বগুড়া: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “উন্নয়নে এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক। তবে বিরোধী দল আগামী অধিবেশনে সংসদে যোগ দিলে সংকট ...
ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আওয়ামী লীগ আতঙ্কে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।
শুক্রবার বিকেলে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ...
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছেন দলের সহযোগী সংগঠন যুবদলের কর্মীরা। এ সময় ক্ষুব্ধ কর্মীরা মওদুদের ছবিসংবলিত কুশপুত্তলিকায় জুতাপেটা করেন।
শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যারলয়ের পশ্চিম দিকে স্কাউট ...
ঢাকা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুটি শূন্য পদ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। দলের দুই প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে এ পদে বসানো হচ্ছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ ...
ঢাকা: চলমান আন্দোলন গতিশীল করতে ঢাকা মহানগরীর থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নগুলোর কমিটির অনুমোদন করেছে বিএনপি। শুক্রবার ১০১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন সংক্রান্ত ...
ঢাকা: কয়েক দফা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে মেয়র হানিফ উড়াল সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী আগামী মাসেই এর একাংশ ...
ঢাকা: বাংলাদেশ ক্রিকেটে তিনি বারবার নানাভাবে আলোচিত হয়েছেন। কখনো ইতিবাচকভাবে, কখনো নেতিবাচক। এই মুহূর্তে তিনি আলোচিত হচ্ছেন স্পট ফিক্সিংয়ের সন্দেহে আইসিসির জিজ্ঞাসাবাদের কারণে।গত দুই দিন তাকে জেরা করেন আইসিসির প্রতিনিধিরা।
বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ঢাকার ম্যাচ পাতানোর ঘটনায় আশরাফুলকে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের (আকসু) সামনে হাজির হতে হয়েছে পর পর দুই দিন। আইসিসির জেরায় কী কী প্রশ্নের জবাব দিতে হয়েছে আশরাফুলকে? এ নিয়ে ক্রিকেটানুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল। কিন্তু মিডিয়ার সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে চান না আশরাফুল। নতুন বার্তা ডটকমকে তিনি বলেছেন, “আমার কাছে তাদের জানার কিছু নেই।”
শুক্রবার রাতে আশরাফুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হলে জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, “মিডিয়ার কাছে সব প্রশ্নের জবাব তো দেয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরো বলেন, “আমার কাছে আকসু যা যা জানতে চেয়েছে, আমি সঠিক জবাব দিয়েছি। আসলে, আমার কাছ থেকে তাদের আর কিছু জানার নেই। আর অন্যদের বিষয় জানি না।”
ফরিদপুর: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রবাসীরা ৪৯ শতাংশ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে দেশে পাঠায়। এ অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠালে আগামী বছরই দেশ মধ্যম আয়ে পরিণত হতো।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮৫ লাখ বাংলাদেশী কাজ করছেন। এই বিশ্বমন্দায়ও বাংলাদেশে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। আর তাই প্রবাসীদের সব অর্থই দেশের উন্নয়নে জন্য যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানোর আহ্বান জানান।
মন্ত্রী শুক্রবার শহরের অম্বিকা মেমোরিয়াল মাঠে প্রবাসী ব্যাংকিং ও রেমিট্যান্স মেলার উদ্বোধন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।
ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশনের উদ্যোগে আয়োজিত মেলায় জেলা প্রশাসক মইনউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন লিমিটেডের সিইও এনায়েত করীম, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এসএম নুরুন্নবী, জেলা পরিষদ প্রশাসক কাজী জায়নুল আবেদীন। এ সময় সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা: দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মা এবং আমার দেশ পাবলিকেশন্সের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগমের বিরুদ্ধে করা মামলা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বুধবার বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত ১৩ মে মাহমুদা বেগম মামলা বাতিলে এ আবেদন করেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
গত ১৩ এপ্রিল রাতে রমনা থানায় দৈনিক সংগ্রামের ছাপাখানায় বেআইনিভাবে দৈনিক আমার দেশ ছাপানোর অভিযোগে মামলাটি করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রকাশনা) নাসরিন সুলতানা। মামলায় মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা বেগম ছাড়াও আসামি করা হয় দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে।
প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট ১৯৭৩ এর ৩২ ও ৩৩ ধারা অনুযায়ী এ মামলা করা হয়।
ইতিমধ্যে এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন মাহমুদা বেগম এবং আবুল আসাদ।
জামিন আবেদনে বলা হয়েছিল, আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের পর সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পত্রিকাটির প্রিন্টিং প্রেস সিলগালা করে দেয়া হয়। সরকার নতুন করে আমার দেশ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করেনি। ডিক্লারেশন আছে এমন একটি অনুমোদিত পত্রিকা যদি কোনো কারণে নিজ ছাপাখানায় পত্রিকা ছাপাতে না পারে, তাহলে প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন)-১৯৭৩ আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী অন্য ছাপাখানায় ছাপাতে পারে। সে কারণে আমার দেশ পত্রিকা আল ফালাহ প্রিন্টং প্রেসে ছাপানো হয়েছে। এই পত্রিকা ছাপানোর বিষয়টিও গোপন করা হয়নি। পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে তা উল্লেখ করা হয়েছিল এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তাই প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) আইনের ৩২ ও ৩৩ ধারায় যে মামলা করা হয়েছে, তা চলতে পারে না।’
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কথিত স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশ এবং রাষ্ট্রদ্রোহসহ নানা অভিযোগে গত ১১ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
ঢাকা: ১৮ দলের ডাকা রোববারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল প্রত্যাহার অথবা রাজধানী ঢাকাকে হরতালের আওতামুক্ত রাখার আহবান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে চিঠি দিয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
শুক্রবার রাতে ডিসিসিআইয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) বশির হায়দার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, আগামী ২৬ মে রোববার ‘US-Bangladesh Partnership Dialogue: Private Sector Forum’ শীর্ষক একটি দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ডিসিসিআই। এ অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৪০ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের বাণিজ্য প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করবে। প্রতিনিধি দলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিকাল আন্ডার সেক্রেটারি উইন্ডি শারমেনসহ ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ফর এনার্জি ট্রান্সফর্মেশন ড. রবার্ট আইকর্ড, অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস অ্যাফেয়ার্স জোসে ফার্নান্দেজ, ডেপুটি অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ফর ডেমোক্রেসি, হিউমেন রাইটস্ অ্যান্ড লেবার কেরেন হানরাহান প্রমূখ উপস্থিত থাকবেন।
ঢাকা চেম্বারের আয়োজনে এ ফোরামে চারটি ওয়ার্কিং সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমান আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের আলোকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ডিসিসিআই অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায় এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
ডিসিসিআই খালেদা জিয়াকে জানায়, “বর্তমানে তৈরি পোষাক শিল্পের সংকট এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে এ ধরনের একটি দ্বি-পাক্ষিক অনুষ্ঠান ফলপ্রসু ভূমিকা রাখবে বলে ডিসিসিআই মনে করে।”
“ডিসিসিআই ফলপ্রসু সংলাপের মাধ্যমে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে সব সময় মতামত প্রদান করে আসছে। সুষ্ঠু সমাধানের মাধ্যমে পুরো জাতিকে শঙ্কামুক্ত করতে সরকারের কাছে ডিসিসিআই সব সময় দৃঢ়ভাবে অনুরোধ জানিয়েছে আসছে।”
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “ঢাকা চেম্বার প্রতিনিয়ত এ দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশ এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকা চেম্বার এ সকল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমাদের দেশে বিনিয়োগে সম্পৃক্ত করতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।”
“ঢাকা চেম্বার মনে করে, এ ধরনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এতো উচ্চ পর্যায়ের এবং বৃহৎ প্রতিনিধিদল ঢাকা চেম্বারে এসে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায় আগামী রোববারে হরতাল কর্মসূচি এ প্রয়াসকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে ডিসিসিআই আশঙ্কা প্রকাশ করছে।”
এ অবস্থায় জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটির সার্থকতা বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২৬ মে রোববারের আহ্বানকৃত ১৮ দলীয় ঐক্যজোটের হরতালটি প্রত্যাহারের জন্য ঢাকা চেম্বার বিরোধী দলীয় নেত্রীকে আহ্বান জানিয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম: রাজধানীর উদয়ন স্কুলের কিছু ছাত্রীর জামার ফুলহাতা কেটে দেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।
তিনি বলেছেন, “শুধু স্কুল কেন, কোনো প্রতিষ্ঠানেরই কারো ধর্মীয় বিধান ও নিয়ম মানার ব্যাপারে বাধা সৃষ্টির অধিকার নেই। আধুনিক বিশ্বও এটা সমর্থন করে না। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটতে পারে, ভাবাই যায় না।” হেফাজতের দাবি বাস্তবায়িত হলে দেশে এমন দুঃসাহস কেউ দেখাতে পারত না বলে তিনি দাবি করেন।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির এসব কথা বলেন।
আল্লামা শফী বলেন, উদয়ন স্কুলের শিক্ষিকা ছেলেদের সামনে ছাত্রীদের ড্রেসের হাতা কেটে শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতেই আঘাত করেননি, বরং এটা ইসলামের একটি অলঙ্ঘনীয় বিধান পালনে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধ।
বিশ্বে নিরাপত্তা বাহিনীই কেবল কঠোরভাবে ড্রেসকোড মেনে চলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, তার পরও ভারতীয় পুলিশ, বিএসএফ ও সেনাবাহিনীতে শিখদের তাদের ধর্মীয় পাগড়ি পরিধানে বাধার সৃষ্টি করা হয়নি। তিনি বলেন, একটা মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ইসলামের অপরিহার্য বিধান পর্দা পালনে বাধা সৃষ্টি করে কোনো ড্রেসকোড প্রচলন করা ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষ ছাড়া আর কিছু নয়।
বিবৃতিতে আল্লামা শাহ আহমদ শফী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষিকা মাহবুবা খানম কল্পনা ও প্রিন্সিপাল উম্মে সালমা বেগমের বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ ধরনের ঘটনার বিচার না হলে ইসলামের দুশমনরা দেশের সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বিনষ্টে ষড়যন্ত্র করতে উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আল্লামা শফী আগ্রহী ছাত্রীদের ফুলহাতা ড্রেস ও হিজাব পরে ক্লাসে আসতে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, তৌহিদি জনতা কোনোভাবেই ইসলামের বিরুদ্ধে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা নীরবে সইবে না।
তিনি দেশের শান্তিশৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা বিধানে অবিলম্বে ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করে দেশকে সংঘাতের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
লন্ডন: বৃটেনে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশী নাগরীক মোঃ ফারুক চৌধুরী। তিনি যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের নির্বাচিত লর্ড মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হন।
গত ২১ মে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাকজমক পূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায়ী মেয়র পিটার মেইন তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাঙালি তথা এশিয়ান লর্ড মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হলেন। বাংলাদেশী নাগরিক ফারুক চৌধরীর এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিলেতে বাঙালির গৌরবে আরেকটি পালক যুক্ত হলো।
১১৪ বছরের ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিলের ইতিহাসে প্রথম কোনো এশিয়ান এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত হলেন। ফারুক চৌধুরী ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এই অল্প সময়ে তার এই অর্জন বৃটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন অনেকেই।
আনুষ্টানিক দায়িত্ব গ্রহণকালে ফারুক চৌধুরী বলেন, “বিশ্বের মানচিত্রে ক্ষুদ্র একটি দেশ বাংলাদেশ। এর মধ্যে এক ছোট গ্রাম থেকে আমি এসেছি। আমার আজকের এই সফলতা স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটি ও স্থানীয় জনগণের জন্যই সম্ভব হয়েছে শুধু ব্রিস্টল নয় সব বাংলাদেশীকে আমার এই অর্জন আমি উৎসর্গ করছি।আগামী দিন গুলোতে আমি সুবিধাবঞ্ছিত শিশুদের জন্য বিশেষভাবে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।
ফারুক চৌধুরী সিলেটের গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, ব্যক্তিগত জীবনে এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক তিনি।
উল্লেখ্য ২০০৭ সালে প্রথম তিনি লেবার পার্টি থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৮৩০ সালে ব্রিস্টলে প্রথম এশিয়ান এসেছিলেন রাজা রাম মোহন রায়। ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিল শ্রদ্ধাভরে এখনও ধরে রেখেছে রাজা রাম মোহন রায়ের অনেক স্মৃতি। কাউন্সিল অফিসের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে তার ভাস্কর্য, তার নামে করেছে স্থানীয় রাস্তার নামকরণ। সেই পথ ধরেই ইতিহাসকে সঙ্গে নিয়ে আরেক ইতিহাস গড়লেন ফারুক চৌধুরী।
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, “আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ আগে বলতেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই নির্বাচন হবে। এখন ওই জায়গা থেকে সরে এসে বলছেন শেখ হাসিনাই যে প্রধানমন্ত্রী হবেন এমন কোনো কথা নেই। এতটুকু এগিয়ে আসার জন্য আশরাফকে ধন্যবাদ জানাই। তারা আরেকটু এগিয়ে এলেই চলমান সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।”
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়নতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া ও জাতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভায় মওদুদ একথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি শামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফের ছেলে মারুফ খন্দকার প্রমুখ।
সৈয়দ আশরাফকে ধন্যবাদ জানিয়ে মওদুদ বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আন্দোলন করছি না। আমরা আন্দোলন করছি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য। আগামীতে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।”
তিনি বলেন, “৪২ বছরে কেন গণতন্ত্রকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে পারিনি। এর একটি কারণ ১৯৭৫ সালে একদলীয় ব্যবস্থা কায়েম করা। ওই সময়েও তারা বিরোধী দলকে সহ্য করতে পারেনি। আজকে এরই ধারাবাহিকতা সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব অব্যাহত রেখেছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নিজেদের আয়ত্বে রেখে নির্বাচন কমিশন, দুদক ধ্বংস করেছে। আগামীতে আমরা সরকারে গেলে এসব প্রতিষ্ঠান স্বাধীন করে দেব। বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস থেকে মুক্ত করবো। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো।”
মওদুদ বলেন, “সরকার মুখের কথায় দেশ পরিচালনা করছে। যখন সরকারের জনসমর্থন চেলে যায় তখন সরকার একদলীয় ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করছে, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে, রাতের আঁধারে হত্যা করেছে। এগুলোর জবাব জনগণ একদিন দেবেন।”
জনসমর্থন যেহেতু নেই, তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোর করে শাসনক্ষমতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে চাই, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে চাই। সেজন্যই সংঘাত থেকে দূরে থাকছি।
বিএনপি এই নেতা হুঁশিয়ার করে বলেন, “স্বাভাবিকভাবে যদি নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা না দেন তাহলে এমন একদিন আসবে যখন আপনারা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে বাধ্য হবেন।”
নয়া দিল্লি: সৌদি আরব সরকার নতুন শ্রমআইন প্রয়োগের ফলে কাজ হারাতে চলেছেন সেদেশে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিক। আতঙ্কে ভুগছেন সেখানে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকরা। ফলে শুরু হয়েছে বাড়ি ফেরার তাড়া। যার জন্য প্রয়োজন ভারতীয় দূতাবাসের দেয়া এমার্জেন্সি সার্টিফিকেট। রিয়াধের বিভিন্ন কেন্দ্রে জমা পড়েছে ভারতে ফেরার অজস্র আবেদনপত্র। হাতে সময় মাত্র দেড় মাস।
তার মধ্যেই দেশে ফিরতে হবে ভারতীয়দের। সম্প্রতি ৫৬ হাজার ৭০০ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরার সেই শংসাপত্র দিল কেন্দ্রীয় সরকার। এদিন ভারতীয় দূতাবাস জরুরি ভিত্তিতে শংসাপত্র দেওয়ার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করেছে।
ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "এই দ্বিতীয় তালিকা অনুযায়ী রিয়াদের থেকে ২৪ হাজার ও সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ থেকে প্রায় চার হাজার আবেদনকারীকে এমার্জেন্সি সার্টিফিকেট দেয়া হবে। আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে শংসাপত্র দেয়ার দিন খুব শীঘ্রই ঘোষিত হবে। কারণ ওই সব ভারতীয়ের বৈধ পাসপোর্ট নেই। তাই ওই ভারতীয়রা দেশে ফিরতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের দায়ে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন লক্ষাধিক ভারতীয়।
সৌদি আরব জুড়ে বিভিন্ন সংগ্রহকেন্দ্র থেকে প্রথম তালিকা অনুযায়ী প্রায় পনেরো হাজার এমার্জেন্সি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন সেদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকেরা। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ লক্ষ ভারতীয় বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শ্রম আইনের সাঙ্ঘাতিক খারাপ প্রভাব তাদের ওপর পড়বে।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদ আল ফয়জলের আমন্ত্রণে শুক্রবার সেদেশে পৌঁছেছেন। চলতি মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত তার সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। এর আগে শেষবার ২০০৮ সালে সৌদি আরব সফরে গিয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। পাঁচ বছর পর ফের ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌদি আরব সফর।
খুরশিদ সফর চলাকালীন নতুন শ্রম আইন 'নিতাকৎ' (যেটাকে সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয় শ্রমিকরা বলছেন কালা কানুন) নিয়ে সেদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যে আইনে বলা হয়েছে সেদেশের কোম্পানিগুলিকে প্রতি দশ জন ভিনদেশি কর্মীর সঙ্গে অবশ্যই একজন আরবের কর্মী নিয়োগ করতে হবে।
মূলত, তেল কোম্পানিগুলি, চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত বহু সংস্থা সহ বিভিন্ন সেক্টরে নিযুক্ত রয়েছেন ভারতীয় কর্মীরা। সস্তায় দক্ষ হিসেবে ভারতীয় শ্রমিকদের চাহিদাও বিশাল। কিন্তু নয়া আইনে কাজ হারিয়ে শুধু ওই কর্মীরাই বিপদে পড়ছেন, তা নয়, বিপদে পড়তে চলেছে ভারত সরকারও। কারণ, দেশে ফিরলে এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান ভারতে হওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে চাপ পড়বে ভারতীয় অর্থনীতিতেও। সামাজিক অপরাধ বাড়বে ভারতেও। তখন পরিস্থিতি সামাল দেয়া মুশকিল হয়ে পড়বে ভারতের রাজ্য সরকারগুলিরও। সূত্র: ওয়েবসাইট।
কলকাতা: সারদা গোষ্ঠী পরিচালিত সম্প্রতি লাটে ওঠা দুই টিভি চ্যানেলকে অধিগ্রহণের যে সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তা ব্যুমেরাং হতে পারে। এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিল্লি থেকে মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ আমলা জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে চ্যানেল অধিগ্রহণ করতে চেয়ে কোনো আবেদন বা অনুরোধ বা সিদ্ধান্ত আমরা পাইনি। কিন্তু বলে রাখা ভালো যে, কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে এবং সাংবিধানিক এক্তিয়ার অনুসারে কোনো রাজ্য সরকার কখনোই কোনো টিভি চ্যানেল অধিগ্রহণ করতে পারে না। কোনো রেডিও স্টেশনও পরিচালনা করতে পারে না। এটা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফইন্ডিয়া এবং কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনেক আগে থেকেই নেয়া সিদ্ধান্ত। এটা আইন ও নিয়ম। এটা সবাই মানতে বাধ্য। কোনো রাজ্য সরকার কোনো কারণেই কোনো চ্যানেল চালাতে পারে না। এর আগে মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র সরকারের আবেদনও আমরা খারিজ করেছিলাম।”
তিনি বলেন, নিয়মটা ভালো করেই জেনে রাখা ভালো, কোনো সরকার কোনো সংস্থা বা কোম্পানি নয়, যে সে বাণিজ্যিক মুনাফার জন্য কোনো চ্যানেল চালাতে পারবে। কোনো অর্ডিন্যান্স জারি করেও কোনও চ্যানেল অধিগ্রহণ করা যায় না। সেটা সংবিধান ও দেশের আইন লঙ্ঘনের পর্যায়ের পড়বে।
প্রসঙ্গত, তারা টিভি ও তারা মিউজিক-এর কর্মীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ওই দুটি দেউলিয়া চ্যানেল অধিগ্রহণ করার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই চ্যানেলের ১৬৮ জন কর্মীর প্রত্যেককে ১৬ হাজার টাকা করে মাসিক অনুদান দেয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কারণ, সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়া রাজ্যের বহু খবরের কাগজ ও টিভি চ্যানেলের কর্মীরা সবাই যদি একই অনুরোধ নিয়ে নাছোড়বান্দা হন তখন মুখ্যমন্ত্রী কি সবাইকেই মাইনে দিয়ে রাখবেন? বলা বাহুল্য, ওই সংবাদমাধ্যমগুলির বেশিরভাগই ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নীকারী সংস্থার টাকায় চলতো। সূত্র: ওয়েবসাইট।
১৫ সম্পাদকের বিবৃতি সম্ভবত কিঞ্চিৎ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বেশ কিছু সংগঠন ও বিশিষ্টজন বিবৃতি দিয়ে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য প্রকাশ করে এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কারও ভাষা নমনীয়, কারও বেশ শানিত। মাহমুদুর রহমান ও তার আমার দেশ প্রসঙ্গে সুশীল সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট : এ পত্রিকাটি ও তার সম্পাদক সাংবাদিকতার স্বাধীনতার নামে দিনের পর দিন স্বেচ্ছাচার করেছেন।
তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অনিবার্য ছিল। 'আপাতত' বন্ধ করে দেওয়া টিভি চ্যানেল দুটি হেফাজতের তাণ্ডবের দিনে সংঘাত-সংঘর্ষ ছড়িয়ে দিতে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালিয়েছে_ এতেও সন্দেহ নেই। রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে ১৫ সম্পাদকের বিবৃতির ব্যাপারে ক্ষোভের কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, সম্পাদকরা সম্ভবত 'না জেনেই' বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মাহমুদুর রহমানের ব্যাপারে 'ওকালতি' না করার সুপরামর্শও দিয়েছেন। ছাপোষা ১৫ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রীর এই হিতোপদেশ গুরুত্বের সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন। গত বুধবার সহযোগী ডেইলি স্টার 'না বুঝেই' একটি সম্পাদকীয় লিখে ফেলেছে। সম্পাদকীয়টির শিরোনাম : রাইজিং ইনটলারেন্স :ইনফরমেশন মিনিস্টার্স লিটারাল ওয়ার্নিং। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মন্ত্রীর বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, দেশের অধিকাংশ শীর্ষ দৈনিকের সম্পাদক 'তথ্য' না জেনেই যৌথভাবে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। আসল তথ্য
সম্ভবত শুধু মন্ত্রীই জানেন। আমার অনেক শুভার্থী মনে করেন, বিবৃতিতে আমার স্বাক্ষর না করাই শ্রেয় ছিল।
বারবার নিজের কথা বলা যে শোভনীয় নয়, তা জেনেও সবিনয়ে বলতে চাই, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ও ব্যক্তি গোলাম সারওয়ারের মধ্যে একটি বিভাজন রেখা রয়েছে। উদার গণতান্ত্রিক মতাদর্শ সমকালের সম্পাদকীয় নীতির মূল স্তম্ভ। প্রকাশক, সম্পাদকসহ পুরো সমকাল পরিবার এ নীতি অনুসরণে দায়বদ্ধ। ব্যক্তি গোলাম সারওয়ারের দায়বদ্ধতার পরিধি একটু বিস্তৃত। এই দায়বদ্ধতা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অবিচল অনুসারী হিসেবে, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হিসেবে। বিবৃতিটিতে স্বাক্ষর করেছে সমকাল সম্পাদক_ এখানে তার ব্যক্তি-পরিচয় নিতান্তই গৌণ।
সম্প্রতি গভীর রাতে টক শোতে অংশগ্রহণ কমিয়ে দিয়েছি। 'না' 'না' করেও কস্ফচিৎ-কদাচিৎ দু'একটি চ্যানেলে যেতে হয়। সেদিন 'সময়'-এর ডাকে সাড়া দিলাম এ জন্য যে, সম্পাদকদের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে দু-চারটি কথা বলা প্রয়োজন। সময়ের 'সম্পাদকীয়' অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিক ও আমার প্রিয় মানুষ রাশেদ খান মেনন এবং 'নিউজ টুডে' সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদও ছিলেন। মেনন ভাই এ প্রসঙ্গে তেমন মন্তব্য করেননি। আমরা দুই সম্পাদক প্রায় অভিন্ন ভাষায় একটি কথাই বলার চেষ্টা করেছি_ ১৫ সম্পাদকের অবস্থান সম্পূর্ণ পেশাগত। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ব্যাপারে চিরদিনই আমরা পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়েছি।
বাংলাদেশের সাংবাদিকরা এ জন্য গর্ব করে আসছেন। সম্পাদকরা মনে করেছেন, আমার দেশ প্রকাশে বিঘ্ন সৃষ্টি ও তার সম্পাদককে গ্রেফতার এবং দুটি টিভি চ্যানেল সাময়িকভাবে বন্ধ করতে যে প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে, তা বিধিসম্মত হয়নি। আমাদের আপত্তির মূল জায়গাটি এখানেই। গণমাধ্যমে প্রাণ খুলে যা খুশি বলার, হাত খুলে যা খুশি লেখার অধিকার নিশ্চিত করেছে বর্তমান সরকার। রাতের টক শো, সকালের সংবাদপত্রই তার প্রমাণ। তাই কোনো মিডিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়মের আশ্রয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ সরকারের সহিষ্ণুতা কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বিস্ময়কর ঘটনা 'গণজাগরণ মঞ্চে'র আবির্ভাব। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে যে নতুন জীবন ও যৌবনের দূতরা গর্জে উঠেছিলেন, তাদের প্রতি প্রথম দিন থেকেই সমকাল ও সমকাল সম্পাদকের অখণ্ড ও অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে সমকালের প্রথম পাতায় ব্যানার শিরোনাম ছিল_ 'এ রায় মানি না'। তরুণরা এক সন্ধ্যায় শাহবাগ চত্বর লাখো মোমের আলোয় উদ্ভাসিত করে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি তুলেছিলেন। পরদিন সমকালের প্রথম পাতায় মোমের আলোর সেই ছবি ছিল পুরো পৃষ্ঠাজুড়ে। ক্যাপশন ছিল : আলোর পথযাত্রী। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংবাদপত্র এভাবে একটি আন্দোলনের প্রতি এ রকম অখণ্ড সমর্থন ব্যক্ত করেছে বলে আমার জানা নেই। সমকাল দীর্ঘদিন যাবৎ 'গণজাগরণ মঞ্চ' নিয়ে চার পৃষ্ঠার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবের বিস্তারিত সংবাদ, বিশেষ করে গভীর রাতে শাপলা চত্বর দুর্বৃত্তমুক্ত করতে বিশেষ অভিযানের বিশদ বিবরণ ও ছবি একমাত্র সমকালই ছেপেছে। সমকাল কর্মীরা এ জন্য অম্লান বদনে বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছেন।
আমি অতীতের ন্যায় এখনও মনে করি, 'আমার দেশ' সাংবাদিকতার নীতিমালা পুরোপুরি বিসর্জন দিয়ে দিনের পর দিন সাংবাদিকতার নামে অসাংবাদিকতার নিন্দনীয় পথ অনুসরণ করেছে। মিথ্যা প্রচারে দেশজুড়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। মাহমুদুর রহমান তার পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় নিজের ছবিসহ যে লেখা প্রতিদিনই লিখেছেন, তাতেও সাংবাদিকতার নীতিমালা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হয়েছে। সত্যের অপলাপ করা হয়েছে। কখনও তিনি নোংরা ভাষাও ব্যবহার করেছেন। তিনি আমার বিরুদ্ধেও খারাপ ভাষায় তার পত্রিকায় বিষোদ্গার করেছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মানে যথেচ্ছাচার, অপপ্রচার, মিথ্যা প্রচার নয়। এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও যুক্ত। 'হঠাৎ সম্পাদক' মাহমুদুর রহমানের সাংবাদিকতার নীতিমালা, স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতার বিষয় জানার প্রয়োজন নেই। বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তার সম্পাদক হিসেবে আবির্ভাব। আমার দেশের 'ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক' হিসেবে তিনি তার ওপর অর্পিত মিশনই পালন করেছেন। উলি্লখিত নানা কারণে আমার দেশের ডিক্লারেশন বাতিল করা যেত। বিদ্যমান আইনে সম্পাদক, প্রকাশকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। প্রতিকারের জন্য প্রেস কাউন্সিলে যাওয়া যায়। এর কিছুই করা হয়নি। আমাদের আপত্তি সেখানেই। দুটি চ্যানেলের ব্যাপারে একই বক্তব্য। তারাও সাংবাদিকতার নীতিমালা বিসর্জন দিয়ে দিন-রাত উস্কানিমূলক প্রচারণা চালিয়েছে। ৫ মে সরকারের এক শীর্ষ নেতাকে বলেছিলাম, দুটি চ্যানেলে অপপ্রচার চলছে। টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স নেওয়ার সময় যে শর্ত তারা মেনে নিয়েছেন, তা তারা সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করছেন। ওদের সতর্ক করে দেওয়া উচিত। শেষ রাতে এ দুটি চ্যানেল যেভাবে বন্ধ করা হলো, তাও বিধিসম্মত হয়নি।
কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার জন্য এ লেখা নয়। ১৫ সম্পাদকের বিবৃতির প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধের প্রশ্নটিই উত্থাপন করছি। আমাদের বিবৃতির প্রেক্ষাপটে এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত হতে পারে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রকৃতি, এর সীমারেখা এবং এর সঙ্গে দায়িত্ববোধের জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে আমাদের একটি প্রেস কাউন্সিল আছে। সংবাদ কিংবা মন্তব্য নিয়ে সংক্ষুব্ধ যে কেউ সেখানে যেতে পারেন। কাউন্সিল বড়জোর সতর্ক কিংবা তিরস্কার করতে পারে। তাদের রায়ের পুরো বিবরণ সংশ্লিষ্ট পত্রিকা পাতাজুড়ে ছাপে (এখন প্রথম আলো ছাপছে), ব্যস এ পর্যন্ত। প্রেস কাউন্সিলকে সত্যিকার অর্থে ন্যায়পালের ভূমিকা দেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি। সে ক্ষেত্রে কাউন্সিলের গঠন-প্রকৃতির বর্তমান ধারণাটি বদলে দিতে হবে। এখন ক্ষমতাসীন সরকারের আস্থাভাজনরাই এ কাউন্সিলের সদস্য হন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ বাস্তবতা মেনে নিয়েও বলা যায়, দায়িত্বশীল ও প্রাজ্ঞ লোকদের মধ্য থেকেও 'আস্থাভাজন'দের বেছে নিতে পারে সরকার। গত কয়েকটি কাউন্সিলের দিকে তাকালে কি আমরা সে চিত্র পাই? স্বাধীনতা ভোগের পাশাপাশি গণমাধ্যম কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে, সে প্রশ্নও অনেকেই তুলেছেন। এর জবাব দিতে গিয়ে আমাদের ইতস্তত করতে হয়। কী ছাপব, কী ছাপব না, কতখানি ছাপব এবং কী সম্প্রচার করব, কী করব না কিংবা কতখানি করব_ এ নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার। বিশ্বজুড়ে বড় বড় সংবাদপত্রের নিজস্ব আচরণবিধি রয়েছে। বিবিসি, সিএনএনসহ বড় বড় সম্প্রচার মাধ্যমও কঠোরভাবে নীতিমালা অনুসরণ করে। এ ব্যাপারে আমরা যত দ্রুত দায়িত্বশীল আলোচনা শুরু করতে পারি, ততই মঙ্গল।
(লেখাটি শুক্রবার দৈনিক সমকালে বিশেষ সম্পাদকীয় হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে)
মুম্বাই: মিডিয়ার প্রথাটাই বুঝি এমন, বয়স বাড়ে আর সঙ্গে নিয়ে আসে ঝোলায় ভরা ভীমরতিটাকে। পাশ্চাত্যের রিচার্ড গেয়ার থেকে শুরু করে প্রাচ্যের বিগ বচ্চন। বয়সের ভার যাদের যতটুকু না নুইয়েছে, চিরসবুজ ব্যক্তিত্বে ততটাই বারবার ঝলসে উঠেছেন এক একটা চলচ্চিত্রে। ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স’-এর সর্বশেষ ছবিটা দেখে কে বলবে রিচার্ড বাবু ছুঁয়েছেন ষাটের কোঠা? কিংবা জিয়া খানের সঙ্গে রোমান্টিকতায় কি কমতি ছিল অমিতাভ বচ্চনের ‘নিঃশব্দ” সিনেমায়? ‘বুড্ড হোগা তেরা বাপ’-এ তো পুরো বিপ বিপ দিয়ে তাকে বুড়ো বলা জনগোষ্ঠীকে একহাত নিয়েই ফেলেছেন।
এই যখন মিডিয়ার হালহকিকত, সেখানে মাত্র ৬২ বছরের যুবক হয়ে কেনই-বা পিছিয়ে থাকবেন বলিউডের অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, সেটা একটা যৌক্তিক প্রশ্নই বটে। তার অভিনয়ের মুনশিয়ানা নিয়ে অবশ্য নতুন করে বলার কোনো অবকাশ নেই। সেই ১৯৭৫ সাল থেকে ‘নিশান্ত’ ছবির মাধ্যমে খোলা রানের খাতায় যোগ হয়েছে নব্বইয়ের বেশি রান। অপেক্ষায় আছেন সেঞ্চুরির। কিন্তু কেউ বলতে পারবেন না, অভিজ্ঞতার ঝুলি বাড়াতে কখনো মনের সঙ্গে আপস করেছেন শাহ। কখনো মাথায় কাউবয় হ্যাট চাপিয়ে ‘হিরো হীরালাল’, কখনো-বা আবক্ষলম্বিত শ্বেতশ্মশ্রু মাওলানার বেশে ‘ইন দ্য নেম অব গড’ ছবির ধর্মীয় বাতাসে কিংবা ধোপদুরস্ত ইউনিফর্মে পিস্তল আর গুলির শব্দে পর্দা কাঁপিয়েছেন ‘আ ওয়েডনেসডে’র মতো সিনেমাগুলোতে।
প্রতিটি চরিত্র এতটাই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে নাসিরুদ্দিনের অভিনয়শৈলীতে, যেন মনে হয় গল্পটা এ মানুষটাকে নিয়েই লিখেছিলেন গল্পকার। ২০১০ সালের ‘ইশকিয়া’তেও হয়েছে এমন। ছিঁচকে-চোরা বুদ্ধি হয়েও বাঘা বাঘা অপরাধীর সঙ্গে পাল্লা দেয়া এক বিগতযৌবন জেলফেরত আসামির ভূমিকায় যেমন সাবলীল ছিলেন নাসিরুদ্দিন, তেমনি বিদ্যা বালানের সঙ্গে মানিয়েছিলও বেশ। যদিও ছবিতে শেষ পর্যন্ত শিকে ছিঁড়েছিল আরশাদ ওয়ার্সির ভাগ্যে, কিন্তু বিদ্যার সঙ্গে রসায়নটা নেহাত ভালো ছিল বলেই হয়তো সিল্ক স্মিতারূপী বিদ্যার সঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহকে ছাড়া আর কাউকেই ভাবতে পারেননি মিলন লুথারিয়া। একবার ভেবে দেখুন, কোনো ছবিতেই যেখানে সহশিল্পীর সঙ্গে একটু ঘনসন্নিবিষ্ট হতে ছাড়েন না ইমরান হাশমি, সেখানে পুরো ছবিতেই বিদ্যার শরীরের রাজত্বে ছড়ি ঘোরালেন নাসিরুদ্দিন। পাশাপাশি অবশ্য অভিনয়ের পর বিদ্যার গুণমুগ্ধতায় পঞ্চমুখ হতেও পিছপা হননি নাসিরুদ্দিন, যাতে পাছে দর্শকরা আবার তাদের এই অনস্ক্রিন রসায়ন থেকে নতুন কোনো গল্পের জন্ম না দিয়ে বসে।
শোনা যাচ্ছে, বিশাল ভরদ্বাজের ‘ইশকিয়া’র ব্যাপক সাফল্যে উদ্বেলিত হয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে এর সিক্যুয়াল। আর দিন দিন যতই বুড়ো হোক না কেন, তার পরিণত বয়সের গ্ল্যামারের জেল্লাটাই তার ছবির জন্য চান পরিচালক অভিষেক চৌবে। যত যা-ই হোক, শরীরের বয়সটা বাড়াক না কেন, মনের বয়সটা তো নাসিরুদ্দিন শাহের থমকে গেছে সেই ১৯ কি ২০-এ। নইলে কি আর ‘ইশকিয়া’য় গাইতেন ‘দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি’। আসছে দিনগুলোতেও এমন আরো রসনির্ভর রসায়নের উপস্থাপন নিয়ে ফিরে আসবেন নাসিরুদ্দিন শাহ- এমনটাই আশা বলিউড চলচ্চিত্রশিল্পের।সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: ২৯ মে থেকে ২১ জুন মোট ২৩ দিন ধরে চলবে সাবমেরিন ক্যাবল মেরামতের কাজ। দীর্ঘ মেয়াদী এসময়ে দেশের ইন্টারনেট সেবা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে দুইটি বিকল্প পথ খোলা রাখছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের বিকল্প ইন্টারনেট সেবা সংযোগ চালু থাকায় আর ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না বাংলাদেশ।
স্থলপথে ইন্টারনেট সংযোগ আইটিসি ব্যবহার করে চেন্নাই দিয়ে পশ্চিমে কিংবা ভারতী এয়ারটেল’র সাবমেনির ক্যাবল নেটওয়ার্ক আই টু আই বা টাটা’র টিআইসি সংযোগ ব্যবহার করে বাংলাদেশের সাথে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার ইন্টারনেট যোগাযোগ স্বভাবিক রাখা হবে।
ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বভাবিক রাখতে আগামী ২৬ মে বিকেলে আইআইজিডব্লিউ ও আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বৈঠক করে অন্তর্বতীকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বৈঠক করবে বিএসসিসিএল।
নতুন বার্তা ডটকমক এর আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হেসেন।
তিনি জানান, ভি-স্যাট এবং আইটিসি ও আইটুআই বা টিআইসি সংযোগের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ও মালয়েমিয়ার সাথে ইন্টারনেট যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করছি এ সময়ে ইন্টারনেট’র সংযোগ গতির কোনো সমস্যা হবে না।
সাবমেরিন ক্যাবল মেরামতের সময় নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দিতে আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ফাইবার অ্যাট হোম’র চিফ স্ট্রাট্রেজিক অফিসার ও তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির নতুনবার্তা ডটকম-কে জানিয়েছেন, সিএমএমইউ৪ সংযোগের বাইরে আমাদের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই বিকল্প সংযোগ রয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ রয়েছে। তাই আশা করছি ক্যাপাসিটি ও ব্যান্ডউইথ গতি উভয় দিকদিয়েই কোনো সমস্যা হবে না।
জানা গেছে, মোট ছয়টি আইটিসি সংযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি এখন তাদের সেবা চালু করেছে। তাছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের বিকল্প কোনো সেবা চালু নেই। তাই এসময়ে বিটিসিএল সংযোগ নেয়া প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। পাশাপাশি আইটিসি ব্যাকআপ না থাকা এবং ব্যান্ডউইথ কম থাকা প্রতিষ্ঠানের সংযোগে অনেকের ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট গতি স্লো থাকবে।
নিউ ইয়র্ক: গৃহস্থালি কাজে এখন প্লাস্টিকের পাত্র এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে। সামান্য ফলমূল কিংবা পানি থেকে শুরু করে যেকোনো খাবার রাখতে প্লাস্টিকের পাত্রের ব্যবহার বেড়ে গেছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্লাস্টিকের রাসায়নিক উপাদান খাবারের সঙ্গে মিশে আমাদের রক্তচাপকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর উচ্চ রক্তচাপ মানে হৃদরোগসহ ভয়ানক সব রোগের কারণ।
আমেরিকার চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা নতুন এক গবেষণা শেষে প্লাস্টিকের পাত্র নিয়ে এ হুঁশিয়ারি জানান। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গন মেডিকেল সেন্টার, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ও পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলের গবেষকরা ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী তিন হাজার শিশু-কিশোরের ওপর একটি জরিপ চালান। তারা প্রথমবারের মতো প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা খাবার গ্রহণ ও এর সঙ্গে রক্তচাপের সম্পর্ক পরীক্ষা করে দেখেন।
গবেষকরা জানান, খাবার ও পানীয় প্যাকেট বা বোতলজাত করতে যেসব প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, সেসব প্লাস্টিকের মূল উপাদান থ্যালেট বা ডাই-এথিহেক্সিলপথ্যালেট। দেখা গেছে, খাবারের সঙ্গে মিশে গিয়ে ওই ডাই-এথিহেক্সিলপথ্যালেট শিশুদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। শিশুদের মূত্র পরীক্ষা করে থ্যালেটের পরিমাণ নিরূপণ করা হয়।
এ নিয়ে জার্নাল অব পেডিয়াট্রিকে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধে গবেষক দলের অন্যতম নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাঙ্গন মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাবিজ্ঞানী লিওনার্দো ট্রাসান্দে বলেন, থ্যালেট হৃদকোষের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে এবং অক্সিডেটিভ চাপ বাড়িয়ে দেয়। তবে ঠিক কী কারণে থ্যালেট রক্তচাপকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, তা এখনো নিরূপণ করতে পারেননি তারা। সূত্র: জিনিউজ।
ঢাকা: রাজধানীর প্রধান ডাকঘর জিপিও মিলনায়তনে শুরু হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব আমল থেকে বিভিন্ন সভ্যতা ও সমকালীন বিশ্বের মুদ্রার প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার সকালে জিপিও মিলনায়তনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তিন দিনের এই মুদ্রা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাঙালি যে একটি প্রাচীন ও সভ্য জাতি, এ অঞ্চলের মুদ্রার ইতিহাস দেখলেই তা বোঝা যায়। এ অঞ্চলের মুদ্রার বৈচিত্র্যই এ জাতির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে।
তাই ইতিহাস জানার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে মুদ্রা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। মুদ্রার ইতিহাস মুছে ফেলা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। মুদ্রা ইতিহাস ধারণ করে।
প্রদর্শনী কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, ২৩ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত মুদ্রা প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা। এতে ২৪ জন সংগ্রাহক তাদের মুদ্রা প্রদর্শন করছেন। প্রদর্শনীতে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগের মুদ্রা থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের নানা প্রান্তের সহস্রাধিক মুদ্রা প্রদর্শিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে খ্রিস্টপূর্ব আমল থেকে চীনা মুদ্রা, এ অঞ্চলের শাসক সম্রাট শশাঙ্কের আমলের স্বর্ণমুদ্রা, ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের প্রথম আগমনকালের মুদ্রা, খলিফা মালেক বিন মারওয়ানের মুদ্রা, আব্বাসীয় মুদ্রা, উমাইয়া খিলাফতের মুদ্রা, মিসরের ফাতেমি মুদ্রা, ভারতের হাবসি সম্রাট ইলতুতমিসের মুদ্রা, মোগল আমলের দিল্লি শাহির মুদ্রা, ভারতে পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, ডাচ, ফ্রেন্স ও সর্বশেষ ইংরেজ আমলের মুদ্রা, পাকিস্তান আমলের ও স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন মূল্যমানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুদ্রা প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংক ও বসুন্ধরা সিমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় এ মুদ্রা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটি।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক নায়েব দেলোয়ার হোসেন, আইএফআইসি ব্যাংকের উপপরিচালক আবদুল কাদের খান, বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটির সভাপতি অমলেন্দু সাহা, সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।