ঢাকা: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিপ্রদান সংক্রান্ত যেসব সুপারিশ জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা হয়েছে সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদন ...
ঢাকা: আমার দেশ সম্পাদকের মুক্তি ও বন্ধ মিডিয়া চালুর দাবিতে ১৫ সম্পাদকের দেয়া বিবৃতিতের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, “আমার মনে হয় তারা না বুঝে, না জেনে এই বিবৃতি ...
ঢাকা: রাজধানীর মতিঝিল থানার দুই মামলায় লালবাগ শাহী মসজিদের খতিবসহ হেফাজতে ইসলামের তিন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
হেফাজতের তিন নেতা হলেন লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব ...
ঢাকা: রাজধানীতে সব ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধে সরকারের সমালোচনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা অসাংবিধানিক। সরকারের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “মহাসেনের ...
যশোর: বদলে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়ের পাঠ্যক্রম ও নম্বর বন্টন। এ বছর থেকেই এক হাজার ২০০ নম্বরের পরিবর্তে এক হাজার ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়া হবে। নতুন শাখা হিসেবে ইসলাম শিক্ষা ...
ঢাকা: তামাকজাত দ্রব্য সেবনের কারণে মানুষের শরীরে আটটি রোগের সৃষ্টি হয়। এসব রোগের কারণেই প্রতিবছর বাংলাদেশে ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায় এবং প্রতি ছয়টি মৃত্যুর মধ্যে একটি মৃত্যু হয় তামাকের কারণে। ...
ঢাকা: সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মূল আসামি করে কর্নেল তাহের হত্যার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।
সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর করেন দুই বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ...
ঢাকা: এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, “মুচলেকা বা দাসখত দিয়ে বিএনপি রাজনীতি করবে না। একটি ...
ঢাকা: এবার বাস্তবেই বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখাচ্ছে রূপকথা। পুরো নাম ওয়াসিক ফারহান রূপকথা। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে গিনেস বুকে নাম উঠতে যাচ্ছে সাত বছরের এই শিশু। স্কুলে পা ...
ঢাকা: কুমিল্লা সেনানিবাসে ডা. শেজাদী আপসাকে নির্যাতন করে হত্যার প্রতিবাদ এবং খুনিদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে সড়ক অবরোধ করেছেন চিকিৎসকরা। সোমবার বিকেল চারটার দিকে শুরু হয়ে প্রায় ৩০ মিনিট এই ...
ঢাকা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, “রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সভা-সমাবেশ বন্ধ করে সমস্যার সমাধান হবে না।”
সোমাবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের ...
নয়া দিল্লি: দিন যত যাচ্ছে ততই হতবাক হতে হচ্ছে শ্রীসন্থদের কীর্তি দেখে। সোমবার দুপুরে স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে শ্রীসন্থ অ্যান্ড কোং-আরও ফাঁসলেন। ফিক্সিং কাণ্ডের ত্রিমূর্তির এক মূর্তি অজিত চান্ডিলার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হলো ২০ লক্ষ টাকা। এই টাকাটা চান্ডিলা যে স্পট ফিক্সিং করেই পেয়েছিলেন সেটাও অনেকটাই পরিষ্কার।
আইপিএল গড়াপেটা কেলেঙ্কারির টাকার লেনদেনের তদন্তে এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের (ইডি) কর্মকর্তারা। দিল্লি পুলিশ , মুম্বাই পুলিশ, ইডির সঙ্গে বিসিসিআইও পৃথক ভাবে অভ্যন্তরীণ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। বোর্ডের দুর্নীতি বিরোধ শাখার প্রতিনিধিরা সোমবার দিল্লি পুলি্শের সঙ্গে দেখা করার কথা।
খেলার জগতে গড়াপেটা রুখতে নতুন আইন প্রণয়ন করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কপিল সিব্বাল জানিয়েছেন তার মন্ত্রণালয় চেষ্টা করছে এমন আইন আনার যা ভারতে খেলার দুনিয়া থেকে গড়াপেটাকে প্রতিহত করবে। এই বিষয়ে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা বলেছেন।
স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে এক প্রাক্তন রঞ্জি ক্রিকেটার সহ গ্রেফতার করা হলো আরও তিনজনকে। রোববার সকালে ঔরঙ্গাবাদ থেকে থেকে সুনীল ভাটিয়া, কিরণ ডোলে এবং মণীশ গুড়েয়া নামের এই তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি এই তিন জন বুকি এবং ক্রিকেটারদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করত।
ধৃত তিনজনের মধ্যে গুড়েয়া ২০০৩ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিদর্ভ রঞ্জি দলের সদস্য ছিলেন। এই তিন জনের ফোন নিয়মিত ট্যাপ করার পরেই পুলিশের হাতে এদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ আসে বলে সূত্রে খবর। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই নিয়ে আইপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সূত্র: জিনিউজ।
ঢাকা: সামরিক ট্রাইব্যুনালে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল এম এ তাহেরের গোপন বিচার অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। এ রায়কে যুগান্তকারী রায় উল্লেখ করেছেন তাহেরের ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।
সোমবার রায় প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আজকের এই দিন আমাদের পবিবারের সবচেয়ে মহান দিন। যেমনটি আমাদের এজি বলেছেন এই রায়ের মধ্যে কলঙ্ক মুছে ফেলা হয়েছে।”
সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলকে অন্ধকার সময় উল্লেখ তিনি বলেন, “জিয়ার আমলটা ছিল গভীর অন্ধকারে ঢাকা। যে সময়ের অনেক ইতিহাস মানুষের জানা নেই। বহু দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সেগুলো অন্ধকারে ঢাকা পড়ে গেছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে সে সব সত্য প্রকাশিত হওয়ার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি বলেন, “২০০ পৃষ্ঠায় এই পূর্ণ রায় ঘোষিত হলো। এটা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য, কেবল তৃতীয় বিশ্বের জন্য নয়। পুরো বিশ্বের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী, এটি মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি, এই বিচারে কর্নেল তাহেরের সঙ্গে যে সহ-অভিযুক্তরা ছিলেন, সেনা-বিমান বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর যারা অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন, তাদের সেই ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। আপনারা দেখেছেন রায়ে সে কথা উল্লেখ আছে।”
তিনি আরো বলেন, “এই রায়ে আরো উল্লেখ আছে, কর্নেল তাহের কোনো দেশদ্রোহী ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন মহান দেশপ্রেমিক।”
তিনি জানান, এই রায়ে আরো একজন সাংবাদিকের নাম রয়েছে, সেই মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফসুলজ। তিনি এখন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন। এই মানুষ তার যে বই রচনা করেছিলেন, আনফিনিশড রেভুলেশন, তাহেরস লাস্ট টেস্টামেন্ট। ভালোবাসায় আমরা তাকে স্মরণ করছি।
তাহেরে জীবন সঙ্গীনী লুত্ফা তাহের বলেন, “আমাদের পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্যই মুক্তিযোদ্ধা। তারা যুদ্ধের ময়দানে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধ করে তারা একটি দেশ নিয়ে এসেছেন। সেই দেশে জিয়াউর রহমান তাহেরকে হত্যা করেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে এসেছি। আজ এই রায়ে আমরা অত্যন্ত খুশি এবং আনন্দিত।”
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান চলে। এরই এক পর্যায়ে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের পর ১৯৭৬ সালের ১৭ জুলাই তাহেরসহ ১৭ জনকে সামরিক ট্রাইব্যুনালে গোপন বিচারের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়। এর চার দিন পর ২১ জুলাই ভোররাতে তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
২০১০ সালের ২৩ আগস্ট কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের, ভাই ফ্লাইট সার্জেন্ট আবু ইউসুফ খানের (বীর বিক্রম) স্ত্রী ফাতেমা ইউসুফ ও অপর ভাই ড. আনোয়ার হোসেন ওই বিচার চ্যালেঞ্জ করে প্রথম রিট দায়ের করেন।
ঢাকা: একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান জামীর বিরুদ্ধে প্রসিকউশনের ৮ম সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে তার জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মঙ্গলবর পর্যছন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি সাক্ষ্য দেন।
এদিকে সাক্ষ্য গ্রহণকালে লিডিং প্রশ্ন করায় বেশ কয়েকবারই আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে প্রসিকউটর মোহাম্মদ আলীর বাক-বিতণ্ড হয়।
প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীর লিডিং প্রশ্ন নিয়ে ট্রাইব্যুনালও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আপনি কি সাক্ষীকে জেরা করছেন নাকি বার বার প্রশ্ন করছেন। জেরা করা তো ডিফেন্সের কাজ।”
এরপর ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলামকে জেরা করতে বলেন।
জেরায় সাক্ষী বলেন, “নিজামী সাহেব কোথায় পড়ালেখা করেছেন তা আমার জানা নাই। একাত্তর সালের আগ পর্যনন্ত আমি কখনো নিজামীর বাড়িতে যায়নি।”
পরে জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যজক্রম আগামী কাল পর্য্ন্ত মুলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে নিজামীর বিরুদ্ধে সাতজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার মধ্যে একজন সাক্ষীকে বৈরি ঘোষণা করেছে প্রসিকউশন।
ঢাকা: আসন্ন বাজেটকে (২০১৩-২০১৪) সামনে রেখে জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৫৭তম বৈঠক আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা যায়, ২৮ মে দুপুর আড়াইটায় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের তৃতীয় তলায় ১ নম্বর স্থায়ী কমিটির কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ঠ সবাইকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএসই’র সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, “ডিএসই’র বাজেট নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৫৭তম বৈঠকে আমাদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। বৈঠকে আমরা পুঁজিবাজারের জন্য আমাদের বাজেট ভাবনা উপস্থিত করবো।”
ব্যাংকক: রোববার সকালে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ের আন্তর্জাতিক কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে দ্বিতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অতিথিরা। ছবি: বাসস/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: খিলক্ষেত থানা পুলিশ ১১ লাখ জাল টাকাসহ শ্রী সাধন চন্দ্র বর্মন নামে একজনকে গ্রেফতার করে। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুরে নেরিকা মিউট্যান্ট ধানের আবাদ হয়েছে একরে ১০৮ মন। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কারণে প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আয়োজনে “বাংলা সাহিত্যে লোকসংস্কৃতি ও লোকসঙ্গীতের প্রভাব” শীর্ষক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় অনুষদ ভবনে অবস্থিত বাংলা বিভাগের ১০৩ নম্বর কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান (রহমান হাবিব)-এর সভাপতিত্বে ও একই বিভাগের প্রভাষক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলের পরিচালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), সিলেটের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, বিশিষ্ট সুরকার ও গীতিকার শরদিন্দু ভট্টাচার্য। তিনি গান-বাজনা সহকারে আলোচ্য বিষয়ের ওপর মনোমুগ্ধকর আলোচনা উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইয়াসিন আলী, গাজী মো. মাহবুব মুর্শিদ, খোন্দকার আরিফা আক্তার, ড. মো. রবিউল হোসেন, প্রভাষক ইয়াসমিন আরা সাথী, তপন কুমার রায়, সাবিনা ইয়াসমিন এবং একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নয়া দিল্লি: মেরু অঞ্চল পরিষদে ভারতকে নেয়া হয়েছে পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ এর ফলে মেরু প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও অন্যান্য কাজকর্মের ব্যবস্থাপনায় ভারত তার বক্তব্য তুলে ধরতে পারবে আরো জোরালোভাবে৷
তেল, গ্যাস ও খনিজ পদার্থের মজুত ভাণ্ডার হিসেবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক তথা ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম৷
মেরু অঞ্চলে বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র খোলার পাঁচ বছর পর, কূটনৈতিক চেষ্টার পরিণামে মেরু অঞ্চল পরিষদ বা আর্কটিক কাউন্সিলে ভারত তার নিজের জায়গা করে নিল পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ অন্য আরো পাঁচটি দেশ চীন, জাপান, ইটালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরকে এই মর্যাদা দেয়া হয়েছে৷ আটটি স্থায়ী সদস্য দেশের কাউন্সিলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷
ক্যানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, রাশিয়া, ডেনমার্ক (গ্রিনল্যান্ড), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (আলাস্কা), আইসল্যান্ড ও সুইডেনকে নিয়ে গঠিত আর্টিক কাউন্সিল এই অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন ও তার অভিঘাত, মেরু প্রদেশের পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদের ধারাবাহিক সদ্বব্যবহার, জীব বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পারিপার্শ্বকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে৷ যদিও ঐসব সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা সীমিত৷
আর্কটিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ভারতে কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেন? মেরু অঞ্চলে ভারত তার অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক এবং ভূ-রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে৷ বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে যে ভারত ফেলনা নয়, আর্কটিক অঞ্চলেও সেকথা খাটে৷ ৮০-এর দশকে ভারত মেরু অঞ্চলে তার প্রথম বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে৷ যদিও বড় রকম প্রকল্প হাতে নেয়া সম্ভব হয়নি সীমিত সহায় সম্পদের কারণে৷ তবে আর্থিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সে বাধা কেটে যাবে৷ বৈজ্ঞানিক মেধার দিক থেকে বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দেবার ক্ষমতা রাখে ভারত৷ দিল্লি মনে করে, এই সবের পাশাপাশি ঐ অঞ্চলে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে৷ ভারতের নতুন উদ্যোগ হবে মেরু অঞ্চলকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখা৷
মেরু অঞ্চলকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে গত বছর জুন মাসে জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় অনুষ্ঠিত রিও আর্থ সম্মেলন৷ সেখানে ভারতের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, একবিংশ শতাব্দীর শেষে ভূ-তাপ বাড়বে ৩-৪ ডিগ্রি৷ এই উষ্ণায়নের প্রভাব অনুভূত হবে ভারতে, বিশেষ করে উত্তর ভারতে৷ মেরুপ্রদেশের বরফ গললে কার্বন ডাই অক্সাইডের শোষণ ক্ষমতা যাবে কমে৷ ফলে উষ্ণায়ন ক্রমশই বাড়তে থাকবে৷ বাড়বে সমুদ্রের জলস্তর, দেখা দেবে বন্যা৷ বিপন্ন হবে ভারতের কোটি কোটি মানুষের জানমাল৷ মেরু অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষার যোগ আছে৷ বর্ষার সঙ্গে যোগ আছে কৃষির৷
চির তুষারাবৃত মেরু এলাকার কিছু অংশ ছাড়া পুরো আর্টিক অঞ্চলের ওপর সার্বভৌম অধিকার কোনো দেশের নেই৷ তুন্দ্রা অঞ্চল ছাড়া গাছপালা বিবর্জিত বিশাল নির্জন এই হিমায়িত এলাকার গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ৪০-৫০ ডিগ্রি নীচে৷ পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, মেরু সাগর দিয়ে শিপিং রুট খোলা ইত্যাদি নিয়ে কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য দেশের কয়েক শো বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন কীভাবে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করা যায়৷ বরফের নীচে জমা মিথেন গ্যাস নির্গমন রোধ করা যায়৷ মিথেন গ্যাস নির্গত হতে পারে মেরু বরফ সংকোচনের ফলে৷ তাতে উষ্ণায়ন বাড়বে দ্রুতগতিতে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
হাম্বুর্গ: ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন আয়েবা দেশে বিদেশে বাংলাদেশীদের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার জার্মানির বন্দরনগরী হাম্বুর্গে আয়েবার ২য় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
আগামী দিনে ইউরোপের প্রতিটি দেশে আয়েবার কর্মসূচি প্রসারিত করার পাশাপাশি ইউরোপিয়ানদের ইন্টিগ্রেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লা ইনুর পরিচালনায় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, গ্রিস,পর্তুগালের এবং জার্মানির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়েবার সব কার্যক্রম বাস্থবায়নে সহায়তার জন্য আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
আয়েবার সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত উল্লা মানুষের কল্যাণে কিভাবে কাজ করলে সমাজের উন্নয়ন হয় সেই বিষয়টি তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। তিনি জানান, গ্রিসে মালিক পক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউরোপিয়ান পারলামেন্টের সদস্যরা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর মালিক পক্ষের অমানবিক নির্যাতনে ও তারা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা রানা প্লাজায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের ধস নামার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আয়েবাকে।
তিনি বলেন, “গ্রিসে বাংলাদেশী আহত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে ইউরোপিয়ান পারলামেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে ইউরোপিয়ান পারলামেন্ট মেম্বার জেনা লাম্বেরতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিবয় হয়।
হাম্বুর্গের আয়েবা নির্বাহী কমিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের আয়োজক সরফ উদ্দিন জুয়েল। জার্মান বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নজরুল ইসলাম, আয়েবার কোষাধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান মুহিব, ফখরুল আলম সেলিম, লুৎফুর রহমান, জার্মান ও ইউরোপের বিভিন্ন কমিউনিটির ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
ঢাকা: রাজনৈতিক সভা সমাবেশ নিষেধের প্রতিবাদে বাম মোর্চা ও বাসদ মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সোমবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে সেগুন বাগিচার তোপখানা মোড় থেকে মিছিল বের করে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও বাসদ। মিছিলটি কিছু দূর এগিয়ে প্রেসক্লাবে দিকে যেতে চাইলে পুলিশ মিছিলকারীদের বাধা দেয়। মিঠিলকারীরা বাধা অতিক্রম করে যেতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তা ছত্রভঙ্গ করে। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে বামমোর্চা ও বাসদের বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী আহত হন।
মিছিলের নেতৃত্ব দেন গণতান্ত্রিক বামমোর্চার সম্বনয়কারী মোশারেফা মিশু ও বাসদের সদস্য ফখরুদ্দিন হাফিজ।
রাওয়ালপিন্ডি: পাকিস্তানের সাবেক সেনা শাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফকে বেনজির হত্যা মামলায় জামিন দিয়েছে রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাস বিরোধী আদালত।
সোমবার আদালত এই নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট মুশাররফের বিরুদ্ধে চলা বিশ্বাসঘাতকতা মামলাসহ অন্যান্য মামলা মুলতুবি করেছে।
বিচারপতি হাবিবুর রহমান জানান, সাবেক সেনাশাসক জেনারেল মুশাররফ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। তাকে জামানত হিসেবে বিশলাখ রুপি জরিমানা করা হলো।
তবে বেলুচ নেতা আকবর খান বুগতি হত্যা মামলা চলমান থাকায় এখনই ছাড়া পাচ্ছেন না মুশাররফ।
বর্তমানে চাক শাহজাদে নিজের খামার বাড়িতে গৃহবন্দী আছেন মুশাররফ।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালে এক জনসভায় গুলি এবং বোমা হামলায় নিহত হন। মুশাররফের বিরুদ্ধে বেনজিরকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান না করার অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে ক্ষমতায় থাকাকালীন বিচারপতিদের গৃহবন্দী রাখা এবং সংবিধান বিরোধী আচরণ করায় মুশাররফের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সূত্র: ডন, আলজাজিরা।
কলকাতা: বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা করানো নিয়ে বিতর্কে জড়ালেন সারদার সেকেন্ড ইন কমান্ড দেবযানী মুখার্জি। শনিবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনি ও রবি দুদিনে তার চিকিৎসা খরচ বাবদ বিল হয়েছে বত্রিশ হাজার টাকা। চিকিৎসা বাবদ খরচ দিতে অস্বীকার করেছে দেবযানী মুখার্জির পরিবার। পুলিসের তরফেও হাসপাতালে টাকা দেয়া হয়নি। সরকারি হাসপাতালে রেখে কেন চিকিত্সা করানো হল না দেবযানী মুখার্জির তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে? ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে রেখেই বা কেন দেবযানী মুখার্জির চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
এদিকে, ২২ মে পর্যন্ত দেবযানী মুখার্জিকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল বিধাননগর আদালত। সোমবার দেবযানী মুখার্জির বিরুদ্ধে দায়ের করা ছটি মামলার শুনানি হয়। তিনটি মামলায় ২২ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বাকি দুটি মামলায় ২৩ মে ও একটি মামলায় ৩১ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার বিধাননগর আদালতের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন দেবযানী মুখার্জি।
তার আইনজীবীর অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও বিধাননগর পুলিশ জোর করে আজ আদালতে পেশ করে দেবযানীকে। সেই কারণেই ফের শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন দেবযানী। সারদাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত দেবযানীকে শনিবারই বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করার কথা ছিল। তবে অসুস্থতার কারণে তাকে সেদিন আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার সকালে বমি, পেটব্যথা, ডিহাইড্রেশন এবং ইউরিনের সমস্যা নিয়ে সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন সারদার সেকেন্ড ইন কমান্ড দেবযানী মুখার্জি। সোমবার হাসপাতাল থেকেই দেবযানীকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে আজই নিউটাউন থানায় সুদীপ্ত সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের বিশেষ টিম। তবে এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিশের তরফের কেউই উপস্থিত হতে পারেননি। সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: ১৫ সম্পাদকের দেয়া বিবৃতির নিন্দা জানানোর কারণে তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, “ইনু সাহেব জীবনে প্রথম এমপি হয়েছেন। নিজের দলের টিকেটে নয়, কয়েকদিনের জন্য মন্ত্রীও হয়েছেন। হেফাজতের সমাবেশে মানুষ হত্যা হয়েছে, আপনি কিছু বলেননি। আপনি অন্ধ হয়ে গেছেন। আপনি মনে করছেন এদেশে একটি মাত্র সরকার ক্ষমতায় থাকবে। আপনি বেসামাল হয়ে গেছেন। অতীতেও প্রেস ক্লাব থেকে তথ্যমন্ত্রী বিতাড়িত হয়েছেন। আপনাকেও কেউ রক্ষা করতে পারবে না। আমরা আপনাকে এর জবাব দেব।”
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ান, যমুনা টিভি ও শীর্ষ নিউজ বন্ধের প্রতিবাদে ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
সভা-সমাবেশ বন্ধ করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে গাজী বলেন, “সংবিধানের কোন ধারা বলে আপনি এক মাসের জন্য দেশে সভা-সমাবেশ বন্ধ করেছেন। আপনি ’৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হয়ে গণহত্যা চালিয়েছেন। আপনি ’৭১-এ রাজাকার ছিলেন। এখন আবার গণহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। আপনাকে এ জাতি চেনে। আপনি বাঁচতে পারবেন না। বাংলার মুক্তিকামী মানুষ আপনাকে এর জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।”
পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে খেলতে আসবেন না। নিস্তার পাবেন না। অতীতে আমরা মার্শাল ল’, জরুরি অবস্থা ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছি। আমাদের আন্দোলন চলবেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত।”
সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিয়ে কথা বলবেন না। আপনারা এদেশের দুর্নীতি, গণতন্ত্র নস্যাৎকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলুন। গণতন্ত্র নস্যাৎকারীদের বিরুদ্ধে কথা বললে ধরে নেব আপনারা দেশের স্বার্থে কথা বলছেন। আর যদি না বলেন ধরে নেব আপনারা দলবাজি করছেন। আর দলবাজি করলে এদেশের সাংবাদিক সমাজ আপনাদের কথা শুনবে না।”
কোন আইনে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সরকারের কাছে জানতে চেয়ে বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, “গতকাল সরকার ঘোষণা দিয়েছে সারা দেশে এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। শেষ সময়ে এসে সরকার উন্মাদ হয় জানি। কিন্তু এমন উন্মাদ হতে অতীতে কোনো সরকারকে দেখা যায়নি।”
তিনি বলেন, “আমরা সরকারের গদি নিয়ে কাড়াকাড়ি করিনি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে নেমেছি। এ সরকার সাংবাদিকদের ওপর চরম অত্যাচারের যে নজির সৃষ্টি করেছে অতীতে এমন আর দেখা যায়নি। হেফাজতের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের সংবাদ প্রচার করায় সরকার দিগন্ত টিভি বন্ধ করেছে।”
মিডিয়া বন্ধের প্রতিবাদে ১৫ জন সম্পাদকের বিবৃতির নিন্দা জানিয়ে সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের পাল্টা বিবৃতিকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ধিক তাদের ধিক। স্বাধীনাতর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। কিন্তু তারা আজ কী করলেন। আমার ভাবতে লজ্জা লাগছে।”
তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংবিধানবিরোধী কাজে মেতে উঠেছেন বলে মন্তব্য করে ডিইউজের একাংশের সভাপতি আবদুস শহিদ বলেন, “আমরা সাংবাদিকরা রাস্তা থেকে উঠতে পারছিলাম না। আমরা সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নেমেছিলাম। আমাদের যখন আন্দোলন চলছে তখন সরকার একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ করে দিচ্ছে। সারা দেশে এখন মানবাধিকার হত্যা চলছে।”
ডিইউজের একাংশের সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন বলেন, “স্বাধীন একটি দেশে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপরাধে আমি তথ্যমন্ত্রীর নিন্দা জানাই। আমি সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের নিন্দা জানাই। ’৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করার জন্য যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন আজকে তারা কোন ক্ষমতাবলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন? আমি বিবেকের তাড়নায় হলেও তাদের মিডিয়ার পক্ষে অবস্থানের আহ্বান জানাচ্ছি।”
গণমাধ্যম বন্ধের মধ্য দিয়ে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে বলে মন্তব্য করে ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, “দেশে এখন দুঃসময়। সরকার এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এসব নিপীড়নের মধ্য দিয়ে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। কেউ এ সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না। এ নিপীড়নের মধ্যে সরকারের রাজাকার ও পাগল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।”
মিডিয়া বন্ধ করে অপকর্ম ঢাকা যায় না। তাই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়ে কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, “অনেক হয়েছে। এবার দয়া করে জাতির ঘাড় থেকে নামুন। দয়া করে জনগণকে মুক্তি দিন।”
ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ আকন্দ বলেন, “এ সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া সবগুলো মিডিয়া খুলে না দেয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
অবস্থান কর্মসূচিতে ডিইউজের সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, ডিইউজের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. খুরশিদ আলম, ডিইউজের কোষাধ্যক্ষ জহিরুল হক রানা, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আক্তার ইকবাল, নয়া দিগন্তের ইউনিট প্রধান হাসান শরিফ, সংগ্রাম ইউনিট চিফ শহিদুল ইসলাম, আমার দেশ পত্রিকার ইউনিট চিফ বাশির জামালসহ বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা এতে বক্তব্য রাখেন।
মুম্বাই: প্রথম বারের মতো কোনো বলিউডি তারকার জীবনী স্থান পেল পাঠ্যসূচিতে। আত্মবিশ্বাসী, ঝলমলে প্রিয়াংকা চোপড়ার জীবনী পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে সংযোজন করা হলো।
সম্প্রতি ধাওলাকোনের স্প্রিংডেল স্কুলের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিগি। সেখানেই এই সারপ্রাইজের মুখোমুখি হন এ আবেদনময়ী তারকা।
পিগির জীবন চলন্ত এক ট্রেনের মতো। কোনো জায়গায় থেমে নেই, চলছে তো চলছেই। বেরিলি থেকে শুরু করে লখনৌ, মুম্বাই, নিউটন, ম্যাসাচুয়েট, আইওয়াতে বেড়ে উঠেছেন পিগি। অবশ্য সেনা পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ ঘটেছে তার। আর তার জীবনের অন্যতম গুরত্বপূর্ণ মুহূর্ত ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০০০’ হওয়ার ঘটনা স্থান পেয়েছে বইয়ের অধ্যায়ে। ‘রোভিং ফ্যামেলি, শিফটিং হোমস’ নামে বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের টাইটেলের নামকরণ করা হয়েছে।
স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল ডা. জয়তী বোস বলেন, “আমরা সামগ্রিক বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে বইটি করেছি। এমনকি প্রিয়াংকাকেও আগে থেকে জানানো হয়নি বিষয়টা। প্রিয়াংকাকে চমক দেয়ার জন্যই এমনটা করা হয়েছে।” সূত্র:জিনিউজ
কলকাতা: মীরাক্কেলে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল ও ক্রিকেটারদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার ঘটনায় ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল জি বাংলার ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে ‘এ গ্রুপ অব বাংলাদেশী হ্যাকটিভিস্ট’ নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ।
জি বাংলার ওয়েবসাইটের হোমপেইজ হ্যাক করে সেখানে মীরাক্কেলকে ‘না’ বলার আহ্বান জানানো হয়েছে। হোম পেইজের কালো প্রচ্ছদপটে লাল হরফে লিখে দেয়া হয়েছে ‘হ্যাকড বাই ফোর্স এক্স’।
মীরাক্কেল অনুষ্ঠানটির মূল পরিকল্পনাকারী ও সঞ্চালক মীরের ছবিকে ‘ক্রস’ চিহ্নিত করে বলা হয়েছে- “সে নো টু মীরাক্কেল”।
হ্যাকরারা অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও জি বাংলাকে সতর্ক করে বলেছে, “শেইম অন ইউ মীরাক্কেল বেয়াক্কেল লুজারস। ডোন্ট এভার ডেয়ার টু মেইক কমেডি অফ আওয়ার ক্রিকেটার্সর। আওয়ার ক্রিকেটার্স আর আওয়ার প্রাইড।”
উল্লেখ্য, জামিল আহমেদ নামে পাবনার এক প্রতিযোগী সম্প্রতি মীরাক্কেলের একটি পর্বে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে নিয়ে রসিকতা করেন। ওই উপস্থাপনার জন্য যৌথভাবে ওই দিনের সেরা পারফরমারের পুরস্কারও পান জামিল। বুধবার রাতে জি বাংলায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হওয়ার পর জামিলের ভিডিওটি শেয়ার হতে থাকে ফেসবুকে, সমালোচনায় ফেটে পড়েন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
কলম্বো: চা ছাড়া বাঙালির আড্ডা যেন জমেই না৷ তাই তো কোথাও বেড়াতে গেলে চা চা-ই চাই৷ অনেকে আবার সকালে ঘুমে থেকে উঠে শোয়ার ঘরেই পান করেন চা৷ এবার, সেই বেডরুমেই চায়ের ‘বিশেষ’ উপকারের কথা জানা যাচ্ছে৷
খবরটি এসেছে শ্রীলঙ্কা থেকে, যারা চা উৎপাদন ও রফতানিতে বিশ্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি দেশ। সেখানকার জিডিপি'র প্রায় ১২ শতাংশ আসে চা রফতানি থেকে৷ গত বছর এই খাত থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল শ্রীলঙ্কা৷
তবে দেশটির রফতানিকারকরা মনে করছেন চা রফতানি থেকে আয়ের পরিমাণ প্রায় চারগুণ বাড়ানো সম্ভব৷ এজন্য অনেক কোম্পানি নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে৷ যার একটি হচ্ছে, চায়ের অপ্রকাশিত একটি গুণ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালানো৷
শুধু মনকে সতেজ করাই নয়, শ্রীলঙ্কার চা কামনাশক্তিও বাড়ায় – এই তথ্যটি সারা বিশ্বে প্রচার করতে চাইছেন অনেক রফতানিকারক৷
বিশেষ করে ‘সিলভার টিপস' ও ‘গোল্ডেন টিপস' নামের ‘হোয়াইট টি’ মানে সাদা রংয়ের চা পাতার মধ্যে বিশেষ এই গুণটি রয়েছে বলে জানান রোহান ফার্নান্ডো৷ তিনি শ্রীলঙ্কার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চা রফতানিকারক এইচভিএ ফুডস কোম্পানির মালিক৷
তিনি বলেন, হোয়াইট চা তৈরি করতে গাছের একেবারে কচি কুঁড়িগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোর রং সাদা বা সোনালি না হওয়া পর্যন্ত রোদে শুকানো হয়৷
চীনা ব্যবসায়ী এবং সৌদি আরব ও জাপানের ধনকুবেরদের কাছে এই চা দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানান ফার্নান্ডো৷
অবশ্য হোয়াইট টি পান করলে যে শুধু যৌনশক্তি বাড়ে তা নয়, এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলোর কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে৷ রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায়ও ঠিক থাকে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী৷ তাঁর ১৫০তম জন্মদিন ১২ মে ৷
বাংলা শিশুসাহিত্যে উপেন্দ্রকিশোরের অসামান্য অবদানের কথা সবার জানা থাকলেও, তাঁর ছবি আঁকা, ফোটোগ্রাফি চর্চা, বা প্রসেস শিল্পে হাফটোন ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে অসামান্য মৌলিক গবেষণার কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছে খুবই কম৷ এদেশে যখন ছবি ছাপার ক্ষেত্রে কাঠখোদাই ও ধাতুখোদাই-এর প্রযুক্তিই শেষ কথা, তখন উপেন্দ্রকিশোর একাই এই জগতে সূচনা করেছিলেন সম্পূর্ণ নতুন একটি যুগের৷
ইলাস্ট্রেশনের কাজে হাত দেওয়ার অনেক আগে থেকেই তেল ও জলরঙে ছবি আঁকতেন তিনি৷ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও শিলাইদহের কুঠিবাড়ির জন্য উপেন্দ্রকিশোরের আঁকা ছবি সংগ্রহ করেছিলেন৷ পুরোপুরি ইওরোপীয় টেকনিকেই ছবি আঁকতেন উপেন্দ্রকিশোর৷ সত্যজিতের ভাষায়, 'খাস বিলিতি কায়দায় তেল রং, জল রং, কালি কলমে ছবি এঁকেছেন৷' ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে পৌরাণিক ঘটনা ও প্রাচীন ইতিকথার চরিত্র, এই সব কিছুই ছিল তাঁর ছবির বিষয়৷ যদিও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথাগত ভাবে ছবি আঁকা শেখেননি তিনি, কিন্ত্ত আশ্চর্যের ব্যাপার তা বোঝার কোনওরকম উপায়ই নেই৷ নিজের চেষ্টায় এতটাই নিখুঁত ভাবে তিনি শিখে নিয়েছিলেন ড্রয়িং, অ্যানাটমি এবং ছবি আঁকার প্রকরণগত অন্যান্য ক্রিয়াকৌশল৷
উপেন্দ্রকিশোরের পেন্টিংগুলো কোথায় কী ভাবে আছে বা আদৌ আছে কি না সেটা বলা কঠিন, কিন্ত্ত তাঁর অমর শিশুসাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গে চিরদিনের জন্য থেকে গিয়েছে তাঁর অসামান্য কিছু ইলাস্ট্রেশন, যা গোটা বাঙালি জাতি কোনও দিনও ভুলতে পারবে না৷
গ্রন্থচিত্রণের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন নিজের লেখাকে কেন্দ্র করেই৷ তাঁর লেখা 'সেকালের কথা', 'ছেলেদের রামায়ণ', 'ছেলেদের মহাভারত', 'টুনটুনির বই', 'ছোট্ট রামায়ণ'-এর ছবি ছাড়াও এঁকেছেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'সচিত্র সন্তকাণ্ড রামায়ণ', সীতা দেবী ও শান্তা দেবীর 'হিন্দুস্তানী উপকথা', সীতা দেবীর 'নিরেট গুরুর কাহিনী' ও রবীন্দ্রনাথের 'নদী' কবিতার ছবি৷ এ ছাড়াও রয়েছে ১৯১৩-তে তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় ছোটদের বিখ্যাত মাসিকপত্র 'সন্দেশ'-এর জন্য আঁকা অজস্র ইলাস্ট্রেশন৷
এই 'সন্দেশ' পত্রিকাটি থেকেই খুঁজে পাওয়া যায় উপেন্দ্রকিশোরের প্রতিভার সম্পূর্ণ পরিচয়৷ সম্পাদনা করা ছাড়াও, প্রচ্ছদ ও অন্যান্য ছবি আঁকা থেকে শুরু করে কবিতা, গল্প, পুরাণের কথা, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, ধাঁধা ও হেঁয়ালি রচনা, ব্লক মেকিং ও প্রিন্টিং সবই হত তাঁর হাত দিয়ে৷ 'সন্দেশ'-এর আগে ছোটদের জন্য যে সব পত্রিকা বেরিয়েছে সেগুলোর ছবি অথবা ছাপা কোনওটাই ততটা চিত্তাকর্ষক ছিল না৷ এ দেশে 'সন্দেশ'-ই প্রথম ছোটদের কাগজ, যেখানে রঙিন ছবি ছাপা হয়৷
ইউরোপীয় কেতায় ছবি আঁকলেও উপেন্দ্রকিশোরের ইলাস্ট্রেশনে যে আশ্চর্য বাঙালিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায় তা তাঁর আগে অন্য কোনও গ্রন্থচিত্রীর কাজে দেখা যায়নি৷ এ ছাড়া তাঁর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অপূর্ব রসবোধ যে তাঁর কাজগুলোকে সময়ের থেকে আরও অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ এ প্রসঙ্গে সত্যজিৎ লিখেছেন, 'ইলাস্ট্রেটর হিসেবে উপেন্দ্রকিশোরের কাজে যে দক্ষতা ও রীতিবৈচিত্র্য দেখা যায় তার তুলনা ভারতবর্ষে নেই৷... পৌরাণিক গল্পের ছবিতে হাস্যরসের তেমন সুযোগ নেই৷ কিন্ত্ত সেখানেও --- হয়তো শিশুদের কথা চিন্তা করেই --- দৈত্য দানব রাক্ষস পিশাচের চেহারা আঁকতে উপেন্দ্রকিশোর ভয়ঙ্কর রসের সঙ্গে হাস্যরস মেশাতে দ্বিধা করেননি৷' তাঁর নিজের ও অন্যান্যদের বইয়ের সঙ্গে সব মিলিয়ে অন্তত শ'খানেকের মতো হাফটোন ছবি এঁকেছিলেন তিনি৷ যার মধ্যে বেশ কিছু রঙিন ছবিও ছিল৷ ইদানীং পুনর্মুদ্রণের সময় উপেন্দ্রকিশোরের লাইন ড্রয়িংগুলো ছাপা হলেও হাফটোন ছবিগুলোর অধিকাংশই আর ছাপা হয় না৷ এটা অত্যন্ত দুঃখের৷ উপেন্দ্রকিশোরের রচনার এতগুলো সংস্করণের মধ্যে অন্তত একটি মূলানুগত সংস্করণ অবশ্যই থাকা উচিত৷
১৮৯৫ সাল নাগাদ বিদেশ থেকে প্রসেস ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে হাতে কলমে কাজ শুরু করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ ফোটোগ্রাফি ও হাফটোন ছবি ছাপার করণকৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন তারও অন্তত দশ বছর আগে থেকে৷ হাফটোন নিয়ে উপেন্দ্রকিশোরের গবেষণা মূলত প্রসেস ক্যামেরাকে কেন্দ্র করেই৷ নেগেটিভের মানকে কী ভাবে আরও উন্নত করা যায় তা নিয়ে কত রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে করে গিয়েছেন তার কোনও শেষ নেই৷ এই নিরন্তর গবেষণার ফল হিসেবে দেখা যায় বিলেতের বিখ্যাত প্রিন্টিং-এর পত্রিকা 'পেনরোজ অ্যানুয়াল'-এ একটির পর একটি তাঁর লেখা প্রবন্ধ৷ মোট ন'খানা প্রবন্ধ লিখেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর পেনরোজ অ্যানুয়েলে, যেগুলো একে একে প্রকাশ হতে শুরু করা মাত্রই তখনকার বিলেতের ছাপাখানার জগতে হইচই পড়ে গিয়েছিল৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই মৌলিক গবেষণা ও আবিষ্কারকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছিলেন পেনরোজ কর্তৃপক্ষ৷ এমনকী তাঁর পদ্ধতি অবলম্বন করে লন্ডনে ছাপার কাজও শুরু হয়ে যায়, যা সুকুমার রায় বিলেতে গিয়ে নিজের চোখেই দেখে এসেছেন৷
ভাবতে অবাক লাগে অত বছর আগে একজন বত্রিশ বছর বয়সী বাঙালি যুবক ছোট একটা ভাড়া বাড়িতে বসে, সামান্য কিছু উপকরণ নিয়ে শুধু নিজের অসামান্য প্রতিভার জোরে কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন৷
নিজের লেখা বই বা অন্যান্য যাঁদের বইতে উপেন্দ্রকিশোর ছবি এঁকেছেন, সেগুলো ছাপা যেখানেই হোক না কেন, ছবিগুলোর ব্লক করেছেন তিনি নিজেই৷ একমাত্র যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সিটি বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত 'ছেলেদের রামায়ণ'-এর প্রথম সংস্করণটি ছাড়া৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই বইটিতে তাঁর নিজের আঁকা ছবির ব্লক খুবই খারাপ হয়েছিল৷ পরবর্তী সংস্করণে অবশ্য তিনি নিজে আবার নতুন ভাবে ব্লক করেন৷ প্রথম দিকে 'সখা ও সাথী', 'মুকুল', 'প্রদীপ'--- এই সব পত্রিকার জন্য বহু ছবির ব্লক তৈরি করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ এ ছাড়াও বিশেষ ভাবে এসে পড়ে প্রবাসী পত্রিকার কথা৷ এখানেই উপেন্দ্রকিশোর প্রথম ডুয়োটাইপ পদ্ধতিতে ছবি ছাপা শুরু করেন৷ এক রঙের হাফটোন ছবিকে দু'টো ব্লকের সাহায্যে এ ভাবে ছাপার পদ্ধতি এ দেশে প্রথম চালু করেন উপেন্দ্রকিশোরই৷
হাফটোন ব্লকের উৎকর্ষ যে কী পর্যায়ে যেতে পারে, তার একটি অসামান্য উদাহরণ রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি'-র প্রথম সংস্করণ৷ এই বইতে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা চব্বিশটি ছবির হাফটোন ব্লক তৈরি করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর৷ আজকের মুদ্রণ শিল্পের এই আকাশছোঁয়া উন্নতির যুগেও ওই মানের কাজ কল্পনা করা যায় না৷
১৯১০ -এ উপেন্দ্রকিশোর তাঁর প্রতিষ্ঠান U Ray Artist-এর নাম বদলিয়ে রাখলেন U Ray & Sons৷ যা আজ বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার গৌরবময় ইতিহাসেরই অন্য আর একটি নাম৷ এর পর মাত্র পাঁচ বছর বেঁচেছিলেন তিনি৷ মাত্র বাহান্ন বছরের একটি জীবনে সৃজনশীলতার এই বহুমুখী প্রকাশের কথা ভাবলে আজও আমাদের বিস্মিত হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না৷