বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭
webmail
Sun, 05 Nov, 2017 03:46:12 PM
নতুন বার্তা ডেস্ক

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমা। এখানকার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হাতে বানানো কাঠের এক বাইক, যার নাম সুকুডু।

ট্রাক আর মোটরসাইকেলের বাতিল যন্ত্রাংশ দিয়ে বানানো এই বাইকের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যাও কম নয়। এর মাধ্যমে রুটিরুজির ব্যবস্থাও হচ্ছে বহু মানুষের।

রুয়ান্ডার সীমান্ত ঘেঁষা গোমা শহরটি ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর। শহরের দশ লক্ষ মানুষ দেশটিতে রোজকার সংঘাত আর অস্থিতিশীলতায় অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে '৯০ এর দশক থেকেই এই শহরে মানুষজন পালিয়ে আসতে শুরু করে।

যে কারণে নানা ধরনের মানুষের বাস এখানে। এদের একটি বড় অংশই নিম্ন আয়ের কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষ। জীবিকার জন্য এদের নতুন করে ভাবনা চিন্তা করতে হয়েছে, অপ্রচলিত অনেক পেশায় যুক্ত হয়েছে বহু মানুষ।
এদের একজন তুমাইনি ওবেদী। পেশায় সুকুডু ড্রাইভার।

"সুকুডু আমার জীবিকার বন্দোবস্ত করেছে। এটি একটি মালবাহী বাইক। এই শহরে আপনার যদি একটি সুকুডু থাকে, নিশ্চিত ভাবেই আপনি দু'পয়সা রোজগার করতে পারবেন।"

বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে গোমায় আশ্রয় নেয়া মানুষগুলোর একটি বিষয়ে খুব মিল। এরা সকলেই খুব গরীব।

বেশিরভাগের দৈনিক রোজগার দুই ডলারের কম। বেকারত্বের হার অনেক বেশি। আর প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সুযোগও সীমিত।
সেই সঙ্গে কর্মমুখী কোন শিক্ষার ব্যবস্থাও নেই। যে কারণে সৎভাবে পরিশ্রম করে উপার্জন করতে চায়, এমন বহু বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে এই মালবাহী বাইক সুকুডু।

সকালবেলায় ডিআর কঙ্গোর গোমার রাস্তায় নামলেই চোখে পড়বে বহু সুকুডু, যার চালকদের বড় অংশটি বয়সে তরুণ।

"আমার যারা কাস্টমার, তারা সকাল বেলায় ফোন করে দেয়। তাদের চাহিদামত এক জায়গা থেকে মালপত্র নিয়ে আরেক জায়গায় পৌঁছে দিই আমি। কি জিনিস পরিবহন করছি, সেটা আমি ঠিক করি না। সবই টানি আমি।"

আধা যান্ত্রিক বাহনটি দেখতে অনেকটা বাইকের মতই, হাতলের কাছে একটি ছোটখাটো মোটরও আছে।

কিন্তু এই বাহনের পুরো শরীরটাই কাঠ দিয়ে বানানো। এই কাঠের টুকরোগুলোও যোগাড় করা হয়েছে বাতিল জিনিসপত্রের দোকান থেকে।

দেখতে কিছুটা হাস্যকর হলেও, সুকুডু চালকদের দাম দেয় লোকজন। ঠাট্টা করে স্থানীয় মানুষেরা বলে, সুকুডু ড্রাইভারকে যদি কেউ বিয়ে করে সে না খেয়ে মরবে না।

ওবেদীর পরিকল্পনা কিছু টাকা জমাতে পারলে একটা মোটরসাইকেল কিনবেন। তারপর একদিন বাস কিনবেন। এভাবেই চলবে জীবন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত থাকবেন পরিবহন ব্যবসাতেই।

এখানে যারা কাজ করতে চায়, তাদের জন্য ওবেদীর উপদেশ, ভাই, মাথাটা একটু খাটাও, কাজের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

নতুন বার্তা/এমআর


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close