ঢাকা: বুধবার ঢাকা জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে ঢাকা জেলা বিএনপি। ঢাকা জেলার উপজেলা, থানা ও পৌরসভাগুলোতে হরতাল পালন করবে দলটি। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ...
ঢাকা: ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ এখনও শুরু হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ জরুরি ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনেকে অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেক জায়গায় যে চাল ...
ঢাকা: ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে দু’হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে দ্রুত গতিতে হাঁটছেন চাঁদপুরের অলি উল্লাহ। তিনি আসছিলেন চিটাগাং রোড থেকে। কাজলা পর্যন্ত আসার পর গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। কারণ একটাই- ...
ঢাকা: বহুল আলোচিত ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল খুব শিগগিরই ঘোষণা হচ্ছে না। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ জানান, ডিসিসির সীমানা নিয়ে জটিলতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত ...
ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, “সংবিধান এবং আইন মানলে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা মানার কোনো সুযোগ নেই। একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তা (মন্ত্রীর ...
ঢাকা: আরো এক দফা কমানো হতে পারে ব্যান্ডউইথের গতি। নিবন্ধিত নীতির বাইরে ভিওআইপি ঠেকানোর কৌশল হিসেবে বছরে দুইদফা ব্যান্ডউইথ কমানো হবে। তবে এটা হবে কয়েক ঘণ্টার জন্য। এছাড়াও ব্যান্ডউথ মূল্য কমাতে ...
ঢাকা: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর লেখা প্রতিরোধ করা এবং নিরাপত্তার খাতিরেই মন্ত্রণালয় ব্যান্ডউইথ হ্রাস করেছিল। তবে পরে এই সিদ্ধান্ত ...
ঢাকা: দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা ...
চবি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্ব বিভাগের মাস্টার্সের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মঙ্গলবার এক ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মো. মাসুম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, আটক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ...
মুম্বাই: টালমাটালের আইপিএলে নতুন ঝড়ের সংযোজন। মঙ্গলবার আইপিএল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল সাহারার পুনে ওয়ারিয়র্স। তার সঙ্গেই আইপিএল অনিশ্চিত হয়ে পড়ল যুবরাজ সিং, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউস, আশোক দিন্দা সহ বহু ক্রিকেটারের আইপিএল ভাগ্য।
চলতি মরসুমে সুব্রত রায়ের সাহারা গোষ্ঠী বিসিসিআইকে ফ্র্যানচাঞ্চি ফি দিতে পারেনি। নির্ধারিত অর্থের মাত্র ২০ শতাংশ জমা করে সাহারা। এরপরই বিসিসিআই তুলে নেয় পুনের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি। ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি না থাকার ফলে আগামী মরসুমে অনিশ্চিত হয়ে পরে পুনের খেলা।
এরপর মঙ্গলবার পুনের ফ্র্যাঞ্চাইজি সাহারা গোষ্টী নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
কোটি কোটি টাকার আইপিএলে রেকর্ড মূল্য ১৭০২ কোটি টাকার বিনিময়ে গত বছর সুব্রত রায়ের সাহারা ১০ বছরের জন্য পেয়েছিল পুনের মালিকানা।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নির্ধারিত মূল্যের ২০ শতাংশ ১৭০ কোটি টাকা বোর্ডের হাতে তুলে দেয়। কথা ছিল মে মাসের ১৯ তারিখের মধ্যে বাকি অর্থও জমে দিয়ে দেয়া হবে পুনে ওয়ারিয়র্সের পক্ষ থেকে। কিন্তু পুনের ফ্র্যাঞ্চাইসি এই অর্থ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিসিসিআই ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তখনই পুনের আইপিএল খেলা একপ্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর আজ আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত সৌরভ গাঙ্গুলির একদা দল।
তবে বোর্ডের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি প্রত্যাহার এই প্রথম নয়। এর আগেও ডেকান চার্জাস আর কেরালার কোচি টাসকার্স নির্ধারিত সময় ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দিতে না পারায় বোর্ড ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিউ মার্কেটের ট্রাফিক সিগন্যালের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তার পাশে একটি জটলা থেকে হঠাৎ করেই ছয়/সাতটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় তারা ছাত্রশিবিরের পক্ষে স্লোগান দিলেও তাদের হাতে কোনো ব্যানার ছিল না। বিস্ফোরণ ঘটিয়েই তারা দৌড়ে বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান নিউ মার্কেট থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।
ঢাকা: একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তার ছেলে-মেয়েদেরকে ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদনে বলেছেন, “ফাঁসিস দেয়ার আগে আমার সন্তানদেরকে দেখার সুযোগ দিন।”
স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে ছেলে, ছেলের বউ এবং মেয়েকে ট্রাইব্যুনালে আসার অনুমতির জন্য আবেদন করলে ছেলের বউ ও মেয়েকে অনুমতি দিলেও ছেলেকে অনুমতি না দেয়ায় ট্রাইব্যুনালে এসব কথা বলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, “এখন আপনার মেয়ে ও ছেলের বউরা আসুক, পরে দেখা যাবে ছেলেদের অনুমতি দেয়া যায় কিনা।
তখন সা.চৌধুরী বলেন, “আমিতো জানি আপনারা আমাকে ফাঁসি দেবন। তার আগে আমার ছেলেদের তার বাবাকে একটু দেখে যাওয়ার সুযোগ দিন।”
এদিকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৪০ তম সাক্ষী চট্টগ্রাম লাইব্রেরির বই বাছাইকারী জব্দ তালিকার সাক্ষী কায়সার শেখ সাক্ষ্য দেন। তিনি দৈনিক পাকিস্তান ও দৈনিক আযাদী পত্রিকার ২৮টি কাটিং প্রদর্শন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ সিমন। অপর দিকে আসামিপক্ষে ছিলেন এএইচএম আহসানুল হক হেনা ও রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকে সালমা হাইটুনি।
হেনা এ সাক্ষীকে জেরা করেন। মমামলার কার্যক্রম আগামী ২৬ মে পর্যন্ত মুলতুবিকরেন ট্রাইব্যুনাল।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত ১৪ মে থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের ৩৯ জন সাক্ষী তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
গত ৪ এপ্রিল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট ৭২টি ঘটনায় ২৩টি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করা হয়।
ঢাকা: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজারে ডিএসই ও সিএসইতে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার দুই বাজারেই সূচক ও লেনদেন কমেছে। এদিন দুই বাজারে লেনদেন হয়েছে ৪৬১ কোটি টাকা। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে লেনদেন কমেছে ৬৫ কোটি টাকা। গতকাল সোমবার দুই বাজারে লেনদেন হয়েছিল ৫২৬ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
মঙ্গলবার ডিএসইতে সূচক ও লেনদেন কমেছে। এদিন ডিএসই’র সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪৯ পয়েন্ট কমে চার হাজার ৪৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে এবং লেনদেন হয়েছে ৪১৭ কোটি ৯৮ লাখ ১৪ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। যা আগের দিনের চেয়ে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৫৩ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৪টির, কমেছে ২৩৫টির এবং অপরির্বতিত রয়েছেন আটটি কোম্পানির শেয়ার।
ডিএসই’র ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
মঙ্গলবার লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) শীর্ষ দশ কোম্পানি হল- অরিয়ন ফার্মা, ইউনিক হোটেল, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বিএসসিসিএল, সামিট পূর্বাচল পাওয়ার, বেক্সিমকো লিঃ, আমরা টেকনোলজি, গোল্ডেন হারভেস্ট, কেপিসিএল ও জিবিবি পাওয়ার।
অপরদিকে মঙ্গলবার সিএসইতেও সূচকও লেনদেন কমেছে। এদিন সিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ১০৬ পয়েন্ট কমে সাত হাজার ৫৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছে এবং লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ৬৪ লাখ চার হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। যা আগের দিনের চেয়ে সিএসইতে লেনদেন কমেছে ১২ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২৭টি কমেছে ১৬৬ এবং অপরিবতির্ত রয়েছে ৫টি কোম্পানির শেয়ার।
ব্যাংকক: রোববার সকালে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ের আন্তর্জাতিক কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে দ্বিতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অতিথিরা। ছবি: বাসস/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: খিলক্ষেত থানা পুলিশ ১১ লাখ জাল টাকাসহ শ্রী সাধন চন্দ্র বর্মন নামে একজনকে গ্রেফতার করে। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুরে নেরিকা মিউট্যান্ট ধানের আবাদ হয়েছে একরে ১০৮ মন। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কারণে প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরাতন বিজনেস স্টাডিজ ভবনের তিন তলা থেকে পড়ে বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের রাসেল নামের এক শিক্ষার্থীর দুই পা ভেঙে গেছে।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে ওই ভবনের তিন তলা থেকে রাসেল মাথা ঘুরে নিচে পড়ে গেলে তার দুই পায়ের গোড়ালি ভেঙে যায়। রাসেল নিম্ন রক্তচাপে ভুগছিল বলে জানা গেছে।
হাসতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাসেল এখন আশঙ্কামুক্ত। তবে কয়েক দিন তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম জলি নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “রাসেল শারীরিক অসুস্থতার কারণে পড়ে গিয়ে আহত হযেছে। তাকে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
নয়া দিল্লি: মেরু অঞ্চল পরিষদে ভারতকে নেয়া হয়েছে পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ এর ফলে মেরু প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও অন্যান্য কাজকর্মের ব্যবস্থাপনায় ভারত তার বক্তব্য তুলে ধরতে পারবে আরো জোরালোভাবে৷
তেল, গ্যাস ও খনিজ পদার্থের মজুত ভাণ্ডার হিসেবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক তথা ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম৷
মেরু অঞ্চলে বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র খোলার পাঁচ বছর পর, কূটনৈতিক চেষ্টার পরিণামে মেরু অঞ্চল পরিষদ বা আর্কটিক কাউন্সিলে ভারত তার নিজের জায়গা করে নিল পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ অন্য আরো পাঁচটি দেশ চীন, জাপান, ইটালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরকে এই মর্যাদা দেয়া হয়েছে৷ আটটি স্থায়ী সদস্য দেশের কাউন্সিলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷
ক্যানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, রাশিয়া, ডেনমার্ক (গ্রিনল্যান্ড), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (আলাস্কা), আইসল্যান্ড ও সুইডেনকে নিয়ে গঠিত আর্টিক কাউন্সিল এই অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন ও তার অভিঘাত, মেরু প্রদেশের পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদের ধারাবাহিক সদ্বব্যবহার, জীব বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পারিপার্শ্বকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে৷ যদিও ঐসব সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা সীমিত৷
আর্কটিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ভারতে কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেন? মেরু অঞ্চলে ভারত তার অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক এবং ভূ-রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে৷ বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে যে ভারত ফেলনা নয়, আর্কটিক অঞ্চলেও সেকথা খাটে৷ ৮০-এর দশকে ভারত মেরু অঞ্চলে তার প্রথম বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে৷ যদিও বড় রকম প্রকল্প হাতে নেয়া সম্ভব হয়নি সীমিত সহায় সম্পদের কারণে৷ তবে আর্থিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সে বাধা কেটে যাবে৷ বৈজ্ঞানিক মেধার দিক থেকে বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দেবার ক্ষমতা রাখে ভারত৷ দিল্লি মনে করে, এই সবের পাশাপাশি ঐ অঞ্চলে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে৷ ভারতের নতুন উদ্যোগ হবে মেরু অঞ্চলকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখা৷
মেরু অঞ্চলকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে গত বছর জুন মাসে জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় অনুষ্ঠিত রিও আর্থ সম্মেলন৷ সেখানে ভারতের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, একবিংশ শতাব্দীর শেষে ভূ-তাপ বাড়বে ৩-৪ ডিগ্রি৷ এই উষ্ণায়নের প্রভাব অনুভূত হবে ভারতে, বিশেষ করে উত্তর ভারতে৷ মেরুপ্রদেশের বরফ গললে কার্বন ডাই অক্সাইডের শোষণ ক্ষমতা যাবে কমে৷ ফলে উষ্ণায়ন ক্রমশই বাড়তে থাকবে৷ বাড়বে সমুদ্রের জলস্তর, দেখা দেবে বন্যা৷ বিপন্ন হবে ভারতের কোটি কোটি মানুষের জানমাল৷ মেরু অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষার যোগ আছে৷ বর্ষার সঙ্গে যোগ আছে কৃষির৷
চির তুষারাবৃত মেরু এলাকার কিছু অংশ ছাড়া পুরো আর্টিক অঞ্চলের ওপর সার্বভৌম অধিকার কোনো দেশের নেই৷ তুন্দ্রা অঞ্চল ছাড়া গাছপালা বিবর্জিত বিশাল নির্জন এই হিমায়িত এলাকার গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ৪০-৫০ ডিগ্রি নীচে৷ পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, মেরু সাগর দিয়ে শিপিং রুট খোলা ইত্যাদি নিয়ে কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য দেশের কয়েক শো বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন কীভাবে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করা যায়৷ বরফের নীচে জমা মিথেন গ্যাস নির্গমন রোধ করা যায়৷ মিথেন গ্যাস নির্গত হতে পারে মেরু বরফ সংকোচনের ফলে৷ তাতে উষ্ণায়ন বাড়বে দ্রুতগতিতে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
হাম্বুর্গ: ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন আয়েবা দেশে বিদেশে বাংলাদেশীদের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার জার্মানির বন্দরনগরী হাম্বুর্গে আয়েবার ২য় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
আগামী দিনে ইউরোপের প্রতিটি দেশে আয়েবার কর্মসূচি প্রসারিত করার পাশাপাশি ইউরোপিয়ানদের ইন্টিগ্রেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লা ইনুর পরিচালনায় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, গ্রিস,পর্তুগালের এবং জার্মানির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়েবার সব কার্যক্রম বাস্থবায়নে সহায়তার জন্য আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
আয়েবার সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত উল্লা মানুষের কল্যাণে কিভাবে কাজ করলে সমাজের উন্নয়ন হয় সেই বিষয়টি তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। তিনি জানান, গ্রিসে মালিক পক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউরোপিয়ান পারলামেন্টের সদস্যরা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর মালিক পক্ষের অমানবিক নির্যাতনে ও তারা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা রানা প্লাজায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের ধস নামার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আয়েবাকে।
তিনি বলেন, “গ্রিসে বাংলাদেশী আহত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে ইউরোপিয়ান পারলামেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে ইউরোপিয়ান পারলামেন্ট মেম্বার জেনা লাম্বেরতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিবয় হয়।
হাম্বুর্গের আয়েবা নির্বাহী কমিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের আয়োজক সরফ উদ্দিন জুয়েল। জার্মান বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নজরুল ইসলাম, আয়েবার কোষাধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান মুহিব, ফখরুল আলম সেলিম, লুৎফুর রহমান, জার্মান ও ইউরোপের বিভিন্ন কমিউনিটির ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
ইসলামাবাদ: পিএমএল-এন প্রধান ও হবু প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ তালেবানদের শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। ১১ মে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর লাহোরে দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তালেবানদের অস্ত্র রেখে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, নিয়মতান্ত্রিক এবং ছকে বাঁধা পদ্ধতি অনুসরণ করলে নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কমে আসবে। আলোচনায় বসলে তালেবানদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
নওয়াজ শরিফ বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবগুলো সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা উচিত। কেবল অস্ত্রই সমাধানের পথ হতে পারে না। তাই কেন আমরা আলোচনার বসবো না?”
সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফের শাসনামলে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অংশ নেয় পাকিস্তান। এরপরই শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠায় এবং অভিযানের বিরোধিতা করে একের পর এক হামলা চালায় তালেবান। তালেবানের হামলায় পাকিস্তানে এই পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
শান্তি আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন নওয়াজ শরিফ।
জেনারেল কায়ানি বলেন, “যারাই অস্ত্র তুলে নেবে এবং আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এর আগেও তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার চেষ্টা চালায় পাকিস্তানি সরকার। কিন্তু অস্ত্র প্রত্যাহার বিষয়ে একমত না হওয়ায় আলোচনা সফল হয়নি। সূত্র: আলজাজিরা।
কলকাতা: চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়! বারবার 'অগ্নিপরীক্ষা' দেয়ার ইচ্ছে বা প্রয়োজন যে তার নেই তা ক'দিন আগেই সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
কিন্ত্ত ঘটনাপ্রবাহ 'অগ্নিকন্যাকে' ফের অগ্নিপরীক্ষার মুখেই ঠেলে দিয়েছে৷ পঞ্চায়েতের আগে লগ্নি কেলেঙ্কারির আবহে হাওড়া (সদর) লোকসভার আসন্ন উপনির্বাচন মমতার 'অ্যাসিড টেস্ট' বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ আড়াই মাস আগের বিধানসভা উপনির্বাচনে একটি কেন্দ্রেও প্রচারে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি মুখ্যমন্ত্রী৷ অথচ প্রয়াত সাংসদ অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র 'সসম্মানে' ধরে রাখতে প্রচারের শেষ দৌড়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছেন তিনি৷ প্রচারে দু'দিন না তিন দিন যাবেন তা নিয়ে জেলা নেতাদের দেয়া তথ্যে ফারাক থাকলেও দলনেত্রী যে হাওড়ার শিল্পাঞ্চল এবং পঞ্চায়েত এলাকায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন তাতে কোনো সংশয় নেই৷
জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী অরূপ রায় বলেছেন, 'আমি শুনেছি উনি দু'দিন সময় দেবেনই৷ সেটা তিন দিনও হতে পারে৷ দুটো জনসভা করবেন আর একদিন মিছিলে হাঁটবেন৷ তবে এখনও ফাইনাল ডেট দেননি আমাদের৷' অরূপবাবুর মতোই সাঁকরাইলের বিধায়ক শীতল সর্দারও মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক প্রচার কর্মসূচির কথাই শুনেছেন৷ তবে প্রচারের চূড়ান্ত নির্ঘন্ট যাই হোক না কেন, তৃণমূল সুপ্রিমো যে 'অল আউট' নামতে চলেছেন সেই ইঙ্গিত পেয়ে গিয়েছেন এই লোকসভা কেন্দ্রের সবকটি বিধানসভার বিধায়কেরা৷
তৃণমূলের মেজো, সেজো নেতারা হাওড়ায় নিরাপদ ব্যবধানে জেতার হুঙ্কার ছাড়লেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু তার অ্যান্টি চেম্বারে বসে অনায়াস জয়ের স্বপ্ন দেখছেন না৷ লগ্নি কেলেঙ্কারি নিয়ে আক্রমণের চক্রব্যূহ ভাঙতে তিনি যে ভাবে শ্যামবাজার, পানিহাটি, বর্ধমানে অতীতের বিরোধী নেত্রীর রূপ ধারণ করেছিলেন, হাওড়ার প্রচারেও তারই পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে৷ দলের কিছু নেতা বলছেন, মে মাসের ২৫, ২৬, ২৭ তারিখ হাওড়াতেই পড়ে থাকবেন মমতা৷ আবার আর এক দল নেতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৮, ২৯ এবং ৩০ তারিখ বালি, আন্দুল (সাঁকরাইল বিধানসভার অন্তর্গত) এবং পাঁচলায় জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী৷
অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম মেটার আগেই হাওড়া লোকসভায় উপনির্বাচনের দিন ঘোষিত হওয়ায় কেন্দ্র এবং সিপিএমকে শূলে চড়িয়েছিলেন মমতা৷ সাতাত্তর কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী আসছে শুনে কংগ্রেস-সিপিএমের উদ্দেশে তিনি চ্যলেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, 'ভাবছ তৃণমূলকে জব্দ করবে৷ যত খুশি বাহিনী পাঠাও৷ খেতে দেব, বসতে দেব৷ কিন্ত্ত ভোটটি তোমরা পাবে না৷'
সিবিআইয়ের আইনজীবী স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে রাজ্যের লগ্নি কেলেঙ্কারির তদন্তে ইচ্ছা প্রকাশ করায় এর মধ্যে তিন বার কেন্দ্রে সরকার ফেলে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউপিএ-র প্রাক্তন শরিক নেত্রী৷ আর এতেই উৎসাহিত হয়ে বিজেপিও পরবর্তী লোকসভায় মমতার বন্ধুত্ব সুনিশ্চিত করতে একের পর এক বার্তা দিতে শুরু করেছে৷ তৃণমূল নেত্রীকে কৃতজ্ঞতাপাশে বাঁধতেই বিজেপি হাওড়ায় প্রার্থী ঘোষণা করেও প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এই সুযোগে কংগ্রেস সিপিএম একযোগে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ক্ষয় ধরানোর চেষ্টা শুরু করেছে৷ তারা সফল হলে লোকসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস বোঝাপড়ার রাস্তা খুলে যেতে পারে, যা মমতার পক্ষে কোনো অবস্থাতেই কাম্য হতে পারে না৷
এ তো গেল বাইরের প্রতিকূলতার কথা৷ দলের ভিতরেও মমতাকে জেরবার করে ছাড়ছে লগ্নি-কেলেঙ্কারিতে সাংসদ-মন্ত্রীদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের অভিযোগ৷ মুখে হাজার প্রতিবাদ করলেও এই ইস্যুতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিষ্কার চিড় দেখতে পেয়েছে জনগণ৷ যা ভবিষ্যতে ফাটলের আকার ধারণ করতে পারে৷ লগ্নি কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্ত চেয়ে এতদিন কেবল কলকাতা হাইকোর্টে চারটি জনস্বার্থ মামলা ঝুলছিল৷
সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে প্রায় অনুরূপ আবেদন পেশ করিয়েছেন কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান, যা মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন কংগ্রেস নেতারা৷ দু'বছরের তৃণমূল সরকার উন্নয়নের প্রশ্নেও যে ঢালাও কৃতিত্ব দাবি করছে তা পদে পদে খণ্ডন করছেন বিরোধীরা৷ এই অবস্থায় হাওড়ায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করে তৃণমূল নেত্রী লড়াইয়ের অভিমুখ ঘোরাতে চেয়েছেন৷ লগ্নি কেলেঙ্কারি নিয়ে অন্তত এই প্রাক্তন তারকা ফুটবলারকে সরাসরি প্রচারে বিঁধতে সমস্যা হবে বিরোধীদেরও৷ একটি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে হার বা জিত্ , এমনিতে রাজ্যের শাসক দলের বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে না৷ কিন্ত্ত সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ এমনিতেই ভোট দেরিতে হওয়ার আংশিক দায় শাসক দল ও সরকারকে কিছুটা হলেও বহন করতেই হবে৷ তার উপর আবার ত্রিমুখী লড়াই হওয়ায় ২০১১-র ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ভোটের ব্যবধান এমনিতেই ধরে রাখা সম্ভব নয়৷ তৃণমূল যদি এই ভোটে কোনো মতে জেতে সেক্ষেত্রেও তা শাসক দলের ক্ষয়িষ্ণু জনপ্রিয়তার প্রমাণ৷ এমনকী, বিরোধীরা তো বটেই ভোটারদের একাংশও বলতে শুরু করবে, মমতার জনপ্রিয়তা পড়তির দিকে৷ এতো কিছু মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী অন্তত হাওড়ায় হত্যে দিয়ে পড়ে থাকার কথা বিবেচনা করছেন৷
স্থানীয় নেতারা যখন জয়ের ব্যবধান নিয়ে হিসাবনিকাশ করছেন, তখন তৃণমূল ভবনের কোনো প্রথম সারির নেতা কিন্ত্ত আগাম সংখ্যা হেঁকে দেয়ার পথে হাঁটছেন না৷ কয়েকদিন আগে মুকুল-রায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে হাওড়ায় তৃণমূলের যে মিছিল হয়েছিল তাতে হুগলি নদীর এপারের বহু তৃণমূলকর্মী ভিড় করেছিলেন৷ প্রচারে স্থানীয়দের বেশি করে রাস্তায় নামাতে বিভিন্ন ক্লাবের সাহায্যও নিচ্ছেন জেলা-নেতারা৷
দলীয় প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু প্রাক্তন তারকা ফুটবলার, তাই তিনি জিতলে এলাকার ক্লাবগুলোর বাড়তি প্রান্তিযোগ হতে পারে বলেও প্রচার করছেন তৃণমূলকর্মীরা৷
এ দিকে, তৃণমূল ভবনের নির্দেশে বালি বিধানসভায় এবার ভোট বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা৷ মাত্র ক'দিন আগে বালি পুরসভা সংলগ্ন রবীন্দ্রভবনে কংগ্রেস এবং সিপিএম থেকে একদল রাজনৈতিক কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন৷ বিধানসভা নির্বাচনে বালিতে ৬ হাজারের কিছু বেশি ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূলের সুলতান সিং৷ কিন্ত্ত পাঁচলা, সাঁকরাইলের গ্রামাঞ্চলে লগ্নি কেলেঙ্কারির প্রভাব যদি দলের ভোট কমায় সেক্ষেত্রে বালি থেকে তা পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টায় নেমেছেন তৃণমূলকর্মীরা৷ সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক ইহসানুল করিমকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।এর আগে মো. নেছার উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এতে বলা হয়, অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে আগামী এক বছরের জন্য ইহসানুল করিমকে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হলো। এছাড়া রাষ্ট্রদূত পদে প্রেষণে নিয়োগের জন্য মেজর জেনারেল মুহম্মদ হাবিবুর রহমান খান এবং মেজর জেনারেল রেজানুর রহমান খানের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে আলাদা দুটি আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
মুম্বাই: খোলা গলায় ছেলের প্রশংসা করলেন ঋষি কাপুর। ২০০৭ সালে সঞ্জয় লীলা বনশালির সাঁওরিয়া ছবি দিয়ে বলিউডে পা রেখেছেন রনবীর। মাত্র সাত বছরেই তার উত্থানে স্বাভাবিক ভাবেই অভিভূত ঋষি। গর্বিত বাবা জানালেন, ইন্ডাস্ট্রিতে কাপুর পরিবারের যথেষ্ট প্রতিপত্তি থাকা সত্ত্বেও রনবীর যেভাবে কেরিয়ারের শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের চরিত্র বেছে সাহস দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। রনবীর যেভাবে কাপূর পরিবারের ঐতিহ্য বয়ে নিয়ে চলেছে তাতে আমি গর্বিত। আমি সবসময় ওকে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করি।
সাঁওরিয়া দিয়ে কেরিয়ার শুরু করে ওয়েক আপ সিড, রাজনীতি, রকস্টার, বরফির মতো ছবিতে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রনবীর। ঋষি বললেন, রনবীর কেরিয়ারের শুরু থেকেই ভিন্ন পথে হেঁটেছে। শুরু থেকেই অন্য ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের দিকে ঝুঁকেছে রণবীর। এবং প্রতিটা চরিত্রের সিদ্ধান্তই ও নিজে নিয়েছে। আমি ওর বয়সে এত ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাইনি। সূত্র: ওয়েবসাইট।
ক্যালিফোর্নিয়া: সকালে মনে করে মোবাইল ফোনটা চার্জে বসিয়েছিলেন। অন্তত ঘণ্টাখানেক হবে। কিন্তু দিনের শেষে ফোনের ব্যাটারি যে কে সেই তলানিতে। হতচ্ছাড়া ফোনটাকে বাগে আনতে পারছেন না কিছুতেই। আপনার এই হতাশাকে বদলে দিতে পারে ছোট্ট একটা ‘সুপারক্যাপাসিটর’। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা নয়, সুপারক্যাপাসিটর থাকলে ফোন চার্জ দিতে সময় লাগবে মাত্র কুড়ি সেকেন্ড।
এমনই এই প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সানহোসের বাসিন্দা এষা খারে। এখনও হাইস্কুলের গন্ডি পেরোননি। বয়স মোটে আঠারো। তার সুপারক্যাপাসিটরের দৌলতে ‘ইন্টেল ইন্টারন্যাশানাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পুরস্কারও তার হাতে। এই সুপারক্যাপাসিটরের অসীম সম্ভবনার কথা মাথায় রেখে এষার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে গুগলও।
“আমার নিজের ফোনের ব্যাটারি তাড়াতাড়ি বিগড়ে যেত। তাই এমন একটা কিছু তৈরির কথা মাথায় আসে,” বলেন এষা। কিন্তু এই সুপারক্যাপাসিটর কী? এষার কথায়, যে সমস্ত ইলেকট্রনিক জিনিসের ব্যাটারি চার্জ দেয়া যায়, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তা হয়ে যাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। চার্জ বেশি ক্ষণ ধরেও রাখতে পারবে নয়া প্রযুক্তি। সাধারণ ব্যাটারিতে যত বার চার্জ দেয়া যায়, ছোট্ট সুপারক্যাপাসিটরে তার চেয়ে বেশি বার।
হাইস্কুলে তার স্পেশ্যালাইজেশন ন্যানোকেমিস্ট্রিতে। ছোট একটা চিপের মধ্যেই কী ভাবে অসাধ্য সাধন করা যায়, ন্যানোকেমিস্ট্রি পড়তে গিয়ে এই ইচ্ছেটা তৈরি হয়েছিল ওই অষ্টাদশীর।
এখনও শুধু এলইডিতেই সুপারক্যাপাসিটর ব্যবহার করেছেন এষা। শিগগিরই ফোন থেকে গাড়ি, সব কিছুতেই এই নায় প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে বলে আশা তার। এষার সাফল্যে সমান উৎসাহী একাধিক বহুজাতিক সংস্থা। তাদের ফোনের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে নিজের ফোনের চার্জ যাতে না কমে, তা নিয়েই ব্যস্ত ওই তরুণী। সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: ইউনানি পদ্ধতির দেশীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেন রেলপথমন্ত্রী ও ইউনানি চিকিৎসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মুজিবুল হক।
তিনি বলেন, “ইউনানি চিকিৎসায় ভেজাল ঢুকে গেছে। অনেকেই কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন প্রচার করে মানুষের ক্ষতি করছে। এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সমাজের কাছে বিতর্কিত করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা দরকার।”
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ দেশীয় চিকিৎসক সমিতি আয়োজিত জাতীয় মহাসম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দেশীয় পদ্ধতির চিকিৎসকদের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের কিছু সেবা করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবো। আপনাদের দাবি নিয়ে আমি আর মেনন ভাই মিলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো। জাতীয় সংসদেও আপনাদের দাবি নিয়ে আমি কথা বলবো।”
এ সময় গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ইউনানি চিকিৎসার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ছিল বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার বাণিজ্যর কারণে আমাদের চিকিৎসা সেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ায় কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে ইউনানি চিকিৎসার বিকল্প নাই। আজকে ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতি সঠিক পথে পরিচালনা করা দরকার। এ ব্যাপারে সরকারের কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। কেন না এদেশে এ পদ্ধতি চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইতিবাচক ধারার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেবে।”
সংগঠনের দাবির ব্যাপারে তিনি বলেন, “বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধির জন্য সংসদে কথা বলবো। তাছাড়া এ বাজেটে যেন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় বাজেট দেয়া হয় সে ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করবো।”
সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১১টি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে তা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি উদ্যোগে সারাদেশে ঔষধি গাছ চাষাবাদ, জাতীয় পর্যায়ে দেশে ঔষধি ভেষজ উদ্যান গড়ে তোলা, ইউনানি আয়ুর্বেদিক ঔষধের পৃথক লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ ও ঔষধের মান নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণার ইনস্টিটিউট স্থাপন করা, জেলা ভিত্তিক অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবন্ধন প্রদানের ব্যবস্থা করাসহ মোট ১১টি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।
সমিতির মহাসচিব ডা. মুহম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যাপক ড. করুণাসিন্ধু দাস, প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য ও ড. হাকিম মো: ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া।
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী৷ তাঁর ১৫০তম জন্মদিন ১২ মে ৷
বাংলা শিশুসাহিত্যে উপেন্দ্রকিশোরের অসামান্য অবদানের কথা সবার জানা থাকলেও, তাঁর ছবি আঁকা, ফোটোগ্রাফি চর্চা, বা প্রসেস শিল্পে হাফটোন ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে অসামান্য মৌলিক গবেষণার কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছে খুবই কম৷ এদেশে যখন ছবি ছাপার ক্ষেত্রে কাঠখোদাই ও ধাতুখোদাই-এর প্রযুক্তিই শেষ কথা, তখন উপেন্দ্রকিশোর একাই এই জগতে সূচনা করেছিলেন সম্পূর্ণ নতুন একটি যুগের৷
ইলাস্ট্রেশনের কাজে হাত দেওয়ার অনেক আগে থেকেই তেল ও জলরঙে ছবি আঁকতেন তিনি৷ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও শিলাইদহের কুঠিবাড়ির জন্য উপেন্দ্রকিশোরের আঁকা ছবি সংগ্রহ করেছিলেন৷ পুরোপুরি ইওরোপীয় টেকনিকেই ছবি আঁকতেন উপেন্দ্রকিশোর৷ সত্যজিতের ভাষায়, 'খাস বিলিতি কায়দায় তেল রং, জল রং, কালি কলমে ছবি এঁকেছেন৷' ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে পৌরাণিক ঘটনা ও প্রাচীন ইতিকথার চরিত্র, এই সব কিছুই ছিল তাঁর ছবির বিষয়৷ যদিও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথাগত ভাবে ছবি আঁকা শেখেননি তিনি, কিন্ত্ত আশ্চর্যের ব্যাপার তা বোঝার কোনওরকম উপায়ই নেই৷ নিজের চেষ্টায় এতটাই নিখুঁত ভাবে তিনি শিখে নিয়েছিলেন ড্রয়িং, অ্যানাটমি এবং ছবি আঁকার প্রকরণগত অন্যান্য ক্রিয়াকৌশল৷
উপেন্দ্রকিশোরের পেন্টিংগুলো কোথায় কী ভাবে আছে বা আদৌ আছে কি না সেটা বলা কঠিন, কিন্ত্ত তাঁর অমর শিশুসাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গে চিরদিনের জন্য থেকে গিয়েছে তাঁর অসামান্য কিছু ইলাস্ট্রেশন, যা গোটা বাঙালি জাতি কোনও দিনও ভুলতে পারবে না৷
গ্রন্থচিত্রণের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন নিজের লেখাকে কেন্দ্র করেই৷ তাঁর লেখা 'সেকালের কথা', 'ছেলেদের রামায়ণ', 'ছেলেদের মহাভারত', 'টুনটুনির বই', 'ছোট্ট রামায়ণ'-এর ছবি ছাড়াও এঁকেছেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'সচিত্র সন্তকাণ্ড রামায়ণ', সীতা দেবী ও শান্তা দেবীর 'হিন্দুস্তানী উপকথা', সীতা দেবীর 'নিরেট গুরুর কাহিনী' ও রবীন্দ্রনাথের 'নদী' কবিতার ছবি৷ এ ছাড়াও রয়েছে ১৯১৩-তে তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় ছোটদের বিখ্যাত মাসিকপত্র 'সন্দেশ'-এর জন্য আঁকা অজস্র ইলাস্ট্রেশন৷
এই 'সন্দেশ' পত্রিকাটি থেকেই খুঁজে পাওয়া যায় উপেন্দ্রকিশোরের প্রতিভার সম্পূর্ণ পরিচয়৷ সম্পাদনা করা ছাড়াও, প্রচ্ছদ ও অন্যান্য ছবি আঁকা থেকে শুরু করে কবিতা, গল্প, পুরাণের কথা, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, ধাঁধা ও হেঁয়ালি রচনা, ব্লক মেকিং ও প্রিন্টিং সবই হত তাঁর হাত দিয়ে৷ 'সন্দেশ'-এর আগে ছোটদের জন্য যে সব পত্রিকা বেরিয়েছে সেগুলোর ছবি অথবা ছাপা কোনওটাই ততটা চিত্তাকর্ষক ছিল না৷ এ দেশে 'সন্দেশ'-ই প্রথম ছোটদের কাগজ, যেখানে রঙিন ছবি ছাপা হয়৷
ইউরোপীয় কেতায় ছবি আঁকলেও উপেন্দ্রকিশোরের ইলাস্ট্রেশনে যে আশ্চর্য বাঙালিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায় তা তাঁর আগে অন্য কোনও গ্রন্থচিত্রীর কাজে দেখা যায়নি৷ এ ছাড়া তাঁর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অপূর্ব রসবোধ যে তাঁর কাজগুলোকে সময়ের থেকে আরও অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ এ প্রসঙ্গে সত্যজিৎ লিখেছেন, 'ইলাস্ট্রেটর হিসেবে উপেন্দ্রকিশোরের কাজে যে দক্ষতা ও রীতিবৈচিত্র্য দেখা যায় তার তুলনা ভারতবর্ষে নেই৷... পৌরাণিক গল্পের ছবিতে হাস্যরসের তেমন সুযোগ নেই৷ কিন্ত্ত সেখানেও --- হয়তো শিশুদের কথা চিন্তা করেই --- দৈত্য দানব রাক্ষস পিশাচের চেহারা আঁকতে উপেন্দ্রকিশোর ভয়ঙ্কর রসের সঙ্গে হাস্যরস মেশাতে দ্বিধা করেননি৷' তাঁর নিজের ও অন্যান্যদের বইয়ের সঙ্গে সব মিলিয়ে অন্তত শ'খানেকের মতো হাফটোন ছবি এঁকেছিলেন তিনি৷ যার মধ্যে বেশ কিছু রঙিন ছবিও ছিল৷ ইদানীং পুনর্মুদ্রণের সময় উপেন্দ্রকিশোরের লাইন ড্রয়িংগুলো ছাপা হলেও হাফটোন ছবিগুলোর অধিকাংশই আর ছাপা হয় না৷ এটা অত্যন্ত দুঃখের৷ উপেন্দ্রকিশোরের রচনার এতগুলো সংস্করণের মধ্যে অন্তত একটি মূলানুগত সংস্করণ অবশ্যই থাকা উচিত৷
১৮৯৫ সাল নাগাদ বিদেশ থেকে প্রসেস ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে হাতে কলমে কাজ শুরু করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ ফোটোগ্রাফি ও হাফটোন ছবি ছাপার করণকৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন তারও অন্তত দশ বছর আগে থেকে৷ হাফটোন নিয়ে উপেন্দ্রকিশোরের গবেষণা মূলত প্রসেস ক্যামেরাকে কেন্দ্র করেই৷ নেগেটিভের মানকে কী ভাবে আরও উন্নত করা যায় তা নিয়ে কত রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে করে গিয়েছেন তার কোনও শেষ নেই৷ এই নিরন্তর গবেষণার ফল হিসেবে দেখা যায় বিলেতের বিখ্যাত প্রিন্টিং-এর পত্রিকা 'পেনরোজ অ্যানুয়াল'-এ একটির পর একটি তাঁর লেখা প্রবন্ধ৷ মোট ন'খানা প্রবন্ধ লিখেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর পেনরোজ অ্যানুয়েলে, যেগুলো একে একে প্রকাশ হতে শুরু করা মাত্রই তখনকার বিলেতের ছাপাখানার জগতে হইচই পড়ে গিয়েছিল৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই মৌলিক গবেষণা ও আবিষ্কারকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছিলেন পেনরোজ কর্তৃপক্ষ৷ এমনকী তাঁর পদ্ধতি অবলম্বন করে লন্ডনে ছাপার কাজও শুরু হয়ে যায়, যা সুকুমার রায় বিলেতে গিয়ে নিজের চোখেই দেখে এসেছেন৷
ভাবতে অবাক লাগে অত বছর আগে একজন বত্রিশ বছর বয়সী বাঙালি যুবক ছোট একটা ভাড়া বাড়িতে বসে, সামান্য কিছু উপকরণ নিয়ে শুধু নিজের অসামান্য প্রতিভার জোরে কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন৷
নিজের লেখা বই বা অন্যান্য যাঁদের বইতে উপেন্দ্রকিশোর ছবি এঁকেছেন, সেগুলো ছাপা যেখানেই হোক না কেন, ছবিগুলোর ব্লক করেছেন তিনি নিজেই৷ একমাত্র যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সিটি বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত 'ছেলেদের রামায়ণ'-এর প্রথম সংস্করণটি ছাড়া৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই বইটিতে তাঁর নিজের আঁকা ছবির ব্লক খুবই খারাপ হয়েছিল৷ পরবর্তী সংস্করণে অবশ্য তিনি নিজে আবার নতুন ভাবে ব্লক করেন৷ প্রথম দিকে 'সখা ও সাথী', 'মুকুল', 'প্রদীপ'--- এই সব পত্রিকার জন্য বহু ছবির ব্লক তৈরি করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ এ ছাড়াও বিশেষ ভাবে এসে পড়ে প্রবাসী পত্রিকার কথা৷ এখানেই উপেন্দ্রকিশোর প্রথম ডুয়োটাইপ পদ্ধতিতে ছবি ছাপা শুরু করেন৷ এক রঙের হাফটোন ছবিকে দু'টো ব্লকের সাহায্যে এ ভাবে ছাপার পদ্ধতি এ দেশে প্রথম চালু করেন উপেন্দ্রকিশোরই৷
হাফটোন ব্লকের উৎকর্ষ যে কী পর্যায়ে যেতে পারে, তার একটি অসামান্য উদাহরণ রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি'-র প্রথম সংস্করণ৷ এই বইতে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা চব্বিশটি ছবির হাফটোন ব্লক তৈরি করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর৷ আজকের মুদ্রণ শিল্পের এই আকাশছোঁয়া উন্নতির যুগেও ওই মানের কাজ কল্পনা করা যায় না৷
১৯১০ -এ উপেন্দ্রকিশোর তাঁর প্রতিষ্ঠান U Ray Artist-এর নাম বদলিয়ে রাখলেন U Ray & Sons৷ যা আজ বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার গৌরবময় ইতিহাসেরই অন্য আর একটি নাম৷ এর পর মাত্র পাঁচ বছর বেঁচেছিলেন তিনি৷ মাত্র বাহান্ন বছরের একটি জীবনে সৃজনশীলতার এই বহুমুখী প্রকাশের কথা ভাবলে আজও আমাদের বিস্মিত হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না৷
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জুক জেরেমিককে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। আপনি কি তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত?