শুক্রবার, ২৩ জুন ২০১৭
webmail
Wed, 19 Apr, 2017 09:29:38 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম

ঢাকা: রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ডম-ইনো অ্যাপার্টমেন্টে যেদিন নুরুল ইসলাম নিহত হন, সেদিনও ওই বাসায়  সাবেক কাস্টমস কমিশনার, কবি ও গীতিকার একেএম শাহাবুদ্দীন নাগরী গিয়েছিলেন।

পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত নুরুল ইসলাম খুনের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনের স্ত্রী নুরানী আক্তার ও শাহাবুদ্দীন নাগরী। দিন দুয়েকের মধ্যে হত্যারহস্যের কুলকিনারা হবে বলে আশা করছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ।

গত ১৩ এপ্রিল রাতে এলিফ্যান্ট রোডের ১৭০/১৭১ নম্বর ডমো-ইনো অ্যাপার্টমেন্টের ৫ম তলায় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে তার নিজ বেডরুমের ফ্লোরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মৃতদেহের দুই-তৃতীয়াংশ খাটের নিচে এবং বাকিটা বাইরের দিকে ছিল। তার মুখে রক্ত জমাট বাঁধা ছিল। মৃতদেহের কিছুটা দূরেও রক্ত দেখা গেছে। নিহতের গায়ের চামড়াও ছিল বিবর্ণ।

ওই ভবনের ব্যবস্থাপক বাবু কুমার স্বর্ণকার বলেন, বছরখানের আগে ব্যবসায়ী পরিচয়ে চারতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন নুরুল ইসলাম। ওই ফ্ল্যাটে ওঠার পরদিনই শাহাবুদ্দীন নাগরী সেখানে এসেছিলেন। ভবনের নিয়ম অনুযায়ী তাকে সেদিন খাতায় নাম লিখে উঠতে হয়।

পরে নুরুল ইসলাম তাকে বলেন, শাহাবুদ্দীন নাগরী তার অভিভাবক। আর কখনো যেন তার নাম লেখা না হয়। ফ্ল্যাটে ওঠার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই শাহাবুদ্দীন নাগরী সেখানে আসতেন। যেদিন নুরুল ইসলাম মারা যান, সেদিন বেলা ৩ টা ১৩ মিনিটে শাহাবুদ্দীন নাগরী আসেন এবং সন্ধ্যা ৭ টা ১৭ মিনিটে বেরিয়ে যান। ভিডিও ফুটেজেও তা দেখে গেছে।ওই ফুটেজ এখন পুলিশের কাছে।
এদিকে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ওই বাসায় যাই ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ১ টার দিকে।তবে মৃতদেহ দেখে মনে হয়েছে, নুরুল ইসলাম আগেই মারা গেছেন।’

তবে নুরুল ইসলামের বোন শাহানা রহমান (কাজল) এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার ভাই ১২ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে যেকোনো সময় খুন হয়েছেন।

খুনের কারণ কী, সে সম্পর্কে পুলিশ, নুরুল ইসলামের স্বজন বা অ্যাপার্টমেন্টের লোকজন পরিষ্কারভাবে কিছু বলতে পারেনি।

নুরুল ইসলামের বোন হাসনা আক্তার (কুমকুম) বলেন, বছর পাঁচেক আগে তার ভাই নিজের পছন্দে নুরানী আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর বাড়ির সঙ্গে তার্ একরকম যোগাযোগ ছিলো না।

পুলিশের কাছে নুরুল ইসলামের স্ত্রী নুরানী জানিয়েছেন, তার স্বামী গার্মেন্টস সামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা করতেন।

জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটের ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া নিয়মিতই পরিশোধ করে আসছিলেন শাহাবুদ্দিন নাগরী।

সম্প্রতি তিনি নুরানীকে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে একটি গাড়িও কিনে দেন। নুরানীর সঙ্গে শাহাবুদ্দিন নাগরীর বন্ধুত্ব নিয়ে নুরানীও নুরুল ইসলামের মধ্যে বড় ধরনের কোনো ঝগড়া-বিবাদও হয়নি বলে জানান ওই বাড়ির ঠিকে ঝি রওশন আরা। তারপরও কেন তাকে মরতে হলো, সে প্রশ্নের জবাব মিলছে না।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল নুরুল ইসলামের বোন শাহানা রহমান কাজল ভিকটিমের স্ত্রী ও স্ত্রীর বন্ধু শাহাবুদ্দীন নাগরীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নামে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় লেখক মো. শাহাবুদ্দীন নাগরী এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি ছিলেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রথিতযশা বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক শাহাবুদ্দীন নাগরী। তিনি একজন আধুনিক রোম্যান্টিক কবি যিনি ১৯৭০ দশকের কবি হিসেবে চিহ্নিত। তিনি শিশুসাহিত্যিক হিসেবে সমধিক সমাদৃত। তার রচিত ছড়া ১৯৭০-এর দশকের মধ্যভাগ থেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। একই সঙ্গে তিনি ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, গীতিকার, সুরকার, গায়ক এবং নাট্যকার হিসেবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

১৯৯০-এর দশকে পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখে বৃহত্তর পাঠকগোষ্ঠীর কাছে সমাদর লাভ করেন। তিনি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮-এ কোলকাতায় অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসবে তার এক খণ্ড জমি প্রদর্শিত হয়। দীর্ঘকাল শিশু সাহিত্যিক হিসাবে প্রখ্যাত হলেও একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে তিনি প্রধানত কবি এবং গায়ক এই দুই পরিচয়ে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন।

নতুন বার্তা/ওএফএস

 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top