রংপুর: বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া রংপুর বিভাগে আধাবেলা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। হরতালের আগে রোববার রাতে মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের পাঁচ শীর্ষ নেতাসহ সাতজনকে গ্রেফতার ...
ঢাকা: বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার এই শিল্পের জন্য একটি পৃথক পল্লী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবারো কথাবার্তা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঢাকায় বাণিজ্যিক ও আবাসিক ...
সিলেট: সিলেট এমসি কলেজে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিক আহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের সব সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের সাংবাদিক নেতারা। রোববার সন্ধ্যার পর টেলিভিশন সাংবাদিকদের এক জরুরি সভায় এ ...
ঢাকা; অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজধানী ঢাকায় সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর একথা নিশ্চিত করে বিবিসিকে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সভাসমাবেশ করবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে ...
ঢাকা: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা সরকারের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তই সংবিধানিক অধিকার রুদ্ধ করে দিয়েছে। সাংবিধানিক এই অধিকার রুদ্ধ করার ক্ষমতা কারো নেই।”
রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ...
ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় যাতে আপত্তিকর কোনো বিষয় দেখা না যায় তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
রোববার তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এ কথা জানান।
মন্ত্রী ...
ঢাকা: দুইদিন পর্যবেক্ষণের পর ইন্টারনেট আপলোড গতি ফিরিয়ে দিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। ফলে রোববার দুপুর ১টা থেকে ফের স্বাভাবিক হয়ে এসেছে ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধে ...
ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয় আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে। আর সে সরকারের প্রধান কে হবেন সেটা নিয়েই বিরোধী দলের ...
ঢাকা: রাজনৈতিক দলের সংলাপের জন্য সংসদই উপযুক্ত স্থান বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাফেটরিয়ায় সংসদ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “সংলাপে সরকারি ...
ঢাকা: রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রধান দুই দলকে দ্রুত সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চার রাষ্ট্রদূত। রোববার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন ...
প্যারিস: প্রায় রূপকথা হয়ে ওঠা সেই বেন্ডিং ফ্রি কিক। তাক লাগানো ইনসুইং কর্নার। চুলের স্টাইল আর ট্যাটুর কোলাজে ফ্যাশনের নতুন ব্যঞ্জনা- শনিবার রাতে ফুটবলের মাঠ থেকে এ সবই পাকাপাকি মুছে গেল চোখের জলে ভেসে!
ফরাসি লিগে ব্রেস্টের বিরুদ্ধে জীবনের শেষ ম্যাচে ফুটবলের ‘প্রিন্স’ ডেভিড বেকহ্যাম মাঠেই কেঁদে ফেললেন। কাঁদালেন গ্যালারিকে, সতীর্থদেরও।
ম্যাচের একাশি মিনিটে কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি যখন বেকহ্যামকে তুলে নিচ্ছেন তখন তো বটেই এবং ম্যাচের শেষে যখন কোচের সঙ্গে হাত নাড়তে নাড়তে গোটা মাঠ ঘুরছেন, উঠে দাঁড়িয়ে হাততালিতে, কান্নায়, শুভেচ্ছায়, শেষ বার বেকহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন দর্শকেরা।
ম্যাচে বেকহ্যামের হাতে ক্যাপ্টেনের আর্মব্যান্ড তুলে দিয়েছিল ক্লাব। ফরাসি লিগ চ্যাম্পিয়নের ট্রফিটাও নিলেন বেকহ্যামই। দু’হাতে সেটা মাথার উপর তুলে ধরার পর দলের বাকিরা মিলে ক্যাপ্টেনকে নিয়ে লোফালুফি করলেন একপ্রস্ত। ইব্রাহিমোভিচ থেকে থিয়াগো সিলভা প্রত্যেক সতীর্থ তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানালেন। ধন্যবাদ দিলেন আন্সেলোত্তিও। ইংলিশ আইকনের জন্য বিশেষ লেসার শো-এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ক্লাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেকহ্যাম বলেন, “শেষ ম্যাচে এত সম্মান জানানোর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। মাঠ ছেড়ে যাওয়াটা খুবই কষ্টের ছিল।”
দর্শকাসনে হাজির ছিলেন বেকহ্যামের স্ত্রী ভিক্টোরিয়া, তিন ছেলে ব্রুকলিন, রোমিও, ক্রুজ আর মেয়ে হার্পার। শেষ ম্যাচেও বেকহ্যাম নিজের বিখ্যাত কর্নারের একটা নমুনা রেখে গেলেন। ব্রেস্টের বিরুদ্ধে ৩-১ জয়ে ইব্রাহিমোভিচের দুই গোলের পাশে বেকহ্যামের কর্নার থেকে তৃতীয় গোলটা করলেন মাতুইদি।
অন্য দিকে, আন্সেলোত্তি তার রিয়াল মাদ্রিদ যাওয়া নিয়ে জল্পনাটা আরও একটু জিইয়ে রাখলেন। এই বলে যে, ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত আর কয়েক দিনের মধ্যেই জানাবেন। প্রাক্তন চেলসি কোচকে পরের মরসুমে সই করাতে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। সূত্র: ওয়েবসাইট।
ব্যাংকক: বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণে কোরীয় রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (কেপিইজেড) সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া আলোচনা করেছে।
রোববার থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং হং ওন-এর সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার দেশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং উভয় দেশের স্বার্থে সমস্যা সমাধানে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দ্বিতীয় এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানে উভয় নেতা বর্তমানে চিয়াংমাইতে অবস্থান করছেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দু'দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ভারসাম্য দক্ষিণ কোরিয়া পক্ষে অনেক বেশি। ভারসাম্যতা ঠিক রাখতে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে আরো বেশি কোরীয় বিনিয়োগ কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বস্ত্র, পাট, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, আইসিটি, চামড়া, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা ও জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের জন্য দক্ষিণ কোরীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের সবুজ অর্থনীতির জন্য কোরিয়ার অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ এম ওয়াহিদুজ্জামান এবং থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশী নাগরিকদের এমপ্লয়মেন্ট পার্মিট সিস্টেমের আওতায় আনার জন্য দক্ষিণ কোরীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে সে দেশে আরো বাংলাদেশী কাজ করার সুযোগ পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দক্ষিণ কোরীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে দেশটির জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা বাণিজ্য বিকাশে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোরীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। চুং হং ওন আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বলেন, অদূর ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন।
পরে প্রধান মন্ত্রী ঐহিহ্যবাহী উইয়াং কুম কাম প্রাসাদে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নৈশ ভোজে যোগ দেন এবং ঐতিহ্যবাহী থাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। সূত্র: বাসস
চট্টগ্রাম: এক আইনজীবীর বৃদ্ধা মাকে নৃশংসভাবে খুনের দায়ে চারজনের ফাঁসি ও পাচঁ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।
মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।রোববার চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ লা মং এ রায় দিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন, আবু মোকাররম, শাহআলম ও তার স্ত্রী জোহরা খাতুন এবং শহীদুল ইসলাম প্রকাশ শাহেদ। এরা সবাই বর্তমানে জেল হাজতে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন, মোহাম্মদ আরিফ, মিন্টু দাশ, ইউনূস, সাইফুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীর আলম। এদের মধ্যে মিন্টু ও সাইফুল হাজতে আছেন।
আর খালাস পাওয়া পাঁচজন হলেন, খোরশেদ আলম, মনোয়ারা বেগম, কামরুন্নাহার এবং আবু সালেক।
চট্টগ্রামের পিপি অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বলেন, “নয়জন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারায় আদালত তাদের সাজা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম আদালতের একজন সরকারি আইনজীবীর বৃদ্ধা মা নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় এ রায় হয়েছে। সে অর্থে চট্টগ্রাম আদালতের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। আশা করি উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।”
অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুজাফফরাবাদ গ্রামের ৫৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা চেমন আরা বেগম ওরফে ছেনুয়ারা বেগম নৃশংস খুনের শিকার হন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম সেন্টু’র মা।
ঢাকা: ব্যাংকিং সেবার আওতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছে এনসিসি ব্যাংক।
রোববার রাজধানীর রুপসী বাংলা হোটেলে ‘এনসিসিবি শিওর ক্যাশ’ নামের এই সেবার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এখন থেকে এনসিসিবি শিওর ক্যাশ ব্যবহার করে দেশের যে কোনো প্রান্তে টাকা পাঠানো ও উত্তোলন করা যাবে।
‘টাকা পাঠাই ফোনে ফোনে’ এই স্লোগানে যাত্রা শুরু করা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে কানাডার প্রতিষ্ঠান প্রগতি সিস্টেমস্।
এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত হেদার ক্রডেন ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নুরুন নেওয়াজ সেলিম। এ সময় প্রগতি সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী ড. শাহাদত হোসেনসহ এনসিসি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় সকল গার্মেন্ট কর্মীর একটি করে মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকুক। যার মাধ্যমে তারা সব ধরনের ব্যাংকিং সুবিধা পাবে। ব্যাংকগুলো নিজেদের কাজ মনে করে অল্প টাকার বিনিময়ে শিগগিরই এই সেবা চালু করবে বলে তিনি আশা করেন। প্রয়োজনে সিএসআর কর্মসূচির আওতায় গার্মেন্ট কর্মীদের সেবা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. আতিউর বলেন, বিকল্প পরিশোধ চ্যানেল হিসেবে ব্যাংক ব্যবস্থায় মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এখন পর্যন্ত ২৫টি ব্যাংককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এনসিসিসহ ১৭টি ব্যাংক এই সেবা চালু করেছে। ব্যাংকগুলো সারা দেশে ৭০ হাজার এজেন্টের মাধ্যমে এই সেবা দিচ্ছে। এই চ্যানেল ব্যবহার করে ৫০ লাখের বেশি গ্রাহক প্রতি মাসে তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন করছেন।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে সেবা দিতে এনসিসিবি মোবাইল ব্যাংকিং চালু করা হয়েছে। এই পদ্ধতির ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।
নুরুল আমিন বলেন, এনসিসিবি শিওর ক্যাশের মাধ্যমে গ্রাহক টাকা জমা, উত্তোলন, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা বিতরণ, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গ্রহণ, সরকারি অনুদান প্রাপ্তি, মোবাইলে তাৎক্ষণিক ব্যালেন্স রিসার্জসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন। এটি সব ধরনের মানুষের জন্য সেবার অন্যতম একটি মাধ্যম হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। সূত্র: বাসস
সিলেট: সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/১৯ মে ২০১৩
ঢাকা: সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিখোঁজদের স্বজনরা ছবি নিয়ে বিক্ষোভ করে।ছবি: নতুন বার্তা, ১৯ মে ২০১৩
ঢাকা: ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আমির হোসেন আমুর স্ত্রীর নামে স্বাস্থ্যকেন্দ্র উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।ছবি: নতুন বার্তা, ১৮ মে ২০১৩
ঢাকা: গণভবনে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ্ওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিমিয় সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নতুন বার্তা, ১৮ মে ২০১৩
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমাজে রোল মডেল হিসেবে কাজ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ১৬তম ব্যাচের নবীন বরণ এবং ৯ম ও ১০ম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান তিনি।
পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিভাগের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মহিদুজ্জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক মিসেস খালেদা এদিব।
আরেফিন সিদ্দিক বলেন, “শিক্ষার্থীদের সৎ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সত্যিকার মানুষ হতে হবে। সমাজের অনেকেই উচ্চশিক্ষিত হয়েও মিথ্যা কথা বলেন এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেন। এ ধরনের লোকগুলো সমাজের জ্ঞানপাপী হিসেবে পরিচিত। কারণ তারা দেশ ও জাতির কোনো উপকারে আসবে না।”
তিনি আরো বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবাইকে উঁচুমানের পেশাজীবী হতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীই মেধাবী, তাই সবার জিপিএ ৪ এর মধ্যে ৪ পাওয়া উচিত। উন্নত জাতি গঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মায়ের দায়িত্ব পালন করছে। দেশ ও জাতির সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকেও এই দায়িত্বের যথাযথ প্রতিদান দিতে হবে।”
তিনি দেশের সাধারণ মানুষের পুষ্টি সমস্যা সমাধান এবং পুষ্টিমান বজায় রাখতে সঠিক দিক-নির্দেশনা দেয়ার জন্য পুষ্টিবিদদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ১০তম ব্যাচের মাস্টার্স পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলামকে ‘ডাইরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।
নয়া দিল্লি: মেরু অঞ্চল পরিষদে ভারতকে নেয়া হয়েছে পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ এর ফলে মেরু প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও অন্যান্য কাজকর্মের ব্যবস্থাপনায় ভারত তার বক্তব্য তুলে ধরতে পারবে আরো জোরালোভাবে৷
তেল, গ্যাস ও খনিজ পদার্থের মজুত ভাণ্ডার হিসেবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক তথা ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম৷
মেরু অঞ্চলে বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র খোলার পাঁচ বছর পর, কূটনৈতিক চেষ্টার পরিণামে মেরু অঞ্চল পরিষদ বা আর্কটিক কাউন্সিলে ভারত তার নিজের জায়গা করে নিল পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ অন্য আরো পাঁচটি দেশ চীন, জাপান, ইটালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরকে এই মর্যাদা দেয়া হয়েছে৷ আটটি স্থায়ী সদস্য দেশের কাউন্সিলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷
ক্যানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, রাশিয়া, ডেনমার্ক (গ্রিনল্যান্ড), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (আলাস্কা), আইসল্যান্ড ও সুইডেনকে নিয়ে গঠিত আর্টিক কাউন্সিল এই অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন ও তার অভিঘাত, মেরু প্রদেশের পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদের ধারাবাহিক সদ্বব্যবহার, জীব বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পারিপার্শ্বকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে৷ যদিও ঐসব সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা সীমিত৷
আর্কটিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ভারতে কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেন? মেরু অঞ্চলে ভারত তার অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক এবং ভূ-রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে৷ বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে যে ভারত ফেলনা নয়, আর্কটিক অঞ্চলেও সেকথা খাটে৷ ৮০-এর দশকে ভারত মেরু অঞ্চলে তার প্রথম বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে৷ যদিও বড় রকম প্রকল্প হাতে নেয়া সম্ভব হয়নি সীমিত সহায় সম্পদের কারণে৷ তবে আর্থিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সে বাধা কেটে যাবে৷ বৈজ্ঞানিক মেধার দিক থেকে বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দেবার ক্ষমতা রাখে ভারত৷ দিল্লি মনে করে, এই সবের পাশাপাশি ঐ অঞ্চলে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে৷ ভারতের নতুন উদ্যোগ হবে মেরু অঞ্চলকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখা৷
মেরু অঞ্চলকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে গত বছর জুন মাসে জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় অনুষ্ঠিত রিও আর্থ সম্মেলন৷ সেখানে ভারতের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, একবিংশ শতাব্দীর শেষে ভূ-তাপ বাড়বে ৩-৪ ডিগ্রি৷ এই উষ্ণায়নের প্রভাব অনুভূত হবে ভারতে, বিশেষ করে উত্তর ভারতে৷ মেরুপ্রদেশের বরফ গললে কার্বন ডাই অক্সাইডের শোষণ ক্ষমতা যাবে কমে৷ ফলে উষ্ণায়ন ক্রমশই বাড়তে থাকবে৷ বাড়বে সমুদ্রের জলস্তর, দেখা দেবে বন্যা৷ বিপন্ন হবে ভারতের কোটি কোটি মানুষের জানমাল৷ মেরু অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষার যোগ আছে৷ বর্ষার সঙ্গে যোগ আছে কৃষির৷
চির তুষারাবৃত মেরু এলাকার কিছু অংশ ছাড়া পুরো আর্টিক অঞ্চলের ওপর সার্বভৌম অধিকার কোনো দেশের নেই৷ তুন্দ্রা অঞ্চল ছাড়া গাছপালা বিবর্জিত বিশাল নির্জন এই হিমায়িত এলাকার গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ৪০-৫০ ডিগ্রি নীচে৷ পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, মেরু সাগর দিয়ে শিপিং রুট খোলা ইত্যাদি নিয়ে কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য দেশের কয়েক শো বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন কীভাবে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করা যায়৷ বরফের নীচে জমা মিথেন গ্যাস নির্গমন রোধ করা যায়৷ মিথেন গ্যাস নির্গত হতে পারে মেরু বরফ সংকোচনের ফলে৷ তাতে উষ্ণায়ন বাড়বে দ্রুতগতিতে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
ওয়াশিংটন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির বৈঠকের সময় স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন ওয়াশিংটন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিক্ষোভের আগে বাংলাদেশ ডেস্ক’র প্রধান বেন ব্রে’র মাধ্যমে সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্যাদি তুলে ধরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন প্রবাসীরা।
স্থানীয় সময় শুক্রবার আমেরিকা ও বাংলাদেশের পরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের সময় বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করে প্রবাসীরা।
এতে বক্তব্য দেন আমেরিকান মুসলিম কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ইমাম মাহদী ব্রে, বাংলাদেশী আমেরিকান ফরিদউদ্দিন, সায়েদ মুকতাদির ও জুহাইব চৌধুরী।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “বাংলাদেশে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। শুধু চলতি বছরেই সরকারি বাহিনী শত শত সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। কয়েক হাজার মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিনা বিচার কারাগারে আটক রয়েছে। সরকারি বাহিনী সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বাংলাদেশ সরকারকে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন সরকারের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা দাবি জানান বক্তারা।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, “নিজ ভবন পরিত্যক্ত জেনেও সরকার সমর্থক রানা হরতাল বিরোধী মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য জোরপূর্বক গার্মেন্টস শ্রমিকদের ডেকে এনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। ধসে পড়া ভবনে অসংখ্য আহত এবং এগার শতাধিক নিহতের ঘটনা সরকার দায় এড়াতে পারে না।” নিহত শ্রমিকদের পরিবার এবং আহতদের পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান বক্তারা। -বিজ্ঞপ্তি
ঢাকা: পৃথক দুই মামলায় রাজধানীর লালবাগ শাহী মসজিদের খতিবসহ হেফাজতে ইসলামের তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-হেফাজতের সিনিয়র নেতা লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব ও মিরপুরের জামিয়া আরাবিয়া খাদেমুল ইসলাম মাদরাসার প্রিন্সিপাল ইমরান মাজহারী, কাফরুল থানা হেফাজতের আহ্বায়ক ও মিরপুর জামিয়া উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল আবুল বাশার এবং কাফরুল থানা হেফাজতের যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, গত ৫ মে মতিঝিল থানায় দায়ের করা পুলিশ হত্যা ও পুলিশের ওপর হামলা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের করা পৃথক দু’টি মামলায় (১১ ও ১৩ নম্বর) তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
দামেস্ক: সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুসাইরের নিয়ন্ত্রণ নিতে বড় ধরনের একটি অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বিদ্রোহীরা গত একসপ্তাহ ধরেই শহরটি দখল করে রেখেছে।
সেনাবাহিনীকে লেবাননের হিজবুল্লাহ গেরিলারা সহযোগিতা করছে বলে জানায় বিবিসি। অপরদিকে বিদ্রোহীদের সাহায্য করছে লেবাননের সুন্নি মিলিশিয়ারা।
সিরিয়ার সেনারা রোববার লেবাননের কাছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত কুসাইর শহর পুনর্দখলে অভিযান শুরু করেছে।
ওই অভিযানে ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে বিদ্রোহীরা দাবি করলেও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে নিহতের সংখ্যা ৭০ জন।
কুসাইর শহরটি লেবানন সীমান্তের কাছে হওয়ায় এর একটি কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
ফলে এই শহরের নিয়ন্ত্রন নিতে পারলে সরকার রাজধানী থেকে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
অন্যদিকে, কুসাইর শহরের নিয়ন্ত্রন বিদ্রোহীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এর ফলে তারা লেবানন থেকে সহজেই দেশটিতে ঢুকতে ও বের হতে পারবে।
রোববার সকাল থেকে বিমান হামলা এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অভিযান শুরু হয়।
এরআগে সিরিয়ান সেনাবাহিনী আশেপাশের গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং কুসাইর শহরটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।
বিবিসি জানায়, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন যোদ্ধা হলেও বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, শহরটির চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সরকারি অভিযানে সাড়ে চারশো’র বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ঘোষণায় বলা হয়, সেনাবাহিনী কুসাইরের টাউন হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং তারা শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে গেছে।
এদিকে বৃটিশ সাহায্য সংস্থা অক্সফাম জানায়, জর্ডান আর লেবাননে সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য জরুরি সাহায্য প্রয়োজন। সূত্র: বিবিসি।
আগরতলা: ফের রক্তাক্ত সংবাদমাধ্যম। সংবাদপত্রের দফতরে ঢুকে তাণ্ডব চালাল দুষ্কৃতীরা। কুপিয়ে খুন করা হলো তিন সাংবাদকর্মীকে। রোববার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায়।
আগরতলার স্থানীয় সংবাদপত্র গণদুত পত্রিকার দফতরে ঢুকে পরে কয়েকজন সশস্ত্র দুষ্কৃতী। পত্রিকার ম্যানেজার, প্রুফ রিডার ও এক গাড়ির চালকাকে নিসানা করে তারা। এলপাথারি ছুড়ি চালানো হয় বলে খবর। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: সর্বশেষ প্রকাশিত টিআরপিতে সার্বিক মূল্যায়নে দেশের মিশ্র ও সংবাদভিত্তিক দুই ঘরানার চ্যানেলগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে একাত্তর টিভি। চলতি বছরের ১৯তম সপ্তাহের (৪-১০ মে) টিআরপির শেয়ার বিশ্লেষণ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সপ্তাহে ৪.০৯ শেয়ার নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে সংবাদভিত্তিক চ্যানেল একাত্তর। এরপরেই রয়েছে সময় টিভি। এর শেয়ার ছিল ৪.০৬।
২.৬০ শেয়ার নিয়ে তালিকার তিন নম্বর চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশন। সংবাদভিত্তিক ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন রয়েছে চার নম্বরে। এর শেয়ার ২.৪৩।
২.৩৬ শেয়ার নিয়ে আরেক সংবাদভিত্তিক চ্যানেল এটিএন নিউজ রয়েছে পাঁচ নম্বরে। বাংলাভিশনের অবস্থান ছয়। এর শেয়ার ২.২৩।
২.২০ শেয়ার নিয়ে আরটিভি অবস্থান নিয়েছে সাত-এ। আট নম্বরে আছে চ্যানেল আই। এর শেয়ার ২.১১।
২.০৩ শেয়ার নিয়ে এনটিভির অবস্থান নয় নম্বরে। ১০ নম্বরে আছে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। এর শেয়ার রেকর্ড করা হয়েছে ১.৯১।
১.৬১ শেয়ার নিয়ে এটিএন বাংলা রয়েছে ১১ নম্বরে। ১২ নম্বরে রয়েছে দেশিটিভি। এর শেয়ার ছিল ১.৫৮।
একুশে টেলিভিশনের অবস্থান ১৩। এর শেয়ার ছিল ১.৫৭। ১.৫৫ শেয়ার নিয়ে তালিকায় এরপরের অবস্থান চ্যানেল নাইনের।
বৈশাখী টেলিভিশন রয়েছে ১৫ নম্বরে। এর শেয়ার রেকর্ড করা হয়েছে ১.৩৩। ১.৩১ শেয়ার নিয়ে এসএটিভি রয়েছে ১৬ নম্বর অবস্থানে।
জিটিভির অবস্থান ১৭। এর শেয়ার ১.৩০। ১.২৭ শেয়ার নিয়ে মাইটিভি রয়েছে ১৮ নম্বরে। ১.২২ শেয়ার নিয়ে বিটিভির অবস্থান ১৯।
২০ নম্বরে অবস্থান নিয়েছে এশিয়ান টিভি। এর শেয়ার ১.১১। ০.৭২ শেয়ার নিয়ে ৬ মে বন্ধ হয়ে যাওয়া দিগন্ত টেলিভিশন রয়েছে ২১ নম্বরে। ০.৫৫ শেয়ার নিয়ে ২২ নম্বরে রয়েছে চ্যানেল সিক্সটিন।
২৩ নম্বরে রয়েছে মোহনা টিভি। এর শেয়ার ছিল ০.২৯। তালিকার সর্বশেষ অবস্থান ২৪ নম্বরে জায়গা হয়েছে ৬ মে বন্ধ হয়ে যাওয়া আরেক চ্যানেল ইসলামিক টিভির। এর শেয়ার রেকর্ড করা হয়েছে ০.১০।
কলকাতা: আমি আর গার্লফ্রেন্ডসের পর এবার সম্পূর্ণ অন্য ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন স্বস্তিকা মুখার্জি। পরিচালক সৃজিত মুখার্জির আগামী ছবি জাতিস্মরে জিশু সেনগুপ্তর বিপরীতে দেখা যাবে স্বস্তিকাকে।
সমসাময়িক সময়ের মিউজিকাল প্রেমের গল্প জাতিস্মর। তবে গুজব উঠেছে উত্তম-তনুজা অভিনীত ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ছবির রিমেক জাতিস্মর। যিশু, স্বস্তিকা ছাড়াও ছবিতে রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ঋতুপর্ণ ঘোষের নৌকাডুবির পর এই ছবিতে আবার একসঙ্গে অভিনয় করতে চলেছেন প্রসেনজিৎ-যিশু।
যিশু জানালেন, "আমি জাতিস্মরের স্ক্রিপ্ট শুনেছি। আমার বেশ ভাল লেগেছে। তবে এখনও সই করিনি। ছবিতে আমার চরিত্র একজন আধুনিক পুরুষের। এখনই এর বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে বহুদিন পর বুম্বাদা আর স্বস্তিকার সঙ্গে কাজ করতে ভেবেই আমার ভালো লাগছে।" সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশকে আরো অগ্রগামী করতে আইটসোর্সিংসহ অন্যসব কাজের পাশাপাশি প্রোগ্র্রামিংকেও গুরুত্ব দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে এ বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে হবে। এজন্য সম্ভব হলে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রোগ্রামিংয়ের নানা বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টিকে ভীতিকর ও কঠিন না করে আনন্দদায়ক করে উপস্থাপন করতে হবে।
রাজধানীর বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) সম্মেলন কক্ষে ‘তরুণদের প্রোগ্রামিংয়ে উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন সি নিউজ ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) যৌথ উদ্যোগে শনিবার রাতে আয়োজিত গোলটেবিলের সহযোগিতায় ছিল বিসিএস।
বৈঠকে প্রধান অতিথি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, “বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা যদি শিক্ষকতা করার আগে কিছুদিন ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কাজ করেন তাহলে তাদের শিক্ষাদান আরো সহজ ও আনন্দদায়ক হবে। এতে শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে। প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী করতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রোগ্রামিং উপকরণ আনন্দদায়ক, সহজ ও সহজলভ্য করতে হবে।”
বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন, বিসিএসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মঈনুল হোসেন, বেসিসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, প্রগতি সিস্টেমের প্রধান নির্বাহী শাহাদাত খান, সি নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক রাশেদ কামাল, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জাবেদ মোর্শেদ চৌধুরী, মুক্ত সফটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী তামিম শাহরিয়ার সুবিন, ই-সফটের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হাসান অপু, প্রোগ্রামার তাহমিদুল ইসলাম রাফি, এএসএম রফিকুননবী নয়ন, এসিএম আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল ২০১২ এর সদস্য ও প্রোগ্রামার মীর ওয়াসি আহমেদসহ আরও অনেকে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত সিদ্দিকী সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল খান, গবেষণা সম্পাদক নাজমুল হোসেন, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন, সি-নিউজের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ, বিডিওএসএনের কোষাধ্যক্ষ নুরুন্নবী চৌধুরী হাছিব, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সমন্বয়ক বায়েজিদ ভূঁইয়া জুয়েলসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, দেশে ও দেশের বাইরে প্রোগ্রামারদের কাজের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী আমরা দক্ষ ও মেধাবী প্রোগ্রামার পাচ্ছি না। এজন্য উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রোগ্রামিংয়ের বেসিক বিষয়গুলোকে সহজে সবার মাঝে তুলে ধরতে পারলে প্রোগ্রামিংয়ে তরুণরা আগ্রহী হবে। তবে সবার আগে শিক্ষার্থীদের আগ্রহটা প্রয়োজন। দেশে বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৯ হাজার কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শিক্ষার্থী পাশ করলেও দক্ষ প্রোগ্রামার খুব বেশি হচ্ছে না। গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা প্রোগ্রামিং জনপ্রিয় করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রোগ্রামিং ক্লাব, উপকরণ সহজলভ্য করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
কলম্বো: চা ছাড়া বাঙালির আড্ডা যেন জমেই না৷ তাই তো কোথাও বেড়াতে গেলে চা চা-ই চাই৷ অনেকে আবার সকালে ঘুমে থেকে উঠে শোয়ার ঘরেই পান করেন চা৷ এবার, সেই বেডরুমেই চায়ের ‘বিশেষ’ উপকারের কথা জানা যাচ্ছে৷
খবরটি এসেছে শ্রীলঙ্কা থেকে, যারা চা উৎপাদন ও রফতানিতে বিশ্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি দেশ। সেখানকার জিডিপি'র প্রায় ১২ শতাংশ আসে চা রফতানি থেকে৷ গত বছর এই খাত থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল শ্রীলঙ্কা৷
তবে দেশটির রফতানিকারকরা মনে করছেন চা রফতানি থেকে আয়ের পরিমাণ প্রায় চারগুণ বাড়ানো সম্ভব৷ এজন্য অনেক কোম্পানি নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে৷ যার একটি হচ্ছে, চায়ের অপ্রকাশিত একটি গুণ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালানো৷
শুধু মনকে সতেজ করাই নয়, শ্রীলঙ্কার চা কামনাশক্তিও বাড়ায় – এই তথ্যটি সারা বিশ্বে প্রচার করতে চাইছেন অনেক রফতানিকারক৷
বিশেষ করে ‘সিলভার টিপস' ও ‘গোল্ডেন টিপস' নামের ‘হোয়াইট টি’ মানে সাদা রংয়ের চা পাতার মধ্যে বিশেষ এই গুণটি রয়েছে বলে জানান রোহান ফার্নান্ডো৷ তিনি শ্রীলঙ্কার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চা রফতানিকারক এইচভিএ ফুডস কোম্পানির মালিক৷
তিনি বলেন, হোয়াইট চা তৈরি করতে গাছের একেবারে কচি কুঁড়িগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোর রং সাদা বা সোনালি না হওয়া পর্যন্ত রোদে শুকানো হয়৷
চীনা ব্যবসায়ী এবং সৌদি আরব ও জাপানের ধনকুবেরদের কাছে এই চা দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানান ফার্নান্ডো৷
অবশ্য হোয়াইট টি পান করলে যে শুধু যৌনশক্তি বাড়ে তা নয়, এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলোর কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে৷ রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায়ও ঠিক থাকে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী৷ তাঁর ১৫০তম জন্মদিন ১২ মে ৷
বাংলা শিশুসাহিত্যে উপেন্দ্রকিশোরের অসামান্য অবদানের কথা সবার জানা থাকলেও, তাঁর ছবি আঁকা, ফোটোগ্রাফি চর্চা, বা প্রসেস শিল্পে হাফটোন ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে অসামান্য মৌলিক গবেষণার কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছে খুবই কম৷ এদেশে যখন ছবি ছাপার ক্ষেত্রে কাঠখোদাই ও ধাতুখোদাই-এর প্রযুক্তিই শেষ কথা, তখন উপেন্দ্রকিশোর একাই এই জগতে সূচনা করেছিলেন সম্পূর্ণ নতুন একটি যুগের৷
ইলাস্ট্রেশনের কাজে হাত দেওয়ার অনেক আগে থেকেই তেল ও জলরঙে ছবি আঁকতেন তিনি৷ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও শিলাইদহের কুঠিবাড়ির জন্য উপেন্দ্রকিশোরের আঁকা ছবি সংগ্রহ করেছিলেন৷ পুরোপুরি ইওরোপীয় টেকনিকেই ছবি আঁকতেন উপেন্দ্রকিশোর৷ সত্যজিতের ভাষায়, 'খাস বিলিতি কায়দায় তেল রং, জল রং, কালি কলমে ছবি এঁকেছেন৷' ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে পৌরাণিক ঘটনা ও প্রাচীন ইতিকথার চরিত্র, এই সব কিছুই ছিল তাঁর ছবির বিষয়৷ যদিও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথাগত ভাবে ছবি আঁকা শেখেননি তিনি, কিন্ত্ত আশ্চর্যের ব্যাপার তা বোঝার কোনওরকম উপায়ই নেই৷ নিজের চেষ্টায় এতটাই নিখুঁত ভাবে তিনি শিখে নিয়েছিলেন ড্রয়িং, অ্যানাটমি এবং ছবি আঁকার প্রকরণগত অন্যান্য ক্রিয়াকৌশল৷
উপেন্দ্রকিশোরের পেন্টিংগুলো কোথায় কী ভাবে আছে বা আদৌ আছে কি না সেটা বলা কঠিন, কিন্ত্ত তাঁর অমর শিশুসাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গে চিরদিনের জন্য থেকে গিয়েছে তাঁর অসামান্য কিছু ইলাস্ট্রেশন, যা গোটা বাঙালি জাতি কোনও দিনও ভুলতে পারবে না৷
গ্রন্থচিত্রণের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন নিজের লেখাকে কেন্দ্র করেই৷ তাঁর লেখা 'সেকালের কথা', 'ছেলেদের রামায়ণ', 'ছেলেদের মহাভারত', 'টুনটুনির বই', 'ছোট্ট রামায়ণ'-এর ছবি ছাড়াও এঁকেছেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'সচিত্র সন্তকাণ্ড রামায়ণ', সীতা দেবী ও শান্তা দেবীর 'হিন্দুস্তানী উপকথা', সীতা দেবীর 'নিরেট গুরুর কাহিনী' ও রবীন্দ্রনাথের 'নদী' কবিতার ছবি৷ এ ছাড়াও রয়েছে ১৯১৩-তে তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় ছোটদের বিখ্যাত মাসিকপত্র 'সন্দেশ'-এর জন্য আঁকা অজস্র ইলাস্ট্রেশন৷
এই 'সন্দেশ' পত্রিকাটি থেকেই খুঁজে পাওয়া যায় উপেন্দ্রকিশোরের প্রতিভার সম্পূর্ণ পরিচয়৷ সম্পাদনা করা ছাড়াও, প্রচ্ছদ ও অন্যান্য ছবি আঁকা থেকে শুরু করে কবিতা, গল্প, পুরাণের কথা, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, ধাঁধা ও হেঁয়ালি রচনা, ব্লক মেকিং ও প্রিন্টিং সবই হত তাঁর হাত দিয়ে৷ 'সন্দেশ'-এর আগে ছোটদের জন্য যে সব পত্রিকা বেরিয়েছে সেগুলোর ছবি অথবা ছাপা কোনওটাই ততটা চিত্তাকর্ষক ছিল না৷ এ দেশে 'সন্দেশ'-ই প্রথম ছোটদের কাগজ, যেখানে রঙিন ছবি ছাপা হয়৷
ইউরোপীয় কেতায় ছবি আঁকলেও উপেন্দ্রকিশোরের ইলাস্ট্রেশনে যে আশ্চর্য বাঙালিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায় তা তাঁর আগে অন্য কোনও গ্রন্থচিত্রীর কাজে দেখা যায়নি৷ এ ছাড়া তাঁর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অপূর্ব রসবোধ যে তাঁর কাজগুলোকে সময়ের থেকে আরও অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ এ প্রসঙ্গে সত্যজিৎ লিখেছেন, 'ইলাস্ট্রেটর হিসেবে উপেন্দ্রকিশোরের কাজে যে দক্ষতা ও রীতিবৈচিত্র্য দেখা যায় তার তুলনা ভারতবর্ষে নেই৷... পৌরাণিক গল্পের ছবিতে হাস্যরসের তেমন সুযোগ নেই৷ কিন্ত্ত সেখানেও --- হয়তো শিশুদের কথা চিন্তা করেই --- দৈত্য দানব রাক্ষস পিশাচের চেহারা আঁকতে উপেন্দ্রকিশোর ভয়ঙ্কর রসের সঙ্গে হাস্যরস মেশাতে দ্বিধা করেননি৷' তাঁর নিজের ও অন্যান্যদের বইয়ের সঙ্গে সব মিলিয়ে অন্তত শ'খানেকের মতো হাফটোন ছবি এঁকেছিলেন তিনি৷ যার মধ্যে বেশ কিছু রঙিন ছবিও ছিল৷ ইদানীং পুনর্মুদ্রণের সময় উপেন্দ্রকিশোরের লাইন ড্রয়িংগুলো ছাপা হলেও হাফটোন ছবিগুলোর অধিকাংশই আর ছাপা হয় না৷ এটা অত্যন্ত দুঃখের৷ উপেন্দ্রকিশোরের রচনার এতগুলো সংস্করণের মধ্যে অন্তত একটি মূলানুগত সংস্করণ অবশ্যই থাকা উচিত৷
১৮৯৫ সাল নাগাদ বিদেশ থেকে প্রসেস ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে হাতে কলমে কাজ শুরু করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ ফোটোগ্রাফি ও হাফটোন ছবি ছাপার করণকৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন তারও অন্তত দশ বছর আগে থেকে৷ হাফটোন নিয়ে উপেন্দ্রকিশোরের গবেষণা মূলত প্রসেস ক্যামেরাকে কেন্দ্র করেই৷ নেগেটিভের মানকে কী ভাবে আরও উন্নত করা যায় তা নিয়ে কত রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে করে গিয়েছেন তার কোনও শেষ নেই৷ এই নিরন্তর গবেষণার ফল হিসেবে দেখা যায় বিলেতের বিখ্যাত প্রিন্টিং-এর পত্রিকা 'পেনরোজ অ্যানুয়াল'-এ একটির পর একটি তাঁর লেখা প্রবন্ধ৷ মোট ন'খানা প্রবন্ধ লিখেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর পেনরোজ অ্যানুয়েলে, যেগুলো একে একে প্রকাশ হতে শুরু করা মাত্রই তখনকার বিলেতের ছাপাখানার জগতে হইচই পড়ে গিয়েছিল৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই মৌলিক গবেষণা ও আবিষ্কারকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছিলেন পেনরোজ কর্তৃপক্ষ৷ এমনকী তাঁর পদ্ধতি অবলম্বন করে লন্ডনে ছাপার কাজও শুরু হয়ে যায়, যা সুকুমার রায় বিলেতে গিয়ে নিজের চোখেই দেখে এসেছেন৷
ভাবতে অবাক লাগে অত বছর আগে একজন বত্রিশ বছর বয়সী বাঙালি যুবক ছোট একটা ভাড়া বাড়িতে বসে, সামান্য কিছু উপকরণ নিয়ে শুধু নিজের অসামান্য প্রতিভার জোরে কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন৷
নিজের লেখা বই বা অন্যান্য যাঁদের বইতে উপেন্দ্রকিশোর ছবি এঁকেছেন, সেগুলো ছাপা যেখানেই হোক না কেন, ছবিগুলোর ব্লক করেছেন তিনি নিজেই৷ একমাত্র যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সিটি বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত 'ছেলেদের রামায়ণ'-এর প্রথম সংস্করণটি ছাড়া৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই বইটিতে তাঁর নিজের আঁকা ছবির ব্লক খুবই খারাপ হয়েছিল৷ পরবর্তী সংস্করণে অবশ্য তিনি নিজে আবার নতুন ভাবে ব্লক করেন৷ প্রথম দিকে 'সখা ও সাথী', 'মুকুল', 'প্রদীপ'--- এই সব পত্রিকার জন্য বহু ছবির ব্লক তৈরি করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ এ ছাড়াও বিশেষ ভাবে এসে পড়ে প্রবাসী পত্রিকার কথা৷ এখানেই উপেন্দ্রকিশোর প্রথম ডুয়োটাইপ পদ্ধতিতে ছবি ছাপা শুরু করেন৷ এক রঙের হাফটোন ছবিকে দু'টো ব্লকের সাহায্যে এ ভাবে ছাপার পদ্ধতি এ দেশে প্রথম চালু করেন উপেন্দ্রকিশোরই৷
হাফটোন ব্লকের উৎকর্ষ যে কী পর্যায়ে যেতে পারে, তার একটি অসামান্য উদাহরণ রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি'-র প্রথম সংস্করণ৷ এই বইতে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা চব্বিশটি ছবির হাফটোন ব্লক তৈরি করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর৷ আজকের মুদ্রণ শিল্পের এই আকাশছোঁয়া উন্নতির যুগেও ওই মানের কাজ কল্পনা করা যায় না৷
১৯১০ -এ উপেন্দ্রকিশোর তাঁর প্রতিষ্ঠান U Ray Artist-এর নাম বদলিয়ে রাখলেন U Ray & Sons৷ যা আজ বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার গৌরবময় ইতিহাসেরই অন্য আর একটি নাম৷ এর পর মাত্র পাঁচ বছর বেঁচেছিলেন তিনি৷ মাত্র বাহান্ন বছরের একটি জীবনে সৃজনশীলতার এই বহুমুখী প্রকাশের কথা ভাবলে আজও আমাদের বিস্মিত হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না৷