ব্যবসা ও বাণিজ্য

নতুন উদ্যোগ! নতুন দিন!

নতুন সেমিস্টার বা নতুন শিক্ষা বছরে পর্দাপণ মানেই নতুন বই কেনার প্রয়োজন! বই কেনার জন্য আমাদের গন্তব্য চিরচেনা নীলক্ষেত! কারণ এখানে কম দামে শুধু সব বই ই পাওয়া যায় না! আরো আছে সেমিস্টার শেষে বই ফেরত দেওয়ার সুযোগ। কিন্তু ট্রাফিক জ্যামের এই শহরে নীলক্ষেত যাওয়া সবার জন্য আনন্দের না। যে উত্তরার একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তার বই কিনতে নীলক্ষেত যাওয়া আসা ভোগান্তির ও কারণ। ইন্টারনেটের এই যুগে সব কিছু যখন হাতের মুঠোয়! তখন বই কিনতে নীলক্ষেতে যাওয়া আসলেই কষ্টসাধ্য কাজ! কেমন হয় যদি অনলাইনে সব বই কিনতে পাওয়া যায়? ভাবছেন? অনলাইনে বই কিনতে তো এখনো পাওয়া যায়! কিন্তু খুব চড়া দামে! নীলক্ষেতের মত কম দামে বই কেনা তো অনলাইনে সম্ভব না। আপনার দুশ্চিন্তা অনুধাবন করেছে এক স্বপ্নময় তরুণ। তরুণের নাম মেহেদী হাসান নয়ন
 
মেহেদী হাসান নয়ন তৈরি করেছে এমন এক অনলাইন বইয়ের দোকান যেখানে আপনি নীলক্ষেতের বই কিনতে পারবেন খুব কম দামে! আর সেমিস্টার শেষে বই ফেরত দেওয়ার সুযোগ তো থাকছেই। মানুষের কাছে কম দামে সহজে বই বিক্রি করার এই প্ল্যাটফর্মের নাম www.booktionary.com.bd
 
সম্পূর্ণ ইউনিক এই ওয়েবসাইটে UNIVERSITY অপশনে গিয়ে শুধুমাত্র যার যার ভার্সিটি, ডিপার্টমেন্ট, সেমিস্টার সিলেক্ট করে সার্চ দিলেই সংশ্লিষ্ট সেমিস্টারের শিক্ষকগণের রিকমেন্ডেড সকল নতুন, পুরাতন বই এবং বান্ডেল পাওয়া যাবে এবং যে ইউনিভার্সিটির বইগুলো পাওয়া যাবে না উপরের রিকুয়েষ্ট অপশনে ইনবক্স করলেই আপডেট হয়ে যাবে ২/৩ দিনের মধ্যে।
 
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই ওয়েবসাইট থেকে লগ ইন করে কেনা বই বাসায় বসেই নেক্সট সেমিস্টার বা নেক্সট ইয়ারে নতুন অথবা পুরাতন বইয়ের সাথে এক্সচেঞ্জ করে নতুন বইয়ের উপর ৬০% পর্যন্ত ডিস্কাউন্ট পাবেন প্রতিবারই। অর্ডার করার আগেই অবশ্যই সাইন আপ এবং লগ ইন করে অর্ডার করতে হবে Exchangeable সুবিধা পাবার জন্য।
একইভাবে মেডিকেল, স্কুল, কলেজ, ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মিডিয়াম, সাবজেক্ট, ক্লাস, গ্রুপ সিলেক্ট করে যে কোন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রী তাঁদের সকল বই খুঁজে পাবেন যথাক্রমে মেডিকেল, একাডেমী অপশনে এবং যদি আপনার দরকারি বই না থাকে তাহলে রিকুয়েস্ট করতে পারবেন।
 
কিভাবে শুরু এই অসাধারণ উদ্যোগ এমন প্রশ্নের উত্তরে মেহেদী হাসান নয়ন বলেন,
 
নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই মূলত শুরু! নটরডেম কলেজ থেকে এইচ এস সি শেষ করে আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তখন ১ম বর্ষেই বন্ধুদের আড্ডার মাঝে নতুন কিছু করার ইচ্ছা মনের ভেতর বাসা বাঁধে।
আমি লক্ষ্য করলাম, আমার ভার্সিটিতে বই এর অনেক চাহিদা কিন্তু কেউ ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে নীলক্ষেত যেতে চায় না। কিন্তু না গিয়ে উপায় ও নেই কারণ নীলক্ষেত ই একমাত্র জায়গা যেখানে পুরানো বই দিয়ে নতুন কেনা বইয়ের উপর ছাড় পাওয়া যায়। তখন আমরা পাঁচ জন বন্ধু একত্র হয়ে ব্যবসা শুরু করলাম।
মেহেদী হাসান নয়ন
প্রথমে আমাদের কাছে এত পূঁজি ছিল না! মাত্র ৫ হাজার টাকা করে দিয়ে ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করলাম সবাই মিলে!
কিন্তু ভার্সিটিতে অর্ডার নেয়া বই এর ক্রয়মূল্য ৮০০০০ টাকার চেয়ে বেশি! এখন উপায়?
না হার মানি নি! নতুন উপায় বের করলাম, একটি ভ্যান ভার্সিটির সামনে বসিয়ে এক এক ক্লাস এর ছাত্রছাত্রীকে এক এক সময়ে আসতে বললাম তাদের ক্লাস টাইম অনুযায়ী এবং এই ফাঁকে বিক্রিত টাকা দিয়ে আবার নতুন বই কিনে এনে বিক্রি করলাম এবং এক্সচেঞ্জ ডিসকাউন্ট দিলাম তাতে ব্যাপক সাড়া ফেললো কারণ সকলের জন্য অনেক সুবিধাজনক ছিল বিষয়টা। পরবর্তীতে নানা প্রতিবন্ধকতার পথ পাড়ি দিয়ে দুই বন্ধু, আমি এবং আকিব সালেহিন মিলে মাঠে নামি পুরো বিষয়টাকে ডিজিটালে রুপ দেয়ার জন্য, কাজটা মোটেও সহজ ছিল না এর মধ্যেই আগের তিন জন ব্যবসায়িক অংশীদার সরে দাঁড়ায় তাদের ব্যক্তিগত কারণে। কিন্তু আমরা হার না মেনে অক্লান্ত পরিশ্রমে অনেক অর্থকষ্ট সত্ত্বেও এমন একটা ওয়েবসাইট ডিজাইন করি যার মাধ্যমে সকল ছাত্রছাত্রীর সময় এবং টাকা সাশ্রয় হয় এবং নীলক্ষেতের বই কেনার সুবিধা তারা বাসায় বসেই পেতে পারে।
 
ছাত্রছাত্রীদের বই কেনা কে আরো সহজ করতে মেহেদী হাসানের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মেহেদী হাসান নয়ন শুধু অর্থ উপার্জন করার জন্য ব্যবসা করতে চান না! তিনি চান তার কাজের মাধ্যমে মানুষের একটু হলেও যেন উপকার করে যেতে পারেন। মেহেদী হাসান নয়ন নামে এই স্বাপ্নিকের স্বপ্নের এই পথচলা হোক আরো সহজ এবং সুন্দর!

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker