সোমবার, ২৯ মে ২০১৭
webmail
Sat, 04 Mar, 2017 06:55:52 PM
নতুন বার্তা ডেস্ক

নয়া দিল্লি: ভারতীয় বিয়েতে লাগামহীন ব্যয়ের উপর রাশ টেনে ধরতে গত মাসে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে সংসদে৷ আগামী অধিবেশনে বিলটির ওপর আলোচনা হতে পারে৷ বিলটি যিনি তুলেছেন সেই সাংসদের সঙ্গে কথা বলেছে ডয়চে ভেলে৷

ভারতে প্রায়ই আলোচিত হয় নানা ব্যয়বহুল বিয়ের আয়োজন৷ আর এ ধরনের বিয়েতে ব্যয় কমাতেই ফেব্রুয়ারিতে বিল উত্থাপন করা হয় সংসদে৷ এটি লোকসভায় অনুমোদিত হলে ভারতীয় বিয়ে শিল্পে বড় ধরনের অপচয় রোধ সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ প্রস্তাবিত বিল পাস হলে তা শুধু বিয়ের খরচই কমাবে না, বরং ব্যয়বহুল বিয়ের ওপর বসবে বড় ধরনের ট্যাক্স বা করও৷ অর্থাৎ পাঁচ লাখ রুপি মোট খরচ হলে তার ওপর ট্যাক্স হবে আরো শতকরা ১০ ভাগ৷

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যয়বহুল বিয়ের আয়োজনে সমালোচনা দেখা দেয়ার পর এ ধরনের একটি বিল এলো ভারতের সংসদে৷ গত বছরই বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়৷ ভারতে কয়েক বছর ধরে বিয়েতে প্রচুর খরচ করতে দেখা যাচ্ছে ধনীদের৷ বিয়েতে কোটি কোটি অর্থ ব্যয় হয়৷ পাঁচ তারকা হোটেলে বিয়ের আয়োজন, বলিউড তারকাদের অংশগ্রহণ, হেলিকপ্টারে করে বর আগমন-এমন নানা ধরনের আয়োজন দিন দিন বাড়ছে৷ সে তুলনায় গরিব পরিবারের বিয়েতেও এর সঙ্গে পাল্লা দেয়ার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ আর সেই রাশ টানতেই নতুন এ বিল৷

বিয়ে আয়োজন করে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দেয়া হিসেব অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে প্রতি বছর ১ কোটি ২০ লাখ বিয়ের অনুষ্ঠান হয়৷ আর এ সব বিয়েতে খরচ হয় ২ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার, প্রতি বছর যে ব্যয় শতকরা ৩০ ভাগ বাড়ছে৷ মূলত বিয়ে হয়ে উঠেছে সম্পদ প্রদর্শনের এক মাধ্যম৷

ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে ভারতের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি লক্ষ্মী মিত্তালের মেয়ের বিয়েতে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার৷ দিল্লির এমপি রনজিত রঞ্জন, যিনি বিলটি এনেছেন সংসদে, তার মতে বিয়েটা এখন নিজের সম্পদ দেখানোর বিষয়ে পরিণত হয়েছে৷ এর ফলে দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে৷ এক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য দরকার৷ কারণ এটি সমাজের জন্য ভালো নয়৷

ডয়চে ভেলে: এ ধরনের বিল উত্থাপন করার পেছনে আপনার মূল উদ্দেশ্যটা কী?

রনজিত রঞ্জন: সমস্যাটা হচ্ছে বিত্তবানদের বিয়ে দেখে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণদের মধ্যেও এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়, তারাও স্বপ্ন দেখে বিশাল আয়োজনে বিয়ে করার৷ একজন মানুষ তার সারাজীবনের সঞ্চয়ের এক পঞ্চমাংশ খরচ করে বিয়েতে৷ কখনও কখনও জমি বন্ধক রাখে৷ এ ধরনের অপচয়ের কোনো মানে হয় না৷ তাই আমি এই বিল উত্থাপন করেছি৷

এই বিলের গুরুত্বটা কী?

কোনো পরিবার যদি বিয়েতে ৫ লাখ টাকার বেশি খরচ করতে চায়, তাকে আগেই সেটা জানাতে হবে এবং সেটার উপর ১০ ভাগ কর দিতে হবে, যেটা জমা হবে সমাজ কল্যাণ তহবিলে৷ আর এই অর্থ দেয়া হবে গরিব পরিবারগুলোকে যারা তাদের মেয়ের বিয়ে দিতে হিমশিম খাচ্ছে৷ এছাড়া এই বিলের আওতায় বিয়েতে অতিথির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে এবং খাবারের কয়টা ‘আইটেম' বা পদ থাকবেও সেটাও সীমিত করে দেয়া হবে৷ কেননা এ সব বিয়েতে প্রচুর খাবার অপচয় হয়৷

কিন্তু যেসব বিত্তবান মানুষ তাদের সন্তানের বিয়েতে ‘শো-অফ' করতে চায় এই বিল তাদের বিপক্ষে যাচ্ছে না?

এটা এমন একটি দেশ যেখানে অনেক মানুষের দুইবেলা দুমুঠো খাবার জোটে না, এমনকি লাখো মানুষ অভুক্ত থাকে, সেখানে এ ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের কোনো মানে হয় কি? গত নভেম্বরেই মেয়ের বিয়েতে পাঁচদিনের অনুষ্ঠান করেছেন ভারতীয় ব্যবসায়ী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জি জনার্দন রেড্ডি৷ ধারণা করা হয় তাতে খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচশ কোটি রুপি৷ এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে৷

যদি বিলটি অনুমোদিত হয় এবং আইনে পরিণত হয়, তাহলে কি আসলেই বিয়েতে ব্যয়ের পরিমাণ কমবে বলে আপনার ধারণা?

জাম্মু-কাশ্মীরের সরকার কিন্তু এরই মধ্যে এ ধরনের বিশাল আয়োজনের বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে৷ আমরা যেসব পদক্ষেপের কথা বলছি, তারা আগামী এপ্রিল থেকে সেটা কার্যকর করবে৷ ছেলে ও মেয়ে বিপক্ষে নিমন্ত্রিত অতিথির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ মধ্যে রাখতে হবে৷ তারা যদি এটা করতে পারে, তাহলে ভারতের বাকি অংশে কেন এটা সম্ভব নয়?

নতুন বার্তা/টিটি
 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top