বিদেশ

কেন কাদা খান ৯৯ বছরের এই বৃদ্ধ

ভাত রুটি না হলেও চলবে, কিন্তু দিনে এক কিলো কাদা তাকে খেতেই হবে। সেই ১১ বছর বয়স থেকে অভ্যেসটা রয়েই গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা ৯৯ বছরের কারু পাশোয়ানের এই কাদা ভক্ষন দেখতেই ভিড় জমান দূরদূরান্তের মানুষ। এই নিয়ে অবশ্য গর্বিত নন তিনি।

এই কাদা খাওয়ার জঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বড় কষ্টের একটি কারণ। সেই কারণ যখন তিনি প্রকাশ করেন তখন বেরিয়ে পড়ে দেশের অন্তঃসার শূন্য এক আর্থ সামাজিক ব্যবস্থা। যে দেশে বুলেট ট্রেনের পরিকল্পনা হয় সেদেশের মানুষ এখনও ক্ষিদে মেটাতে কাদা খান।

কারু পাশোয়ান বলেন, এখন আমার কাদা খাওয়া একটি দর্শনীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সময় ছিল যখন খাবার না পেয়ে ক্ষিদের জ্বালায় পেট ভরাতে কাদা খেতে বাধ্য হয়েছিলাম। যে শৈশব কাটে খোলা ধুলো করে, সেই শৈশব আমি কাটিয়েছি খাবারের খোঁজে।

একটুকরো রুটি ভাইবোনের মুখে তুলে দিতে নিজে কাদা খেয়ে পেট ভরাতাম। যত বড় হয়েছি দারিদ্রের চাপ আরও বেড়েছে। আমার ১০টা ছেলে মেয়ে। তাদের মুখের ভাত তুলে দিতে গিয়ে আর নিজের খাওয়ার কিছু থাকত না। একটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম যে মরতে চাইতাম। মরার জন্যই বলতে গেলে কাদা আরও বেশি করে খেতে শুরু করি। সেটা ক্রমে নেশার মত হয়ে গিয়েছে।

এখন পেটভরা ভাত খেতে পাই ঠিকই, কিন্তু এককিলো কাদা না খেলে ঘুম হয় না। ভাতের থেকেও কাদা আমার পেট ভরায় বেশি। তৃপ্তিও দেয়। কারুর বড় ছেলে সিয়া রাম পাশোয়ান জানিয়েছেন, পরিবারের লোকেরা তাকে অনেকবার এর থেকে বিরত করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু পারেননি। যেভাবেই হোক মাঠ ঘাটে ঘুরে কাদার টুকরো তুলে খেয়ে ফেলেন। যদিও এরপরেও ৯৯ বছর সুস্থ শরীরে বেঁচে রয়েছেন কারু পাশোয়ান।

এই বিরল খাদ্যাভ্যাসের জন্য ২০১৫ সালে বিহারের সবর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করেছেন।

নতুন বার্তা/কেকে

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker