ব্যবসা ও বাণিজ্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

বিখ্যাত পাঁচ নারী সিইও

মৃন্ময়ী মোহনা: সভ্যতার অগ্রযাত্রায় নারীপুরুষ উভয়ের অবদানই জরুরি। সময়ের সাথে সাথে পৃথিবী এ কথা ঠিকই বুঝে গেছে। তাইতো, কেবল ‘কম্ফোর্টেবল জোনে’ থেকে নয় বরং রীতিমত চ্যালেঞ্জিং কাজকর্মে নারীরা যুক্ত হচ্ছে এবং তাক লাগিয়ে দিচ্ছে বিশ্বকে। এমনই একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ হলো, CEO -এর দায়িত্ব পালন করা। এর কাজ সম্পর্কে গুগল বলে, ‘a chief executive officer, the highest-ranking person in a company or other institution, ultimately responsible for taking managerial decisions.’ বোঝাই যাচ্ছে, কত কাজের চাপ আর দায়িত্ব এই পদে। সারাবিশ্বে এখন পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী সিইওর উদ্ভব হয়েছে, যারা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো করে যাচ্ছে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। আজ তেমন ৫ জন নারী সিইও-এর গল্পই বলবো।

ইন্দ্রা নুয়ী (Indra Nooyi) : ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ নাগরিক ২০০১ সালে বিখ্যাত স্ন্যাকস অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানি ‘পেপসিকোর’ সিইও পদে বসেন। ১৯৯৪ সালে তিনি এখানে চাকরি শুরু করেন। কোম্পানিটি নিয়ে তিনি অনেক কাজ করেছেন। তিনিই প্রথম কোম্পানির পণ্যগুলোকে তিনভাগে ভাগ করেন- ‘Fun for you’, ‘better for you ‘ এবং Good for you’ – এই তিন নামে। বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় অসংখ্য বার তার নাম এসেছে। এছাড়া ২০১৫ সালে ‘Fortune’ এর করা তালিকার পৃথিবীর দ্বিতীয় সেরা প্রভাবশালী নারী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

জিনি রোমেট্রি (Ginny Rometty): বিশ্বের সুপরিচিত ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানি IBM এর সিইও তিনি। ১৯৮১ সালে তিনি এ কোম্পানিতে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগদান করেন। নিজের দক্ষতা ও কর্মে তিনি ধীরে ধীরে আরও উচ্চপদ অর্জন করতে থাকেন এবং অবশেষে ২০১২ সালে সিইও পদে আসীন হন। অ্যানালাটিকিস,ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কগনিটিভ কম্পিউটিং সিস্টেম নিয়ে তিনি বিস্তর কাজ করেছেন কোম্পানির হয়ে। ফোবর্স থেকে ফরচুন,টাইম প্রভৃতির প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় তাই বেশ কয়েকবার নাম লিখিয়েছেন তিনি।

মিশেল কুলি (Michelle Cully): ট্রান্সপোর্টেশন এজেন্সির ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী সিইও। তার কোম্পানির নাম Xpressman Trucking & Courier. ১৯৯৩ সালে তিনি এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে পারলেও তার ব্যক্তিজীবন ছিলো অনেক টানাপোড়েন এবং সমস্যায় জর্জরিত। তিনি একেও জয় করেন আত্মবিশ্বাসের সাথে। দুরবস্থা থেকে উত্তরণ ও প্রেরণা দেওয়ার জন্য নিজের জীবন নিয়ে বইও রচনা করেন। তাই শুধু সিইও নয়,বরং লেখক হিসেবেও তিনি আলো ছড়িয়েছেন।

ইউভনি ম্যাকলো (Yvonne Makolo) : রুয়ান্ডার অধিবাসী ম্যাকোলোর শিক্ষাজীবন কানাডায় কাটলেও কর্মজীবনে আবার রুয়ান্ডায় ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি রুয়ান্ডার নিজস্ব বিমান প্রতিষ্ঠান Rwandair এর সিইও পদে আছেন। তিনি একজন আইটি স্পেসালিস্টও বটে। গোটাবিশ্বে মাত্র যে ৪ জন নারী বিমান সংস্থায় সিইও হিসেবে আছেন,তাদের মধ্যে একজন তিনি।

ফেবে নোভাকোভিক (Phebe Novakovic): বিশ্বের সেরা আমেরিকান অ্যারোস্পেস কোম্পানি General Dynamics এর সিইও তিনি। সাবমেরিন এবং ট্যাঙ্ক তৈরিতে এ কোম্পানির সুনাম রয়েছে। এছাড়া ১৯৯৭-২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি ইউএস ডিফেন্স ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে পৃথিবীর সেরা প্রভাবশালী নারী হিসেবে তিনি তালিকাভুক্ত হন। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন উচ্চাভিলাষী এবং আত্মপ্রত্যয়ী। তার ক্যারিয়ারে কাজের বৈচিত্র্যময়তা তারই প্রমাণ।

নারীরা এভাবেই বৈচিত্র্যময় এবং চ্যালেঞ্জিং কাজে নিজেদের সেরা প্রমাণ করে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিশ্বকে এমনটাই প্রত্যাশা।

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker