ব্যবসা ও বাণিজ্যহোমপেজ স্লাইড ছবি

পৃথিবীর শীর্ষ পাঁচ ধনী যারা

মঞ্জুর দেওয়ান: পৃথিবীর মোট সম্পত্তির অর্ধেক রয়েছে মাত্র ২৬ জন মানুষের হাতে! হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন। ৭৬০ কোটি জনসংখ্যার এই পৃথিবীতে ২৬ জন ধনকুবেরের হাতে রয়েছে প্রায় অর্ধেক ধন সম্পত্তি। আলাদিনের চেরাগ কিংবা রূপকথার জাদুর কাঠি নয়; নিজেদের মেধা আর শ্রম দিয়ে বিপুল সংখ্যক সম্পত্তির মালিক হতে সক্ষম হয়েছেন তারা। পাহাড়সম সম্পদের মালিক হওয়ার নেপথ্যে কি ছিলো তা জানতে চলুন জেনে আসি পৃথিবীর শীর্ষ পাঁচ ধনীর জীবনের গল্প।

জেফ বেজোস: সময়ের আলোচিত ব্যক্তি জেফ বেজোস। যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনা শেষ করা বেজোস শুরুতে কাজ করেছেন বিভিন্ন ফাইনান্স কোম্পানিতে। কম্পিউটার প্রোগ্রামের সাথে কাজ করলেও থিতু হতে পারেননি অন্যের গড়া কোনো কোম্পানিতে। একবিংশ শতাব্দী প্রযুক্তির দখলে যাবে চিন্তা করে ৯০ এর দশকে-ই প্রস্তুতি নেন বেজোস। গড়ে তোলেন অ্যামাজন নামের অনলাইন বুক স্টোর। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অ্যামাজন একসময় বইয়ের পাশাপাশি সবধরনের পণ্য কেনাবেচার মাধ্যম হয়ে উঠে। বর্তমানে অ্যামাজনে নেই বলে কোনো পণ্য নেই! আসল পণ্য পেতে অ্যামাজনের জুড়ি নেই। মাত্র ১ লাখ ডলার নিয়ে অ্যামাজন শুরু করা বেজোস এখন সবচেয়ে ধনী। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 

বিল গেটস: শীর্ষ ধনী হিসেবে নিজেকে বহুবার পরিচিত করেছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। সর্বোচ্চ ধনী ট্যাগটি যেন বিল গেটসের নামের সাথে জুড়ে গিয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে শীর্ষ ধনীর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন এই ৬৩ বছর বয়সী। ৩০ বছর বয়সে মিলিয়নিয়ার হতে চাওয়া গেটস ৩১ বছর বয়সে হয়ে যান বিলিয়নিয়ার। পৃথিবীতে বিল গেটসের নামে কোনো দেশ থাকলে শীর্ষ ধনী তালিকায় থাকতো সেই দেশও! তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

 

ওয়ারেন বাফেট: ১৯৩০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহাতে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই অর্থ বিত্তের প্রতি বাড়তি আগ্রহ ছিলো বাফেটের। নিজের দাদার মুদি দোকানেও কাজ করেছেন। কথিত আছে, স্কুলে থাকাকালে পত্রিকা, কোকাকোলা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতেন বাফেট। শেয়ার বাজার আর বিনিয়োগের প্রতি অগাধ আগ্রহ থাকায় মাত্র দশ বছর বয়সেই নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ দেখতে নিউ ইয়র্কে আসেন। হাই স্কুলে থাকাকালে বাবার কিছু সম্পত্তি বিনিয়োগ করে খামার কিনেন বাফেট! বর্তমানে সেই বাফেট পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সামলাচ্ছেন তিনি। মার্কিন ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট ‘ওরাকল অব ওমাহা’ নামেও পরিচিত। ৮৯ বছর বয়সী বাফেটকে সময়ের সেরা বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমেরিকার বহুজাতিক সমন্বিত বিনিয়োগয়ারী কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ইনকর্পোরেটেড পরিচালনা করেন। যেটি ৬০ টি’র বেশি কোম্পানির মালিক। যার মধ্যে রয়েছে ইন্সুরেন্স কোম্পানি জেইকো, ব্যাটারি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডুরাসেল। বিভিন্ন আইটেমের খাবারের সমারোহ সম্পন্ন ডেইরি কুইন তো রয়েছেই। মার্স ইনকর্পোরেটেড, কোকাকোলা, ওয়েলস ফার্গো ও আইবিএম এর বৃহদাংশ শেয়ারেরও মালিক। ৭৯ বিলিয়ন ডলারের মালিক বাফেট তার সম্পত্তির ৯৯ ভাগ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছেন।

 

বার্নার্ড আর্নল্ট: পুরো নাম বার্নার্ড ইতিয়েনি আর্নল্ট। ৭০ বছর বয়সী আর্নল্ট বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বিলাসবহুল সামগ্রী প্রস্তুত করে। বিশ্বখ্যাত বিলাসবহুল সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান LVMH এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী তিনি। তার কোম্পানির পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, ফ্যাশন সামগ্রী, জুয়েলারি, সুগন্ধি, ঘড়ি, ওয়াইন ছাড়াও নানাবিধ পণ্য। ৩২ বছরের অধিক সময় ধরে বিশ্বব্যাপী এসব সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন আর্নল্ট। ইউরোপের শীর্ষ ধনী বনে গেছেন অনেক আগেই। ফোর্বসের মতে পৃথিবীর দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী এখন বার্নার্ড আর্নল্ট ! তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০৮ বিলিয়ন ডলার।

 

আমানসিও অর্তেগা: ইনডিটেক্স ফ্যাশন গ্রুপ অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও জারা ফ্যাশন কারোও কাছে অজানা

থাকবার কথা নয়। যারা টুকটাক ফ্যাশনের খোঁজ খবর রাখেন তাদের কাছে জারা ফ্যাশন অত্যন্ত পরিচিত নাম। এর ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার আমানসিও অর্তেগা। বার্নার্ড আর্নল্ট এর পরের অবস্থানে রয়েছেন তিনি। ইউরোপের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী আমানসিও অর্তেগা। ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে পৃথিবীর শীর্ষ ধনীদের একজন ৮৩ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ব্যবসায়ী।

 

Related Articles

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker