শনিবার, ২৭ মে ২০১৭
webmail
Sun, 19 Mar, 2017 08:14:02 PM
নতুন বার্তা ডেস্ক

জামশেদপুর: ঠাকুরদা ভালবেসে নাতির নাম দিয়েছিলেন সাদ্দাম হুসেন। কিন্তু ঠাকুরদার দেওয়া সেই নামের গেরোয় পড়ে নাতির জীবন ওষ্ঠাগত।

ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের বাসিন্দা সাদ্দাম এক জন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আক্ষেপের সুরে জানান, স্কুল ও কলেজ জীবন ঠিকই ছিল। নাম নিয়ে কোনও সমস্যার মুখে পড়তেই হয়নি। তামিলনাড়ুর নুরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরোনোর পরে চাকরি জোটাতে গিয়েই যত সমস্যা! আর সেই সমস্যার মূল কারণ তাঁর নাম।

এই নামের চক্করেই এক বার বা দু’বার নয়, ৪০ বার তাঁর চাকরির আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছে। সাদ্দাম বলেন, “প্রথম ছ’মাস বুঝেই উঠতে পারিনি কেন আমার আবেদন পত্র বাতিল করা হচ্ছে। পরবর্তী কালে যে সব সংস্থায় আবেদন বাতিল হয়েছে, সেই সব সংস্থার এইচআর ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলে আসল বিষয়টা জানতে পারি। তারা জানায় নামের কারণেই তাঁকে বাতিল করা হয়েছে!”

সাদ্দাম জানান, একটা সময় নামটাই তাঁর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো লাগছিল। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আইনি সাহায্যে নিজের নাম বদলে সাজিদ করেন সাদ্দাম। ড্রাইভিং লাইসেন্স,ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট সব কিছুতেই নাম পরিবর্তন হয়। নাম পরিবর্তন করে সাদ্দাম ভেবেছিলেন সে যাত্রায় গেরো কেটেছে। কিন্তু সমস্যা সেখানেই মিটে যায়নি। আইনি সাহায্যে পরিবর্তন করলেও, নুরুল বিশ্ববিদ্যালয়, যেখান থেকে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন, তাদের দেওয়া সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যুক্তি দেখায়,মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন না হলে তারা কোনও ভাবেই সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন করবেন না।
হতাশ হয়ে সাদ্দাম ঝাড়খণ্ড আদালতের দ্বারস্থ হয়। আগামী ৫ মে এই মামলার শুনানি।

এ দিকে, নাতির এই হয়রানি দেখে ঠাকুরদা এখন কপাল চাপড়াচ্ছেন। নিজের ‘নির্বুদ্ধিতা’র কারণেই যে নাতির এই দুর্দশা, আক্ষেপের সুরে জানান বৃদ্ধ।সংবাদ মাধ্যম

নতুন বার্তা/এসএমএকে


 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top