সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭
webmail
Sat, 12 Aug, 2017 03:03:20 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম
ঢাকা: বিড়ি শিল্পের প্রতি অর্থমন্ত্রী পক্ষপাত দুষ্ট নীতি পরিহার না করলে রংপুরে তাঁকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে বৃহত্তর রংপুর তামাক চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতি। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ফকির।তিনি বলেন, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটা কারোই অজানা নয়। সেটা সিগারেট হোক, কিংবা বিড়ি। উভয়ই মানুষের জন্য ক্ষতিকর। বরং আমাদের দেশের ক্ষেত্রে বলতে পারি, সিগারেট স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ক্ষতিকর। কেননা বিড়িতে তামাক কম থাকে এবং সিগারেটে তামাকের পরিমাণ বেশি থাকে। সুতরাং বন্ধ করলে বিড়ি ও সিগারেট উভয় বন্ধ করে দিন। কিন্তু তার বদলে অর্থমন্ত্রী ব্রিটিশ টোব্যাকোর সাথে বৈঠক শেষে বললেন বিড়ি বন্ধ করে দিবেন। এটা কেমন কথা? দেশের একটি কুটির শিল্পের বিপক্ষে কোন স্বার্থে উনি উঠে পড়ে লেগেছেন, তা তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
 
তিনি আরো বলেন, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে চারটি জেলার মানুষ এই বিড়ি শিল্পের উপর নির্ভরশীল। তাদের জন্য কোন বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে বিড়ি শিল্প বন্ধ করা হলে কতজন মানুষ বেকার হয়ে পড়বে, সেটা কি তিনি জানেন? এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল তামাক। সুতরাং চাষাবাদ তামাক শিল্প নির্ভর। চাষাবাদে জড়িত শ্রমিকেরা তামাক শিল্প নির্ভর। সেই তামাক প্রক্রিয়ায় যারা থাকেন, তাদেরও জীবিকা তামাক শিল্প নির্ভর। সুতরাং এই অঞ্চলের উন্নয়ন থেকে শুরু করে টিকে থাকা সবই তামাক শিল্পের উপর প্রতিষ্ঠিত। উনি এক ঘোষণা দিলেন আর সব বন্ধ হয়ে গেল। বিষয়টা এত সহজ নয়।
 
রংপুর অঞ্চলের টিকে থাকা বিড়ি শিল্পের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল জানিয়ে তিনি বলেন, এখানের মানুষের যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে তা এই বিড়ি শিল্পের কল্যাণে। এই শিল্পের সাথে জড়িতদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে তা বন্ধ হতে দেব না আমরা। প্রয়োজনে সকল তামাক চাষী ও শ্রমিক রাজপথে আন্দোলনে নামবে।
 
এ সময় অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যের সমালোচনা করে সমিতির সভাপতি হামিদুল হক বলেন, আপনারা সাংবাদিকেরাও জানেন তিনি কেমন ভাষায় কথা বলেন। তিনি এখন বলেন বন্ধ করে দিব, আবার বলছেন এখন নয় পরে। তার বক্তব্যে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে এই অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ। বিড়ি শিল্প ধ্বংস হলে এই অঞ্চলে অন্যান্য পেশাজীবীরাও সমস্যায় পড়বেন। সার্বিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষ মঙ্গায় পতিত হবে। এ বিষয়টি কি অর্থমন্ত্রী বিবেচনা করছেন?
 
অনুষ্ঠানের শেষভাগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। তিনি এখনো আমাদেরকে সময় দেননি। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দাবি একটাই। তামাক চাষী ও শ্রমিকদের সাথে পক্ষপাত কোন আচরণ যেন করা না হয়।
 
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম তুহিন, সদস্য বিকাশ রায়, রুবেল মিয়া, মাসুদ হাসান, আমজাদ হোসেন, মিলন রায় ও নিতাই চন্দ্র।
 
নতুনবার্তা/কিউএমএইচ

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close