বিদেশ

Google এর ২০ বছর: পৃথিবী পেয়েছে নতুন মাত্রা!

ঢাকা: আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এখন গুগল। গুগল প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ৪০ হাজার অনুসন্ধানের ফলাফল দেয়। তবে গুগল শুধুই সার্চ ইঞ্জিন নয় সার্চ ইঞ্জিনের চেয়েও যেন বেশি কিছু। এটা একটা বিজ্ঞাপনী মাধ্যম, একটি ব্যবসা মডেল আর ব্যক্তিগত তথ্যের এক নিরলস সংগ্রাহক।

প্রত্যেকবার যখন আমরা গুগলে কোন অনুসন্ধান করি, গুগল আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং অভ্যাস সম্পর্কে খানিকটা জেনে ফেলে- কিন্তু আপনি গুগল সম্পর্কে কতটা জানেন?
আসুন জেনে নেই গুগুলের ইতিহাস এবং অন্যান্য!

১৯৯৬ সালে গবেষণা প্রকল্প হিসাবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন পিএইচডি কোর্সের ছাত্র ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন এর কাজ শুরু করেন। ঐ সময়ের অনুসন্ধান ইঞ্জিন গুলো ফলাফলকে বিন্যাস করতে কত বার একটি বিষয়কে অনুসন্ধান ইঞ্জিন পাতায় এনেছে সেই ভিত্তিতে। তাদের তত্ত্ব ছিল তখনকার কৌশলগুলোর চেয়ে নতুন কৌশলে কোনো একটা অনুসন্ধান ইঞ্জিন বানানো, যেটি ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যেকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষন করে ফলাফল দেখায়, তাহলে আরো ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

পেজ এবং ব্রিন শুরুতে নতুন অনুসন্ধান ইন্জিনের নাম রাখে “ব্যাকরাব”, কারণ এই ব্যবস্থায় সাইটের ব্যাকলিংকগুলো যাচাই করা হত ঐ সাইট কত গুরুত্বপূর্ন তা নির্ধারণ করার জন্য। পরবর্তীতে তারা নাম পরির্বতন করে গুগল রাখে, যা আসলে ভুল বানানে লিখা “googol”থেকে এসেছে। এটি দিয়ে বোঝানো হত একটি সংখ্যার পেছনে একশত শূন্য। এরপর তা নাম হিসেবে নির্বাচন করা হয় কারণ তারা অনুসন্ধান ইঞ্জিনের বিশাল পরিমাণ তথ্য প্রদানের ব্যপারটিকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন। প্রথমত, গুগল স্ট্যানফোর্ড ইউনির্ভাসিটির ওয়েবসাইটের অধীনে চলত যার ঠিকানা ছিল google.stanford.edu এবং z.stanford.edu

ডোমেইন নাম গুগল নিবন্ধিত করা হয় ১৫ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ সালে[২৬] এবং কর্পোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮ সালে। এটি চালানো হত তাদের এক বন্ধুর গ্যারেজ থেকে যার নাম ছিল সুজান ওজচিচকি। তিনি ম্যানলো পার্ক, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রেইগ সিলভারস্টাইনে থাকতেন। প্রথম নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি ছিল স্ট্যানফোর্ডের ফেলো পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপ্ত একজন ছাত্র।

১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৪ সালের ১৯শে আগস্ট এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয়। সময়ের সাথে নিত্যনতুন পণ্য ও সেবা যোগ করে গুগল প্রতিনিয়ত নিজেদের আকার ও উপযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে নতুন কোম্পানি কিনে নিজেদের সাথে একীভূতকরণ, ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব ও বিজ্ঞাপন জগতে নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ়ীকরণের মাধ্যমে নিজেদের বহুমুখিতাকে সমৃদ্ধ করেছে। ফলে তথ্য খোঁজার পাশাপাশি বর্তমানে ইমেইল, সামাজিক নেটওয়ার্কিং, ভিডিও শেয়ারিং, অফিস প্রোডাক্টিভিটি, প্রভৃতি বিষয়ে গুগলের সেবা রয়েছে।
তারপরের গল্প তো সবারই জানা । তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানির।

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, সগৌরবে জন্মদিন পালন করছে গুগল। অতএব, এটাই তার শুরুর দিনও- এমন হিসেবে পৌঁছানোটাই কি যুক্তিসঙ্গত নয়? স্বাভাবিক হিসেব তো তাই বলে! কিন্তু, দেখা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে দুইয়ে দুইয়ে চার করা যাবে না।
কেন না, এই ২৭ সেপ্টেম্বর জন্মদিনের তারিখ হিসেবে সর্বসম্মত হয়েছে এই তো সেদিন! ২০০৬ সাল থেকে! কিন্তু, তার ঠিক আগের বছরেই, মানে ২০০৫এ গুগল জন্মদিন পালন করেছে ২৬ সেপ্টেম্বর। আবার ২০০৪ এ যখন ৬ বছরের জন্মদিনে মেতেছে, তখন সেই দিনটা ছিল ৭ সেপ্টেম্বর। তার আগের বছরে জন্মদিন পালন করা হয়েছিল ৮ সেপ্টেম্বর। ও দিকে, তথ্যপ্রমাণ বলছে, আদতে গুগল অফিস তৈরি হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। কেউ কেউ আবার আরও একধাপ এগিয়ে, দুই গুগল মালিক ল্যারি পেজ এবং সার্জি ব্রিন যখন গবেষণাগারে গুগল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত, সেই ১৯৯৬ সালটাকে গুগলের জন্মের বছর বলতে চান!
তাহলে? অন্যের দাবি না হয় ছেড়ে দেওয়া যেতেই পারে! কিন্তু, গুগলের নিজের জন্মদিন নিয়ে এমন তারিখের হেরফের কেন?
কারণটা সঠিক জানা যায় না। গুগল নিজেই জানায়নি। তবে, ২০১৩ এর সেপ্টেম্বরে একটা কৈফিয়ত দিয়েছিল ঠিকই! তারা আর নানা রকম তারিখে নয়, ২৭ সেপ্টেম্বরটাকেই জন্মদিনের তারিখ হিসেবে পাকাপাকি ভাবে বেছে নিল।গুগলের জন্মদিন নিয়ে সংশয় থাকলে ও গুগলের ২০ বছরে পৃথিবী পেয়েছে এক নতুন মাত্রা! এই নিয়ে কারো সংশয় নেই।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker