আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণবাক্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

অ্যানোনিমাস মাস্ক : ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক

বাবু আহমেদ: উপরের ছবিতে থাকা এই মাস্কটাকে আমরা সবাই অ্যানোনিমাস নামে চিনলেও এর আরেক নাম গাই ফকস মাস্ক। বর্তমান পৃথিবীতে মুখোশটাকে চেনে না এমন মানুষ পাওয়া যাবে খুব কম। হ্যাকারদের সিম্বল হিসেবেই বেশি পরিচিত। এছাড়াও অনলাইন জগতে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখে নানা ধরনের একটিভিজম যারা করছেন তাদের কাছেও জনপ্রিয় মাস্কটি বা সিম্বলটি।

মূলত ২০০৬ সালে বের হওয়া ভি ফর ভেনডেটা মুভি থেকেই জনপ্রিয় হয় সিম্বলটি। যার মূল কাহিনী হচ্ছে ফ্যাসিস্ট ইংলিশ সরকারের বিরুদ্ধে একজন মানুষের প্রতিবাদ, যার কাছে রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ নয় বরং তাঁর ছড়িয়ে দেয়া আইডিয়া, ফ্যাসিস্ট সরকার বা অত্যাচারিতের পক্ষে কিংবা এস্টাব্লিশমেন্ট এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আইডিয়াটাই সবচেয়ে বড়। কারণ হিসেবে মুভিটির প্রথম ৫ মিনিটের মধ্যেই বলে দেয়া হয়, একজন মানুষ মরে যেতে পারে কিন্তু তাঁর আইডিয়াটা মরে না।

এই মুভিটি করা হয় এলান ম্যুর এর গল্প এবং ডেভিড লয়েড এর আকা একটি কমিকের ওপর নির্ভর করে। কমিকটিকে মার্গারেট থেচারের শাসন এবং তৎকালীন ব্রিটেন এর রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি চিত্র কিংবা প্রতিবাদ হিসেবে ধরা যায়। মূল উপজীব্য হিসেবে যেই চরিত্রটিকে নেয়া হয়েছে সেই গোডিও ফকস ওরফে গাই ফকস-কে জানতে হলে যেতে হবে আরও প্রায় ৪ শতাব্দী পেছনে।

গাই ফকস ছিলেন ইংলিশ ক্যাথলিক একটি দলের সদস্য। ১৬০৫ সালে প্রোটেস্ট্যান্ট রাজা জর্জ কে হত্যা করার একটি পরিকল্পনা করেন যাকে এখন সবাই ‘গান পাউডার প্লট’ নামেই জানেন। দলটির ইচ্ছে ছিলো প্রোটেস্ট্যান্ট রাজাকে খুন করে নিজেদের মতাদর্শের চার্চ মানে ক্যাথলিক চার্চ স্থাপন করা। গাই ফকস এর সাথে ছিলেন আরও বারোজন। গান পাউডার প্লটকে তারা সফল সম্পাদনে ব্যর্থ হন। নির্যাতন-অত্যাচারের পর ৫ নভেম্বর মেরে ফেলা হয় গাই ফকস-কে।

এরপরে দীর্ঘদিন এই দিনটিকে গাই ফকস নাইট/প্লট নাইট/ বনফায়ার নাইট হিসেবে পালন করতো ইংলিশরা। দীর্ঘদিন গাই ফকসকে ভিলেন হিসেবে দেখেছে ইতিহাস। কিন্তু একসময় পালটে যায় সব। বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে গাই ফকস হয়ে ওঠে ব্রিটিশদের হিরো। লুইস কল এর মতে গাই ফকস হয়ে ওঠেনঃ “a potentially powerful instrument for the articulation of postmodern anarchism”

এই এনার্কিস্ট চরিত্রেরই একটা ছায়া আমরা দেখি ভি ফর ভেনডেটা মুভিতে যার কিছু কিছু লাইন প্রায় সবারই মুখস্ত বিশ্বজুড়ে। এর মধ্যে রয়েছে

** Creedy: Die! Die! Why won’t you die?… Why won’t you die?
V: Beneath this mask there is more than flesh. Beneath this mask there is an idea, Mr. Creedy, and ideas are bulletproof.

** V: People should not be afraid of their governments. Governments should be afraid of their people.

** V: …A building is a symbol, as is the act of destroying it. Symbols are given power by people. Alone, a symbol is meaningless, but with enough people, blowing up a building can change the world.

এভাবেই গাই ফকস যাকে বানানো হয়েছিলো খলনায়ক তিনি হয়ে ওঠেন সবার নায়ক। তাঁর নামের মুখোশটি ব্যবহার করেন সারা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় হ্যাকার গ্রুপ- অ্যানোনিমাস। যেন অ্যানোনিমিটির সমার্থক হয়ে ওঠে গাই ফকস বা এই মুখোশটি।

এখন বিশ্বব্যাপী এই মুখোশটি হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের অন্যতম একটি প্রতীকে। বিশ্বজুড়ে ৫ নভেম্বর পালন হচ্ছে গাই ফকস ডে, হচ্ছে র‍্যালি-মার্চ। এই দিনটি-নামটি-মুখোশটি হয়ে উঠছে ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে অন্যতম এক প্রতীক। যে প্রতীকটি নির্দ্বিধায়-নির্ভয়ে-নিঃশংকচিত্তে বলে উঠতে পারেঃ The Only Verdict Is Vengeance.

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker