ব্যবসা ও বাণিজ্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং কি?

বাশার আল আসাদ: আমরা প্রায় সবাই জানি মার্কেটিং কি। মার্কেটিং সম্পর্কে আমরা মোটামুটি কম বেশি  সবার ধারণা আছে। কিন্তু গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং তা আবার কি? এটা কি মার্কেটিং কে  হ্যাক করে? নাকি অন্য কিছু? নাকি আসলে ওই রকম কিছুই না। মার্কেটিং এর একটা পদ্ধতি নাম। তাহলে আগে জানা যাক গ্রোথ হ্যাকিং কি?

-এটি মার্কেটিং এর এমন একটি উপায়, যে উপায় এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে, সকল উদ্যোক্তা, তাদের নতুন ও প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ের প্রচার ও প্রসার করে থাকে । গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং বিষয় সম্পর্কে জানতে হলে আরো ভালোভাবে জানতে। আপনার বা আপনার পণ্যের সম্পর্কে অন্য ব্যক্তির কাছে ভালো দিক তুলে ধরবে। কিন্তু বুঝতে পারবে না যে সে আপনার মার্কেটিং করছে। এই ধরুন, আপনি কোনো শপিংমলে কেনাকাটা করতে গেছেন। কেনাকাটার সাথে সাথে শপিংমলের পরিবেশটা আপনার মনে খুব ভালো লেগেছে। এর পর আপনি আপনার ফোনটা বের করে একটা সেলফি তুলে শপিংমলের নাম ও লোকেশনটা দিয়ে ফেইসবুকে আপলোড করলেন। ফেইসবুকের ওই ছবিটা আপনার বন্ধুরা সহ আরও অনেকে দেখলো এবং সেই  সাথে সাথে কিন্তু ওই শপিংমল সম্পর্কে জানতে পারলো। এখানে বিনা খরচে আপনি কিন্তু শপিংমলের  মার্কেটিং করে দিলেন। আর এই মার্কেটিং টা হচ্ছে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং। গুগল, ফেইসবুক, টুইটার, ইউটিউবের -এর মতো বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি গুলো তাদের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিতে এই পদ্ধতিটা ব্যবহার করে।

উপরের ঘটনার মতো আরো উদহারণ আমাদের চোখের সামনেই থেকে যায়। আমাদের দেশে পাঠাও তাদের কার্যক্রম চালু করছে এই ২ বছরের মতো হলো । প্রথম দিকে পাঠাও অতটা জনপ্রিয় লাভ করতে পারিনি যা এখন করছে। ঠিক পাঠাও ও এই গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং করছে। প্রথম রাইড কে তারা ফ্রি দিয়ে তাদের মার্কেটিং করছে। কেননা যে ওই ফ্রি রাইডটা  পেয়েছে ,সে এ কথা টা অন্যদের কাছে বলেছে অর্থাৎ পাঠাও এর মার্কেটিং করেছে। আর এভাবেই গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং হয়েছে যার ফলে আজ বাংলাদেশে পাঠাও বর্তমান এই অবস্থায়। গ্রোথ হ্যাকিং সম্পর্কে  কিছুটা হলেই আমরা ধারণা পেয়েছি। এই গ্রোথ হ্যাকিং পদ্ধতিটা মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কিভাবে কাজ করে অথবা এই পদ্ধতিতে মার্কেটিং করতে হলে কি করতে হবে  সেই সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ভাবে জানতে হবে  –

উপযুক্ত পণ্য তৈরি

বর্তমান বাজারে কি ধরণের পণ্য চলবে, গ্রাহকদের কি ধরণের চাহিদা তার উপর ভিত্তি করে পণ্য বা সেবা তৈরী করতে হবে। অন্যথায় ভালো মার্কেটিং বা প্রচার যাই করি না কেন তা ভালো ফল দিবে না। তাই মার্কেটিং এর প্রথম কাজ হলো ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করা ,যেটা বর্তমানে মানুষের নিত্য চাহিদার তালিকায় থাকবে। ইউনিক  কিছু বাজারে নিয়ে আসতে  হবে অথবা ওই পণ্যের মান বাড়াতে হবে। যেমন–ভ্যাসলিনের  ১০ টাকার পণ্য্ ও আছে আবার দামি ১০০-৫০০ টাকার পণ্যটি ও আছে। যারা নিস্ন আয়ের মানুষ, তারা  ১০০–৫০০ টাকা দিয়ে ওই ভ্যাসলিন কিনবে না। কোম্পানি যখন ১০ টাকায় বাজারে  ভ্যাসলিন আনলো তখন ওই মানুষগুলো ও কিন্তু ভ্যাসলিন কিনছে।

এভাবেই দেখা যায় যে কোম্পানির উৎপাদন এবং বিক্রয় বেড়ে গেল। সেই সাথে আরও দেখা গেলো ওই কোম্পানি কে বিজ্ঞাপনের জন্য বেশি খরচ করতে হয় নি। কেননা ওই মানুষগুলোই এ কাজ তা নিজের থেকেই করে দিয়েছে।এখানে এই ভ্যাসলিনের মিনি প্যাক হচ্ছে ইউনিক প্রোডাক্ট। আপনি যদি আজ একটা ইউনিক প্রোডাক্ট বাজারে নিয়ে আসেন যেটা মানুষের কাজে লাগবে ,তাহলে আপনার ওই পণ্য ও ভ্যাসলিনের মিনিপাকের মতো মার্কেটে ছড়িয়ে যাবে। আসল কথা ,আপনাকে মানুষ কি চায় এমন জিনিস নিয়ে বাজারে নামতে হবে।

উপযুক্ত পণ্য বানাবো কি কিভাবে ?

আপনার পণ্যকে উপযুক্ত পণ্য বানাতে হলে,পণ্যটি সূম্পর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বসে থাকা যাবে না। আপনাকে শুরু থেকেই পণ্যের মান যাচাই বাছাই করার জন্য মার্কেট বিশ্লেষণ করতে হবে, যা গ্রোথ হ্যাকারা  করে থাকে। মার্কেট থেকে ফিডব্যাক নিয়ে সে অনুযায়ী আপনাকে উৎপাদন করতে হবে। এখন একটা প্রশ্ন আপনার মনে আসা স্বাভাবিক যে আমরা এই মার্কেট বিশ্লেষণটা  কিভাবে করতে পারি।  আমাদের টাকা পয়সা কম সে ভাবে মার্কেটিং এর কাজ করতে হবে। পণ্য নতুন হিসেবে আপনাকে কাস্টমার এর লেভেলটা ঠিক করে নিতে হবে। যদি শুরুর অবস্থায় ওই পণ্যকে পুরো বাংলাদেশের মানুষের হাতে দেখতে চায় তাহলে আপনাকে অনেক টাকা খরচ করতে হবে ,তবে সেক্ষেত্রেও ওই পণ্যের ব্যবসা সফল হবে কি না সন্দেহ। আপনার যেহেতু টাকা কম আর ব্যবসা সফল ভাবে করতে হবে সেহেতু আপনার কাস্টমার এর লেভেল টা ঠিক  করতে হবে। এরপর আপনাকে ওই লেভেলের কাস্টমারের কাছে পৌঁছাতে হবে। কিভাবে তাদের নিকট পৌঁছাবেন ? আপনার মার্কেট বিশ্লেষণের জন্য  এবং পণ্যকে উপযুক্ত  বানানোর জন্য আপনাকে  কাস্টমার  স্টান্ডার্ড ঠিক  করে তাদের কাছে পৌঁছাতে  হবে ,জানতে হবে তারা কি চায় ,কিভাবে চায়।

আপনাকে পণ্যটি বাজারে ছাড়ার আগে থেকেই আপনার পণ্য যে লেভেলের গ্রাহকদের কাছে আপনি পৌঁছে দিতে চান তাদের কে উদ্দেশ্য করে আপনার প্রচারণা চালাতে হবে এতে করে একসাথে আপনার মার্কেট বিশ্লেষণ ও মার্কেটিং দুটো-ই হবে।

প্রচারেই প্রসার

মার্কেটিং মানেই  হচ্ছে প্রচারেই প্রসার। আপনার ব্যবসাকে বড় করতে হলে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং যে ব্যাপারটা সেটা করতে হবে। উপযুক্ত পণ্য বানানোর পর এটাই আপনার কাজ হওয়া উচিত।  কিভাবে এই প্রচারেই প্রসার করবেন? আপনি কম  টাকা পয়সা খরচ করে চাইলেই ভালো কোন পত্রিকা ,টিভিতে বা বিলবোর্ড এ বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না। এজন্য আপনাকে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং হাতের কাছের পাওয়া যাবে।এবং এই মাধ্যম দিয়ে কাজ করতে পারেন। যেমন –ফেইসবুক,ইউটিউব ,বিভিন্ন ধরণের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বা ব্লগ মাধ্যমে। মনে করেন, আপনার ক্যাফের এর ব্যবসা আছে। আপনি নতুন একটা খাবারের আইটেম নিয়ে আসলেন। এর পর এটা আপনার যে ফেইসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল  আছে সেখানে ওই আইটেম সম্পর্কে বললেন সাথে আপনি অ্যাড করলেন যে যদি কেউ একটা কিনে তাহলে একটা ফ্রি। তাহলে অবশ্যই আপনার একটা ভালো প্রচার হবে। সেই সাথে প্রসারও হবে। আপনি আপনার পণ্য কে অন্য কোনো পণ্যের সাথে এডজাস্ট করে মার্কেট করতে পারেন। যেমন–আপনার আগের কম সেল হওয়া পণ্যটি নতুন বাজারে আসা পণ্যের লিংক আপ করে দিয়ে একটি কিনলে আরেকটি পণ্য সাথে ফ্রি, তাহলে আপনার পণ্যের প্রচার ও প্রসার দুটোই হবে।

গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং এ কাজ করা হয় বর্তমান কাষ্টমারদের নিয়ে। তাদের দিয়ে মার্কেটিং করে নেওয়া হয়,টেকনিক ও টেকনোলজি ব্যবহার করে। ওই কাস্টমারগুলো পণ্যের ওপর এতই মুগ্ধ হয় যে যার সাথে ওই বিষয়ে কথা হয় তাকে পণ্য টি সম্পর্কে বলে এবং কেনার জন্য সাজেস্ট করে । সুষ্ঠু মার্কেটিং করতে গেলে উপরের কথা গুলো মাথায় রাখতে হবে। গ্রোথ হ্যাকিং এর একটা বিষয় হচ্ছে আপনার পণ্যের ব্যবহারকারী আপনাকে ও হতে হবে। কেন না আপনি যখন ওই পণ্য নিজে ব্যাবহার করবেন ,তখন কাস্টমার একটা নিশ্চয়তা পায়। আপনি যত বেশি মার্কেট সম্পর্কে বেশি খবর রাখবেন, আপনার ব্যবসা তত ভালো হবে। ঠিক একইভাবে ,”তথ্য হচ্ছে গ্রোথ হ্যাকিং মার্কেটিং এর মূল ভিত্তি।

 

 

 

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker