ঢাকা: দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা ...
ওকলহোমায়: আমেরিকার ওকলাহোমায় একটি শক্তিশালী টর্নেডো আঘাতে অন্তত ৯১ জন নিহত হয়েছে। নিহতের মধ্যে ১২টি শিশুও রয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই টর্নেডোর ফেলে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেকে আটকা পড়ে ...
পটুয়াখালী: সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী জেলা বিএনপি সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, “সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সরকারের বাকশালী আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন ...
ঢাকা: সরকার ইউটিউব খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তবে তার আগে ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে৷ ইউটিউবকে নিয়েও একই চিন্তা করছে সরকার৷
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির জানান, সামাজিক যোগাযোগের সাইট নিয়ন্ত্রণ ...
ঢাকা: ডেপুটি স্পিকার হিসেবে পদত্যাগ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন শওকত আলী। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইনডিপেনডেন্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। এ পদে থেকেই দেশ ও দলকে সেবা দিয়ে ...
ঢাকা: বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং মংলা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে উপকূলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলেও আবহাওয়ার ...
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জুক জেরেমিককে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে।
সরকারি সংবাদ সংস্থা- বাসস জানায়, সোমবার থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইতে ...
কক্সবাজার: কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধে এসআই পরেশ হত্যা মামলার আসামি সন্ত্রাসী দেলোয়ার নিহত হয়েছে।
বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে চার পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। এসময় পুলিশ তিনটি দেশে তৈরি লম্বা বন্দুক, গোলাবারুদ উদ্ধার করে। সোমবার ...
ঢাকা: বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। বাতাসের স্তরে স্তরে জমছে দূষণ। তার জেরে বদলাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের জলবায়ু। প্রশান্ত মহাসাগরে তো বটেই, ভারত মহাসাগরেও ঘন ঘন আছড়ে পড়ছে ঘূর্ণিঝড়। ঘূর্ণিঝড়ের চরিত্র পর্যবেক্ষেণে বাংলাদেশসহ আটটি দেশ নিয়ে ...
'বিগ ম্যাচ' যখনই এসেছে, আইপিএলে বরাবরই সেরা পারফরম্যান্স এসেছে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছ থেকে৷ মহেন্দ্র সিং ধোনির সিএসকে একমাত্র টিম, যারা ছ'টি আইপিএলে প্রতিবারই প্লে অফে উঠেছে৷ ১০টি প্লে-অফ ম্যাচ খেলে জয় সাতটিতে৷ অত্যন্ত ইর্ষণীয় রেকর্ড, তবে এ বার আইপিএলে মুখোমুখি সাক্ষাতে এগিয়ে মুম্বাই৷ সে সব অবশ্য অতীত, আইপিএলের শেষ সন্তাহে প্রথম ম্যাচে দুটো টিমই জয় তুলে নিতে মরিয়া৷ কারণ জিতলেই মিলবে আগামী রবিবার ইডেনে ফাইনাল খেলার টিকিট৷
ধারে ও ভারে দুটো টিমের মধ্যে খুব বেশি তফাত নেই৷ এ বারের টুর্নামেন্ট চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে, এই ফর্ম্যাটে তিনটে জিনিস ম্যাচ জেতার জন্য জরুরি৷ এক, ভালো শুরু এবং পাওয়ার প্লের ওভারগুলো কাজে লাগানো৷ দুই, শেষ দিকে ফিনিশারের ভূমিকা এবং ডেথ বোলিং৷
এই তিনটে বিভাগকে যদি আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা যায়, দুটো টিমেই রসদের কমতি নেই৷ শুরুতে চেন্নাইয়ের যদি মাইক হাসিও বিজয় থাকেন, মুম্বাইয়ের থাকবে ডোয়েন স্মিথ ও সচিন৷ তবে শচিনের খেলা না খেলা নির্ভর করছে ফিটনেসের ওপর৷ এই ম্যাচ তিনি নিশ্চয়ই মিস করতে চাইবেন না৷ কোনো কারণে তিনি না খেলতে পারলে খেলবেন আদিত্য তারে৷ ফিনিশার হিসেবে মুম্বাইয়ের যদি পোলার্ড থাকেন, চেন্নাইয়ের হয়ে থাকবেন স্বয়ং ধোনি৷ সঙ্গে জাডেজা ও রায়না৷ আর ডেথ বোলিংয়ের জন্য চেন্নাইয়ের চমক ব্র্যাভো বা মোহিত শর্মা হলে, মুম্বাইয়ের মালিঙ্গা বা জনসন৷ স্পিনার হিসেবে চেন্নাইয়ের বাজি যদি অশ্বিন হন, মুম্বইয়ের হরভজন ও প্রজ্ঞান ওঝা৷
সব মিলিয়ে জমজমাট ম্যাচের মঞ্চ তৈরি, কোটলা প্রস্ত্তত দুই সেরা টিমের দ্বৈরথের জন্য৷ গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে মাত্র ৮ ওভারে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে বেঙ্গালুরু তুলেছিল ১০৬, যা নিয়ে ম্যাচ শেষে উদ্বিগ্ন লেগেছে ধোনিকে৷ বলেছেন, 'মাত্র ৮ ওভারের ম্যাচে হারটা বড় করে দেখছি না৷ কিন্ত্ত গ্রুপ লিগের ভুলগুলো প্লে অফে যাতে না হয়, সেটা দেখতে হবে৷ তবে চেন্নাই সুপার কিংসের খেলাটাই শুরু হয় আট ওভারের পর থেকে৷'
ধোনি আসলে বলতে চেয়েছেন, 'মিডল ওভারস' এবং ডেথ-এ রান তোলার কথা৷ আর পাঁচটা টিমের তুলনায় এখানেই অনন্য চেন্নাই৷ শেষ চার ওভারে গড়ে ৫০ রান তোলার ক্ষমতা আছে এই টিমের এবং সেটা করেও দেখিয়েছে বারবার৷ কখনও ধোনি, কখনও ব্র্যাভো বা রায়না৷ তার ওপর শুরুতে মাইক হাসি, যিনি প্রায় প্রতি ম্যাচে ভালো শুরু করে মিডল অর্ডারকে ভরসা দিয়েছেন৷ ক্রিস গেইলের সঙ্গে প্লে অফে লড়তে হচ্ছে না, কমলা টুপির মালিক হওয়ার ব্যাপারে তিনিই এখন সেরা দাবিদার৷ তাকে নিয়ে গাভাসকর বলছেন, 'চেন্নাই টিমটার নিউক্লিয়াস হিসেবে দারুণ সফল হাসি৷ ওর শুরুটা ভালো হচ্ছে বলে পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা অনেক খোলা মনে খেলতে পারছে৷ তা ছাড়া হাসির ব্যাটিং ব্যাকরণ মেনে, অক্রিকেটীয় শট খেলার প্রবণতা নেই৷'
অন্য দিকে, মুম্বাই টিমে অধিনায়ক হিসেবে পন্টিংয়ের জায়গায় রোহিত শর্মা আসার পর টানা সাফল্য পাচ্ছে টিম৷ এ বছর মুম্বাই একটাও হোম ম্যাচ হারেনি৷
কিন্ত্ত আসল পরীক্ষা হবে আজ কোটলায়৷ মিচেল জনসন, মালিঙ্গা, হরভজন, ওঝাকে নিয়ে গড়া বোলিং নিঃসন্দেহে প্রতিপক্ষের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে৷ শুরুতে হাসির উইকটেটা তোলাই মুম্বাইয়ের লক্ষ্য হবে৷ মনে রাখা দরকার, টিমের পিছনে প্রতি বছর হাজার হাজার ডলার ঢালা হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য এখনও পায়নি মুম্বাই৷ পাঁচ বারের মধ্যে একবারও আইপিএল জেতেনি৷ এ বার কিন্ত্ত সেই রেকর্ড বদলে ফেলার সেরা সুযোগ মুম্বাইয়ের সামনে৷ পরের বছর শচিন তেন্ডুলকর আইপিএল খেলবেন কি না বা খেলার মতো অবস্থায় থাকবেন কি না, এখনও অনিশ্চিত৷ তার ওপর পরের বার খোলা নিলাম৷ সে ক্ষেত্রে মুম্বাইয়ের হয়ে আইপিএল জেতার জন্য এটাই সচিনের সামনে সেরা সুযোগ৷ তার টিমমেটরাও জানেন, একবারও আইপিএল জয়ী টিমের সদস্য হওয়া হয়নি শচিনের৷ ক্রিকেট ঈশ্বরের জন্য সেরা উপহার হতে পারে ইডেনে ট্রফিটা তাঁর হাতে তুলে দেয়া৷ রোহিত শর্মা বলেছেন, 'আমরা একবারও ট্রফি পাইনি৷ সে জন্য প্লে অফে ওঠায় কাজ শেষ হয়নি৷ আরও দুটো ম্যাচ টানা জিততে হবে৷ টিম সেই লক্ষ্য মাথায় রেখেই নামবে৷'
আপাতত কাউন্টডাউন শুরু, আইপিএল সিক্স শেষ সন্তাহে পা দিচ্ছে আজ৷ আর মাত্র চারটে ম্যাচ বাকি, যার প্রতিটিতে টানটান উত্তেজনা থাকার কথা৷ কোটলায় আজ যেই জিতুক, যুদ্ধটা ধুন্ধুমার হওয়ার কথা৷ সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলন উপলক্ষে থাইল্যান্ডে দুই দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
রোববার থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরের ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে পানি শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরে থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওত্রার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন তিনি।
এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী জাং হং ওন, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল শাকাসভেলি এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভুক জেরেমিকের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।
ঢাকা : বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২১তম সাক্ষী আব্দুল হামিদ সাকিদার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল আলিমের সহযোগিতায় পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকার বাহিনী মিলে ১১ জনকে হত্যা করে আম গাছ ও লিচু গাছ তলায় পুতে রাখে।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃতে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী এ কথা বলেন।
জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এএইচএম এহসানুল হক হেনা। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
সাক্ষীর শুরুতে তিনি বলেন, “আমার নাম আব্দুল হামিদ সাকিদার, পিতা- মৃত আবুল হোসেন সাকিদার।”
সাক্ষী আব্দুল হামিদ সাকিদার বলেন, “৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল আলিম মুসলিম লীগের নেতা, শান্তি কমিটি গঠনকারী ও শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।”
তিনি বলেন, “মুসলিমলীগ ও জামায়াতের কিছু ছেলেদের নিয়ে শাওনলাল বাজলার গদিঘর দখল করেন। সেখানে রাজাকারদের ট্রেনিং দেয়া এবং সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।”
সাক্ষী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল আলিমের নির্দেশে পাক হানাদার ও রাজাকাররা লোকজনকে ধরে এনে গুলি করে হত্যা করতো। তার পর একদিন ১১ জনকে আব্দুল আলিম, পাক সেনা এবং রাজাকাররা ধরে নিয়ে আসে।” তিনি বলেন, বারোঘটি পুকুর পাড়ের উত্তর পাশে দাঁড় করায়। ১১ জনের মুখেই কালি মাখানো ছিল।”
সাকিদার বলেন, “ছয়জনকে পুকুরের দক্ষিণে আম গাছ তলায় এবং ৫ পাঁচজনকে পুকুরের উত্তর দিকের লিচু গাছ তলায় পুতে রাখে।”
সাক্ষী বলেন, “দেশ স্বাধীনের ৫/৬ মাস পরে পুকুরে জাল ফেলা হয়। জালে প্রায় দেড়শ কঙ্কাল উঠে আসে। সেগুলোকে পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে মাটি চাপাদিয়ে রাখি। সাক্ষী আসামিকে সনাক্ত করে। পরে জেরা শুরু করেন। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
এর আগে আলীমের বিরুদ্ধে আরো ২০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদের জেরা করেছেন।
এর আগে ২০১২ সালের ১১ জুন আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে সাত ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট ১৭টি ঘটনা আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন করা হয়।
ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান জনতা ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১২ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জনতা ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৭ জুলাই, বেলা সাড়ে ১১টায়, ৫৪৫ ট্রাস্ট মিলনায়তন, পুরাতন বিমানবন্দর রোড,ঢাকা ক্যান্টমেন্ট, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৫ জুন।
সমাপ্ত অর্থবছরের প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) সাত দশমিক ৮৪ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১৭০ দশমিক ৬৯ টাকা।
ব্যাংকক: রোববার সকালে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ের আন্তর্জাতিক কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে দ্বিতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অতিথিরা। ছবি: বাসস/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: খিলক্ষেত থানা পুলিশ ১১ লাখ জাল টাকাসহ শ্রী সাধন চন্দ্র বর্মন নামে একজনকে গ্রেফতার করে। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুরে নেরিকা মিউট্যান্ট ধানের আবাদ হয়েছে একরে ১০৮ মন। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কারণে প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরাতন বিজনেস স্টাডিজ ভবনের তিন তলা থেকে পড়ে বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের রাসেল নামের এক শিক্ষার্থীর দুই পা ভেঙে গেছে।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে ওই ভবনের তিন তলা থেকে রাসেল মাথা ঘুরে নিচে পড়ে গেলে তার দুই পায়ের গোড়ালি ভেঙে যায়। রাসেল নিম্ন রক্তচাপে ভুগছিল বলে জানা গেছে।
হাসতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাসেল এখন আশঙ্কামুক্ত। তবে কয়েক দিন তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম জলি নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “রাসেল শারীরিক অসুস্থতার কারণে পড়ে গিয়ে আহত হযেছে। তাকে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
নয়া দিল্লি: মেরু অঞ্চল পরিষদে ভারতকে নেয়া হয়েছে পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ এর ফলে মেরু প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও অন্যান্য কাজকর্মের ব্যবস্থাপনায় ভারত তার বক্তব্য তুলে ধরতে পারবে আরো জোরালোভাবে৷
তেল, গ্যাস ও খনিজ পদার্থের মজুত ভাণ্ডার হিসেবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক তথা ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম৷
মেরু অঞ্চলে বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র খোলার পাঁচ বছর পর, কূটনৈতিক চেষ্টার পরিণামে মেরু অঞ্চল পরিষদ বা আর্কটিক কাউন্সিলে ভারত তার নিজের জায়গা করে নিল পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ অন্য আরো পাঁচটি দেশ চীন, জাপান, ইটালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরকে এই মর্যাদা দেয়া হয়েছে৷ আটটি স্থায়ী সদস্য দেশের কাউন্সিলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷
ক্যানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, রাশিয়া, ডেনমার্ক (গ্রিনল্যান্ড), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (আলাস্কা), আইসল্যান্ড ও সুইডেনকে নিয়ে গঠিত আর্টিক কাউন্সিল এই অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন ও তার অভিঘাত, মেরু প্রদেশের পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদের ধারাবাহিক সদ্বব্যবহার, জীব বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পারিপার্শ্বকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে৷ যদিও ঐসব সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা সীমিত৷
আর্কটিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ভারতে কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেন? মেরু অঞ্চলে ভারত তার অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক এবং ভূ-রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে৷ বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে যে ভারত ফেলনা নয়, আর্কটিক অঞ্চলেও সেকথা খাটে৷ ৮০-এর দশকে ভারত মেরু অঞ্চলে তার প্রথম বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে৷ যদিও বড় রকম প্রকল্প হাতে নেয়া সম্ভব হয়নি সীমিত সহায় সম্পদের কারণে৷ তবে আর্থিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সে বাধা কেটে যাবে৷ বৈজ্ঞানিক মেধার দিক থেকে বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দেবার ক্ষমতা রাখে ভারত৷ দিল্লি মনে করে, এই সবের পাশাপাশি ঐ অঞ্চলে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে৷ ভারতের নতুন উদ্যোগ হবে মেরু অঞ্চলকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখা৷
মেরু অঞ্চলকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে গত বছর জুন মাসে জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় অনুষ্ঠিত রিও আর্থ সম্মেলন৷ সেখানে ভারতের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, একবিংশ শতাব্দীর শেষে ভূ-তাপ বাড়বে ৩-৪ ডিগ্রি৷ এই উষ্ণায়নের প্রভাব অনুভূত হবে ভারতে, বিশেষ করে উত্তর ভারতে৷ মেরুপ্রদেশের বরফ গললে কার্বন ডাই অক্সাইডের শোষণ ক্ষমতা যাবে কমে৷ ফলে উষ্ণায়ন ক্রমশই বাড়তে থাকবে৷ বাড়বে সমুদ্রের জলস্তর, দেখা দেবে বন্যা৷ বিপন্ন হবে ভারতের কোটি কোটি মানুষের জানমাল৷ মেরু অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষার যোগ আছে৷ বর্ষার সঙ্গে যোগ আছে কৃষির৷
চির তুষারাবৃত মেরু এলাকার কিছু অংশ ছাড়া পুরো আর্টিক অঞ্চলের ওপর সার্বভৌম অধিকার কোনো দেশের নেই৷ তুন্দ্রা অঞ্চল ছাড়া গাছপালা বিবর্জিত বিশাল নির্জন এই হিমায়িত এলাকার গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ৪০-৫০ ডিগ্রি নীচে৷ পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, মেরু সাগর দিয়ে শিপিং রুট খোলা ইত্যাদি নিয়ে কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য দেশের কয়েক শো বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন কীভাবে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করা যায়৷ বরফের নীচে জমা মিথেন গ্যাস নির্গমন রোধ করা যায়৷ মিথেন গ্যাস নির্গত হতে পারে মেরু বরফ সংকোচনের ফলে৷ তাতে উষ্ণায়ন বাড়বে দ্রুতগতিতে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
হাম্বুর্গ: ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন আয়েবা দেশে বিদেশে বাংলাদেশীদের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার জার্মানির বন্দরনগরী হাম্বুর্গে আয়েবার ২য় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
আগামী দিনে ইউরোপের প্রতিটি দেশে আয়েবার কর্মসূচি প্রসারিত করার পাশাপাশি ইউরোপিয়ানদের ইন্টিগ্রেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লা ইনুর পরিচালনায় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, গ্রিস,পর্তুগালের এবং জার্মানির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়েবার সব কার্যক্রম বাস্থবায়নে সহায়তার জন্য আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
আয়েবার সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত উল্লা মানুষের কল্যাণে কিভাবে কাজ করলে সমাজের উন্নয়ন হয় সেই বিষয়টি তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। তিনি জানান, গ্রিসে মালিক পক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউরোপিয়ান পারলামেন্টের সদস্যরা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর মালিক পক্ষের অমানবিক নির্যাতনে ও তারা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা রানা প্লাজায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের ধস নামার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আয়েবাকে।
তিনি বলেন, “গ্রিসে বাংলাদেশী আহত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে ইউরোপিয়ান পারলামেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে ইউরোপিয়ান পারলামেন্ট মেম্বার জেনা লাম্বেরতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিবয় হয়।
হাম্বুর্গের আয়েবা নির্বাহী কমিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের আয়োজক সরফ উদ্দিন জুয়েল। জার্মান বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নজরুল ইসলাম, আয়েবার কোষাধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান মুহিব, ফখরুল আলম সেলিম, লুৎফুর রহমান, জার্মান ও ইউরোপের বিভিন্ন কমিউনিটির ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
ঢাকা: পুলিশি বাধায় জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) দোয়া মাহফিল পণ্ড হয়ে গেছে।সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রোগমুক্তি কামনা করে জাসাস দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় এ দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ি সকাল ১০টার পরে বিএনপি ও জাসাসের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। একই সময়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে: জে: (অব:)মাহবুবুর রহমানও সভাস্থলে এসে পৌঁছান। কিন্তু দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতি নেয়ার এক পর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় এখানে অনুষ্ঠান করা যাবে না।
পরে তারা বিএনপি কার্যালয়ের ঠিক উল্টো দিকে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে (ভাসানী ভবনে) অনুষ্ঠান করার জন্য গেলে সেখানেও তাদের বাধা দেয়া হয় বলে অভিযোগ করে বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “দোয়া মাহফিল শুরুর আগে পুলিশ এসে বাধা দেয়। কারণ জানতে চাইলে তারা উপরের নির্দেশের কথা বলে।”
বাধা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে পুলিশের মতিঝিল জোনের ডিসি আশরাফুজ্জামান নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “আগে বিএনপির এই ধরনের অনুষ্ঠানের বাধা দেয়া হয়নি, কিন্তু আমাদের কাছে তথ্য আছে শিবির আজকে নাশকতা চালাতে পারে। এছাড়া বিএনপির কর্মসূচিতে শিবিরের অবাধ যাতায়াত আছে। সে কারণেই তাদের কর্মসূচি না করতে বলা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত রোববার একমাসের জন্য রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধ্বাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এরপর থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন প্রেস ক্লাব, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ভাসানী ভবনে দোয়া মাহফিল করে আসছে।
নয়া দিল্লি: সামরিক সহায়তা এবং সেনাবাহিনী পুর্নগঠনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তিনদিনের এক সফরে কারজাই সোমবার ভারতে পৌঁছান।
সফরের আগে কারজাইয়ের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর সামর্থ্য বাড়াতে ভারত সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো।”
২০১১ সালে এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ভারত এবং আফগানিস্তানে মধ্যে। চুক্তির অন্যতম বিষয় ছিল দুইদেশের মধ্যে সামরিক সহায়তা। প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিতে বছরে দুই হাজার আফগানিকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেবে ভারত।
‘কৌশলগতভাবে গুরুত্বপুর্ণ’ প্রতিবেশি হওয়ায় আফগানিস্তানের নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে রেখেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে একথা জানানো হয়। সূত্র: জি নিউজ।
কলকাতা: চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়! বারবার 'অগ্নিপরীক্ষা' দেয়ার ইচ্ছে বা প্রয়োজন যে তার নেই তা ক'দিন আগেই সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
কিন্ত্ত ঘটনাপ্রবাহ 'অগ্নিকন্যাকে' ফের অগ্নিপরীক্ষার মুখেই ঠেলে দিয়েছে৷ পঞ্চায়েতের আগে লগ্নি কেলেঙ্কারির আবহে হাওড়া (সদর) লোকসভার আসন্ন উপনির্বাচন মমতার 'অ্যাসিড টেস্ট' বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ আড়াই মাস আগের বিধানসভা উপনির্বাচনে একটি কেন্দ্রেও প্রচারে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি মুখ্যমন্ত্রী৷ অথচ প্রয়াত সাংসদ অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র 'সসম্মানে' ধরে রাখতে প্রচারের শেষ দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছেন তিনি৷ প্রচারে দু'দিন না তিন দিন যাবেন তা নিয়ে জেলা নেতাদের দেয়া তথ্যে ফারাক থাকলেও দলনেত্রী যে হাওড়ার শিল্পাঞ্চল এবং পঞ্চায়েত এলাকায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন তাতে কোনো সংশয় নেই৷
জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী অরূপ রায় বলেছেন, 'আমি শুনেছি উনি দু'দিন সময় দেবেনই৷ সেটা তিন দিনও হতে পারে৷ দুটো জনসভা করবেন আর একদিন মিছিলে হাঁটবেন৷ তবে এখনও ফাইনাল ডেট দেননি আমাদের৷' অরূপবাবুর মতোই সাঁকরাইলের বিধায়ক শীতল সর্দারও মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক প্রচার কর্মসূচির কথাই শুনেছেন৷ তবে প্রচারের চূড়ান্ত নির্ঘন্ট যাই হোক না কেন, তৃণমূল সুপ্রিমো যে 'অল আউট' নামতে চলেছেন সেই ইঙ্গিত পেয়ে গিয়েছেন এই লোকসভা কেন্দ্রের সবকটি বিধানসভার বিধায়কেরা৷
তৃণমূলের মেজো, সেজো নেতারা হাওড়ায় নিরাপদ ব্যবধানে জেতার হুঙ্কার ছাড়লেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু তার অ্যান্টি চেম্বারে বসে অনায়াস জয়ের স্বপ্ন দেখছেন না৷ লগ্নি কেলেঙ্কারি নিয়ে আক্রমণের চক্রব্যূহ ভাঙতে তিনি যে ভাবে শ্যামবাজার, পানিহাটি, বর্ধমানে অতীতের বিরোধী নেত্রীর রূপ ধারণ করেছিলেন, হাওড়ার প্রচারেও তারই পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে৷ দলের কিছু নেতা বলছেন, মে মাসের ২৫, ২৬, ২৭ তারিখ হাওড়াতেই পড়ে থাকবেন মমতা৷ আবার আর এক দল নেতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৮, ২৯ এবং ৩০ তারিখ বালি, আন্দুল (সাঁকরাইল বিধানসভার অন্তর্গত) এবং পাঁচলায় জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী৷
অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম মেটার আগেই হাওড়া লোকসভায় উপনির্বাচনের দিন ঘোষিত হওয়ায় কেন্দ্র এবং সিপিএমকে শূলে চড়িয়েছিলেন মমতা৷ সাতাত্তর কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী আসছে শুনে কংগ্রেস-সিপিএমের উদ্দেশে তিনি চ্যলেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, 'ভাবছ তৃণমূলকে জব্দ করবে৷ যত খুশি বাহিনী পাঠাও৷ খেতে দেব, বসতে দেব৷ কিন্ত্ত ভোটটি তোমরা পাবে না৷'
সিবিআইয়ের আইনজীবী স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে রাজ্যের লগ্নি কেলেঙ্কারির তদন্তে ইচ্ছা প্রকাশ করায় এর মধ্যে তিন বার কেন্দ্রে সরকার ফেলে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউপিএ-র প্রাক্তন শরিক নেত্রী৷ আর এতেই উৎসাহিত হয়ে বিজেপিও পরবর্তী লোকসভায় মমতার বন্ধুত্ব সুনিশ্চিত করতে একের পর এক বার্তা দিতে শুরু করেছে৷ তৃণমূল নেত্রীকে কৃতজ্ঞতাপাশে বাঁধতেই বিজেপি হাওড়ায় প্রার্থী ঘোষণা করেও প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এই সুযোগে কংগ্রেস সিপিএম একযোগে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ক্ষয় ধরানোর চেষ্টা শুরু করেছে৷ তারা সফল হলে লোকসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস বোঝাপড়ার রাস্তা খুলে যেতে পারে, যা মমতার পক্ষে কোনো অবস্থাতেই কাম্য হতে পারে না৷
এ তো গেল বাইরের প্রতিকূলতার কথা৷ দলের ভিতরেও মমতাকে জেরবার করে ছাড়ছে লগ্নি-কেলেঙ্কারিতে সাংসদ-মন্ত্রীদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের অভিযোগ৷ মুখে হাজার প্রতিবাদ করলেও এই ইস্যুতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিষ্কার চিড় দেখতে পেয়েছে জনগণ৷ যা ভবিষ্যতে ফাটলের আকার ধারণ করতে পারে৷ লগ্নি কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্ত চেয়ে এতদিন কেবল কলকাতা হাইকোর্টে চারটি জনস্বার্থ মামলা ঝুলছিল৷
সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে প্রায় অনুরূপ আবেদন পেশ করিয়েছেন কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান, যা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন কংগ্রেস নেতারা৷ দু'বছরের তৃণমূল সরকার উন্নয়নের প্রশ্নেও যে ঢালাও কৃতিত্ব দাবি করছে তা পদে পদে খণ্ডন করছেন বিরোধীরা৷ এই অবস্থায় হাওড়ায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করে তৃণমূল নেত্রী লড়াইয়ের অভিমুখ ঘোরাতে চেয়েছেন৷ লগ্নি কেলেঙ্কারি নিয়ে অন্তত এই প্রাক্তন তারকা ফুটবলারকে সরাসরি প্রচারে বিঁধতে সমস্যা হবে বিরোধীদেরও৷ একটি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে হার বা জিত্ , এমনিতে রাজ্যের শাসক দলের বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে না৷ কিন্ত্ত সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ এমনিতেই ভোট দেরিতে হওয়ার আংশিক দায় শাসক দল ও সরকারকে কিছুটা হলেও বহন করতেই হবে৷ তার উপর আবার ত্রিমুখী লড়াই হওয়ায় ২০১১-র ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ভোটের ব্যবধান এমনিতেই ধরে রাখা সম্ভব নয়৷ তৃণমূল যদি এই ভোটে কোনো মতে জেতে সেক্ষেত্রেও তা শাসক দলের ক্ষয়িষ্ণু জনপ্রিয়তার প্রমাণ৷ এমনকী, বিরোধীরা তো বটেই ভোটারদের একাংশও বলতে শুরু করবে, মমতার জনপ্রিয়তা পড়তির দিকে৷ এতো কিছু মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী অন্তত হাওড়ায় হত্যে দিয়ে পড়ে থাকার কথা বিবেচনা করছেন৷
স্থানীয় নেতারা যখন জয়ের ব্যবধান নিয়ে হিসাবনিকাশ করছেন, তখন তৃণমূল ভবনের কোনো প্রথম সারির নেতা কিন্ত্ত আগাম সংখ্যা হেঁকে দেয়ার পথে হাঁটছেন না৷ কয়েকদিন আগে মুকুল-রায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হাওড়ায় তৃণমূলের যে মিছিল হয়েছিল তাতে হুগলি নদীর এপারের বহু তৃণমূলকর্মী ভিড় করেছিলেন৷ প্রচারে স্থানীয়দের বেশি করে রাস্তায় নামাতে বিভিন্ন ক্লাবের সাহায্যও নিচ্ছেন জেলা-নেতারা৷
দলীয় প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু প্রাক্তন তারকা ফুটবলার, তাই তিনি জিতলে এলাকার ক্লাবগুলোর বাড়তি প্রান্তিযোগ হতে পারে বলেও প্রচার করছেন তৃণমূলকর্মীরা৷
এ দিকে, তৃণমূল ভবনের নির্দেশে বালি বিধানসভায় এবার ভোট বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা৷ মাত্র ক'দিন আগে বালি পুরসভা সংলগ্ন রবীন্দ্রভবনে কংগ্রেস এবং সিপিএম থেকে একদল রাজনৈতিক কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন৷ বিধানসভা নির্বাচনে বালিতে ৬ হাজারের কিছু বেশি ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূলের সুলতান সিং৷ কিন্ত্ত পাঁচলা, সাঁকরাইলের গ্রামাঞ্চলে লগ্নি কেলেঙ্কারির প্রভাব যদি দলের ভোট কমায় সেক্ষেত্রে বালি থেকে তা পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টায় নেমেছেন তৃণমূলকর্মীরা৷ সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: ১৫ সম্পাদকের দেয়া বিবৃতির নিন্দা জানানোর কারণে তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, “ইনু সাহেব জীবনে প্রথম এমপি হয়েছেন। নিজের দলের টিকেটে নয়, কয়েকদিনের জন্য মন্ত্রীও হয়েছেন। হেফাজতের সমাবেশে মানুষ হত্যা হয়েছে, আপনি কিছু বলেননি। আপনি অন্ধ হয়ে গেছেন। আপনি মনে করছেন এদেশে একটি মাত্র সরকার ক্ষমতায় থাকবে। আপনি বেসামাল হয়ে গেছেন। অতীতেও প্রেস ক্লাব থেকে তথ্যমন্ত্রী বিতাড়িত হয়েছেন। আপনাকেও কেউ রক্ষা করতে পারবে না। আমরা আপনাকে এর জবাব দেব।”
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ান, যমুনা টিভি ও শীর্ষ নিউজ বন্ধের প্রতিবাদে ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
সভা-সমাবেশ বন্ধ করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে গাজী বলেন, “সংবিধানের কোন ধারা বলে আপনি এক মাসের জন্য দেশে সভা-সমাবেশ বন্ধ করেছেন। আপনি ’৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হয়ে গণহত্যা চালিয়েছেন। আপনি ’৭১-এ রাজাকার ছিলেন। এখন আবার গণহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। আপনাকে এ জাতি চেনে। আপনি বাঁচতে পারবেন না। বাংলার মুক্তিকামী মানুষ আপনাকে এর জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।”
পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে খেলতে আসবেন না। নিস্তার পাবেন না। অতীতে আমরা মার্শাল ল’, জরুরি অবস্থা ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছি। আমাদের আন্দোলন চলবেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত।”
সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিয়ে কথা বলবেন না। আপনারা এদেশের দুর্নীতি, গণতন্ত্র নস্যাৎকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলুন। গণতন্ত্র নস্যাৎকারীদের বিরুদ্ধে কথা বললে ধরে নেব আপনারা দেশের স্বার্থে কথা বলছেন। আর যদি না বলেন ধরে নেব আপনারা দলবাজি করছেন। আর দলবাজি করলে এদেশের সাংবাদিক সমাজ আপনাদের কথা শুনবে না।”
কোন আইনে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সরকারের কাছে জানতে চেয়ে বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, “গতকাল সরকার ঘোষণা দিয়েছে সারা দেশে এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। শেষ সময়ে এসে সরকার উন্মাদ হয় জানি। কিন্তু এমন উন্মাদ হতে অতীতে কোনো সরকারকে দেখা যায়নি।”
তিনি বলেন, “আমরা সরকারের গদি নিয়ে কাড়াকাড়ি করিনি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে নেমেছি। এ সরকার সাংবাদিকদের ওপর চরম অত্যাচারের যে নজির সৃষ্টি করেছে অতীতে এমন আর দেখা যায়নি। হেফাজতের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের সংবাদ প্রচার করায় সরকার দিগন্ত টিভি বন্ধ করেছে।”
মিডিয়া বন্ধের প্রতিবাদে ১৫ জন সম্পাদকের বিবৃতির নিন্দা জানিয়ে সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের পাল্টা বিবৃতিকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ধিক তাদের ধিক। স্বাধীনাতর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। কিন্তু তারা আজ কী করলেন। আমার ভাবতে লজ্জা লাগছে।”
তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংবিধানবিরোধী কাজে মেতে উঠেছেন বলে মন্তব্য করে ডিইউজের একাংশের সভাপতি আবদুস শহিদ বলেন, “আমরা সাংবাদিকরা রাস্তা থেকে উঠতে পারছিলাম না। আমরা সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নেমেছিলাম। আমাদের যখন আন্দোলন চলছে তখন সরকার একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ করে দিচ্ছে। সারা দেশে এখন মানবাধিকার হত্যা চলছে।”
ডিইউজের একাংশের সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন বলেন, “স্বাধীন একটি দেশে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপরাধে আমি তথ্যমন্ত্রীর নিন্দা জানাই। আমি সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের নিন্দা জানাই। ’৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করার জন্য যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন আজকে তারা কোন ক্ষমতাবলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন? আমি বিবেকের তাড়নায় হলেও তাদের মিডিয়ার পক্ষে অবস্থানের আহ্বান জানাচ্ছি।”
গণমাধ্যম বন্ধের মধ্য দিয়ে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে বলে মন্তব্য করে ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, “দেশে এখন দুঃসময়। সরকার এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এসব নিপীড়নের মধ্য দিয়ে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। কেউ এ সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না। এ নিপীড়নের মধ্যে সরকারের রাজাকার ও পাগল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।”
মিডিয়া বন্ধ করে অপকর্ম ঢাকা যায় না। তাই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়ে কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, “অনেক হয়েছে। এবার দয়া করে জাতির ঘাড় থেকে নামুন। দয়া করে জনগণকে মুক্তি দিন।”
ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ আকন্দ বলেন, “এ সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া সবগুলো মিডিয়া খুলে না দেয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
অবস্থান কর্মসূচিতে ডিইউজের সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, ডিইউজের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. খুরশিদ আলম, ডিইউজের কোষাধ্যক্ষ জহিরুল হক রানা, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আক্তার ইকবাল, নয়া দিগন্তের ইউনিট প্রধান হাসান শরিফ, সংগ্রাম ইউনিট চিফ শহিদুল ইসলাম, আমার দেশ পত্রিকার ইউনিট চিফ বাশির জামালসহ বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা এতে বক্তব্য রাখেন।
মুম্বাই: সেলুলয়েড পর্দায় টানা টানা অক্ষরে ফুটে উঠল নামটা৷ বাঁশিতে তখন মনকেমন করা একটা সুর৷ ১৯৫৫ সালের ২৬ আগস্ট থেকে শুরু করে যার মায়া আজও থেকে গিয়েছে দর্শকমনে৷
ভারতীয় সিনেমায় যুগান্তর এনেছিল সেই ছবি৷ নাম, পথের পাঁচালি৷ আর সুরস্রষ্টা? পণ্ডিত রবিশঙ্কর৷ ১৯৪৬ সালে 'ধরতি কে লাল' থেকে শুরু করে অপু ত্রয়ী, 'পরশ পাথর', 'অনুরাধা'র অবিস্মরণীয় সঙ্গীতে চলচ্চিত্র ইতিহাসে একের পর এক সুরেলা স্বাক্ষর৷
নয় নয় করে ১০০ বছর পার করে আজ আরও এক যুগসন্ধিতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় সিনেমা৷ চলচ্চিত্রের এমন বিপুল ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে তাই সেই কালজয়ী স্রষ্টার কাছেই ফিরে গেল চলচ্চিত্র দুনিয়ার সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি৷ ভারতীয় সিনেমার ১০০ বছর উদযাপন করতে রবি-কন্যা অনুষ্কা শঙ্করকে আমন্ত্রণ জানালেন কান চলচ্চিত্র উত্সব কর্তৃপক্ষ৷ ৪০০ জন বিশেষ অতিথির সামনে সদ্যপ্রয়াত বাবার সৃষ্টিসম্ভার থেকে বাছাই কিছু মণিমুক্তো পেশ করতে পেরে খুশি অনুষ্কাও, জানালেন তিন বার গ্র্যামিজয়ী এই সেতার শিল্পী৷ অনুষ্কার কথায়, 'এমন মনোজ্ঞ শ্রোতাদের সামনে সঙ্গীত পরিবেশন করতে পারাটা সবসময়েই আনন্দের৷'
এ দিন সন্ধ্যায় নিজের ও বাবার তৈরি কয়েকটি কম্পোজিশন বাজিয়েছেন অনুষ্কা৷ ছিল তার গত বছরের গ্র্যামিপ্রাপ্ত অ্যালবাম 'ট্র্যাভেলার'-এর কিছু সঙ্গীত৷ বহু দশক আগে রবিশঙ্করের সুরারোপিত সিনেমাগুলি থেকে কিছু বাছাই করা দুর্লভ ও অল্পশ্রীত সঙ্গীতসৃষ্টি দিয়ে এ দিনের পসরা সাজিয়েছিলেন অনুষ্কা৷
ভারতীয় সিনেমার সঙ্গে রবিশঙ্করের যোগাযোগটা তার সঙ্গীত জীবনের মোটামুটি প্রথম দিকেই৷ পরবর্তীকালে দুনিয়া জুড়ে আলো ছড়িয়েছে তার প্রতিভা৷ ধ্রুপদী আসরের বাইরে গিয়ে সুরারোপ করেছেন একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রযোজনায়৷ ভারতীয় সিনেমা আর সেভাবে পায়নি তাকে৷ কিন্ত্ত যেটুকু দিয়ে গিয়েছেন, তাই সৃষ্টি করেছে ইতিহাস৷ আর তাই যথার্থই শোনায় অনুষ্কার কথা৷ রবিশঙ্করকে ছাড়া যে অসম্পূর্ণই থেকে যেত এই যুগসন্ধির উদযাপন! সূত্র: ওয়েবসাইট।
ক্যালিফোর্নিয়া: সকালে মনে করে মোবাইল ফোনটা চার্জে বসিয়েছিলেন। অন্তত ঘণ্টাখানেক হবে। কিন্তু দিনের শেষে ফোনের ব্যাটারি যে কে সেই তলানিতে। হতচ্ছাড়া ফোনটাকে বাগে আনতে পারছেন না কিছুতেই। আপনার এই হতাশাকে বদলে দিতে পারে ছোট্ট একটা ‘সুপারক্যাপাসিটর’। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা নয়, সুপারক্যাপাসিটর থাকলে ফোন চার্জ দিতে সময় লাগবে মাত্র কুড়ি সেকেন্ড।
এমনই এই প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সানহোসের বাসিন্দা এষা খারে। এখনও হাইস্কুলের গন্ডি পেরোননি। বয়স মোটে আঠারো। তার সুপারক্যাপাসিটরের দৌলতে ‘ইন্টেল ইন্টারন্যাশানাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পুরস্কারও তার হাতে। এই সুপারক্যাপাসিটরের অসীম সম্ভবনার কথা মাথায় রেখে এষার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে গুগলও।
“আমার নিজের ফোনের ব্যাটারি তাড়াতাড়ি বিগড়ে যেত। তাই এমন একটা কিছু তৈরির কথা মাথায় আসে,” বলেন এষা। কিন্তু এই সুপারক্যাপাসিটর কী? এষার কথায়, যে সমস্ত ইলেকট্রনিক জিনিসের ব্যাটারি চার্জ দেয়া যায়, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তা হয়ে যাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। চার্জ বেশি ক্ষণ ধরেও রাখতে পারবে নয়া প্রযুক্তি। সাধারণ ব্যাটারিতে যত বার চার্জ দেয়া যায়, ছোট্ট সুপারক্যাপাসিটরে তার চেয়ে বেশি বার।
হাইস্কুলে তার স্পেশ্যালাইজেশন ন্যানোকেমিস্ট্রিতে। ছোট একটা চিপের মধ্যেই কী ভাবে অসাধ্য সাধন করা যায়, ন্যানোকেমিস্ট্রি পড়তে গিয়ে এই ইচ্ছেটা তৈরি হয়েছিল ওই অষ্টাদশীর।
এখনও শুধু এলইডিতেই সুপারক্যাপাসিটর ব্যবহার করেছেন এষা। শিগগিরই ফোন থেকে গাড়ি, সব কিছুতেই এই নায় প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে বলে আশা তার। এষার সাফল্যে সমান উৎসাহী একাধিক বহুজাতিক সংস্থা। তাদের ফোনের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে নিজের ফোনের চার্জ যাতে না কমে, তা নিয়েই ব্যস্ত ওই তরুণী। সূত্র: ওয়েবসাইট।
প্যারিস: ফরাসি বিজ্ঞানীরা তিন দশক আগে এই মারণব্যাধির ভাইরাস আবিষ্কার করেন৷ সে যাবত এইচআইভি ভাইরাস ও এইডসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চলেছে৷ বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এইডসের বিভিন্ন ওষুধ, এমনকি ‘নিরাময়’ সম্পর্কেও আশাবাদী৷
সোমবার প্যারিসে একটি তিনদিনব্যাপী সম্মেলন শুরু হয়েছে ‘ভবিষ্যতের কল্পনা’, এই শীর্ষক দিয়ে, কেননা ৩০ বছর আগে ঠিক ওই দিনেই লুক মঁতানিয়ের-এর নেতৃত্বে পাস্তুর ইনস্টিটিউটের একদল বিজ্ঞানী সেই ‘খুনি' ভাইরাস আবিষ্কার করেন, ইংরিজিতে যার নাম দেয়া হয় হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস বা এইচআইভি৷ পরে নোবেল পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয় সেই আবিষ্কারকে৷
১৯৮৩ সালে এইচআইভি আবিষ্কার ও পৃথক করা হয়৷ ১৯৮৪ সালে প্রমাণ হয় যে এই ভাইরাসই এইডস রোগের কারণ৷ তারপর থেকেই রক্তপরীক্ষা করে এইডস-এর সংক্রমণ যাচাই করা শুরু হয়, শুরু হয় অ্যান্টিরিট্রোভাইরাল ওষুধপত্রের বিকাশ৷ বহু বছর গবেষণার পর ১৯৯৬ সালে অ্যান্টিরিট্রোভাইরাল ড্রাগস চালু করা হয়, যা আজও মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে চলেছে৷
খড়েরগাদায়ছুঁচখোঁজা
এই ড্রাগগুলি রোগীর শরীরে ভাইরাসের মাত্রা কমিয়ে কোনো এইচআইভি আক্রান্ত মা যেন তার বাচ্চাকে সংক্রমিত না করতে পারেন, অথবা যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে যাতে ভাইরাসটি সংক্রমিত না হতে পারে, তার ব্যবস্থা করে৷ কিন্তু এইচআইভি-র টিকা আবিষ্কারে অনুরূপ সাফল্য পাওয়া যায়নি৷ ওই রহস্যজনক ভাইরাস, যা অনায়াসে মিউটেট করে বা নিজের রূপান্তর ঘটায়, তার অ্যান্টিবডি খুঁজে পাওয়া প্রায় খড়ের গাদায় ছুঁচ খোঁজার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে৷
‘নিরাময়ের' পথ?
কাজেই নিরুপায় হয়েই আবার দৃষ্টি পড়েছে ‘নিরাময়ের’ দিকে৷ এক্ষেত্রে রণকৌশলটি বাতলান ফ্রঁসোয়াজ বারে-সিনুসি, যিনি ২০০৮ সালে মঁতানিয়ের-এর সঙ্গে নোবেল প্রাইজ পান৷ বছর তিনেক আগে বারে-সিনুসি এইচআই ভাইরাসের ‘‘আধারটি'' আক্রমণ করার কথা বলেন৷ এটি কোষের মধ্যে একটি নিরাপদ স্থান, অ্যান্টিরিট্রোভাইরাল ওষুধের মুখোমুখি হয়ে ভাইরাসটা যেখানে আত্মগোপন করে৷ পরে ওষুধ বন্ধ করলেই ভাইরাস আবার তার নিরাপদ স্থান থেকে বেরিয়ে রক্তস্রোতে মিশে পড়ে এবং শরীরে ছড়িয়ে যায়৷
কাজেই বিজ্ঞানীরা চান বুঝতে, ভাইরাস ঠিক কোথায় আশ্রয় নেয়; তা এরকম কার্যকরিভাবে আত্মগোপন করে কিভাবে; তাদের গোপন আস্তানা থেকে বার করে আনার পন্থাটাই বা কি৷ ভাইরাসকে তার আস্তানা থেকে বার করে আনার প্রচেষ্টা চলেছে একটি অ্যান্টি-ক্যানসার ড্রাগের মাধ্যমে৷ বিশজন পেশেন্টের মধ্যে ১৮ জনের ক্ষেত্রে ক্যানসার ড্রাগটি ভাইরাসকে তার আস্তানা থেকে টেনে বার করতে পেরেছে৷
‘ফাংশনালকিউর'
অপর পন্থাটি হল যাকে বলা হচ্ছে ‘ফাংশনাল কিউর’৷ সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে অ্যান্টিরিট্রোভাইরাল দিলে এই ধরনের ‘নিরাময়ের’ আশা থাকে: যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি-তে একটি সদ্যোজাত শিশুকে তার জন্মের ৩০ ঘণ্টার মধ্যে আগ্রাসী অ্যান্টিরিট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্ট দিয়ে দৃশ্যত ভাইরাসমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে৷
ফ্রান্সে ১৪ জন এইচআইভি পেশেন্টকে সংক্রমণের দশ সপ্তাহের মধ্যে অ্যান্টিরিট্রোভাইরাল দিয়ে সুফল পাওয়া গিয়েছে৷ তিন বছর ধরে এদের এই ট্রিটমেন্ট চলে৷ সে যাবৎ তারা দৃশ্যত সুস্থই আছে৷
যে মারণব্যাধি সারা বিশ্বে তিন কোটি মানুষের প্রাণ নিয়েছে, যে রোগে আজও সারা বিশ্বে তিন কোটি চল্লিশ লাখ মানুষ আক্রান্ত, যে রোগে আজও বছরে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ প্রাণ হারায় – তার বিরুদ্ধে সংগ্রামে যেকোনো প্রগতি একটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করতে হবে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী৷ তাঁর ১৫০তম জন্মদিন ১২ মে ৷
বাংলা শিশুসাহিত্যে উপেন্দ্রকিশোরের অসামান্য অবদানের কথা সবার জানা থাকলেও, তাঁর ছবি আঁকা, ফোটোগ্রাফি চর্চা, বা প্রসেস শিল্পে হাফটোন ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে অসামান্য মৌলিক গবেষণার কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছে খুবই কম৷ এদেশে যখন ছবি ছাপার ক্ষেত্রে কাঠখোদাই ও ধাতুখোদাই-এর প্রযুক্তিই শেষ কথা, তখন উপেন্দ্রকিশোর একাই এই জগতে সূচনা করেছিলেন সম্পূর্ণ নতুন একটি যুগের৷
ইলাস্ট্রেশনের কাজে হাত দেওয়ার অনেক আগে থেকেই তেল ও জলরঙে ছবি আঁকতেন তিনি৷ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও শিলাইদহের কুঠিবাড়ির জন্য উপেন্দ্রকিশোরের আঁকা ছবি সংগ্রহ করেছিলেন৷ পুরোপুরি ইওরোপীয় টেকনিকেই ছবি আঁকতেন উপেন্দ্রকিশোর৷ সত্যজিতের ভাষায়, 'খাস বিলিতি কায়দায় তেল রং, জল রং, কালি কলমে ছবি এঁকেছেন৷' ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে পৌরাণিক ঘটনা ও প্রাচীন ইতিকথার চরিত্র, এই সব কিছুই ছিল তাঁর ছবির বিষয়৷ যদিও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথাগত ভাবে ছবি আঁকা শেখেননি তিনি, কিন্ত্ত আশ্চর্যের ব্যাপার তা বোঝার কোনওরকম উপায়ই নেই৷ নিজের চেষ্টায় এতটাই নিখুঁত ভাবে তিনি শিখে নিয়েছিলেন ড্রয়িং, অ্যানাটমি এবং ছবি আঁকার প্রকরণগত অন্যান্য ক্রিয়াকৌশল৷
উপেন্দ্রকিশোরের পেন্টিংগুলো কোথায় কী ভাবে আছে বা আদৌ আছে কি না সেটা বলা কঠিন, কিন্ত্ত তাঁর অমর শিশুসাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গে চিরদিনের জন্য থেকে গিয়েছে তাঁর অসামান্য কিছু ইলাস্ট্রেশন, যা গোটা বাঙালি জাতি কোনও দিনও ভুলতে পারবে না৷
গ্রন্থচিত্রণের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন নিজের লেখাকে কেন্দ্র করেই৷ তাঁর লেখা 'সেকালের কথা', 'ছেলেদের রামায়ণ', 'ছেলেদের মহাভারত', 'টুনটুনির বই', 'ছোট্ট রামায়ণ'-এর ছবি ছাড়াও এঁকেছেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'সচিত্র সন্তকাণ্ড রামায়ণ', সীতা দেবী ও শান্তা দেবীর 'হিন্দুস্তানী উপকথা', সীতা দেবীর 'নিরেট গুরুর কাহিনী' ও রবীন্দ্রনাথের 'নদী' কবিতার ছবি৷ এ ছাড়াও রয়েছে ১৯১৩-তে তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় ছোটদের বিখ্যাত মাসিকপত্র 'সন্দেশ'-এর জন্য আঁকা অজস্র ইলাস্ট্রেশন৷
এই 'সন্দেশ' পত্রিকাটি থেকেই খুঁজে পাওয়া যায় উপেন্দ্রকিশোরের প্রতিভার সম্পূর্ণ পরিচয়৷ সম্পাদনা করা ছাড়াও, প্রচ্ছদ ও অন্যান্য ছবি আঁকা থেকে শুরু করে কবিতা, গল্প, পুরাণের কথা, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, ধাঁধা ও হেঁয়ালি রচনা, ব্লক মেকিং ও প্রিন্টিং সবই হত তাঁর হাত দিয়ে৷ 'সন্দেশ'-এর আগে ছোটদের জন্য যে সব পত্রিকা বেরিয়েছে সেগুলোর ছবি অথবা ছাপা কোনওটাই ততটা চিত্তাকর্ষক ছিল না৷ এ দেশে 'সন্দেশ'-ই প্রথম ছোটদের কাগজ, যেখানে রঙিন ছবি ছাপা হয়৷
ইউরোপীয় কেতায় ছবি আঁকলেও উপেন্দ্রকিশোরের ইলাস্ট্রেশনে যে আশ্চর্য বাঙালিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায় তা তাঁর আগে অন্য কোনও গ্রন্থচিত্রীর কাজে দেখা যায়নি৷ এ ছাড়া তাঁর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অপূর্ব রসবোধ যে তাঁর কাজগুলোকে সময়ের থেকে আরও অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ এ প্রসঙ্গে সত্যজিৎ লিখেছেন, 'ইলাস্ট্রেটর হিসেবে উপেন্দ্রকিশোরের কাজে যে দক্ষতা ও রীতিবৈচিত্র্য দেখা যায় তার তুলনা ভারতবর্ষে নেই৷... পৌরাণিক গল্পের ছবিতে হাস্যরসের তেমন সুযোগ নেই৷ কিন্ত্ত সেখানেও --- হয়তো শিশুদের কথা চিন্তা করেই --- দৈত্য দানব রাক্ষস পিশাচের চেহারা আঁকতে উপেন্দ্রকিশোর ভয়ঙ্কর রসের সঙ্গে হাস্যরস মেশাতে দ্বিধা করেননি৷' তাঁর নিজের ও অন্যান্যদের বইয়ের সঙ্গে সব মিলিয়ে অন্তত শ'খানেকের মতো হাফটোন ছবি এঁকেছিলেন তিনি৷ যার মধ্যে বেশ কিছু রঙিন ছবিও ছিল৷ ইদানীং পুনর্মুদ্রণের সময় উপেন্দ্রকিশোরের লাইন ড্রয়িংগুলো ছাপা হলেও হাফটোন ছবিগুলোর অধিকাংশই আর ছাপা হয় না৷ এটা অত্যন্ত দুঃখের৷ উপেন্দ্রকিশোরের রচনার এতগুলো সংস্করণের মধ্যে অন্তত একটি মূলানুগত সংস্করণ অবশ্যই থাকা উচিত৷
১৮৯৫ সাল নাগাদ বিদেশ থেকে প্রসেস ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে হাতে কলমে কাজ শুরু করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ ফোটোগ্রাফি ও হাফটোন ছবি ছাপার করণকৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন তারও অন্তত দশ বছর আগে থেকে৷ হাফটোন নিয়ে উপেন্দ্রকিশোরের গবেষণা মূলত প্রসেস ক্যামেরাকে কেন্দ্র করেই৷ নেগেটিভের মানকে কী ভাবে আরও উন্নত করা যায় তা নিয়ে কত রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে করে গিয়েছেন তার কোনও শেষ নেই৷ এই নিরন্তর গবেষণার ফল হিসেবে দেখা যায় বিলেতের বিখ্যাত প্রিন্টিং-এর পত্রিকা 'পেনরোজ অ্যানুয়াল'-এ একটির পর একটি তাঁর লেখা প্রবন্ধ৷ মোট ন'খানা প্রবন্ধ লিখেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর পেনরোজ অ্যানুয়েলে, যেগুলো একে একে প্রকাশ হতে শুরু করা মাত্রই তখনকার বিলেতের ছাপাখানার জগতে হইচই পড়ে গিয়েছিল৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই মৌলিক গবেষণা ও আবিষ্কারকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছিলেন পেনরোজ কর্তৃপক্ষ৷ এমনকী তাঁর পদ্ধতি অবলম্বন করে লন্ডনে ছাপার কাজও শুরু হয়ে যায়, যা সুকুমার রায় বিলেতে গিয়ে নিজের চোখেই দেখে এসেছেন৷
ভাবতে অবাক লাগে অত বছর আগে একজন বত্রিশ বছর বয়সী বাঙালি যুবক ছোট একটা ভাড়া বাড়িতে বসে, সামান্য কিছু উপকরণ নিয়ে শুধু নিজের অসামান্য প্রতিভার জোরে কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন৷
নিজের লেখা বই বা অন্যান্য যাঁদের বইতে উপেন্দ্রকিশোর ছবি এঁকেছেন, সেগুলো ছাপা যেখানেই হোক না কেন, ছবিগুলোর ব্লক করেছেন তিনি নিজেই৷ একমাত্র যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সিটি বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত 'ছেলেদের রামায়ণ'-এর প্রথম সংস্করণটি ছাড়া৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই বইটিতে তাঁর নিজের আঁকা ছবির ব্লক খুবই খারাপ হয়েছিল৷ পরবর্তী সংস্করণে অবশ্য তিনি নিজে আবার নতুন ভাবে ব্লক করেন৷ প্রথম দিকে 'সখা ও সাথী', 'মুকুল', 'প্রদীপ'--- এই সব পত্রিকার জন্য বহু ছবির ব্লক তৈরি করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ এ ছাড়াও বিশেষ ভাবে এসে পড়ে প্রবাসী পত্রিকার কথা৷ এখানেই উপেন্দ্রকিশোর প্রথম ডুয়োটাইপ পদ্ধতিতে ছবি ছাপা শুরু করেন৷ এক রঙের হাফটোন ছবিকে দু'টো ব্লকের সাহায্যে এ ভাবে ছাপার পদ্ধতি এ দেশে প্রথম চালু করেন উপেন্দ্রকিশোরই৷
হাফটোন ব্লকের উৎকর্ষ যে কী পর্যায়ে যেতে পারে, তার একটি অসামান্য উদাহরণ রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি'-র প্রথম সংস্করণ৷ এই বইতে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা চব্বিশটি ছবির হাফটোন ব্লক তৈরি করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর৷ আজকের মুদ্রণ শিল্পের এই আকাশছোঁয়া উন্নতির যুগেও ওই মানের কাজ কল্পনা করা যায় না৷
১৯১০ -এ উপেন্দ্রকিশোর তাঁর প্রতিষ্ঠান U Ray Artist-এর নাম বদলিয়ে রাখলেন U Ray & Sons৷ যা আজ বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার গৌরবময় ইতিহাসেরই অন্য আর একটি নাম৷ এর পর মাত্র পাঁচ বছর বেঁচেছিলেন তিনি৷ মাত্র বাহান্ন বছরের একটি জীবনে সৃজনশীলতার এই বহুমুখী প্রকাশের কথা ভাবলে আজও আমাদের বিস্মিত হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না৷