শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭
webmail
Sat, 01 Mar, 2014 10:20:41 PM
উন্নয়ন অন্বেষণের পর্যালোচনা
নতুন বার্তা ডেস্ক

ঢাকা: এবারও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সংকোচন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, এমনকি জিডিপি প্রবৃদ্ধির দশকীয় গড়হার ছয় শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিষ্ঠানটির ‘রাজস্ব আদায়, সরকারি বিনিয়োগ এবং ঋণ’ শিরোনামে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় এসব উঠে এসেছে।

উন্নয়ন অন্বেষণের পর্যালোচনায় জিডিপি সংকোচনের পেছনে রাজস্ব আদায়ের গতি হ্রাস, ঋণের বোঝা বৃদ্ধি ও সরকারি বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
 
পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধির হ্রাসমানতা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে টানা তৃতীয়বারের মতো সংকোচন ঘটাবে। এর আগে ২০১০-১১ অর্থবছরের ৬.৭১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০১১-১২ অর্থবছরে নেমে আসে ৬.২৩ শতাংশে। আর গত অর্থবছরে তা আরো কমে ৬.৩ শতাংশে দাঁড়ায়।

প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে বর্তমান অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশকীয় গড়হার ছয় শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এমনকি ৫.৬৫ শতাংশের কাছাকাছি নেমে যেতে পারে।

রাজস্ব আদায়ের চাপ বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে দেবে উল্লেখ করে উন্নয়ন অন্বেষণের পর্যালোচনায় বলা হয়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪.৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। তাতে মোট সরকারি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের চেয়ে বাড়ল তিন হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। সরকারি ঋণের এই ক্রমবর্ধমান ধারা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ ফেলবে। আর ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে কমে যাচ্ছে সামাজিক খাতে বরাদ্দ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির পর্যালোচনায় বলা হয়, দেশের রাজস্বব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ প্রথমত, ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতা; দ্বিতীয়ত, ঘাটতি অর্থায়ন রাজস্ব গুণকে প্রভাব ফেলতে না পারা; তৃতীয়ত, বাংলাদেশে বিদ্যমান পশ্চাৎগামী করকাঠামো এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকৃত ব্যয়ের হ্রাস। আর এর ফলে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্য সংযোজন করের মতো আয়নিরপেক্ষ করের বেশির ভাগ বোঝা বহন করতে হয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন মতে, যদি রাজস্ব আদায়ের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকে, তবে প্রকৃত রাজস্ব সংগ্রহ গত অর্থবছরের ১৪.২ শতাংশ থেকে কমে চলতি অর্থবছরে ৯.৩ শতাংশ দাঁড়াতে পারে।

রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে নিট কর করজাল, করভার, করফাঁকি এবং কৌশলে কর পরিহারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব করেছে উন্নয়ন অন্বেষণ।

নতুন বার্তা/মোআ


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top