মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
Wed, 23 May, 2018 01:08:09 AM
নতুন বার্তা ডেস্ক

ইসরায়েল দাবি করছে, সিরিয়ার ভিতরে সম্প্রতি দুটি আক্রমণে তারা পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক এবং ব্যয়বহুল এফ-৩৫ স্টিল্থ যুদ্ধ বিমান ব্যবহার করেছে। এ বিমান যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি। প্রতিটি বিমানের দাম প্রায় ১০ কোটি ডলার।
এই প্রথম এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কোন ‘কমব্যাট অপারেশন’-এ ব্যবহৃত হলো।

এ বিমান এতই ব্যয়বহুল যে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই এর দাম এবং কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে, এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর সমালোচনা করে টুইট করেছিলেন।


ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর প্রধান জেনারেল আমিকাম নরকিন আজ এ বিমান ব্যবহারের খবর প্রকাশ করার পর এই বিমান নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমানের বৈশিষ্ট্য

লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি এই বিমানে আছে স্টিল্থ প্রযুক্তি। এর ফলে সহজেই শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দেয়া সম্ভব অর্থাৎ এই বিমান ওড়ার সময় শত্রুপক্ষের রাডারে তার অস্তিত্ব ধরা পড়বে না। তা ছাড়া শত্রুপক্ষের বিমানের চোখে পড়ার আগেই সে নিজেই তাকে দেখতে পাবে।

এর পাইলটের হেলমেটে বসানো আছে একটি ডিসপ্লে সিস্টেম - যাতে অন্যদিকে মুখ করে থাকা অবস্থায়ও শত্রু বিমানের দিকে গুলি করতে পারা যাবে।

পাইলট শত্রু লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি চিহ্নিত করতে পারবেন, শত্রুর রাডার জ্যাম বা অকার্যকর করে দিতে পারবেন এবং আক্রমণ প্রতিহত করতে পারবেন।
তা ছাড়া এ বিমানের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত অপারেশন কমান্ডারের সাথে শেয়ার করা যাবে।

এ বিমানের সমালোচনাও রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এফ-৩৫ যুদ্ধিবিমানে শত্রু রাডার ফাঁকি দেবার ব্যাপারটিকে এত বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যে, অন্য নানা দিক থেকে এতে অনেক ঘাটতি বা খুঁত রয়ে গেছে।

কিন্তু জেনারেল নরকিন বলছেন, এ বিমান একটি ‘গেম চেঞ্জার’ অর্থাৎ এটি আসার পর বিমানযুদ্ধ আর আগের মত থাকবে না।
তিনি বলেন, “আমরা এ বিমান সারা মধ্যপ্রাচ্যের উপরে উড়িয়েছি এবং দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণও চালিয়েছে।” তবে কি লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমন করা হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেন নি।

ইসরায়েল কেন এভাবে এফ-৩৫ ব্যবহারের কথা জানালো?

প্রশ্ন উঠেছে, কেন ইসরায়েল এই বিমান ব্যবহার করার কথা দাবি করলো?
সম্ভবত ইসরায়েল তার সামরিক শক্তি প্রদর্শনের জন্যই আমেরিকানদেরও আগে এ বিমান ব্যবহারের কথা ঘোষণা করেছে।কারণ তারা মনে করে, ইরানের সুপ্রশিক্ষিত বাহিনী সিরিয়ায় গেড়ে বসছে, এবং ইসরায়েলের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে।

ইসরায়েল বলছে, সিরিয়ার ভিতরে তাদের সাম্প্রতিক বিমান হামলাগুলোতে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য দেয়। মার্কিন আইন অনুযায়ী এ সাহায্য এমনভাবে দিতে হবে যাতে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব সবসময়ই অক্ষুণ্ণ থাকে।

নতুনবার্তা/কিউএমএইচ


 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top