সোমবার, ২৯ মে ২০১৭
webmail
Sun, 22 Sep, 2013 09:34:51 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সরকার ও প্রসিকিউশন জোরপূর্বক সাক্ষ্য নিয়েছে বিদেশী পত্রিকা দ্যা টেলিগ্রাফে প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সাক্ষী শামসুল হক নান্নু।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রসিকিউশন কার্যালয়ে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, আমাকে জাড়িয়ে বিদেশী পত্রিকার যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ইউটিবে প্রকাশিত বক্তব্য আমার নয়।

তিনি বলেন, আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের জীবন সংকটময়। হীন উদ্দেশ্য নিয়ে আমার সম্পের্কে এ সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের এ সাক্ষী বলেন, আমাকে জোর করে সাক্ষী করা হয়নি।

তিনি বলেন, পত্রিকার সংবাদটির মাধ্যমে আমি জানতে পারি আমার সাক্ষাৎকার সম্বলিত একটি ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে। পরে ইউটিউবে সাক্ষাৎকারটি আমি দেখতে পাই। সেখানে যে লোকটি দেখানো হচ্ছে তার  গোঁফ নেই। ছোট বেলা থেকেই আমার ঝাকড়া লম্বা চুল রয়েছে। কিন্তু ওই লোকটির চুল লম্বা ঝাকড়া নয়। যে গলার স্বরটি দেয়া হয়েছে তাও আমার নয়। এটি আমার স্বরের একটি বিকৃত স্বর। এছাড়া প্রচারিত বক্তব্যও আমার নয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত অপরাধীদের সমর্থনকারী মহল দেশে-বিদেশে আমার সুনাম ক্ষুন্ন এবং আমার ও আমার পরিবারের জীবন বিপন্নে সর্বনাশা চক্রান্তে লিপ্ত। ইউটিউভের বক্তব্যে আমার সংক্ষিপ্ত নাম নান্নু ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রকাশিত ওই সংবাদে টবি ক্যাডম্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সরকার সাক্ষীদের ওপর জোর করে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছে। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে নান্নু বলেন, জোর করে তাকে সাক্ষ্য দেওয়ানো হয়নি। সে নিজে থেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমার বক্তব্যে প্রচারের সময় ইংলিশ ভার্সনে লেখা এবং বাংলায় বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে। এজন্য তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন।

বৃটেনের ডেইলি টেলিগ্রাম পত্রিকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল কাদের মোল্লা শীর্ষক এক সংবাদে আন্তর্জাতিক লবিস্ট মি. টবি ক্যাডম্যানের বরাত দিয়ে অ্যাডভোকেট শামসুল হক নান্নুর বক্তব্য  প্রকাশিত হয়।

সাক্ষী শামসুল হক নান্নু জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার ১১ নম্বর সাক্ষী।

প্রকাশিত সংবাদে নান্নু বলেছেন, এ মামলার সরকারপক্ষ  ৪/৫ জন স্বাক্ষীর একটা সিন্ডিকেট তৈরি করল। আমি সেই স্বাক্ষীদের একজন। আমাদের ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হলো। সরকার আমাকে চার পাঁচটা মামলার প্রধান আসামি করে জোর করে সাক্ষ্য নিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়,  “ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাসের ৪ তারিখে সাক্ষীর সঙ্গে দেখা করেন এবং বলেন, ‘যে আমাকে সাক্ষী দিতে হবে।’ তিনি বললেন, “তুই সাক্ষী দিয়ে দে। আমি তোকে মূল্যায়ন করবো।”

এ ছাড়া যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যুটাতে সরাসরি আর্মির সংযুক্ততা আছে। শেখ হাসিনার ডান হাত বলে খ্যাত লে.জে. ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে মিলিটারির একটা ইন্টিলিজেন্স বিভাগ ব্যাপারটা হ্যান্ডেল করছে।নান্নু বলেন, “ইমরুল কায়েসকে পরবর্তী সেনাপ্রধান করা হবে। ছেলেটাই আমাকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে সাক্ষী দিতে বাধ্য করেছে।

সাক্ষী বলেন, “আমার ছেলে BCS –এ ASP পদে চাকরি পেয়েছে। কিন্তু তাকে আউট করে দেয়া হয়েছে। তখন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুকুর সঙ্গে আমার একটা বোঝাপড়া হলো। টুকু বলল, “তুমি মুক্তিযোদ্ধা। নিজামীর বিরুদ্ধে তোমাকে যেভাবে সাক্ষী দিতে বলি তুমি ঠিক সেভাবে সাক্ষী দেবে।”
 
তাহলে তোমার ছেলের চাকরি বহাল থাকবে। অন্যথায় পুলিশ ইনভেস্টিগশনে তোমার ছেলের নাম বাদ দেয়া হবে। এছাড়া আমার ছেলের বিরুদ্ধেও মামলাও দেয়া হয়েছে যাতে কোনোভাবেই চাকরিতে জয়েন করতে না পারে। তখন আমি ছেলের চাকরির জন্য টুকুর কাছে স্যারেন্ডার করলাম।

টুকু বলল, “আমি তোমার ছেলেকে চাকরি দেব কিন্তু তোমাকে নিজামীর মামলার চাক্ষুস সাক্ষী হতে হবে।”

এছাড়া আর্মির ডিজিএফআই প্রধান বলল, “সাক্ষী আপনাকে দিতেই হবে,ইচ্ছা হলেও দিতে হবে, অনিচ্ছা হলেও দিতে হবে কারণ সরকার আপনার ওপর depend করছে।” আর এভাবেই আমাকে নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হলো।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “ওরা বলল ওরা আমাকে পিক আপ করে নিয়ে যাবে, রিহার্সাল করাবে, যা বলবে তাই সাক্ষী দিতে হবে। অন্যথায় RAB আমাকে নিখোঁজ করে ফেলবে”। এছাড়া বলল, “যদি আমি তাদের শেখানোর বাইরে কোনো কথা বলি তারা আমাকে মামলায় জড়াবে এবং গ্রেফতার করবে।”

নান্নু বলল, “এদের যা view দেখলাম, হাসিনার সঙ্গে কথা বলে, এরা যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় আসবে আর তাতে যদি বহু লোক ফেরে ফেলতে হয়, তাও ফেলবে’’।

নান্নুর ভাষ্যমত, হিটলারের পঞ্চম বাহিনীর মত RAB এর মধ্যে টুকুর একটা নিজস্ব বিশেষ বাহিনী আছে। এরাই যখন ইচ্ছা, যাকে ইচ্ছা ধরে নিয়ে যায়।

 নান্নু বলল, “এই শয়তানগুলোকে ভয় পাচ্ছি কেন জানেন? এরা মানুষ না। কথা না শুনলে এরা যে কাউকে মেরে ফেলতে পারে।”

নতুন বার্তা/এজেখান/জবা


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top