বাক্যসাক্ষাৎকারসাহিত্য

পৃথিবী বইয়ের হোক: কিঙ্কর আহসান

পৃথিবী বইয়ের হোক এই প্রত্যাশা করেন পৃথিবীর সব মননশীল মানুষ। এই স্লোগান হৃদয়ে ধারণ করে রীতিমত আন্দোলন শুরু করেছেন একজন স্বাপ্নিক লেখক। তার বই নিয়ে গত বছর একটি দুর্দান্ত বিজ্ঞাপন মুগ্ধ করেছে সবাইকে। সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে বইয়ের প্রচারের যথেষ্ট সুযোগ বাড়লেও শুধু বইকে কেন্দ্র করে এই ধরণের বিজ্ঞাপন নির্মাণ খুব একটা দেখা যায়নি।

লেখকের নাম কিঙ্কর আহসান। ইতিমধ্যেই বাংলা সাহিত্যের মনোযোগী পাঠকের কাছে কিঙ্কর আহসান একটি জনপ্রিয় নাম। গল্প বলার স্বতন্ত্র ধরণ, বিষয়ের বৈচিত্র্য পাঠকের হৃদয়ে তাকে দিয়েছে ভালোবাসার স্থান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক ছাত্র কিঙ্কর আহসান বর্তমানে কর্মরত আছেন একটি স্বনামধন্য বিজ্ঞাপনী সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে। কিন্তু তিনি নিজেকে একজন লেখক পরিচয় দিতেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। সম্প্রতি নতুন বার্তার মুখোমুখি হয়েছিলেন এই সময়ের এই গুরুত্বপূর্ণ লেখক।

নতুন বার্তা: কিভাবে শুরু গল্পের জীবন?

কিঙ্কর আহসান: লেখালেখির শুরু ক্লাস এইট থেকে। আমার বয়সী সবাই যখন ব্যস্ত দুরন্তপনায় তখন আমি যাপিত জীবনের হাসি কান্না লিখে রাখতাম ডায়েরিতে। যুক্ত ছিলাম প্রথম আলো বন্ধুসভার সাথে। প্রথম আলোতে লিখতাম নিয়মিত। তারপর শুরু বিস্তৃত পরিসরে গল্প বলা। ‘আঙ্গারধানি’ আমার লেখা প্রথম উপন্যাস! কাঠের শরীর প্রথম গল্পের বই। মকবরা, মধ্যবিত্ত, রাজতন্ত্র, রঙিলা কিতাব, আলাদিন জিন্দাবাদ, বিবিয়ানা, কিসসা পূরাণ, স্বর্ণভূমি সব মিলিয়ে দশটি বই প্রকাশিত হয়েছে আমার। সামনে বইমেলায় আসছে আমার নতুন উপন্যাস ‘ মেঘডুবি।

নতুন বার্তা: আপনার জনপ্রিয়তার রহস্য কি?

কিঙ্কর আহসান: ১৬ কোটি মানুষের দেশে কারো হাজার কপি বই বিক্রি হলেই সে জনপ্রিয় লেখক এই ধারণার সাথে আমি একমত নই। আমি নিজেকে জনপ্রিয় লেখক বলতে চাই না। প্রত্যক লেখকের নিজেকে প্রকাশ করার প্রবণতা থাকে। প্রত্যক লেখক ই চায় তার অনুভূতির কথামালা অনেক মানুষের কাছে পৌছাক! আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমি আমার গল্প বলে যেতে চাই শুধু।

নতুন বার্তা: বইয়ের প্রচারে আপনি কেন এত সরব ?

কিঙ্কর আহসান: একজন লেখকের জন্য লেখার মানটা ঠিকঠাক রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরী আমি মনে করি। ভালো লিখলে পাঠকই আমার বইয়ের বিজ্ঞাপন হবে, তারাই প্রচারণা করবে এমনটাই বিশ্বাস ছিলো তাই লেখা ছাড়া অন্য কোনো দিকে নজর দেইনি। পরে দেখলাম এই সময়ে লেখালেখির জন্য প্রচার অনেক জরুরী। প্রকাশক আর অনলাইন পরিবেশকদের দিক থেকে প্রচারণার জন্য চাপ থাকে তাছাড়া লেখক মানেই প্রকাশের জন্য উদগ্রীব। নিজের লেখা ছড়িয়ে পড়ুক এটা সবাই চায়। আমিও চাই। তাই প্রচারণায় নামা। দৈনন্দিন জীবনের সকল পণ্যের যদি বিজ্ঞাপন হয়, প্রচার করা হয়। তাহলে বইয়ের মত ভালো জিনিষের প্রচার কেন করা যাবে না?

নতুন বার্তা: আপনার লেখার বিশেষত্ব কি?

কিঙ্কর আহসান: আমি প্রতিটি গল্পে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছি। ফলে পাঠকরা আমার লেখায় বৈচিত্র্য খুঁজে পায়। যেমন আমি আমার প্রথম উপন্যাস ‘আঙ্গারধানি’ তে একটি পরিবার এবং তার সাথে জুড়ে থাকা মানুষগুলির জীবনের উত্থান-পতনের দৃশ্য সাজিয়েছি উপন্যাসটিতে। এই উপন্যাসে উঠে এসেছে গ্রামবাংলার মানুষের ভ্রাতৃত্ব, নৌকাবাইচ, সারি গান। আবার, মকবরা উপন্যাসে উঠে এসেছে চরিত্রহীন,ভবঘুরে,সংসারত্যাগী মজনুর পরবর্তী জীবনে স্ত্রী হাবিবার প্রতি ভালবাসা,মেয়েকে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। মধ্যবিত্ত উপন্যাসে উঠে এসেছে মধ্যবিত্ত মানুষের হাসি কান্না ভালোবাসার গল্প। প্রতিটি গল্পে বিষয়ের বৈচিত্র্য মানুষকে হয়তো স্পর্শ করেছে। আমার গল্প; আমার সময়ের গল্প হয়ে উঠে সব পাঠকের গল্প।

নতুন বার্তা: এই সময়ে বাংলা সাহিত্যে আপনার প্রিয় লেখক কারা?

কিঙ্কর আহসান: প্রিয় লেখকের তালিকা অনেক বড়! শহীদুল জহির প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম। এই সময়ের লেখকদের মধ্যে হরিশংকর জলদাস, শাহাদুজ্জামান, আবদুল্লাহ আল ইমরান, সাদাত হোসাইনের লেখা আমার ভালো লাগে।

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker