বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
webmail
Sun, 03 Dec, 2017 03:04:55 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম
ঢাকা: আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) এর হল-০৪ এ পর্দা নামল ‘বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিসিএমইএ)’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত তিনদিন ব্যাপী ‘সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০১৭’।
 
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।  আরও উপস্থিত ছিলেন মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, এমপি, সভাপতি, বিসিএমইএ এবং জনাব ইরফান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক, বিসিএমইএ এবং চেয়ারম্যান, ফেয়ার প্রজেক্টিং কমিটিসহ আরও অনেকে।
 
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিরামিক এক্সপোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বানিজ্যমন্ত্রী জনাব তোফায়েল আহমেদ, এমপি।
 
সিরামিক নিয়ে এটি দেশের প্রথম সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও সেমিনার। ৩০ নভেম্বর শুরু হয়ে এ মেলা চলে ০২ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) এর হল-০৪ এ। দর্শনার্থীদের জন্য মেলা প্রতিদিন সকাল ১০ ​​টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত খোলা ছিল।
 
প্রস্তুতকারক, রপ্তানিকারক এবং সরবরাহকারীরা তাদের নতুন পণ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিজেদের দক্ষতা বিশ্বব্যাপী তুলে ধরেন। এতে করে বিশ্বের কাছে তাদের ভাবমূর্তি বাড়ে এবং পুরো প্রক্রিয়াতে নতুন মান যোগ করে। ঈঠে আসে সিরামিক শিল্পৈর নানা সমস্যা এবং তা সমাধানের উপায়।
 
তিনদিনব্যাপী মেলায় ১৩টি দেশের মোট ৬০টি কোম্পানি অংশগ্রহন করে।  ছিল ৪০০ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, ৫০ জন বায়ারস হোস্ট, ১০০টির বেশি বুথ, ১০০ এর বেশি ব্র্যান্ড ইত্যাদি। তিনদিনে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে মেলা প্রাঙ্গনে। দ্বিতীয়দিন শুক্রবার থাকায় লোকসমাগম বেশি হয়। ভীড় সামলাতে এক পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই সবাইকে ঢুকতে দেন আয়োজকরা।
 
এছাড়া সিরামিক শিল্পতে আরও উন্নত করতে আয়োজন করা হয় মোট চারটি সেমিনার। যেখানে বক্তা হিসেবে ছিলেন বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রুয়েটের শিক্ষকরা। আরও ছিলেন সিরামিক শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। প্রতিটি সেমিনারে গড়ে ১৫০ জন অংশগ্রহন করে।
 
তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, "গত তিন দিনে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে এখানে। সিরামিক শিল্প যে এতোটা এগিয়ে গেছে এটা অনেকেই জানতেন না। নতুন প্রজন্ম দায়িত্ব নেয় এগিয়ে আসছে। এটা খুবই আশাব্যঞ্জক। ৪০০ বিদেশী প্রতিনিধি মেলায় এসেছিলেন। এটা জেনে ভাল লাগল। কিন্তু বিসিএমইএ- কে বলব আর‌্যঅন্ডডি (রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) করতে। আপনারা নতুন বাজার খুঁজুন। ক্রেতাদের কি পছন্দ সেটা জানার চেষ্টা করুন এবং তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন। আমাদের সরকার সিরামিক শিল্পকে খুব উচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করছে। আমরা জানি বিদ্যুৎ সমস্যা আছে। কিন্তু আমি আশা করি আমরা খুব তাড়াতাড়ি সেটা থেকে বের হয়ে আসতে পারব। গ্যাসের কোন ঘাটতি নেই। এপ্রিল ২০১৮ তে ৫০০এলএমজি যোগ করা হবে। আও ৫০০ এলএমজি অক্টোবরে আসবে। তবে একটা প্রত্যাশা, ফ্যাক্টরিতে ব্যবহৃদ শিল্প যন্ত্রপাতি যেন এনার্জি সেভিং হয়। দয়া করে এই ব্যাপারটাকে অগ্রাধিকার দিন। "
 
বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বিশেষ অতিথি এম এ মান্নান বলেন, "আজকের উপস্থাপনা এবং বক্তৃতা থেকে আমি সিরামিক শিল্প সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি। শেখ হাসিনা সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন চান। এখন এই শিল্পটি আরও ভাল ভবিষ্যতের দিকে একটি ভাল গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের মন্ত্রণালয় এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনাদের যে কোন সমস্যা সুবিধায় পাশে থাকব।”
 
সভাপতি মো। সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, সভাপতি রাষ্ট্রপতি, বিসিএমইএ বলেছিলেন, "বর্তমানে দেশে ০৩ টি ক্যাটাগরিতে ৬২ টি প্লট রয়েছে। এখানে আরও নতুন কোম্পানি আসছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এর পাশাপাশি  বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে সিরামিক একটি বড় ভূমিকা রাখবে। চট্টগ্রাম বন্দরে মাসের পর মাস আমাদের কাচামাল আটকে থাকবে। আমাদের কাঁচামালের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এখান থেকে আমাদের পরিত্রান করতে সরকারের কাছে সহযোাগীতা চাইছি। "
তিনি আরও যোগ করেছেন, "আমরা এবারের সব অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পেয়েছি। তারাই আমাদেরকে বাধ্য করছে অরও ভাল কিছু করার।”
 
বিসিএমইএ এর সাধারন সম্পাদক ইরফান উদ্দিন বলেন, "মেলা থেকে আমরা প্রত্যাশার থেকেও বেশি সাড়া পেয়েছি।  অনেক নতুন যোগাযোগ তৈরি হয়েছে এবারের মেলায়। অনেকে খুজে পেয়েছে নতুন বায়ার, কেউবা পেয়েছেন স্বল্প খরচে কাচামালের নতুন সংস্থান। সবমিলিয়ৈ প্রতিযোগীতাপূর্ণ একটা পরিবেশে ব্যবসার নতুন দরজা খুলে গেছে আমাদের জন্য। সেমিনারগুলো থেকে সবাই অনেক উপকৃত হয়েছেন।’
শুধু তাই নয় মেলা শেষ হবার আগেই শূরু হয়ে গেছে পরবর্তী মেলার পরিকল্পনা। “মেলার সফলতায় অনুপ্রানিত হয়ে অনেক কোম্পানি মেলা শেষ হবার আগেই পরবর্তী বছরের জন্য মেলায় আরও ভঅল জায়গা বুকিং দিয়েছেন। তাই সবার আগ্রহের কারনে আমরা এখন থেকে পরবর্তী বছরের মেলার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছি। এটা আমাদের জন্য বড় রকমের সাফল্য এবং অণুপ্রেরনার গল্প।” বলছিলেন ইরফান উদ্দিন।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকেই বিসিএমইএ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে সিরামিক সেক্টরে। ২০টি টেবিলওয়ার ম্যানুফেকচারার থেকে বছরে ২৫০ মিলিয়ন পিস সিরামিক প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে। ২৬ টি টাইলস প্ল্যান্ট থেকে ১২০ মিলিয়ন স্কয়ার মিটার টাইলস এবং ১৬ টি স্যানিটারিওয়ার প্রোডাক্ট কোম্পানি থেকে ৭.৫ মিলিয়ন পিস প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে।
ইরফান উদ্দিন আরও জানান, বর্তমানে ৫০ টি দেশে আমাদের দেশের সিরামিক পন্য রপ্তানি করছে। এই খাতে এখন সবমিলিয়ৈ বিনিয়োগের পরিমাণ এক বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং বার্ষিক আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।
 
বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের মধ্যে কোনও সালফার থাকে না এবং এর কারণেই দেশের সিরামিক পণ্যগুলি উজ্জ্বল এবং চকচকে দেখায়।
 
সিরামিক শিল্পে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও ভারত। কিন্তু তারা বেশিরভাগই ঐতিহ্যবাহী আইটেম উৎপাদন করে। তাছাড়া, বিশ্বব্যাপী আর্থিক সঙ্কট ও ক্রমবর্ধমান শ্রমমূল্যের কারণে, উন্নত দেশগুলি বাংলাদেশের মতো কম খরুচে দেশে আরও বেশি কাজ দিচ্ছে।
 
নতুবার্তা/কিউএমএইচ 

Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top
    close