সোমবার, ২৯ মে ২০১৭
webmail
Sat, 29 Mar, 2014 11:43:17 AM
নতুন বার্তা ডেস্ক

ঢাকা: স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ’উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর মাসিক  ’বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ ২০১৪ সালের মার্চ সংখ্যা অনুযায়ী,  কৃষি ও শিল্প খাতে ক্রমহ্রাসমান প্রবৃদ্ধির ধারা বর্তমান আর্থিক বছরেও অব্যাহত থাকায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় সংকোচন ঘটবে।

কৃষি খাতে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ক্রমহ্রাসমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে এবং জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে যাচ্ছে। একইভাবে ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে; উক্ত দুই প্রকৃত খাতের প্রবৃদ্ধির ক্রমহ্রাসমানতা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে সংকুচিত করছে।

কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৫.২৪ শতাংশ থেকে কমে ২০১০-১১, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ অর্থবছরে যথাক্রমে ৫.১৩, ৩.১১ এবং ২.১৭ শতাংশে উপনীত হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ’উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে বর্তমান অর্থবছর তথা ২০১৩-১৪ সালে ২.০৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ২০১০-১১ অর্থবছরের ৯.৪৫ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১১-১২ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে যথাক্রমে ৯.৩৭ ও ৯.৩৪ শতাংশে দাঁড়ায়। প্রতিষ্ঠানটির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বর্তমান হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৬.০২ শতাংশ হতে পারে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২০১০-১১ অর্থবছরের ৬.৭১ শতাংশ থেকে কমে ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬.২৩ শতাংশে এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬.০৩ শতাংশে দাড়াঁয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে গত এক দশকে অর্জিত প্রবৃদ্ধির গড় হার ৬ শতাংশেরও নিচে চলে যেতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, যথোপযুক্ত নীতিগত পদক্ষেপের অভাব, কৃষি জমির ক্রমাগত হ্রাস, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন, পরিগ্রহণ ও বিতরণের প্রকটতা এবং কৃষি খাতে যথাযথ গবেষণা ও প্রশিক্ষণের অপর্যাপ্ততা কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পিছনে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি অবকাঠামোর অপ্রতুলতা, পোষাক খাতের সাম্প্রতিক অস্থিরতা, দেশীয় বাজারের সীমিত আকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অনুন্নয়নকে চিহ্নিত করেছে।

‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ নিয়মিত ও বিশ্বাসযোগ্য পরিসংখ্যান জনসম্মুখে উপস্থাপনের আবশ্যিকতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেছে যে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ’কোয়ান্টাম ইনডেক্স অব ইনডাসট্রিয়াল প্রডাকশন’-এর তথ্য মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশের কথা থাকলেও ২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে প্রকাশ না করায় এ খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা দুরূহ হয়ে পড়ছে।

‘উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর মতে, বিদ্যুৎ অপর্যাপ্ততা ও প্রতিকুলতা কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিপ্রতীপ অভিঘাত সৃষ্টি করছে। গত পাঁচ অর্থবছরে বিদ্যুতের ঘনঘন দাম বৃদ্ধি দেশের কৃষি ও শিল্প উভয় খাতের উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করেছে।

বিদ্যুৎ ক্রয়ে তেলভিত্তিক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টগুলোর উপর সরকারের নির্ভরশীলতা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। যেমন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে গ্যাসের মাধ্যমে প্রতি কিলোওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হত ২.৫৯ টাকা, ফার্নেস ও ডিজেল তেলের মাধ্যমে এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে যথাক্রমে ১৬.৩৭ ও ২০.৭৩ টাকা খরচ হয়। তদুপরি, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে উৎপাদন ক্ষমতা ও সর্বোচ্চ উৎপাদনের মধ্যে পার্থক্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছে, যা এ খাতের উৎপাদন অদক্ষতা ও ’অর্থনৈতিক রেন্টে’র ছড়াছড়িকে নির্দেশ করে।

‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ মনে করে, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি সুবিধাজনক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে, বিদ্যুৎ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

নতুন বার্তা/জবা


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top