শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭
webmail
Sat, 14 Sep, 2013 10:10:21 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম

ঢাকা: মাথাপিছু ঋণের বোঝা জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে অধিক হারে বাড়ছে।ফলে অর্থনীতিতে ঋণের চাপ বাড়ছে।স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ’উন্নয়ন অন্বেষণ’এর মাসিক ’বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’আগস্ট সংখ্যা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

উন্নয়ন অন্বেষণের মতে, বাংলাদেশ মাথাপিছু ঋণের বোঝা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৩.৭ শতাংশ বেড়ে  দাঁড়িয়েছে ৩৩৮৯.৮৪ টাকা যা ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল ২৯৮২.১৯ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটি মনে করে যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে কারণ ২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকার ইতোমধ্যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হয়নি। তার ওপর বর্তমান বছরে পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে অতিরিক্ত লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।

উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিপরীত অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে অনুন্নয়ন ব্যয় ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২১.৫ শতাংশে। অপরদিকে উন্নয়ন ব্যয় ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৪২ শতাংশ থেকে কমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২৫.১ শতাংশ।  ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো খাতে বাজেটে তুলনামূলক কম বরাদ্দ পেয়েছে।

একইভাবে কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন উপখাত সমূহে গত অর্থবছরের তুলনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেট কমেছে ২.৩৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। সুতরাং অর্থনীতির এই সব গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গুণক প্রভাব কোনোটাই ফেলতে পারছে না।

উন্নয়ন অন্বেষণের মতে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কৃষি খাতে বরাদ্দ মোট বাজেটের -১১.৯ শতাংশ কমেছে। কৃষি খাতের মতো শিল্প খাতে ও বরাদ্দ ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৭৫.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১৭.১ শতাংশে। উপরন্তু অনুন্নয়ন ব্যয়ের আধিক্যের কারণে কৃষি খাতের বরাদ্দ কমে যাচ্ছে যা ভবিষ্যত উৎপাদনশীলতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ বলছে যে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে বরাদ্দ গত অর্থবছর ও বর্তমান অর্থবছরের অন্যান্য খাতের তুলনায় কম। শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ব্যয় গত অর্থবছরের তুলনায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে যথাক্রমে ০.১২ এবং ০.৬১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে সুদ পরিশোধের জন্য মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১৮.৮৩ শতাংশ বেশি। ফলে অনুন্নয়ন খাতে সুদ পরিশোধ সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত হিসেবে পরিণত হয়েছে।

২০১৩-১৪ অর্থবছরে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন: মানব সম্পদ, কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, এবং জ্বালানি ও যোগাযোগ এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ব্যয় শুধু অবকাঠামো খাতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রধানত পাঁচ ধরনের প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করেছে। প্রথমত, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে অধিক ব্যয়ের ফলে সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্বিতীয়, ভর্তুকি ব্যয় অধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তৃতীয়ত, বিদ্যুতের উৎপাদন ও চাহিদার পার্থক্য কমছে না। চতুর্থত, ভর্তুকি বাড়া সত্ত্বেও বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। পঞ্চমত, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বেশির ভাগ ভর্তুকি দেয়া সত্ত্বেও প্রত্যাশা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়েনি।

প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, ঘাটতি মেটানোর জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আই,এম,এফ) এবং এর সঙ্গে সহমত পোষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিনির্ধারণী উপদেশ অনুসরণ করছে যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

যদি ঘাটতির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হওয়া যায় তবে সরকারি ব্যয়ের আকার ও বাজেট ঘাটতি তেমন কোনো উদ্বেগের বিষয় নয় বলে উন্নয়ন অন্বেষণ মনে করে।

২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে মোট সরকারি ঋণ নেয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা যা গত অর্থবছরের তুলনায় তিন হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা বেশি। এই সরকারি ঋণবৃদ্ধির প্রবণতা ঘাটতি পূরণের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করে।

গত তিন অর্থবছর ধরে সরকার তফসিলি ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে অতিক্রম করছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকার তার বাজেট লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। আবার ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে ২৫ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। এভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়ার ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

নতুন বার্তা/জাই
 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top