ঢাকা: রাজধানী ঢাকায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন,তা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হবার পরে তিনি তার আগের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র ...
ঢাকা: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিপ্রদান সংক্রান্ত যেসব সুপারিশ জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা হয়েছে সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদন ...
ঢাকা: রাজধানীতে সব ধরণের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় থাকার শেষ অস্ত্র ছেড়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার।
তিনি বলেন, “তাদের (সরকার) কাছে আর ...
ঢাকা: আমার দেশ সম্পাদকের মুক্তি ও বন্ধ মিডিয়া চালুর দাবিতে ১৫ সম্পাদকের দেয়া বিবৃতিতের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, “আমার মনে হয় তারা না বুঝে, না জেনে এই বিবৃতি ...
ঢাকা: রাজধানীর মতিঝিল থানার দুই মামলায় লালবাগ শাহী মসজিদের খতিবসহ হেফাজতে ইসলামের তিন নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
হেফাজতের তিন নেতা হলেন লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব ...
ঢাকা: রাজধানীতে সব ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধে সরকারের সমালোচনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা অসাংবিধানিক। সরকারের মধ্যে আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “মহাসেনের ...
যশোর: বদলে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়ের পাঠ্যক্রম ও নম্বর বন্টন। এ বছর থেকেই এক হাজার ২০০ নম্বরের পরিবর্তে এক হাজার ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়া হবে। নতুন শাখা হিসেবে ইসলাম শিক্ষা ...
ঢাকা: তামাকজাত দ্রব্য সেবনের কারণে মানুষের শরীরে আটটি রোগের সৃষ্টি হয়। এসব রোগের কারণেই প্রতিবছর বাংলাদেশে ৫৭ হাজার মানুষ মারা যায় এবং প্রতি ছয়টি মৃত্যুর মধ্যে একটি মৃত্যু হয় তামাকের কারণে। ...
ঢাকা: সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মূল আসামি করে কর্নেল তাহের হত্যার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।
সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর করেন দুই বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ...
ঢাকা: এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করায় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, “মুচলেকা বা দাসখত দিয়ে বিএনপি রাজনীতি করবে না। একটি ...
ঢাকা: এবার বাস্তবেই বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখাচ্ছে রূপকথা। পুরো নাম ওয়াসিক ফারহান রূপকথা। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে গিনেস বুকে নাম উঠতে যাচ্ছে সাত বছরের এই শিশু। স্কুলে পা ...
নয়া দিল্লি: যে সাহস এখনও দেখাতে পারেনি শ্রীনিবাসনের বোর্ড, আজ সেটাই করে দেখাল রাজস্থান রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজি!
লোধি রোডে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলে এসে রাহুল দ্রাবিড়ের দলের মালিক আর মালকিন রাজ কুন্দ্রা এবং শিল্পা শেট্টি স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত তাদের তিন ক্রিকেটার শান্তাকুমারন শ্রীসন্থ, অজিত চান্ডিলা ও অঙ্কিত চহ্বাণের নামে টিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফআইআর করে যান। দিল্লিতে আসার আগেই শিল্পারা এদিন জয়পুরে দলের অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ওই তিন ক্রিকেটারের সঙ্গে রাজস্থান রয়্যালসের চুক্তি বাতিল করেন।
দেশের এক জন টেস্ট প্লেয়ার-সহ তিন-তিন জন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এফআইআর করার পর বলিউড নায়িকা এই প্রতিবেদককে বললেন, “দিল্লি পুলিশ শ্রীসন্থদের কুকীর্তি ফাঁস করার পরমুহূর্তেই আমরা ওই তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এফআইআর করব ভেবেছিলাম। কিন্তু পরে চিন্তা করলাম, বোর্ডের সঙ্গে কথা না বলে এই পদক্ষেপ নেয়াটা ঠিক হবে কি না। তাই এফআইআর করতে পাঁচ দিন কেটে গেল।” উত্তেজিত শিল্পা আরও বললেন, “ওই তিন ক্রিকেটার আদালতে জামিনের আবেদন করলেও আমাদের আইনজীবী তার বিরোধিতা করবে।”
এই কড়া সিদ্ধান্তটাও কি আপনারা বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়েছেন? শিল্পার জবাব, “ঠিক তা নয়। তবে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে আমাদের দলের বদনাম হওয়ার জন্য এমনিতেই ওই ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করতাম। তার পর বোর্ড কর্তারাও একই পরামর্শ দিলেন।” আর অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটার দোষী প্রমাণিত হলে? শিল্পার মুখ এবার রাগে লাল। বললেন, “ওদের চিরতরে নির্বাসন দিতে পারলে খুব ভালো হতো। তবে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিন জনেরই চুক্তি বাতিল করেছি। এর পর দেখি পুলিশ আর ক্রিকেট বোর্ড কী করে।” স্পট-ফিক্সিং নিয়ে এ দিন সুপ্রিম কোর্টেও একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে।
এ দিকে শ্রীসন্থের অবস্থা ভাঙবেন তবু মচকাবেন না গোছের। শ্রীসন্থ এ দিন তার আইনজীবীর ‘পারফরম্যান্স’-এ অখুশি হয়ে তাকে পাল্টেই ফেললেন! অনেকেই মনে করছেন, শিল্পারা যে দিল্লি এসে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করলেন, কিছুটা হলেও সে কারণে এই পদক্ষেপ শ্রীসন্থের।
কেরলের এই ক্রিকেটার অবশ্য ক্রমেই আরও জালে জড়িয়ে পড়ছেন। গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন রঞ্জি ক্রিকেটার বাবু রাও-ও এদিন পুলিশি জেরার মুখে শ্রীসন্থকেই দায়ী করেছেন তাকে স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে জড়ানোর জন্য। পুলিশের সামনে বাবু রাও আরও কবুল করেছেন, তার ও মনীশ গুড্ডেওয়ারের চান্ডিলার সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে। যার ফলে তারা মিলেমিশেই স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য জুনিয়র ক্রিকেটারদের টোপ দেয়ার কাজ করতেন।
মুম্বাই ও দিল্লি পুলিশের চিরুনি তল্লাশিতে শ্রীসন্থ ও চান্ডিলার নামই ঘুরে-ফিরে আসছে। পুলিশের ধারণা, এই দু’জনই সম্ভবত স্পট ফিক্সিংয়ের ‘কিং পিন’ ক্রিকেটার। দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের তদন্তকারীরা এ দিন শ্রীসন্তের ‘ভয়েস টেস্টিং’-এর জন্য তাকে সিএফএলএল দফতরেও নিয়ে যান। মুম্বাই পুলিশ আবার শ্রীসন্তের ল্যাপটপ থেকে বারো জন মহিলা এসকর্টের ছবি দিল্লিকে পাঠিয়েছে আজ। এদের মধ্যে বলিউডের কিছু স্বল্পনামী নায়িকাও আছেন বলে দিল্লি পুলিশের খবর। তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি দেখিয়েই বুকি জিজু ক্রিকেটারদের ব্ল্যাক মেল করে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়াতেন কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে সব ‘কাস্টিং ডিরেক্টর’ এই মহিলাদের শ্রীসন্তদের কাছে পৌঁছে দিতেন, তাদেরও ধরেছে দিল্লি পুলিশ। এমন এক জন মহিলা ও এক জন ‘কাস্টিং ডিরেক্টর’কে এ দিনই শ্রীসন্থ-চান্ডিলাদের সামনে বসিয়ে জেরা করেছে পুলিশ।
এ দিনই চান্ডিলাকে সঙ্গে নিয়ে ফরিদাবাদে তার পিসির বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে চান্ডিলার একটি ক্রিকেট কিট থেকে মেলে নগদ ২০ লক্ষ টাকা। উদ্ধার হয় তিনটে মোবাইল, একটি ল্যাপটপও। দিল্লি পুলিশ সঞ্জয় দুবে নামের পূর্ব দিল্লির এক বুকিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে, আইপিএল সিক্সে মোট আঠারোটি ম্যাচ ‘ফিক্স’ করিয়েছে করাচি ও দুবাইয়ের ডি-কোম্পানি। তাদের মাধ্যম ছিল দিল্লি, মুম্বাই, চন্ডিগড়, চেন্নাই, জয়পুর, হায়দরাবাদ কলকাতা বলতে গেলে গোটা ভারতের বুকিরা। সূত্র: ওয়েবসাইট।
ব্যা্ংকক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বজুড়ে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনকে ২০১৫ সাল-উত্তর জাতিসংঘের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মূল এজেন্ডায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘পানি ও মানবাধিকার এখন আন্তসম্পর্কিত এবং অর্থনীতি, পরিবেশ ও সামাজিক স্বার্থের জন্য টেকসই পানিসম্পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যে বিশ্বজুড়ে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনকে জাতিসংঘের ২০১৫ সাল-উত্তর উন্নয়নের মূল এজেন্ডায় পরিণত করতে হবে এবং তা হতে হবে বৈষম্যহীন ও সমতার ভিত্তিতে।’
প্রধানমন্ত্রী রোববার সকালে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ের আন্তর্জাতিক কনভেনশন এন্ড এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত দ্বিতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনের (২এপিডব্লিউএস) উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণকালে এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের ৭০০ কোটি জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বাস এশিয়ায়। কিন্তু ২০৩০ সাল নাগাদ এশিয়া প্রশান্তসাগরীয় অঞ্চলে পানির চাহিদা ও সরবাহের ব্যবধান দাঁড়াবে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
প্রধানমন্ত্রী এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে জরুরি নজর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সূত্র: বাসস
ঢাকা: রাজধানী ঢাকা শহরে অবস্থিত সকল সরকারি বাংলোর তালিকা চেয়েছে হাই কোর্ট।
পৃথক তিনটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে সোমবার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলমের সরকারের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
আদেশে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা শহরের সকল বাংলো ও বাংলো ধরনের বাড়ির হিসাব দুই সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে পূর্ত সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়। এবং ওই বাংলোগুলো কাদের দখলে আছে সে বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে শিল্প সচিবকে বরাদ্দ দেয়া মিন্টো রোডের ১২ নম্বর বাড়ির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
দুই বিচারকের আবেদনের পর এই বাড়িটি শিল্প সচিবকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে শিল্প সচিব এখনো ওই বাড়িতে উঠেননি। এদের মধ্যে এক বিচারকের আবেদনে সুপারিশ করেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।
ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুসারে বাড়ি বরাদ্দের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অমান্য করে বরাদ্দ করা বাড়ির বরাদ্দ কেন বাতিল করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়।
দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ত সচিব, আইন সচিব, শিল্প সচিব, সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলীসহ অন্যদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট মো. নুর উস সাদিকের পক্ষে দুপুরে জায়েদী হাসান খান হাই কোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। এই রিটে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট বিএম ইলিয়াস। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
ব্যারিস্টার ইমরুল কায়েস, ব্যারিস্টার মামুনুর রশীদ এবং অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব অপর রিট করেন। এই রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। এছাড়াও একই বিষয়ে আরো একটি রিট হয়েছে হাই কোর্টে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার।
ঢাকা: আসন্ন বাজেটকে (২০১৩-২০১৪) সামনে রেখে জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৫৭তম বৈঠক আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
জানা যায়, ২৮ মে দুপুর আড়াইটায় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের তৃতীয় তলায় ১ নম্বর স্থায়ী কমিটির কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতিসহ সংশ্লিষ্ঠ সবাইকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএসই’র সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, “ডিএসই’র বাজেট নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৫৭তম বৈঠকে আমাদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। বৈঠকে আমরা পুঁজিবাজারের জন্য আমাদের বাজেট ভাবনা উপস্থিত করবো।”
ব্যাংকক: রোববার সকালে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ের আন্তর্জাতিক কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে দ্বিতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অতিথিরা। ছবি: বাসস/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: খিলক্ষেত থানা পুলিশ ১১ লাখ জাল টাকাসহ শ্রী সাধন চন্দ্র বর্মন নামে একজনকে গ্রেফতার করে। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুরে নেরিকা মিউট্যান্ট ধানের আবাদ হয়েছে একরে ১০৮ মন। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
ঢাকা: সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কারণে প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার। ছবি: নতুন বার্তা ডটকম/২০ মে ২০১৩।
ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের আয়োজনে “বাংলা সাহিত্যে লোকসংস্কৃতি ও লোকসঙ্গীতের প্রভাব” শীর্ষক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় অনুষদ ভবনে অবস্থিত বাংলা বিভাগের ১০৩ নম্বর কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান (রহমান হাবিব)-এর সভাপতিত্বে ও একই বিভাগের প্রভাষক ড. বাকী বিল্লাহ বিকুলের পরিচালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), সিলেটের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, বিশিষ্ট সুরকার ও গীতিকার শরদিন্দু ভট্টাচার্য। তিনি গান-বাজনা সহকারে আলোচ্য বিষয়ের ওপর মনোমুগ্ধকর আলোচনা উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইয়াসিন আলী, গাজী মো. মাহবুব মুর্শিদ, খোন্দকার আরিফা আক্তার, ড. মো. রবিউল হোসেন, প্রভাষক ইয়াসমিন আরা সাথী, তপন কুমার রায়, সাবিনা ইয়াসমিন এবং একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নয়া দিল্লি: মেরু অঞ্চল পরিষদে ভারতকে নেয়া হয়েছে পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ এর ফলে মেরু প্রদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও অন্যান্য কাজকর্মের ব্যবস্থাপনায় ভারত তার বক্তব্য তুলে ধরতে পারবে আরো জোরালোভাবে৷
তেল, গ্যাস ও খনিজ পদার্থের মজুত ভাণ্ডার হিসেবে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক তথা ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম৷
মেরু অঞ্চলে বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র খোলার পাঁচ বছর পর, কূটনৈতিক চেষ্টার পরিণামে মেরু অঞ্চল পরিষদ বা আর্কটিক কাউন্সিলে ভারত তার নিজের জায়গা করে নিল পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে৷ অন্য আরো পাঁচটি দেশ চীন, জাপান, ইটালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরকে এই মর্যাদা দেয়া হয়েছে৷ আটটি স্থায়ী সদস্য দেশের কাউন্সিলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷
ক্যানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, রাশিয়া, ডেনমার্ক (গ্রিনল্যান্ড), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (আলাস্কা), আইসল্যান্ড ও সুইডেনকে নিয়ে গঠিত আর্টিক কাউন্সিল এই অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন ও তার অভিঘাত, মেরু প্রদেশের পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদের ধারাবাহিক সদ্বব্যবহার, জীব বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক পারিপার্শ্বকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে৷ যদিও ঐসব সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা সীমিত৷
আর্কটিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ভারতে কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেন? মেরু অঞ্চলে ভারত তার অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক এবং ভূ-রাজনৈতিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে৷ বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে যে ভারত ফেলনা নয়, আর্কটিক অঞ্চলেও সেকথা খাটে৷ ৮০-এর দশকে ভারত মেরু অঞ্চলে তার প্রথম বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করে৷ যদিও বড় রকম প্রকল্প হাতে নেয়া সম্ভব হয়নি সীমিত সহায় সম্পদের কারণে৷ তবে আর্থিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সে বাধা কেটে যাবে৷ বৈজ্ঞানিক মেধার দিক থেকে বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দেবার ক্ষমতা রাখে ভারত৷ দিল্লি মনে করে, এই সবের পাশাপাশি ঐ অঞ্চলে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়বে৷ ভারতের নতুন উদ্যোগ হবে মেরু অঞ্চলকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখা৷
মেরু অঞ্চলকে পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে গত বছর জুন মাসে জাতিসংঘের ছত্রছায়ায় অনুষ্ঠিত রিও আর্থ সম্মেলন৷ সেখানে ভারতের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, একবিংশ শতাব্দীর শেষে ভূ-তাপ বাড়বে ৩-৪ ডিগ্রি৷ এই উষ্ণায়নের প্রভাব অনুভূত হবে ভারতে, বিশেষ করে উত্তর ভারতে৷ মেরুপ্রদেশের বরফ গললে কার্বন ডাই অক্সাইডের শোষণ ক্ষমতা যাবে কমে৷ ফলে উষ্ণায়ন ক্রমশই বাড়তে থাকবে৷ বাড়বে সমুদ্রের জলস্তর, দেখা দেবে বন্যা৷ বিপন্ন হবে ভারতের কোটি কোটি মানুষের জানমাল৷ মেরু অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার বর্ষার যোগ আছে৷ বর্ষার সঙ্গে যোগ আছে কৃষির৷
চির তুষারাবৃত মেরু এলাকার কিছু অংশ ছাড়া পুরো আর্টিক অঞ্চলের ওপর সার্বভৌম অধিকার কোনো দেশের নেই৷ তুন্দ্রা অঞ্চল ছাড়া গাছপালা বিবর্জিত বিশাল নির্জন এই হিমায়িত এলাকার গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ৪০-৫০ ডিগ্রি নীচে৷ পরিবেশ সুরক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, মেরু সাগর দিয়ে শিপিং রুট খোলা ইত্যাদি নিয়ে কাউন্সিলের স্থায়ী সদস্য দেশের কয়েক শো বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে থাকেন কীভাবে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধ করা যায়৷ বরফের নীচে জমা মিথেন গ্যাস নির্গমন রোধ করা যায়৷ মিথেন গ্যাস নির্গত হতে পারে মেরু বরফ সংকোচনের ফলে৷ তাতে উষ্ণায়ন বাড়বে দ্রুতগতিতে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
হাম্বুর্গ: ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন আয়েবা দেশে বিদেশে বাংলাদেশীদের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি ইউরোপ প্রবাসী বাংলাদেশীদের সব সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার জার্মানির বন্দরনগরী হাম্বুর্গে আয়েবার ২য় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
আগামী দিনে ইউরোপের প্রতিটি দেশে আয়েবার কর্মসূচি প্রসারিত করার পাশাপাশি ইউরোপিয়ানদের ইন্টিগ্রেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লা ইনুর পরিচালনায় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, গ্রিস,পর্তুগালের এবং জার্মানির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়েবার সব কার্যক্রম বাস্থবায়নে সহায়তার জন্য আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা।
আয়েবার সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত উল্লা মানুষের কল্যাণে কিভাবে কাজ করলে সমাজের উন্নয়ন হয় সেই বিষয়টি তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। তিনি জানান, গ্রিসে মালিক পক্ষ বাংলাদেশী শ্রমিকদের ওপর হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউরোপিয়ান পারলামেন্টের সদস্যরা। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ওপর মালিক পক্ষের অমানবিক নির্যাতনে ও তারা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা রানা প্লাজায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের ধস নামার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আয়েবাকে।
তিনি বলেন, “গ্রিসে বাংলাদেশী আহত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে ইউরোপিয়ান পারলামেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে ইউরোপিয়ান পারলামেন্ট মেম্বার জেনা লাম্বেরতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিবয় হয়।
হাম্বুর্গের আয়েবা নির্বাহী কমিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের আয়োজক সরফ উদ্দিন জুয়েল। জার্মান বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নজরুল ইসলাম, আয়েবার কোষাধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান মুহিব, ফখরুল আলম সেলিম, লুৎফুর রহমান, জার্মান ও ইউরোপের বিভিন্ন কমিউনিটির ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
ঢাকা: রাজনৈতিক সভা সমাবেশ নিষেধের প্রতিবাদে বাম মোর্চা ও বাসদ মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সোমবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটের দিকে সেগুন বাগিচার তোপখানা মোড় থেকে মিছিল বের করে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও বাসদ। মিছিলটি কিছু দূর এগিয়ে প্রেসক্লাবে দিকে যেতে চাইলে পুলিশ মিছিলকারীদের বাধা দেয়। মিঠিলকারীরা বাধা অতিক্রম করে যেতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তা ছত্রভঙ্গ করে। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে বামমোর্চা ও বাসদের বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী আহত হন।
মিছিলের নেতৃত্ব দেন গণতান্ত্রিক বামমোর্চার সম্বনয়কারী মোশারেফা মিশু ও বাসদের সদস্য ফখরুদ্দিন হাফিজ।
লাহোর: ১১-র মে সাধারণ নির্বাচনে বলতে গেলে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) যখন বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে ব্যস্ত, তখন আসিফ আলি জারদারি বললেন, দলের ভরাডুবি রুখে ভালো ফল করার জন্য পাক প্রেসিডেন্ট পদে ইস্তফা দিয়ে প্রচারে নেতৃত্ব দেয়া উচিত ছিল তার। রোববার রাতে সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধিদল তার লাহোরের বাসভবনে যান। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই মন্তব্য করেন তিনি। লাহোর হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে হাত-পা বাঁধা পাক প্রেসিডেন্টের। প্রেসিডেন্ট পদে আসীন ব্যক্তিটি নিরপেক্ষ হবেন এবং রাজনীতির সঙ্গে। যুক্ত থাকবেন না, এটাই প্রত্যাশিত বলে রায়ে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়ার পর এ বছরের গোড়া থেকে রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দূরেই থাকতে হচ্ছে জারদারিকে।
এবারের ভোটে তিনি যেমন দলের প্রচারে নামতে পারেননি, তেমনই তার পুত্র বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকেও ভোটের প্রচারে একবারও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। জারদারি বলেছেন, সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার জন্য তিনি থাকতে পারেননি। এছাড়াও আরও কিছু কারণ ছিল যার ফলে পিপিপি-র প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়া ও হাল ধরার মতো কেউ ছিল না। তিনি বলেছেন, তালিবানি হুমকির ভয়ে পাঞ্জাবে পিপিপি ঠিকমতো প্রচারই চালাতে পারেনি। বিচারবিভাগও তাদের বিরোধিতা করেছে বলে অভিমত তার। তাছাড়া প্রচারপর্ব যখন জোরকদমে চলছে, তখন শীর্ষ দলনেতা ইউসুফ রাজা গিলানি ছেলের অপহরণের ঘটনায় প্রচারে শামিল হতে পারেননি। নানা মামলায় জেরবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরফও সেভাবে প্রচারে থাকতে পারেননি। বাকি অন্য নেতারাও কোনো না কোনও কারণে প্রচারে অনুপস্থিত ছিলেন। ভোটে দলের খারাপ ফলের জন্য বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয়কেও দায়ী করেন তিনি। বলেন, পিপিপি সরকার বিদ্যুত সঙ্কটের মোকাবিলা করতে পারেনি।
তবে এত সব কারণের কথা বললেও ভোট বিপর্যয়ের জেরে ইস্তফা দেয়ার জল্পনা খারিজ করে দেন জারদারি। পাল্টা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তত ৪৫টি আসন পিপিপি-র হাত থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারদের বড় ভূমিকা ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। সূত্র: ওয়েবসাইট।
কলকাতা: হাওড়া সদর লোকসভার আসন্ন উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কি তৃণমূলকে উভয় সংকটে ফেলবে? হাওড়ার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে জল্পনা যত বাড়ছে, সেই সঙ্গেই বাড়ছে এ প্রশ্নের প্রাসঙ্গিকতাও৷ ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে এই লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি মোট ৪৯ হাজার ৩২৪টি ভোট পেয়েছিল৷ যা একটি লোকসভায় ভোট কাটাকাটির অঙ্কে আংশিক প্রভাব ফেলার পক্ষে যথেষ্ট৷ এহেন বিজেপি এ বার লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোয় গত বিধানসভার পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই তৃণমূল হাওড়ায় এ বারও নিরাপদ ব্যবধানে জেতার আশা করছে৷ দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কথায়, 'হাওড়া থেকেই আমরা হাওয়া ঘুরিয়ে দেব৷'
কিন্ত্ত রাজ্যের শাসকদল যে ঘটনা থেকে কিঞ্চিত্ স্বস্তি পাচ্ছে ঠিক সেটিকেই দীর্ঘমেয়াদে তাদের বিরুদ্ধে প্রচারের হাতিয়ার করেছে কংগ্রেস-সিপিএম৷ মধ্য হাওড়ায় পিলখানার মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে সিপিএম প্রচারে বলতে শুরু করেছে, পরবর্তী লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের বিজেপির মিত্রতা-প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেন৷ শনিবার সন্ধ্যায় পিলখানা মোড়ের পথসভায় প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম এই প্রসঙ্গের অবতারণা করেন৷ সম্প্রতি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতা সফরে এসে প্রশাসক মমতার সদিচ্ছার প্রশংসা করায় বিধানভবনের কর্তারাও প্রশ্ন তুলেছিলেন, 'রাহুল সিনহারা যখন মমতার সমালোচনা করেন, তখন মোদী এসে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেন কী করে? নিশ্চয় ডাল মে কুছ কালা হ্যায়৷' তৃণমূল সুপ্রিমোর দুই প্রতিপক্ষ সিপিএম-কংগ্রেস যুগপত্ এই প্রচার অব্যাহত রাখলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না তা নিয়ে চর্চা শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷
পঞ্চায়েতের ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার ঠিক এক মাস আগে হাওড়া লোকসভার উপনির্বাচন৷ সামগ্রিক ভাবে বাংলার ভোট-রাজনীতিতে বিজেপির থাকা না থাকা ইতরবিশেষ না-ঘটালেও হাওড়া সদর কেন্দ্রে তাদের ধর্তব্যের মধ্যে না রেখে উপায় নেই৷ ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে হাওড়া থেকে বিজেপি টেনেছিল ৩৭ হাজার ৭২১টি ভোট৷ ২০১১-র বিধানসভায় দুই কংগ্রেসের জোটের বিরুদ্ধে লড়েও এই লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির ভোট বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৪৯ হাজার ৩২৪টিতে৷ স্বভাবতই কৌতূহল দেখা দিয়েছে, হাওড়া সদরে বিজেপির প্রায় হাজার পঞ্চাশেক ভোট এবার কোনদিকে যাবে? শিবপুর, সালকিয়া, ঘুসুরি, বালি, দানেশ শেখ লেন সর্বত্রই ভোটরারা বলছেন, কট্টর বিজেপি বিজেপি ভোট সিপিএম কিংবা কংগ্রেসের বাক্সে ঢোকার সম্ভাবনা বড়ই কম৷
এক প্রান্তে বালি থেকে শুরু করে অপর প্রান্তে পাঁচলা পর্যন্ত ৭ টি বিধানসভা এলাকায় ভোট প্রচার আপাতত লন্ঠনের আলোর মতোই টিমটিমে৷ বালির এমুড়ো থেকে ওমুড়ো সিপিএমের একটা দেওয়াল লিখন বা ফেস্টুন অনুবীক্ষণেও ধরা পড়ছে না৷ পুরসভা দখলে থাকলেও ১৫-১৬টা পার্টি অফিসে বসার মতো হোলটাইমার কমরেড খুঁজে পাওয়া যায় না৷ বিধানসভার ফল বেরোনোর পর বালি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বহু সক্রিয় সিপিএম কর্মী এখনও নিজের এলাকায় অতিথির মতো আনাগোনা করেন বলে জানালেন এলাকার তরুণ ব্যবসায়ী টি ভাদুড়ি৷ শিবপুর বটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাড়াগুলোতে অবশ্য সিপিএম প্রার্থী শ্রীদীপ ভট্টাচার্যের নামে ঘন ঘন দেওয়াল লিখন চোখে পড়েছে৷ তবে ভোট-বাজারে দেওয়ালে দেওয়ালে বাঙালির যে রসবোধ এ যাবত্ দেখা গিয়েছে, হাওড়ায় তার লেশমাত্র নেই৷ চিমটি কাটা ছড়া নেই৷ নেই কাঁচা হাতের কার্টুনও৷
মধ্য হাওড়ায় প্রয়াত অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া কালীকুমার মুখোপাধ্যায় লেনের শিক্ষিত তরুণ ভোটার অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় বললেন,'শুনছি কংগ্রেস প্রার্থী সনাতন মুখোপাধ্যায় ভালো ফাইট দেবেন'৷ উল্লেখ্য এই মধ্য হাওড়া বরাবরই কংগ্রেসি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে৷ এই কেন্দ্র থেকেই কংগ্রেসের টিকিটে চারবার এবং তৃণমূলের টিকিটে একবার জিতে মোট পাঁচবার বিধায়ক হয়েছিলেন অম্বিকাবাবু৷
এটা লোকসভার উপনির্বাচন৷ তবু স্থানীয় কয়েকটি ইস্যু এই ভোটে প্রভাব ফেলবে বলে দাবি করছেন পিলখানা কারবালা এলাকার সংখ্যালঘু তরুণ মহম্মদ রিয়াজুদ্দিন, জাকিরভাইরা৷ রামকৃষ্ণপুর সমবায় ব্যাঙ্কে টাকা রেখে 'প্রতারিত' বহু আমানতকারী এই ভোটে তাদের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘঠাতে পারেন৷ মধ্য হাওড়ার মল্লিক ফটক, কালিকুণ্ডু লেন, পঞ্চাননতলা, কুন্ডেলবাগান, মুখার্জিবাগান, পিএম বস্তি, হাওড়া ময়দান ও বঙ্গবাসী চত্বরের অসংখ্য বাসিন্দা এই সমবায় ব্যাঙ্কে মোটা আমানত রেখে ঠকেছেন বলে অভিযোগ৷ এ ছাড়া রাজ্যজুড়ে লগ্নি-কেলেঙ্কারির চোরাস্রোত হাওড়াতেও আছে বলে দাবি করলেন এলাকার ভোটার মহম্মদ রিয়াজুদ্দিন৷ ঘিঞ্জি হাওড়া শহরে সকাল আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত জিটি রোড-সহ বহু রাস্তায় ওয়ানওয়ে বোর্ড ঝুলিয়ে রাখে পুলিশ৷ একচেটিয়া লোহালক্করের কারবার এখানে৷ ছোট মালবাহী গাড়ির চালক ও মালিকরাও পুলিশ প্রশাসনের উপর ক্ষোভে ফুঁসছেন৷ তরুণ হাফিজ মহম্মদ আইনুল হকের আক্ষেপ, 'ট্র্যাফিক মে কোই বদলাব নহি আয়া৷ পুলিশ ভি কেস দেনে মে লগা হুয়া হ্যায়৷'
হাওড়ায় বছরভর অন্তর্কলহে লিন্ত তৃণমূলের সবকটি গোষ্ঠী এখন মুখ্যমন্ত্রীর 'পদযাত্রার' অপেক্ষায়৷ প্রচারের শেষ ধাপে তৃণমূলনেত্রী তার প্রার্থী প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মিছিল করবেন বলেই খবর৷ তার আগে জেলা সভাপতি অরূপ রায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন, 'এক লাখে জিতব৷' সূত্র: ওয়েবসাইট।
ঢাকা: ১৫ সম্পাদকের দেয়া বিবৃতির নিন্দা জানানোর কারণে তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, “ইনু সাহেব জীবনে প্রথম এমপি হয়েছেন। নিজের দলের টিকেটে নয়, কয়েকদিনের জন্য মন্ত্রীও হয়েছেন। হেফাজতের সমাবেশে মানুষ হত্যা হয়েছে, আপনি কিছু বলেননি। আপনি অন্ধ হয়ে গেছেন। আপনি মনে করছেন এদেশে একটি মাত্র সরকার ক্ষমতায় থাকবে। আপনি বেসামাল হয়ে গেছেন। অতীতেও প্রেস ক্লাব থেকে তথ্যমন্ত্রী বিতাড়িত হয়েছেন। আপনাকেও কেউ রক্ষা করতে পারবে না। আমরা আপনাকে এর জবাব দেব।”
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ান, যমুনা টিভি ও শীর্ষ নিউজ বন্ধের প্রতিবাদে ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
সভা-সমাবেশ বন্ধ করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে গাজী বলেন, “সংবিধানের কোন ধারা বলে আপনি এক মাসের জন্য দেশে সভা-সমাবেশ বন্ধ করেছেন। আপনি ’৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হয়ে গণহত্যা চালিয়েছেন। আপনি ’৭১-এ রাজাকার ছিলেন। এখন আবার গণহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন। আপনাকে এ জাতি চেনে। আপনি বাঁচতে পারবেন না। বাংলার মুক্তিকামী মানুষ আপনাকে এর জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।”
পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে খেলতে আসবেন না। নিস্তার পাবেন না। অতীতে আমরা মার্শাল ল’, জরুরি অবস্থা ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছি। আমাদের আন্দোলন চলবেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত।”
সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিয়ে কথা বলবেন না। আপনারা এদেশের দুর্নীতি, গণতন্ত্র নস্যাৎকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলুন। গণতন্ত্র নস্যাৎকারীদের বিরুদ্ধে কথা বললে ধরে নেব আপনারা দেশের স্বার্থে কথা বলছেন। আর যদি না বলেন ধরে নেব আপনারা দলবাজি করছেন। আর দলবাজি করলে এদেশের সাংবাদিক সমাজ আপনাদের কথা শুনবে না।”
কোন আইনে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সরকারের কাছে জানতে চেয়ে বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ বলেন, “গতকাল সরকার ঘোষণা দিয়েছে সারা দেশে এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। শেষ সময়ে এসে সরকার উন্মাদ হয় জানি। কিন্তু এমন উন্মাদ হতে অতীতে কোনো সরকারকে দেখা যায়নি।”
তিনি বলেন, “আমরা সরকারের গদি নিয়ে কাড়াকাড়ি করিনি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ে নেমেছি। এ সরকার সাংবাদিকদের ওপর চরম অত্যাচারের যে নজির সৃষ্টি করেছে অতীতে এমন আর দেখা যায়নি। হেফাজতের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের সংবাদ প্রচার করায় সরকার দিগন্ত টিভি বন্ধ করেছে।”
মিডিয়া বন্ধের প্রতিবাদে ১৫ জন সম্পাদকের বিবৃতির নিন্দা জানিয়ে সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের পাল্টা বিবৃতিকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ধিক তাদের ধিক। স্বাধীনাতর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। কিন্তু তারা আজ কী করলেন। আমার ভাবতে লজ্জা লাগছে।”
তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংবিধানবিরোধী কাজে মেতে উঠেছেন বলে মন্তব্য করে ডিইউজের একাংশের সভাপতি আবদুস শহিদ বলেন, “আমরা সাংবাদিকরা রাস্তা থেকে উঠতে পারছিলাম না। আমরা সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় রাস্তায় নেমেছিলাম। আমাদের যখন আন্দোলন চলছে তখন সরকার একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ করে দিচ্ছে। সারা দেশে এখন মানবাধিকার হত্যা চলছে।”
ডিইউজের একাংশের সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন বলেন, “স্বাধীন একটি দেশে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপরাধে আমি তথ্যমন্ত্রীর নিন্দা জানাই। আমি সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের নিন্দা জানাই। ’৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করার জন্য যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন আজকে তারা কোন ক্ষমতাবলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন? আমি বিবেকের তাড়নায় হলেও তাদের মিডিয়ার পক্ষে অবস্থানের আহ্বান জানাচ্ছি।”
গণমাধ্যম বন্ধের মধ্য দিয়ে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে বলে মন্তব্য করে ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, “দেশে এখন দুঃসময়। সরকার এক মাসের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এসব নিপীড়নের মধ্য দিয়ে সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। কেউ এ সরকারকে রক্ষা করতে পারবে না। এ নিপীড়নের মধ্যে সরকারের রাজাকার ও পাগল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক মাসের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।”
মিডিয়া বন্ধ করে অপকর্ম ঢাকা যায় না। তাই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়ে কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, “অনেক হয়েছে। এবার দয়া করে জাতির ঘাড় থেকে নামুন। দয়া করে জনগণকে মুক্তি দিন।”
ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ আকন্দ বলেন, “এ সরকারের আমলে বন্ধ হওয়া সবগুলো মিডিয়া খুলে না দেয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
অবস্থান কর্মসূচিতে ডিইউজের সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, ডিইউজের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. খুরশিদ আলম, ডিইউজের কোষাধ্যক্ষ জহিরুল হক রানা, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আক্তার ইকবাল, নয়া দিগন্তের ইউনিট প্রধান হাসান শরিফ, সংগ্রাম ইউনিট চিফ শহিদুল ইসলাম, আমার দেশ পত্রিকার ইউনিট চিফ বাশির জামালসহ বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা এতে বক্তব্য রাখেন।
মুম্বাই: পাঁচ ফিট নয় ইঞ্চি লম্বা ছিপছিপে শরীরের গড়ন।টানাটানা চোখ, মায়াবী চাহনিতে নিজেকে ফেরানো দায়। আর আকর্ষনীয় পা দুখানিতে কেবলই লতা জড়ানো আবেদনের সাড়া পাওয়া যায়। সেই আবেদনময়ী নারী আর কেউ নন হটিলেগি দীপিকা পাড়ুকন। এবার তার স্বীকৃতি মিললো সেরা সুন্দরীর।
২০১২ সালে এক জরিপে ভারতের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নারীর খেতাব অর্জনের পর এবার পিপল ম্যাগাজিনের এক জরিপে সেরা সুন্দরীর খেতাবটিও এখন তার। বলিউডে এক দিকে ছবির সাফল্য আর অন্যদিকে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও সুন্দরীর খেতাব পাওয়ার পর হয়তো তার পুরুষ ভক্তের ভিড় আরো লম্বা হবে। এতসব অর্জনের পর সকলের দৃষ্টি তো খানিকটা পড়বেই।
একটি কমলা রংয়ের গাউন পরে পিপল ম্যাগাজিনের অনুষ্ঠানে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন দীপিকা। আসাধারণ দেখাচ্ছিল সেরা সুন্দরীকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অমৃতা রাও, হুমা কুরাইশি, মন্দিরা বেদি প্রমুখ। সকল সুন্দরী তারকাকে টপকে শীর্ষ স্থান অর্জনকারী দীপিকা অনুষ্ঠানে পিপল ম্যাগাজিনের একটি নতুন মোড়ক উন্মোচন করেন। যাতে স্থান পায় দীপিকার ছবি।
যদিও এই মুহূর্তে আপকামিং ছবি ‘ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ ছবির মুক্তির অপেক্ষা বেশি তাড়া করে বেড়াচ্ছিল পিগিকে। কিন্তু এর মধ্যে সেরা সুন্দরীর খেতাব অনেকটাই তার আনন্দের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিল।
ব্লক বাস্টার 'ওম শান্তি ওম’ ছবিটির মধ্য দিয়েই বলিউডে পদার্পণ করেন দীপিকা। এ ছবির পর দীপিকা অনেক ছবিতেই অভিনয় করেন। আর একইসঙ্গে বেশ জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠেন। দিপীকা মনে করেন তার এই খেতাব জেতার কারণ শুধু সেক্সি ফিগার নয়, বরং তার অভিনয়। অনেক ইয়াং স্টারই আজ দীপিকার মতো হতে চান। এতে খুবই খুশি তিনি, কারণ কোনোরকম ফ্লিম ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই এতো কম বয়েসে, এত কম সময়ে বলিউডে নিজের জায়গা করে নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। সূত্র:বলিউড নিউজ
ক্যালিফোর্নিয়া: সকালে মনে করে মোবাইল ফোনটা চার্জে বসিয়েছিলেন। অন্তত ঘণ্টাখানেক হবে। কিন্তু দিনের শেষে ফোনের ব্যাটারি যে কে সেই তলানিতে। হতচ্ছাড়া ফোনটাকে বাগে আনতে পারছেন না কিছুতেই। আপনার এই হতাশাকে বদলে দিতে পারে ছোট্ট একটা ‘সুপারক্যাপাসিটর’। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা নয়, সুপারক্যাপাসিটর থাকলে ফোন চার্জ দিতে সময় লাগবে মাত্র কুড়ি সেকেন্ড।
এমনই এই প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সানহোসের বাসিন্দা এষা খারে। এখনও হাইস্কুলের গন্ডি পেরোননি। বয়স মোটে আঠারো। তার সুপারক্যাপাসিটরের দৌলতে ‘ইন্টেল ইন্টারন্যাশানাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পুরস্কারও তার হাতে। এই সুপারক্যাপাসিটরের অসীম সম্ভবনার কথা মাথায় রেখে এষার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে গুগলও।
“আমার নিজের ফোনের ব্যাটারি তাড়াতাড়ি বিগড়ে যেত। তাই এমন একটা কিছু তৈরির কথা মাথায় আসে,” বলেন এষা। কিন্তু এই সুপারক্যাপাসিটর কী? এষার কথায়, যে সমস্ত ইলেকট্রনিক জিনিসের ব্যাটারি চার্জ দেয়া যায়, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তা হয়ে যাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। চার্জ বেশি ক্ষণ ধরেও রাখতে পারবে নয়া প্রযুক্তি। সাধারণ ব্যাটারিতে যত বার চার্জ দেয়া যায়, ছোট্ট সুপারক্যাপাসিটরে তার চেয়ে বেশি বার।
হাইস্কুলে তার স্পেশ্যালাইজেশন ন্যানোকেমিস্ট্রিতে। ছোট একটা চিপের মধ্যেই কী ভাবে অসাধ্য সাধন করা যায়, ন্যানোকেমিস্ট্রি পড়তে গিয়ে এই ইচ্ছেটা তৈরি হয়েছিল ওই অষ্টাদশীর।
এখনও শুধু এলইডিতেই সুপারক্যাপাসিটর ব্যবহার করেছেন এষা। শিগগিরই ফোন থেকে গাড়ি, সব কিছুতেই এই নায় প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে বলে আশা তার। এষার সাফল্যে সমান উৎসাহী একাধিক বহুজাতিক সংস্থা। তাদের ফোনের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে নিজের ফোনের চার্জ যাতে না কমে, তা নিয়েই ব্যস্ত ওই তরুণী। সূত্র: ওয়েবসাইট।
কলম্বো: চা ছাড়া বাঙালির আড্ডা যেন জমেই না৷ তাই তো কোথাও বেড়াতে গেলে চা চা-ই চাই৷ অনেকে আবার সকালে ঘুমে থেকে উঠে শোয়ার ঘরেই পান করেন চা৷ এবার, সেই বেডরুমেই চায়ের ‘বিশেষ’ উপকারের কথা জানা যাচ্ছে৷
খবরটি এসেছে শ্রীলঙ্কা থেকে, যারা চা উৎপাদন ও রফতানিতে বিশ্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি দেশ। সেখানকার জিডিপি'র প্রায় ১২ শতাংশ আসে চা রফতানি থেকে৷ গত বছর এই খাত থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল শ্রীলঙ্কা৷
তবে দেশটির রফতানিকারকরা মনে করছেন চা রফতানি থেকে আয়ের পরিমাণ প্রায় চারগুণ বাড়ানো সম্ভব৷ এজন্য অনেক কোম্পানি নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে৷ যার একটি হচ্ছে, চায়ের অপ্রকাশিত একটি গুণ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালানো৷
শুধু মনকে সতেজ করাই নয়, শ্রীলঙ্কার চা কামনাশক্তিও বাড়ায় – এই তথ্যটি সারা বিশ্বে প্রচার করতে চাইছেন অনেক রফতানিকারক৷
বিশেষ করে ‘সিলভার টিপস' ও ‘গোল্ডেন টিপস' নামের ‘হোয়াইট টি’ মানে সাদা রংয়ের চা পাতার মধ্যে বিশেষ এই গুণটি রয়েছে বলে জানান রোহান ফার্নান্ডো৷ তিনি শ্রীলঙ্কার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চা রফতানিকারক এইচভিএ ফুডস কোম্পানির মালিক৷
তিনি বলেন, হোয়াইট চা তৈরি করতে গাছের একেবারে কচি কুঁড়িগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোর রং সাদা বা সোনালি না হওয়া পর্যন্ত রোদে শুকানো হয়৷
চীনা ব্যবসায়ী এবং সৌদি আরব ও জাপানের ধনকুবেরদের কাছে এই চা দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে বলে জানান ফার্নান্ডো৷
অবশ্য হোয়াইট টি পান করলে যে শুধু যৌনশক্তি বাড়ে তা নয়, এর মধ্যে থাকা উপাদানগুলোর কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে৷ রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায়ও ঠিক থাকে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী৷ তাঁর ১৫০তম জন্মদিন ১২ মে ৷
বাংলা শিশুসাহিত্যে উপেন্দ্রকিশোরের অসামান্য অবদানের কথা সবার জানা থাকলেও, তাঁর ছবি আঁকা, ফোটোগ্রাফি চর্চা, বা প্রসেস শিল্পে হাফটোন ব্লক তৈরির ক্ষেত্রে অসামান্য মৌলিক গবেষণার কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছে খুবই কম৷ এদেশে যখন ছবি ছাপার ক্ষেত্রে কাঠখোদাই ও ধাতুখোদাই-এর প্রযুক্তিই শেষ কথা, তখন উপেন্দ্রকিশোর একাই এই জগতে সূচনা করেছিলেন সম্পূর্ণ নতুন একটি যুগের৷
ইলাস্ট্রেশনের কাজে হাত দেওয়ার অনেক আগে থেকেই তেল ও জলরঙে ছবি আঁকতেন তিনি৷ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও শিলাইদহের কুঠিবাড়ির জন্য উপেন্দ্রকিশোরের আঁকা ছবি সংগ্রহ করেছিলেন৷ পুরোপুরি ইওরোপীয় টেকনিকেই ছবি আঁকতেন উপেন্দ্রকিশোর৷ সত্যজিতের ভাষায়, 'খাস বিলিতি কায়দায় তেল রং, জল রং, কালি কলমে ছবি এঁকেছেন৷' ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে পৌরাণিক ঘটনা ও প্রাচীন ইতিকথার চরিত্র, এই সব কিছুই ছিল তাঁর ছবির বিষয়৷ যদিও কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথাগত ভাবে ছবি আঁকা শেখেননি তিনি, কিন্ত্ত আশ্চর্যের ব্যাপার তা বোঝার কোনওরকম উপায়ই নেই৷ নিজের চেষ্টায় এতটাই নিখুঁত ভাবে তিনি শিখে নিয়েছিলেন ড্রয়িং, অ্যানাটমি এবং ছবি আঁকার প্রকরণগত অন্যান্য ক্রিয়াকৌশল৷
উপেন্দ্রকিশোরের পেন্টিংগুলো কোথায় কী ভাবে আছে বা আদৌ আছে কি না সেটা বলা কঠিন, কিন্ত্ত তাঁর অমর শিশুসাহিত্যের সঙ্গে সঙ্গে চিরদিনের জন্য থেকে গিয়েছে তাঁর অসামান্য কিছু ইলাস্ট্রেশন, যা গোটা বাঙালি জাতি কোনও দিনও ভুলতে পারবে না৷
গ্রন্থচিত্রণের কাজ তিনি শুরু করেছিলেন নিজের লেখাকে কেন্দ্র করেই৷ তাঁর লেখা 'সেকালের কথা', 'ছেলেদের রামায়ণ', 'ছেলেদের মহাভারত', 'টুনটুনির বই', 'ছোট্ট রামায়ণ'-এর ছবি ছাড়াও এঁকেছেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত 'সচিত্র সন্তকাণ্ড রামায়ণ', সীতা দেবী ও শান্তা দেবীর 'হিন্দুস্তানী উপকথা', সীতা দেবীর 'নিরেট গুরুর কাহিনী' ও রবীন্দ্রনাথের 'নদী' কবিতার ছবি৷ এ ছাড়াও রয়েছে ১৯১৩-তে তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় ছোটদের বিখ্যাত মাসিকপত্র 'সন্দেশ'-এর জন্য আঁকা অজস্র ইলাস্ট্রেশন৷
এই 'সন্দেশ' পত্রিকাটি থেকেই খুঁজে পাওয়া যায় উপেন্দ্রকিশোরের প্রতিভার সম্পূর্ণ পরিচয়৷ সম্পাদনা করা ছাড়াও, প্রচ্ছদ ও অন্যান্য ছবি আঁকা থেকে শুরু করে কবিতা, গল্প, পুরাণের কথা, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, ধাঁধা ও হেঁয়ালি রচনা, ব্লক মেকিং ও প্রিন্টিং সবই হত তাঁর হাত দিয়ে৷ 'সন্দেশ'-এর আগে ছোটদের জন্য যে সব পত্রিকা বেরিয়েছে সেগুলোর ছবি অথবা ছাপা কোনওটাই ততটা চিত্তাকর্ষক ছিল না৷ এ দেশে 'সন্দেশ'-ই প্রথম ছোটদের কাগজ, যেখানে রঙিন ছবি ছাপা হয়৷
ইউরোপীয় কেতায় ছবি আঁকলেও উপেন্দ্রকিশোরের ইলাস্ট্রেশনে যে আশ্চর্য বাঙালিয়ানার পরিচয় পাওয়া যায় তা তাঁর আগে অন্য কোনও গ্রন্থচিত্রীর কাজে দেখা যায়নি৷ এ ছাড়া তাঁর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অপূর্ব রসবোধ যে তাঁর কাজগুলোকে সময়ের থেকে আরও অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ এ প্রসঙ্গে সত্যজিৎ লিখেছেন, 'ইলাস্ট্রেটর হিসেবে উপেন্দ্রকিশোরের কাজে যে দক্ষতা ও রীতিবৈচিত্র্য দেখা যায় তার তুলনা ভারতবর্ষে নেই৷... পৌরাণিক গল্পের ছবিতে হাস্যরসের তেমন সুযোগ নেই৷ কিন্ত্ত সেখানেও --- হয়তো শিশুদের কথা চিন্তা করেই --- দৈত্য দানব রাক্ষস পিশাচের চেহারা আঁকতে উপেন্দ্রকিশোর ভয়ঙ্কর রসের সঙ্গে হাস্যরস মেশাতে দ্বিধা করেননি৷' তাঁর নিজের ও অন্যান্যদের বইয়ের সঙ্গে সব মিলিয়ে অন্তত শ'খানেকের মতো হাফটোন ছবি এঁকেছিলেন তিনি৷ যার মধ্যে বেশ কিছু রঙিন ছবিও ছিল৷ ইদানীং পুনর্মুদ্রণের সময় উপেন্দ্রকিশোরের লাইন ড্রয়িংগুলো ছাপা হলেও হাফটোন ছবিগুলোর অধিকাংশই আর ছাপা হয় না৷ এটা অত্যন্ত দুঃখের৷ উপেন্দ্রকিশোরের রচনার এতগুলো সংস্করণের মধ্যে অন্তত একটি মূলানুগত সংস্করণ অবশ্যই থাকা উচিত৷
১৮৯৫ সাল নাগাদ বিদেশ থেকে প্রসেস ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে হাতে কলমে কাজ শুরু করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ ফোটোগ্রাফি ও হাফটোন ছবি ছাপার করণকৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন তারও অন্তত দশ বছর আগে থেকে৷ হাফটোন নিয়ে উপেন্দ্রকিশোরের গবেষণা মূলত প্রসেস ক্যামেরাকে কেন্দ্র করেই৷ নেগেটিভের মানকে কী ভাবে আরও উন্নত করা যায় তা নিয়ে কত রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে করে গিয়েছেন তার কোনও শেষ নেই৷ এই নিরন্তর গবেষণার ফল হিসেবে দেখা যায় বিলেতের বিখ্যাত প্রিন্টিং-এর পত্রিকা 'পেনরোজ অ্যানুয়াল'-এ একটির পর একটি তাঁর লেখা প্রবন্ধ৷ মোট ন'খানা প্রবন্ধ লিখেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর পেনরোজ অ্যানুয়েলে, যেগুলো একে একে প্রকাশ হতে শুরু করা মাত্রই তখনকার বিলেতের ছাপাখানার জগতে হইচই পড়ে গিয়েছিল৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই মৌলিক গবেষণা ও আবিষ্কারকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে স্বীকার করে নিয়েছিলেন পেনরোজ কর্তৃপক্ষ৷ এমনকী তাঁর পদ্ধতি অবলম্বন করে লন্ডনে ছাপার কাজও শুরু হয়ে যায়, যা সুকুমার রায় বিলেতে গিয়ে নিজের চোখেই দেখে এসেছেন৷
ভাবতে অবাক লাগে অত বছর আগে একজন বত্রিশ বছর বয়সী বাঙালি যুবক ছোট একটা ভাড়া বাড়িতে বসে, সামান্য কিছু উপকরণ নিয়ে শুধু নিজের অসামান্য প্রতিভার জোরে কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন৷
নিজের লেখা বই বা অন্যান্য যাঁদের বইতে উপেন্দ্রকিশোর ছবি এঁকেছেন, সেগুলো ছাপা যেখানেই হোক না কেন, ছবিগুলোর ব্লক করেছেন তিনি নিজেই৷ একমাত্র যোগীন্দ্রনাথ সরকারের সিটি বুক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত 'ছেলেদের রামায়ণ'-এর প্রথম সংস্করণটি ছাড়া৷ উপেন্দ্রকিশোরের এই বইটিতে তাঁর নিজের আঁকা ছবির ব্লক খুবই খারাপ হয়েছিল৷ পরবর্তী সংস্করণে অবশ্য তিনি নিজে আবার নতুন ভাবে ব্লক করেন৷ প্রথম দিকে 'সখা ও সাথী', 'মুকুল', 'প্রদীপ'--- এই সব পত্রিকার জন্য বহু ছবির ব্লক তৈরি করেন উপেন্দ্রকিশোর৷ এ ছাড়াও বিশেষ ভাবে এসে পড়ে প্রবাসী পত্রিকার কথা৷ এখানেই উপেন্দ্রকিশোর প্রথম ডুয়োটাইপ পদ্ধতিতে ছবি ছাপা শুরু করেন৷ এক রঙের হাফটোন ছবিকে দু'টো ব্লকের সাহায্যে এ ভাবে ছাপার পদ্ধতি এ দেশে প্রথম চালু করেন উপেন্দ্রকিশোরই৷
হাফটোন ব্লকের উৎকর্ষ যে কী পর্যায়ে যেতে পারে, তার একটি অসামান্য উদাহরণ রবীন্দ্রনাথের 'জীবনস্মৃতি'-র প্রথম সংস্করণ৷ এই বইতে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা চব্বিশটি ছবির হাফটোন ব্লক তৈরি করেছিলেন উপেন্দ্রকিশোর৷ আজকের মুদ্রণ শিল্পের এই আকাশছোঁয়া উন্নতির যুগেও ওই মানের কাজ কল্পনা করা যায় না৷
১৯১০ -এ উপেন্দ্রকিশোর তাঁর প্রতিষ্ঠান U Ray Artist-এর নাম বদলিয়ে রাখলেন U Ray & Sons৷ যা আজ বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার গৌরবময় ইতিহাসেরই অন্য আর একটি নাম৷ এর পর মাত্র পাঁচ বছর বেঁচেছিলেন তিনি৷ মাত্র বাহান্ন বছরের একটি জীবনে সৃজনশীলতার এই বহুমুখী প্রকাশের কথা ভাবলে আজও আমাদের বিস্মিত হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না৷