বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭
webmail
Mon, 01 Jul, 2013 01:46:33 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন বার্তা ডটকম

ঢাকা: বাংলাদেশে প্রতিলাখে ১৯৪ প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। যার ফলে প্রতিবছর প্রসবকালে ১৫ হাজার মায়ের মৃত্যু হয়। এছাড়াও অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীর হাতে শতকরা ৮০ শতাংশ সন্তানের মৃত্যু হয় ২০১১ সালের সরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ ও এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘চর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মাতৃস্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা: সমস্যা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ তথ্য দেয়া হয়।

আলোচনা সভায় চর ও উপকূলীয় অঞ্চলের বিশেষ করে সন্দ্বীপ, পটিয়া, কাজীপুর ও উল্লাপাড়া উপরে একটি গবেষণা তুলে ধরা হয়। গবেষণাপত্রটি উপাস্থাপন করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর মেসবাহ কামাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালমা আক্তার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার, প্রফেসর ডা. সিরাজুল আকবর, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামিনা চৌধুরী, এবং চার এলাকার প্রতিনিধিরা। সভাপতিত্ব করেন নারী নেত্রী রোকেয়া কবির।

সন্দ্বীপ
গবেষনায় বলা হয়, সন্দ্বীপে স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা বিভাগে ১২০ জন মাঠকর্মী এবং ২৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী রয়েছে। তবে বেশিরভাগ প্রশিক্ষণবিহীন ধাত্রীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীরা পাঁচ হাজার টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত সেবা দেন না। কমিউনিটি ক্লিনিকে ডাক্তার না থাকায় গত এক বছরে ১২ জন মায়ের মৃত্যু ঘটেছে।

এছাড়াও বাল্যবিবাহকে মাতৃমৃত্যুর কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ অপ্রাপ্ত বয়সে নারীর গর্ভধারণের ফলে মৃত্যু ঘটে। ৬৫ শতাংশ নারীর বিয়ে হয় ১৮ বছর বয়সে।

গবেষণায় ওঠে এসেছে, বাড়িতে ৯৬.৫ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে যাদের মধ্যে ৮৮.৪ শতাংশ অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে আর প্র্রশিক্ষিত ধাত্রীতের হাতে ৮.১ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়। এছাড়া ১.৭ জন শিশুর জন্ম হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ০.৬ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এবং ১.২ শতাংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে।
প্রতিবছর স্কুল থেকে .৯ শতাংশ বাদ পড়েছে। ঝরে পড়েছে ১৪.২ শতাংশ।

পটিয়া
পটিয়ায় ১৬.৭ শতাংশ মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে প্রসূতির কারণে। এ এলাকায় ৭০.৫ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে যার ৪৪.৪ শতাংশ অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। ২৬.১ শতাংশ প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। এছাড়া ১৬.৩ জন শিশুর জন্ম হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৯.৮ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এবং ৩.৩ শতাংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে।
পটিয়ায় স্কুল থেকে ছেলে মেয়েদের মধ্যে ১০ শতাংশ ঝরে পড়েছে।

কাজীপুর
কাজীপুরে মৃত্যুহার খুবই কম। তার মধ্যেও যেসব মৃত্যুঘটে তা বাল্যবিবাহের কারণে। এ এলাকায় ৯৮ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে যার ৯৫.৯ শতাংশ অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। ২.১ শতাংশ প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। এছাড়া .৭ জন শিশুর জন্ম হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, .৭ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এবং .৭ শতাংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে।

উল্লাপাড়া
কাজীপুরেও মৃত্যুর পেছনে বাল্যবিবাহকে দায়ী করা হয়েছে। এ এলাকায় ৮৪.৮ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে যার ৭৯.৭ শতাংশ অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। ৫.১ শতাংশ প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। এছাড়া ৭.২ জন শিশুর জন্ম হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৪.৩ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এবং ৩.৬ শতাংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে। অন্যদিকে প্রতিবছর ২৬.৫ শতাংশ মা প্রজননস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে বলেও জানান।

উল্লাপাড়ায় বাদ পড়েছে ৫-১০ শতাংশ। আর ঝরে পরেছে ৭ শতাংশ।

এ সময় গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে শনাক্ত সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটারের জন্য সার্জন নিয়োগ দেয়া, সিজারিয়ান অপারেশন চালু, আল্ট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থা করা, ব্যবহারোপযোগী অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, সি-অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহৃত স্পিডবোট সচল ও স্টিমার সার্ভিস নিয়মিত করার সুপারিশ জানানো  হয়। এছাড়া নৌ-পরিবহণ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাবিবুন নাহার এমপি’র হাতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

নতুন বার্তা/নিমা/জবা


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top