শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭
webmail
Wed, 24 Aug, 2016 10:16:17 AM
নতুন বার্তা ডেস্ক

ঢাকা: তথ্য-প্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাদ দিয়ে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করবে সরকার৷ সোমবার আইনের খসড়াটি মন্ত্রী পরিষদে তোলা হয়৷ আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত সাপেক্ষে এর প্রাথমিক অনুমোদনও দেয়া হয়েছে ইতিমধ্যে৷

এই আইনে নতুনভাবে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আদালত কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত মীমাংসিত কোনো বিষয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করলে বা এ ধরনের অপপ্রচারে মদদ দিলে, সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে৷ পাশাপাশি এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তিও হতে পারে বলা হয়েছে খসড়ায়৷

তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসের সভাপতি মোস্তফা জব্বার ডয়চে ভেলেকে বলেন, “এই আইনটিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরো বেশি নিশ্চিত হবে৷ আইনটির খসড়া করার সময় তারা চেষ্টা করেছেন, যাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতাও অক্ষুণ্ণ থাকে৷ পাশাপাশি বিএনপির আমলে যে আইসিটি অ্যাক্ট তৈরি করা হয়েছিল, তার মধ্যে থেকে বিতর্কিত ধারাগুলো বাদ দেয়া হচ্ছে।”

একটি বক্তব্যের জন্য কারো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া কি যৌক্তিক হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শাস্তি দেয়া বিচারকের দায়িত্ব৷ অপরাধের ধরন দেখে বিচারক শাস্তি দেবেন৷ তিনি চাইলে কমও দিতে পারেন৷ আবার সর্বোচ্চ শাস্তিও দিতে পারেন৷ শাস্তি দেয়া আইনের কাজ নয়৷”

প্রস্তাবিত এই আইনে বিদ্যমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারাটিও থাকছে না৷ এই ধারাটি রহিত করে নতুন আইনের ১৯ ধারায় মানহানি, মিথ্যা বা অশ্লীল ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দু'বছর কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে৷ ২০০৬ সালে বিএনপির আমলে প্রণীত আইসিটি আইনটির ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানা৷ আওয়ামী লীগের আমলে প্রথমে ২০১৩ সালের ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ সব ধারার অপরাধের শাস্তিগুলো বাড়িয়ে সর্বাধিক ১৪ বছর ও অন্যূন সাত বছর করা হয়৷

মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি অন্য আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা এবং অন্য আইনের সঙ্গে এটা মিলে যায় কিনা, সেটা দেখার জন্য তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে৷”

তিনি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করবেন৷ আইনটি নিয়ে যাতে বিভ্রান্তি না হয় এবং স্বচ্ছতা থাকে, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে৷ এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাইবার অপরাধ বন্ধ করা৷

খসড়া এই আইনে বিভিন্ন অপরাধের জন্য বিভিন্ন রকম শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাইবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর, সর্বনিম্ন দু'বছর, ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়ার কথা বলা হয়েছে৷ এই আইনে অসৎ উদ্দেশ্যে অনুমতি ছাড়া ছবি তুললে বা প্রকাশ করলে দুই বছর কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে৷ এছাড়া গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে৷ নিজের পরিচয় গোপন করে কেউ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে৷ খসড়া আইনে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার প্রধান থাকবেন একজন মহাপরিচালক, যিনি জরুরি পরিস্থিতিতে যেকোনো সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন৷ জরুরি পরিস্থিতিতে মহাপরিচালকের হাতে বেশ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে৷

কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর, সর্বনিম্ন এক বছর কারাদণ্ড, তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে৷

এছাড়া কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে প্রতারণা ও হুমকি, প্রতারণা বা ঠকানোর উদ্দেশ্যে অন্যের তথ্য ব্যক্তিগত বলে দেখানো, পর্নোগ্রাফি, মানহানি, শত্রুতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের জন্য আলাদা শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে৷-ডিডব্লিউ

নতুন বার্তা/টিটি
 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close