ঢাকা: চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে দুই দলের মধ্যে সংলাপে জাতিসংঘ বা অন্য কোনো দেশের সহযোগিতার দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মোজেনা।
বুধবার বেলা ১১টায় আমেরিকান ...
ঢাকা: দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, প্রকাশক জাকারিয়া চৌধুরী এবং অনলাইন পত্রিকা ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। মামলাটি ...
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, “সবক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে সরকার এখন ‘ইনটেনসিভ কেয়ারে’ আছে। সে কারণেই তারা একমাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে।কিন্তু এতে কাজ হবে না।”
বুধবার দুপুরে জাতীয় ...
ঢাকা: নাগরিক সেবা বাড়ানোর কথা বলে ঢাকা সিটি করপোরেশন ভাগ করা হলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সেবা পেতে বিড়ম্বনা বেড়ে গেছে নগরবাসীর। ঢাকাকে দুই ভাগ করে সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া ...
ঢাকা: ‘কি কেন? মাইরের ওপর কোনো ওষুধ নাই। পড়া শিখবো না মানে, মাইরের চোটে বাপ, বাপ কইরা শিখবো।’ রাজধানীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের ভাষ্য এটি। আপত্তি থাকায় তার ...
ঢাকা: রাজধানীর উত্তরা-১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ মোড়ে র্যাব-১ এর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ক্রেডিট কার্ড জালিয়াত চক্রের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় দুজনকে আটক করে র্যাব। বুধবার ভোর রাত ...
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মণ্ডুমালা সীঁমান্তে আব্দুল মানিক (২৫) নামে এক বাংলাদেশী ইটভাটার শ্রমিককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)।
মঙ্গলবার রাত পৌনে নয়টার দিকে তাকে সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে ...
ঢাকা: জামিনের পর জেলগেট থেকে আবারো বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে বুধবার ঢাকা জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে বিএনপি। তবে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা হরতালের আওতামুক্ত রয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ...
ঢাকা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে উপকূলীয় এলাকাসহ সারাদেশে আরো দুই দিন বৃষ্টিপাত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত ...
সাভার: শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বুধবার আশুলিয়ার নরসিংহপুরের পাঁচটি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে শারমিন গ্রুপের তিনটি এবং ডেকো ও সিনসিন গ্রুপের কারখানা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্র ...
লাহোর: পাকিস্তান ক্রিকেট দলের স্পিনার সাইদ আজমল বলেছেন, “আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারানোর ক্ষমতা তার দলের রয়েছে।”
একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে আজমল বলেন, “যদিও উভয় দলই অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে পাকিস্তান দল ভালোভাবে চাপ সামাল দিতে পারবে।’
আজমল বলেন, “ভারতকে নিজ মাঠে ওয়ানডে সিরিজে পরাজিত করায় মানসিকভাবে পাকিস্তান এগিয়ে থাকবে এবং বার্মিংহামের ম্যাচে ভারতকে হারানোর বিষয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী তিনি।”
আজমলের দৃষ্টিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য পাকিস্তান দলের প্রস্তুতি বেশ ভালো গতিতে এগিয়ে চলছে এবং নিশ্চিত যে, দল কঠিন লড়াই করবে।
অ্যাবোটাবাদে অনুশীলন ক্যাম্প করার বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে আজমল বলেন, “এখানকার ক্যাম্প ছিল বেশ উপভোগ্য এবং সুসংগঠিত।”
তিনি বলেন, “অ্যাবোটাবাদের উইকেট সিম বোলিংয়ের জন্য খুবই সহায়ক ছিল এবং ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ব্যাটসম্যানরা যে কন্ডিশন পাবেন তেমনই ছিল এখানকার কন্ডিশন।”
তিনি আরো বলেন, “ইংলিশ কন্ডিশনের মতো একই ধরনের উইকেট তৈরি করায় নিঃসন্দেহে আমাদের ব্যাটসম্যানরা লাভবান হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে আজমল বলেন, “ওয়ানডে ক্রিকেটে আইসিসি’র নতুন নিয়ম বোলারদের এমনকি স্পিন বোলারদের জীবন কঠিন করে দিয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ফাস্ট বোলাররা এক ওভারে দু’টি বাউন্সার দিতে পারে।কিন্তু নতুন নিয়ম অবশ্যই স্পিনারদের জন্য কঠিন হয়ে গেছে।”
মিসবাহর অধিনায়কত্ব সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আজমল বলেন, “মিসবাহ একজন অসাধারণ অধিনায়ক এবং তিনি রক্ষণাত্মক নন। দলের তরুণ ও মেধাবী খেলোয়াড়দের কিভাবে পরিচালনা করতে হয় এবং তাদের কাছ থেকে ভালো পারফরমেন্স কিভাবে বের করে নিতে হয় সেটা তিনি খুব ভালো করেই জানেন।”
এক প্রশ্নের জবাবে জাদুকরী এ স্পিনার বলেন, “ভবিষ্যতে অফ ব্রেক বোলাররা বোলিংয়ে নতুন কোনো মাত্রা আনতে পারবে বলে তিনি মনে করছেন না।”
বিশ্বের সেরা আটটি দল এ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে এবং কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মন্তব্য করেন আজমল।
আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তান দলের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী আজমল বলেন, “টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে পাকিস্তান ছয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে। সুতরাং এখান থেকে দলে ভারসাম্য আনতে এবং সেরা একাদশ ঠিক করতে আমরা যথেষ্ট সময় পাচ্ছি।
ঢা্কা: গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও কিশোরগঞ্জ-৪ উপ নির্বাচনের সময়সূচি বুধবার ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার কমিশনের অনানুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, রোজার আগেই নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের উপ নির্বাচন হবে। সে অনুযায়ীই সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আব্দুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেয়ায় ওই আসনটি শূন্য হয়।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোজাম্মেল হক এ দুটি মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠনের শুনানির দিন পিছিয়ে ১৬ জুন পুনর্নির্ধারণ করেছেন।
বুধবার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আদালতে যাননি খালেদা জিয়া। তার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতকে জানান, সামনে সংসদ অধিবেশন থাকায় তিনি (খালেদা জিয়া) আদালতে হাজির হতে পারেননি।
আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ-৩ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোজাম্মেল হক শুনানি পিছিয়ে ১৬ জুন পুনর্নির্ধারণ করেন।
ঢাকা: সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে।
আজ লেনদেন শুরুর প্রথম ৩০ মিনিট পর অর্থ্যাৎ বেলা ১১ টায় ডিএসই’র সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৮ পয়েন্ট কমে চার হাজার ১৮ পয়েন্টে অবস্থান করে এবং এ সময়ের মধ্যে লেনদেন হয় ৫৫ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
বুধবার এ সময়ের মধ্যে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ১৪০টির এবং অপরির্বতিত রয়েছে ১৭টি কোম্পানির শেয়ার।
ডিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
অপরদিকে বুধবার লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো-পূবালী ব্যাংক, গোল্ডেন হারভেস্ট, অরিয়ন ফার্মা, বিএসসিসিএল, সামিট পূর্বাঞ্চল, আমরা টেকনোলজি, ইউনাইটেড এয়ার, গ্রামীণ মি.ফান্ড ২, গ্রামীণ মি.ফান্ড ১ ও ইউনিক হোটেল।
অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার ডিএসইতে সূচক ও লেনদেন কমেছে। এদিন ডিএসই’র সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৯ পয়েন্ট কমে চার হাজার ৪৭ পয়েন্টে অবস্থান করে এবং লেনদেন হয় ৪১৭ কোটি ৯৮ লাখ ১৪ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। যা আগের দিনের চেয়ে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৫৩ কোটি টাকা।
ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা।ছবি: নতুন বার্তা, ২২ মে ২০১৩
ঢাকা: বুধবার আমেরিকান সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মোজেনা বক্তব্য রাখছেন। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২২ মে ২০১৩।
ঢাকা: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে।ছবি: নতুন বার্তা, ২২ মে ২১০৩
ব্যাংকক: রোববার সকালে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ের আন্তর্জাতিক কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে দ্বিতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অতিথিরা। ছবি: বাসস/২০ মে ২০১৩।
চবি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আবাসিক হলের দোতলা থেকে পড়ে মো. আরিফুল ইসলাম (২০) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শাহ আমানত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সদরে।
জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোবাইলে কথা বলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের দ্বিতীয় তলার ছাদ থেকে পা পিছলে পড়ে আরিফুল মাথায় ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর পাঁচটার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঠাকুরগাঁও: জেলায় আবাদি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের কুফল ভোগ করতে শুরু করেছে কৃষকেরা। ইটভাটার গরম বাতাসে ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে কয়েকশ’ হেক্টর জমির ধান।
মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে দেবীপুর ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের শতাধিক কৃষক কিষানী শহরে এসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তারা নষ্ট ধানের শীষ নিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করে ও কৃষি জমির ওপর স্থাপিত ইটভাটা বন্ধের দাবি জানিয়ে শ্লোগান দেয়। পরে মিছিলকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন কৃষক দবিরুল, কবীর ও কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সরকার আলাউদ্দিন। বক্তব্যে তারা বলেন, বটতলা গ্রামে কৃষি জমিতে স্থাপিত ইটভাটার গরম বাতাসে তাদের শতাধিক একর জমির ধান জ্বলে গেছে। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্বারকলিপি দেন।
এদিকে গত সপ্তাহে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজিপাড়া গ্রামে ইটভাটার আগুনের তাপে ৫০ একর জমির ধান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বেলায়েত হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ঠাকুরগাঁও পৌর মেয়রের একটি ইটভাটার গরম বাতাসে তাদের বোরো ধান পুড়ে গেছে। কৃষি জমির উপর আশেপাশে আরো চারটি এরকম ইটভাটা রয়েছে।
সদর ইউএনও আবু সালেহ মো. ওবায়দুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এব্যাপারে পৌর মেয়র এসএমএ মঈন জানান, তার ইটভাটা সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব। তবে তদন্তে ঘটনার জন্য তার ইটভাটা দায়ী হলে অবশ্যই তিনি কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেবেন। সূত্র: বাসস
প্যারিস: বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশর রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম মতবিনিময় করেছেন।
২০ মে দূতাবাসের হলরুমে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার শুরুতে রাষ্ট্রদূত তার স্বাগত বক্তব্যে সাংবাদিকদের কর্মতৎপরতার প্রশংসা করে বলেন, “ফ্রান্সের সাংবাদিকরা যেভাবে ইতিবাচকভাবে প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভূমিকা রাখছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।কমিউনিটি গঠনে সাংবাদিকদের এ অবদান ফ্রান্সের বাংলাদেশীরা সারা জীবন মনে রাখবে।”
তিনি দূতাবাসের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশেষ করে ফ্রান্সব্যাপী বাংলাদেশকে পরিচিত করা, বাংলাদেশের পোশাক খাতের রফতানি বাড়ানো, দূতাবাসের সেবার মান, নতুন ওয়েবসাইটসহ আগামী দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।সাংবাদিকদের বিভিন্ন অভিযোগ যেমন পাসপোর্ট রিনিউএর মেয়াদকাল ছয় মাস, বাংলাদেশ প্রমোটিং সিস্টেম, পোশাক প্রমোটিং সিস্টেম, দূতাবাসের বিভিন্ন সেবাদানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ নোট করে আবিলম্বে তা সমাধানের আশ্বাস দেন।
সভায় সাংবাদিকদের পক্ষ্য থেকে রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাস কর্মকর্তাবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
দূতাবাসের কর্মাশিয়াল কাউন্সিলর ফিরোজ রশীদ ও প্রথম সেক্রেটারি ওয়ালিউর রহমান এ সময় উপস্তিত ছিলেন। সাংবাদিকদের মধ্যে প্যারিসের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে একাত্তর টিভি ও চ্যানেল এস’র ইউরোপ প্রতিনিধি নুরুল ওয়াহিদ, এটিএন বাংলার ফ্রান্স প্রতিনিধি দেবেশ বড়ুয়া, চ্যানেল নাইন ইউকের ফ্রান্স প্রতিনিধি খান বাবু রুমেল, এনটিভি ইউকের ফ্রান্স প্রিতিনিধি শাহীন আহমদ, বাংলা ভিশনের প্রতিনিধি ফয়সাল আহাম্মেদ দ্বীপ, মাসিক নবকন্ঠের সম্পাদক আবু তাহির, মাসিক প্রবাস বাংলা সম্পাদক অধ্যাপক আলম অপু, ইকবাল হোসেইন, খালেদ রহমান বাপ্পি, বদরুল হাসান, ওলিউর রহমান, সেলিম চৌধুরী ও সাখাওয়াত হোসেইন।
ইসলামাবাদ: সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেন পিটিআই প্রধান ইমরান খান। এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে মঞ্চে ওঠার সময় লিফট থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। হাসপাতালে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসা গ্রহণের পর বাড়ি ফিরলেন তিনি।
চিকিৎসকরা জানান, তার মেরুদণ্ডের সঙ্গে বিশেষ ধরনের বর্ম পরিয়ে দেয়া হয়েছে।
পিটিআই মুখপাত্র ডা. শিরিন মাজারি জানিয়েছেন, কারো সাহায্য ছাড়াই তিনশ মিটারের মতো হেঁটেছেন তিনি।
তিনি বলেন, “চিকিৎসকদের একটি দল ইমরানের এক্স-রে রিপোর্ট পরীক্ষা করে দেখেছেন। তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।”
ইমরানের মেরুদণ্ডের অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে চিকিৎসকরা জানান, তার মেরুদণ্ড আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে এবং ক্ষত শুকিয়ে আসছে বলে। তার মেরুদণ্ড এবং অন্যান্য হাড়ের অবস্থাও ভালো আছে।
বিগত ১১ মে নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের রাজনীতিতে তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় ইমরানের দল পিটিআই। সূত্র: ডন, রয়টার্স।
কলকাতা: ফের অসুস্থ দেবযানী মুখোপাধ্যায়। তবে চাপে পড়ে এবার আর বেসরকারি হাসপাতালে নয়, ভর্তি করা হয়েছে সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএমে। যদিও আদালতের নির্দেশের পর এদিন দেবযানীকে কোথায় রাখা হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল রহস্য। বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতেই কী শেষ পর্যন্ত দেবযানীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলো পুলিশকে। এমন প্রশ্ন উঠছে।
মঙ্গলবার সকালেই বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয় সারদাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে। তার আট দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। এরপরেই দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে নিউ টাউন থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পুলিশ। নিউ টাউন থানার লক আপে দুজনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে রাখা হয়েছে সুদীপ্ত সেন এবং অরবিন্দ সিং চৌহানকে। প্রশ্ন উঠছে কেন তারপরেও নিউ টাউন থানায় নিয়ে আসা হল দেবযানীকে।
নিউ টাউনে আনার পরই বা পুলিশ কেন দেবযানীকে সোনারপুর থানায় নিয়ে যাওযার কথা জানায় তাও স্পষ্ট নয়। তারপরেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় থানার অনতিদূরে জিরলগাছা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এরপর দেবযানীকে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএমে। সেখানে তাকে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।
যদিও চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত এবার আর বেসরকারি নার্সিংহোমে নয়, ভর্তি করা হলো সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু এই ঘটনাতেও বেশকিছু রহস্য তৈরি হয়েছে। আর যে রহস্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েই। কেন আদালত থেকে দেবযানীকে নিউটাউন থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কেন তাকে ফের সোনারপুর থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন পুলিশকর্তারা। কেনই বা তাকে হঠাৎ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো এবং শেষ পর্যন্ত ভর্তি করা হলো এসএসকেএম হাসপাতালে। সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষিত দিগন্ত এবং ইসলামিক টেলিভিশন দ্রুত সম্প্রচারের অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্স অ্যাটকো’।
মঙ্গলবার রাতে পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এ আহ্বান জানান সংগঠনের সভাপতি মোসাদ্দেক আলী। বন্ধু দুটি চ্যানেলের সম্প্রচারের বিষয়ে শিগগিরই সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এই সভায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বিষয়ে খসড়া নীতিমালায় সম্প্রচার বন্ধ করার ধারাটি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাইখ সিরাজ জানিয়েছেন, নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। চ্যানেল দুটির আবার সম্প্রচারে আনার সঙ্গে এই নীতিমালা সাংঘর্ষিক নয়। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সরকারের সম্প্রচার নীতিমালা মেনে চলতে চায়। এক্ষেত্রে চ্যানেলগুলোর যেমন দায় রয়েছে তেমনি সরকারের উচিত এই খাতের কথা বিবেচনায় রেখে খসড়া নীতিমালায় এটকোর প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নেয়া।
মুম্বাই: খোলা গলায় ছেলের প্রশংসা করলেন ঋষি কাপুর। ২০০৭ সালে সঞ্জয় লীলা বনশালির সাঁওরিয়া ছবি দিয়ে বলিউডে পা রেখেছেন রনবীর। মাত্র সাত বছরেই তার উত্থানে স্বাভাবিক ভাবেই অভিভূত ঋষি। গর্বিত বাবা জানালেন, ইন্ডাস্ট্রিতে কাপুর পরিবারের যথেষ্ট প্রতিপত্তি থাকা সত্ত্বেও রনবীর যেভাবে কেরিয়ারের শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে সাহস দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। রনবীর যেভাবে কাপূর পরিবারের ঐতিহ্য বয়ে নিয়ে চলেছে তাতে আমি গর্বিত। আমি সবসময় ওকে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করি।
সাঁওরিয়া দিয়ে কেরিয়ার শুরু করে ওয়েক আপ সিড, রাজনীতি, রকস্টার, বরফির মতো ছবিতে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রনবীর। ঋষি বললেন, রনবীর কেরিয়ারের শুরু থেকেই ভিন্ন পথে হেঁটেছে। শুরু থেকেই অন্য ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের দিকে ঝুঁকেছে রণবীর। এবং প্রতিটা চরিত্রের সিদ্ধান্তই ও নিজে নিয়েছে। আমি ওর বয়সে এত ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাইনি। সূত্র: ওয়েবসাইট।
ক্যালিফোর্নিয়া: ২০১১ সালের এপ্রিলে বিস্ময়কর একটি চশমার ধারণা দিয়ে বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল গুগল৷ এখন পর্যন্ত ‘গুগল গ্লাস’ নামে পরিচিত এই বস্তুটি আসলে মোবাইল কম্পিউটার আর চশমার মিলিত এক রূপ৷
এই চশমাটি দিয়ে ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, ভিডিও রেকর্ড করা, এসএমএস পাঠানো, এমন সব কাজ করা যায়৷ অর্থাৎ হালের স্মার্টফোন দিয়ে যা করা সম্ভব তা-ই করা যায় চোখে পরা এই চশমাটি দিয়ে৷
গুগলের এই চশমাটি এখন ব্যবহার করছেন নির্বাচিত কিছু ব্যক্তি, যার মধ্যে রয়েছেন সফটওয়্যার ডেভেলপার, প্রোগ্রামার ইত্যাদি৷ তাদের দেয়া বিভিন্ন পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি হবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চশমা৷ নির্বাচিত এই ব্যক্তিরা দেড় হাজার ডলার দিয়ে চশমাটি কিনেছেন৷
গুগলের নির্বাহী চেয়ারম্যান এরিক স্মিডট বলেছেন, ‘কিছুদিন' এর মধ্যেই চশমাটি বাজারে আসতে পারে৷ আর দামটা স্মার্টফোনের চেয়ে বেশিই হবে বলে আগেই জানিয়েছিল গুগল৷
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের একটি সম্মেলনে এই বিস্ময় চশমা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে৷ প্রোগ্রামারদের এই সম্মেলনে অনেকেই চশমা পরে উপস্থিত হয়েছিলেন৷ সেখানেই ফেসবুক আর টুইটার গুগল গ্লাসের জন্য তৈরি অ্যাপ এর উদ্বোধনী ঘোষণা দেয়৷ এর ফলে ব্যবহারকারীরা চশমা দিয়ে ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা ফেসুবকে দিয়ে দিতে পারবেন৷ তেমনি সেটা পোস্ট করা যাবে টুইটারেও৷
কিছুবিষয়েআপত্তি
গুগল গ্লাস এখনো সাধারণের কাছে না এলেও আইন প্রণেতা থেকে শুরু করে অনেকেই এর কিছু বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলেছেন৷ যেমন ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা থাকার কারণে যত্রতত্র এর ব্যবহার ঠিক হবে কিনা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ যেমন গুগলের সম্মেলনেই অনেককে এই চশমা পরে টয়লেটে যেতে দেখা গেছে৷ যদিও তারা বলছেন ভুল করেই তারা ভিডিও ক্ষমতা সম্পন্ন এই চশমা পরে টয়লেটে চলে গিয়েছিলেন, তবুও সেটা ঠিক হয়নি বলেই মনে করছেন অনেকে৷
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ক্যাসিনো ও বার এ গুগল গ্লাস নিয়ে ঢোকাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷
গুগলেরবক্তব্য
গুগল কর্তৃপক্ষের দাবি, যেহেতু কম্পিউটারের ক্ষমতাসম্পন্ন চশমার ব্যবহার এখনো নতুন পর্যায়ে রয়েছে তাই টুকটাক ভুল হতে পারে৷ যেমনটা হয়েছিল মোবাইল ফোন আসার সময়৷ কিন্তু যখন মোবাইলের ব্যবহার বেড়ে গেল তখন ব্যবহারকারীরা নিজে থেকেই কিছু নিয়ম মেনে চলা শুরু করে৷ যেমন বাসে থাকার সময় মোবাইলে জোরে কথা না বলা, বৈঠকে থাকার সময় রিংটোন বন্ধ করে রাখা ইত্যাদি৷ গুগল গ্লাসের ব্যবহারও যখন বাড়বে তখনো মানুষ নিজের মতো করে নিয়ম বানিয়ে নেবে বলেই মনে করছে গুগল কর্তৃপক্ষ৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
কলম্বিয়া: হাঁপানির উপসর্গ রোধে আদা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। আদার মধ্যে যে প্রাকৃতিক উপাদান ব্রনকাডিয়েটিং রয়েছে হাঁপানি রোগীদের স্বাভাবিক শ্বাস নিতে তা সাহায্য করে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক সমীক্ষায় এমনটাই প্রকাশ করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, ব্রনকাডিয়েটিং মেডিটেশনের বিটা অ্যাগোনিস্ট একটি সাধারণ হাঁপানির ওষুধ, যা ধীরে ধীরে শরীরে কাজ করে এয়ারওয়ে স্মুথ মাসল (এএসএম) টিস্যুকে স্বাভাবিক রেখে শ্বাস নিতে দেহকে সাহায্য করে। শ্বাসনালীর মাধ্যমে ফুসফুসের ভেতর বাতাস প্রবাহিত হয়। আর শ্বাসনালীতে বাতাস প্রবাহে বাধা পেলে হাঁপানি রোগের সৃষ্টি হয়। আদার মধ্যে যে প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে তা হাঁপানি রোগীদের ওষুধ হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একজন শ্বাসকষ্টের রোগী আদা খেয়ে কীভাবে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে এই গবেষণায় সেটাই দেখা হয়েছে।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের পরিচালক ও প্রধান গবেষক এলিজাভেদ টাউনসেন্ড বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাঁপানি রোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু হাঁপানির কারণ উদ্ভাবন সত্ত্বেও কেন এ রোগের ব্যাপক বিকাশ ঘটছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই ৪০ বছর ধরে হাঁপানি রোগ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে এবং হাঁপানির উপসর্গ লক্ষ করে নতুন নতুন চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে এতে আক্রান্তদের। এ সময় দেখা যায়, আদা বা আদা দিয়ে তৈরি ওষুধ হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। সূত্র: জিনিউজ।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী৷ তাঁর ১৫০তম জন্মদিন ১২ মে ৷
বাংলা শিশুসাহিত্যে উপেন্দ্রকিশোরের অসামান্য অবদানের কথা সবার জানা থাকলেও, তাঁর ছবি আঁকা, ফোটোগ্রাফি চর্চা, বা প্রসেস শিল্পে হাফটোন ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে অসামান্য মৌলিক গবেষণার কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছে খুবই কম৷ এদেশে যখন ছবি ছাপার ক্ষেত্রে কাঠখোদাই ও ধাতুখোদাই-এর প্রযুক্তিই শেষ কথা, তখন উপেন্দ্রকিশোর একাই এই জগতে সূচনা করেছিলেন সম্পূর্ণ নতুন একটি যুগের৷
ইলাস্ট্রেশনের কাজে হাত দেওয়ার অনেক আগে থেকেই তেল ও জলরঙে ছবি আঁকতেন তিনি৷ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও শিলাইদহের কুঠিবাড়ির জন্য উপেন্দ্রকিশোরের আঁকা ছবি সংগ্রহ করেছিলেন৷ পুরোপুরি ইওরোপীয় টেকনিকেই ছবি আঁকতেন উপেন্দ্রকিশোর৷ সত্যজিতের ভাষায়, 'খাস বিলিতি কায়দায় তেল রং, জল রং, কালি কলমে ছবি এঁকেছেন৷' ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে পৌরাণিক ঘটনা ও প্রাচীন ইতিকথার চরিত্র, এই সব কিছুই ছিল তাঁর ছবির বিষয়৷ যদিও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথাগত ভাবে ছবি আঁকা শেখেননি তিনি, কিন্ত্ত আশ্চর্যের ব্যাপার তা বোঝার কোনওরকম উপায়ই নেই৷ নিজের চেষ্টায় এতটাই নিখুঁত ভাবে তিনি শিখে নিয়েছিলেন ড্রয়িং, অ্যানাটমি এবং ছবি আঁকার প্রকরণগত অন্যান্য ক্রিয়াকৌশল৷
উপেন্দ্রকিশোরের পেন্টিংগুলো কোথায় কী ভাবে আছে বা আদৌ আছে কি না সেটা বলা কঠিন, কিন্ত্ত তাঁর অমর শিশুসাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গে চিরদিনের জন্য থেকে গিয়েছে তাঁর অসামান্য কিছু ইলাস্ট্রেশন, যা গোটা বাঙালি জাতি কোনও দিনও ভুলতে পারবে না৷
গ্রন্থচিত্রণের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন নিজের লেখাকে কেন্দ্র করেই৷ তাঁর লেখা 'সেকালের কথা', 'ছেলেদের রামায়ণ', 'ছেলেদের মহাভারত', 'টুনটুনির বই', 'ছোট্ট রামায়ণ'-এর ছবি ছাড়াও এঁকেছেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'সচিত্র সন্তকাণ্ড রামায়ণ', সীতা দেবী ও শান্তা দেবীর 'হিন্দুস্তানী উপকথা', সীতা দেবীর 'নিরেট গুরুর কাহিনী' ও রবীন্দ্রনাথের 'নদী' কবিতার ছবি৷ এ ছাড়াও রয়েছে ১৯১৩-তে তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় ছোটদের বিখ্যাত মাসিকপত্র 'সন্দেশ'-এর জন্য আঁকা অজস্র ইলাস্ট্রেশন৷
এই 'সন্দেশ' পত্রিকাটি থেকেই খুঁজে পাওয়া যায় উপেন্দ্রকিশোরের প্রতিভার সম্পূর্ণ পরিচয়৷ সম্পাদনা করা ছাড়াও, প্রচ্ছদ ও অন্যান্য ছবি আঁকা থেকে শুরু করে কবিতা, গল্প, পুরাণের কথা, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, ধাঁধা ও হেঁয়ালি রচনা, ব্লক মেকিং ও প্রিন্টিং সবই হত তাঁর হাত দিয়ে৷ 'সন্দেশ'-এর আগে ছোটদের জন্য যে সব পত্রিকা বেরিয়েছে সেগুলোর ছবি অথবা ছাপা কোনওটাই ততটা চিত্তাকর্ষক ছিল না৷ এ দেশে 'সন্দেশ'-ই প্রথম ছোটদের কাগজ, যেখানে রঙিন ছবি ছাপা হয়৷
ইউরোপীয় কেতায় ছবি আঁকলেও উপেন্দ্রকিশোরের ইলাস্ট্রেশনে যে আশ্চর্য বাঙালিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায় তা তাঁর আগে অন্য কোনও গ্রন্থচিত্রীর কাজে দেখা যায়নি৷ এ ছাড়া তাঁর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অপূর্ব রসবোধ যে তাঁর কাজগুলোকে সময়ের থেকে আরও অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ এ প্রসঙ্গে সত্যজিৎ লিখেছেন, 'ইলাস্ট্রেটর হিসেবে উপেন্দ্রকিশোরের কাজে যে দক্ষতা ও রীতিবৈচিত্র্য দেখা যায় তার তুলনা ভারতবর্ষে নেই৷... পৌরাণিক গল্পের ছবিতে হাস্যরসের তেমন সুযোগ নেই৷ কিন্ত্ত সেখানেও --- হয়তো শিশুদের কথা চিন্তা করেই --- দৈত্য দানব রাক্ষস পিশাচের চেহারা আঁকতে উপেন্দ্রকিশোর ভয়ঙ্কর রসের সঙ্গে হাস্যরস মেশাতে দ্বিধা করেননি৷' তাঁর নিজের ও অন্যান্যদের বইয়ের সঙ্গে সব মিলিয়ে অন্তত শ'খানেকের মতো হাফটোন ছবি এঁকেছিলেন তিনি৷ যার মধ্যে বেশ কিছু রঙিন ছবিও ছিল৷ ইদানীং পুনর্মুদ্রণের সময় উপেন্দ্রকিশোরের লাইন ড্রয়িংগুলো ছাপা হলেও হাফটোন ছবিগুলোর অধিকাংশই আর ছাপা হয় না৷ এটা অত্যন্ত দুঃখের৷ উপেন্দ্রকিশোরের রচনার এতগুলো সংস্করণের মধ্যে অন্তত একটি মূলানুগত সংস্করণ অবশ্যই থাকা উচিত৷
১৮৯৫ সাল নাগাদ বিদেশ থেকে প্রসেস ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে হাতে কলমে কাজ শুরু করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ ফোটোগ্রাফি ও হাফটোন ছবি ছাপার করণকৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন তারও অন্তত দশ বছর আগে থেকে৷ হাফটোন নিয়ে উপেন্দ্রকিশোরের গবেষণা মূলত প্রসেস ক্যামেরাকে কেন্দ্র করেই৷ নেগেটিভের মানকে কী ভাবে আরও উন্নত করা যায় তা নিয়ে কত রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে করে গিয়েছেন তার কোনও শেষ নেই৷ এই নিরন্তর গবেষণার ফল হিসেবে দেখা যায় বিলেতের বিখ্যাত প্রিন্টিং-এর পত্রিকা 'পেনরোজ অ্যানুয়াল'-এ একটির পর একটি তাঁর লেখা প্রবন্ধ৷ মোট ন'খানা প্রবন্ধ লিখেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর পেনরোজ অ্যানুয়েলে, যেগুলো একে একে প্রকাশ হতে শুরু করা মাত্রই তখনকার বিলেতের ছাপাখানার জগতে হইচই পড়ে গিয়েছিল৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই মৌলিক গবেষণা ও আবিষ্কারকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছিলেন পেনরোজ কর্তৃপক্ষ৷ এমনকী তাঁর পদ্ধতি অবলম্বন করে লন্ডনে ছাপার কাজও শুরু হয়ে যায়, যা সুকুমার রায় বিলেতে গিয়ে নিজের চোখেই দেখে এসেছেন৷
ভাবতে অবাক লাগে অত বছর আগে একজন বত্রিশ বছর বয়সী বাঙালি যুবক ছোট একটা ভাড়া বাড়িতে বসে, সামান্য কিছু উপকরণ নিয়ে শুধু নিজের অসামান্য প্রতিভার জোরে কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন৷
নিজের লেখা বই বা অন্যান্য যাঁদের বইতে উপেন্দ্রকিশোর ছবি এঁকেছেন, সেগুলো ছাপা যেখানেই হোক না কেন, ছবিগুলোর ব্লক করেছেন তিনি নিজেই৷ একমাত্র যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সিটি বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত 'ছেলেদের রামায়ণ'-এর প্রথম সংস্করণটি ছাড়া৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই বইটিতে তাঁর নিজের আঁকা ছবির ব্লক খুবই খারাপ হয়েছিল৷ পরবর্তী সংস্করণে অবশ্য তিনি নিজে আবার নতুন ভাবে ব্লক করেন৷ প্রথম দিকে 'সখা ও সাথী', 'মুকুল', 'প্রদীপ'--- এই সব পত্রিকার জন্য বহু ছবির ব্লক তৈরি করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ এ ছাড়াও বিশেষ ভাবে এসে পড়ে প্রবাসী পত্রিকার কথা৷ এখানেই উপেন্দ্রকিশোর প্রথম ডুয়োটাইপ পদ্ধতিতে ছবি ছাপা শুরু করেন৷ এক রঙের হাফটোন ছবিকে দু'টো ব্লকের সাহায্যে এ ভাবে ছাপার পদ্ধতি এ দেশে প্রথম চালু করেন উপেন্দ্রকিশোরই৷
হাফটোন ব্লকের উৎকর্ষ যে কী পর্যায়ে যেতে পারে, তার একটি অসামান্য উদাহরণ রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি'-র প্রথম সংস্করণ৷ এই বইতে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা চব্বিশটি ছবির হাফটোন ব্লক তৈরি করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর৷ আজকের মুদ্রণ শিল্পের এই আকাশছোঁয়া উন্নতির যুগেও ওই মানের কাজ কল্পনা করা যায় না৷
১৯১০ -এ উপেন্দ্রকিশোর তাঁর প্রতিষ্ঠান U Ray Artist-এর নাম বদলিয়ে রাখলেন U Ray & Sons৷ যা আজ বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার গৌরবময় ইতিহাসেরই অন্য আর একটি নাম৷ এর পর মাত্র পাঁচ বছর বেঁচেছিলেন তিনি৷ মাত্র বাহান্ন বছরের একটি জীবনে সৃজনশীলতার এই বহুমুখী প্রকাশের কথা ভাবলে আজও আমাদের বিস্মিত হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না৷
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জুক জেরেমিককে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। আপনি কি তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত?