বাক্যসাক্ষাৎকারহোমপেজ স্লাইড ছবি

মার্কেটিং ক্যারিয়ারে সৃজনশীলতার বিকল্প নেই : আফতাব মাহমুদ খুরশিদ

বাংলাদেশের মার্কেটিং জগতে কাজ করতে গিয়ে যে কয়েক জন মানুষ তার মেধার প্রমাণ দিয়ে নিজেকে কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আফতাব মাহমুদ খুরশিদ। ১৯৯৪ সালে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করে এখন পর্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করে চলেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে।
শিশু সাহিত্যিক ও অনেক জনপ্রিয় গানের রচয়িতা জনাব আফতাব মাহমুদ খুরশিদ কর্পোরেট বাংলাদেশে একজন অন্যতম Brand Catalyst and Business Marketing specialist.
তিনি এসিআই, সিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক , সিমেন্স, ট্রাস্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মাধ্যমে তিনি বিপুল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে (Marketing and Brand Communication) বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করে থাকেন এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে Business Talk Show তে অংশগ্রহণ করে থাকেন।
আফতাব মাহমুদ খুরশিদ ২০০৭ সালে গ্লোবাল ব্র্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পান।
তিনি ২০১৪ সালে ওয়ার্ল্ড ব্র্যান্ড কংগ্রেসের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।
২০১৫ সালে তিনি মার্কেট লিডারশিপ সন্মাননা পান। তিনি বর্তমানে এ্যাপোলো হসপিটাল ঢাকার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এবং মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত আছেন।
 
কর্পোরেট এবং গানের জগতের এই খ্যাতিমান মানুষ কে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।
আমাদের আলোচনার শুরুতেই জানতে চেয়েছিলাম আফতাব মাহমুদ খুরশিদের কাছে তার শুরুর গল্পটি। জবাবে তিনি বলেন,
 
শৈশব কৈশোর জন্ম সবকিছুই ঢাকায়। ফিন্যান্সে অনার্স আর ব্যাংকিং-এ মাস্টার্স, দুটোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হই এবং মার্কেটিং-এ এমবিএ করেছি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইংল্যান্ডে।
১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে পড়ালেখা শেষ করার পরপরই ১৯৯৪ সালের জানুয়ারি মাসে এসিআই কোম্পানিতে প্রোডাক্ট অফিসার হিসেবে যোগদান করি। শুরুতে এসিআইয়ের তিনটি ভিন্ন সেক্টরে কাজের জন্য আবেদন করলেও মার্কেটিংয়ের জন্য আমি মনোনীত হই। এরপর সেখানে এসিআই অ্যারোসল, জনসন অ্যান্ড জনসনসহ আরও কয়েকটি পণ্যের ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমেই প্রথম ব্র্যান্ডিং পেশার সাথে পরিচিত হই আমি।’
 
পড়াশোনার বিষয় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং হলেও কেন তিনি এ পেশায় এলেন জানতে চাইলে আফতাব মাহমুদ খুরশিদ বলেন,
 
‘আমি যখন শুরু করছিলাম, তখন আমি নিজেও জানতাম না ব্র্যান্ডিং পেশাতে আমি আসবো। পরবর্তীতে কাজ করতে গিয়ে যখন বুঝতে পারলাম আমি এই ক্ষেত্রে কিছু একটা করতে পারব, তখনই ব্র্যান্ডিংয়ের দিকেই বিশেষ মনোযোগ দিই। আমার ক্ষেত্রে যে বিষয়টা ছিল, আমি এ পেশা শুরুর আগে থেকেই বিভিন্ন কাজের সাথে জড়িত ছিলাম। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ চিন্তামূলক কাজ যেমন পত্রিকাতে লেখালেখি, গান লেখা কিংবা বই লেখার মতো কাজগুলো করেছি। বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে আমার পরিচয় ছিল সে সময়। যার ফলে আমার কাজ করতে গিয়ে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি।
 
আফতাব মাহমুদ খুরশিদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তার মতে বর্তমান বাংলাদেশে ব্র্যান্ডিংয়ের অবস্থা সম্পর্কে, উত্তরে তিনি বলেন,
বাংলাদেশে ব্র্যান্ডিং সেই অর্থে হাটি হাটি পা পা করে এগোচ্ছে। ব্র্যান্ডিং অনেক সময়ের ব্যাপার। মার্কেটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হচ্ছে ব্র্যান্ড, কোনো কোম্পানির ভিশন, মিশন থেকে শুরু করে ভ্যালু, প্রাইস, ব্যবসার অবস্থান এ সবকিছুর সমন্বয়ই ব্র্যান্ডিং। সেজন্য বলা যায়, ব্র্যান্ডিং ইজ অ্যা কন্টিনিউয়াস ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং অলসো অ্যা বিজনেস সায়েন্স। নতুনরা এই পেশাতে আসছে তবে তা অনেকক্ষেত্রেই না জেনে। যারা এই পেশাতে এখন কাজ করছে, তাদের সবাই অনেকবেশি শিক্ষিত কিন্তু তাদের বড় একটা অংশই ব্র্যান্ড বিষয়টি কী—সেটা জানে না। আর এই সুযোগটা দিচ্ছে আমাদের দেশের কয়েকটা কোম্পানি। যারা নিজেরাই জানে না ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনে একটা অন্যরকম বিষয় রয়েছে। তবে কাজের ক্ষেত্রে এসে যখন অনেকেই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়, তখন তাদের জন্য ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করাটা একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। তবে যারা বিষয়টি বুঝতে পারছে তারা অনেক ভালো কাজ করছে। এক্ষেত্রে কোম্পানি গুলোর উচিত পেশাদারী পরিবেশ সৃষ্টি করা।
 
জনপ্রিয় অনেক গানের রচয়িতা আফতাব মাহমুদ খুরশীদ। যেমন- মাইলস্-এর ‘ফিরিয়ে দাও’ ‘জ্বালা জ্বালা’ ‘এক ঝড় এসে ভেঙ্গে দিয়ে গেল’ ‘ধ্বিকি ধ্বিকি আগুন জ্বলে’ ‘বয়ে চলে’ ‘হৃদয়হীনা’ ‘নিলা’ ‘কি যাদু’ অকটেভ এর ‘তুমি চলে গেছ’, ফিডব্যাক এর ‘জয় হোক’ ওয়ারফেজ-এর ‘ধূপছায়া’ ‘আশা’ ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, তিনি গান ও লেখালেখির জগতে মাহমুদ খুরশিদ নামে পরিচতি।
 
তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম বর্তমান সময়ে গীতিকারদের অবমূল্যায়নের ব্যাপারে? গীতিকারদের অবমূল্যায়নের সাথে একমত হয়ে তিনি বলেন, গীতিকারদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা উচিত। এখন তো বেশিরভাগ টিভি প্রোগ্রাম, লাইভ কনসার্ট সহ গানের আয়োজনে গীতিকারদের নামই উচ্চারণ করা হয় না। অথচ একটা গানের পিছনে অনেক মেধা ও সময় ব্যয় করে গীতিকারা।
 
তরুণরা যারা মার্কেটিং সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চায় তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর পড়তে হবে।
ব্যবসায়িক জ্ঞান থাকতে হবে। সৃজনশীল এবং আধুনিকমনা হতে হবে। মার্কেটিং ক্যারিয়ারে সৃজনশীলতার বিকল্প নেই।
একজন মার্কেটার একই সাথে শিল্পী ও।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker