শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
webmail
Sat, 26 Oct, 2013 11:41:31 AM
নতুন বার্তা ডেস্ক

ঢাকা: স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণর সর্বশেষ মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা মতে, দেশের বাণিজ্য শর্ত ক্রমহ্রাসমান হওয়ায় অর্থনীতিতে কাঠামোগত প্রতিকূলতা সৃষ্টি করছে। বাণিজ্য শর্ত কোনো দেশের আমদানি পণ্যের সাপেক্ষে রফতানি পণ্যের আপেক্ষিক দাম নির্দেশ করে। ২০১০-১১ অর্থবছরে বাণিজ্য শর্ত ৭০.৮ শতাংশ থেকে কমে গিয়ে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৭০.১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এক প্রক্ষেপণে বলছে যে, যদি দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া হয় বাণিজ্য শর্ত আগামী বছরগুলোতে আরো হ্রাস পেয়ে ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে যথাক্রমে ৬৯.২ , ৬৮ এবং ৬৬.৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। বাণিজ্য শর্ত ২০০৬-০৭ থেকে হ্রাস পেতে শুরু করে।

’উন্নয়ন অন্বেষণ-এর মতে, অপেক্ষাকৃত কম মূল্য সংযোজনকারী রফতানি পণ্যের ও অধিক মূল্য সংযোজনকারী আমদানি পণ্যের আধিপত্যগত কারণে পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য শর্ত ক্রমহ্রাসমান হয়েছে। বাণিজ্য শর্ত ক্রমাগত নিম্নমুখী হওয়ায় দিন দিন বেশি মূলধন দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাত ধরনের নিম্ন মূল্যসংযোজনকারী-শ্রম-নিবিড় দ্রব্য রফতানির আধিপত্যের কথা উল্লেখ করে ’উন্নয়ন অন্বেষণ’বলছে যে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাটজাত দ্রব্য এবং তৈরি পোশাক রফতানি ২০১১-১২ অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও হিমায়িত খাদ্য নীটওয়্যার, কাঁচা পাট, রাসায়নিক দ্রব্য ইঞ্জিনিয়ারিং, এবং বৈদ্যুতিক পণ্য এবং চা এর ক্ষেত্রে নিম্নগতি লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে প্রধান পাঁচটি আমদানি পণ্যের মধ্যে খাদ্য শস্য ছাড়া অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, কাঁচা তুলা, মূলধনী যন্ত্রপাতি, লোহা ইস্পাত এবং অন্যান্য বেস ধাতু তুলনামূলক উচ্চ মূল্যেসংযোজনকারী দ্রব্য।

এডহক ভিত্তিতে নীতি গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দ্রুত বেরিয়ে এসে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনকারী কর্মসূচি গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আহ্বান জানিয়েছে। ’উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর মতে, আর্থিক প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং কর অবকাশ সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সংযোজন এবং উচ্চ মূল্যের ম্যানুফ্যাকচারিং দ্রব্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাণিজ্য শর্ত হ্রাসকে রোধ করা যাবে। পাশাপাশি রাজস্ব ও আর্থিক নীতির মধ্যেও সমন্বয় দরকার।

বাণিজ্য উদারীকরণের সাথে সাথে বাণিজ্য শর্ত হ্রাস পাচ্ছে, যা উদারীকরণের যথার্থতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। ২০০১-০২ অর্থবছর থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরের মধ্যে বাণিজ্য উদারীকরণ সূচক ২০১২-১৩ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৪৯.৯ শতাংশে দাঁড়ায়।

রফতানি আয়ের চেয়ে বর্ধিত হারে আমদানি ব্যয় কমায় বাণিজ্য ঘাটতি কমছে বলে মনে করে ’উন্নয়ন অন্বেষণ’। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৭০১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় যা ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯৩১০ মিলিয়ন ডলার ছিল। বাণিজ্যের এই ধারা চলতে থাকলে ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঘাটতি দাঁড়াবে যথাক্রমে ২৪৯৪.৩৩ ও ২৬৬৭.৭১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

‘উন্নয়ন অন্বেষণ’মনে করে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় কমার ফলে চলতি বাণিজ্য ভারসাম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি ব্যয় ২০১১-১২ অর্থবছরের ৩৫৫১৬.৩ মিলিয়ন ডলার থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩৪০৮৩.৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। আমদানি ব্যয় শতকরা ৪.০৩ ভাগ কমার ফলে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪৪৭ মিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি অতিক্রম করে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৫২৫ মিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্তিতে পৌঁছায়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি পর্যলোচনায় বলছে যে, উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে শিল্পের কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমার কারণে, যা শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক নয় এবং এই উদ্বৃত্ত মুদ্রার উপচয়ের মাধ্যমে রপ্তানি প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিচ্ছে। শিল্পের কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ২০১১-১২ অর্থবছরের ১১২৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬৪০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং ৪৩.১৩ শতাংশ ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। অন্য দিকে, টাকার মান ২০১৩ সালের আগস্টে গত মাসের তুলনায় ০.০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পোর্টফোলিও বিনিয়োগ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমে গিয়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৪৪ শতাংশ ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধির কারণে ১১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৪.৬ শতাংশ ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা ২০১১-১২ অর্থবছরে ২৮.৪ শতাংশ ছিল।

বিদেশী সাহায্যের কথা বলতে গিয়ে উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে যে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে নীট বিদেশী সাহায্যের পরিমান বেড়ে গিয়ে ১৮৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল ১১৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম মাসে নীট বিদেশী সাহায্যের পরিমাণ ছিল -৪১.৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে ১৫৬.৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল।

নতুন বার্তা/জবা


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top