বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
webmail
Wed, 02 Sep, 2015 04:16:34 PM
নতুন বার্তা ডেস্ক

কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমিকবিরোধী নীতির প্রতিবাদে ১১টি ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনের ডাকে ভারতে ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট চলছে।  শ্রমিকদের ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শ্রম আইন সংশোধন, শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম বেতন ১৫ হাজার রুপি করা, জমি বিল প্রত্যাহার করা ইত্যাদি।

বুধবার সকাল ছয়টা থেকে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই ধর্মঘট চলছে।

এই ধর্মঘট ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল। পুলিশ ও সরকারি দলের সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধী ১৭টি দল ও ১১টি শ্রমিক সংগঠনের সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

বহরমপুরে শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের হাতে বেধড়ক মার খেলেন সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ মইনুল হাসান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তৃণমূলের মারে গুরুতর আহত হয়েছেন সিমিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সদস্য, জোনাল কমিটির সম্পাদক-সহ প্রায় ২৫ জন সিপিএম কর্মী।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১০ জন সিমিএম কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে, সাঁইথিয়ার বাম বিধায়ক ধীরেন বাগদির উপরেও চড়াও হন শাসক দলের কর্মী-সমর্থকেরা। তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। রক্ষা করতে গিয়ে হাত ভাঙে তার নিরাপত্তারক্ষীর।

ধর্মঘটের কারণে পশ্চিমবঙ্গে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। হাওড়া, শিয়ালদহসহ বিভিন্ন স্টেশনে ধর্মঘটকারীরা অবরোধ করলে ট্রেন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছে বহু দূরপাল্লার ট্রেন। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। রাজ্যের কলকাতার লেক টাউনের যশোর রোড, সোদপুরের বিটি রোডসহ বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন ধর্মঘটকারীরা।

দুর্গাপুর, রামপুরহাট ও বর্ধমানে বিরোধী সিপিএমের সমর্থকদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। যাদবপুরে সিপিএমের মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিপেটা করে অবরোধকারীদের হটিয়ে দেয় এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।

মুর্শিদাবাদের কান্দিতে সরকারি দলের কর্মীদের সঙ্গে বিরোধী দলের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। হুগলির কোন্নগড়ে সিপিএম অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এতে ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে উত্তরপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গড়িয়া স্টেশনেও বিরোধীদের ওপর হামলা চালায় সরকারি দলের সমর্থকেরা। বর্ধমানের জামুরিয়ায় ধর্মঘটকারীদের হটাতে হকিস্টিক নিয়ে মিছিল করে তৃণমূলের সমর্থকেরা।

কলকাতায় এ ধর্মঘট নিয়ে মিশ্র সাড়া মিলেছে। সরকার বিভিন্ন সড়কে বিশেষ নিরাপত্তায় বাস নামালেও যাত্রী ছিল হাতেগোনা। ধর্মঘট প্রতিহত করতে রাজ্যসরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। বাসচালকদের নিরাপত্তায় দেয়া হয়েছে হেলমেট।

রাজ্যের পরিবহন সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার শহরে ট্যাক্সি, বাস না নামানো হলে চালকদের পারমিট বাতিল করার হুমকি দেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকার ঘোষণা দিয়েছে, সরকারি কর্মীরা অফিসে উপস্থিত না হলে তাদের এক দিনের বেতন কেটে নেওয়া হবে।

নতুন বার্তা/মোআ
 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close