রোববার, ২২ এপ্রিল ২০১৮
Thu, 12 Apr, 2018 09:28:02 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম
ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন গ্রামীণ ব্যাংক এখন আর ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ করছে না। তারা বরং অন্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত।
 
তিনি বলেছেন, ড. মুহম্মদ ইউনূস মনে করতেন ঋণ পাওয়া মানুষের অধিকার। এ ধারণা তিনি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন।
তবে ক্ষুদ্রঋণের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আসলে কি এর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে? কারণ, এ ঋণ গ্রহিতাদের ৭০ শতাংশ এখনো দারিদ্র্য সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
 
'সোসিও ইকোনোমিপ অব বাংলাদেশ থ্রো দ্যা ডিকেডস' বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার এসব মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ বইটি রচনা করেন।
দেশের আর্থ-সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত বইটির মূল উপজিব্য। উন্নয়ন বাজেট, উন্নয়ন অংশিদারদের সহায়তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাসহ মোট ২২ অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে বইটি। মূলত, গত চার দশক ধরে ড. খলিকুজ্জমানের প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও বক্তৃতার সংকলন বইটি।
 
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বইটির অধ্যায় ধরে ধরে আলোচনাকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালের প্রেক্ষিতে দাতা সহায়তার অধ্যায়টি রচনা করেছেন ড. খলিকুজ্জমান। তখনকার পরিস্থিতি আসলেই খারাপ ছিল। বাংলাদেশ ছিল দাতা সহায়তা নির্ভর। মোট রাজস্ব বাজেটের তুলনায় বেশি ছিল বিদেশি ঋণ। বইটিতে বিষয়গুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সব শ্রেণির পাঠকের জন্য এটি একটি চমৎকার বই।
 
ড. খলিকুজ্জমান সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাকে পিকেএসএফের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করা হলে তখন বলেছিলেন, ক্ষুদ্রঋণের বিরোধী হিসেবে তিনি কীভাবে এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন। তার মত করেই পিকেএসএফ পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাকে। ড. খলিকুজ্জমান তা-ই করেছেন। গতানুগতিক ক্ষুদ্রঋণের ধারণা থেকে বাইরে এসে নিজস্ব অনেক উদ্যোগ নেন তিনি। 'সমৃদ্ধি' এরকম একটি প্রকল্প।
অর্থমন্ত্রী জানান, তিনি নিজেই এ প্রকল্পের একজন ভক্ত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান।
 
পিকেএসএফের সাবেক মহাপরিচালক ড. কাজী মেসবাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, গ্রামাঞ্চলের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যতো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তার সবগুলোই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
 
ইনস্টিটিউিট অব ব্যাংক ম্যানজেমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, অর্ন্তভুক্তিমূলক উন্নয়ন, মানবকেন্দ্রিক উন্নয়ন, বৈষম্য হ্রাস সকলের জন্য মানবমর্যাদা নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চারিত হলেও কাজী খলীকুজ্জমান এ দর্শনের কথা সত্তরের দশক থেকেই বলে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ক পাঠ্যসূচিতে বইটি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাজমা বেগম বলেন, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানুষের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা এই বইয়ে তুলে এনেছেন অধ্যাপক খলিকুজ্জমান।
 
নতুন বার্তা/এফকে
 

 


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top