শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭
webmail
Fri, 14 Apr, 2017 08:44:33 AM
নতুন বার্তা ডেস্ক

পহেলা বৈশাখের মহিমা প্রসঙ্গে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী। কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ, সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ, সেদিন সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া বৃহৎ।’

প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানী ঢাকায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পীরা রমনার বটমূলে সম্মিলিত কন্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে গ্রহন করবে পরম হৃদ্যতায়। ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে প্রতিবছর এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করে আসছে।

ঢাকার বৈশাখী উৎসবের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট সকালে এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহরের পথ ঘুরে চারুকলা ইনস্টিটিউটে এসে মাতোয়ারা হয় উৎসবের আনন্দে। ১৯৮৯ সাল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

পহেলা বৈশাখের ইতিহাস
১৫৮৪ সালের ১০ মার্চ বা ১১ মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।

বাংলা দিনপঞ্জীর সঙ্গে হিজরি ও খ্রিস্টীয় সনের মৌলিক পার্থক্য হলো হিজরি সন চাঁদের হিসাবে এবং খিস্ট্রীয় সন ঘড়ির হিসাবে চলে। এ কারণে হিজরি সনে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় নতুন চাঁদের আগমনে। ইংরেজি দিন শুরু হয় মধ্যরাতে। আর বাংলা সনের দিন শুরু হয় ভোরে, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে। কাজেই সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বাঙালির পহেলা বৈশাখের উৎসব।

ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করতো। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলতো না। ফলে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হতো। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের জন্য মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন।

আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্ত্তণ ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকাণ্ডের কথা জানা যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় হয়নি।

ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠির অনুষ্ঠান
বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্রজাতিস্বত্তার উৎসব হয় পহেলা বৈশাখে। ত্রিপুরাদের বৈশুখ, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব। বর্তমানে তিনটি জাতিস্বত্ত্বা একত্রে এই উৎসবটি পালন করে। যৌথ এই উৎসবের নাম বৈসাবি। এর মধ্যে একটি হলো মার্মাদের পানি উৎসব।

বাংলা মাসসমূহের নামকরণ
বাংলা মাসসমূহের নামকরণ করা হয় কিছু নক্ষত্রে নামানুসারে। ‘বৈশাখ’ মাসের নাম রাখা হয় বিশাখা নত্রের নাম অনুসারে।, ‘জ্যৈষ্ঠ’ মাস জ্যেষ্ঠা নত্রের নাম অনুসারে, ‘আষাঢ’ উত্তরাষাঢ়া নত্রের নাম অনুসারে, ‘শ্রাবণ’ শ্রবণা নত্রের নাম অনুসারে।

‘ভাদ্র’ নামটি আসে পূর্বভাদ্রপদ নত্রের নাম অনুসারে, ‘আশ্বিন’ অশ্বিনী নত্রের নাম অনুসারে, ‘কার্তিক’ কৃত্তিকা নত্রের নাম অনুসারে, ‘অগ্রহায়ণ’ মৃগশিরা নত্রের নাম অনুসারে, ‘পৌষ’ পুষ্যা নত্রের নাম অনুসারে, ‘মাঘ’ মঘা নত্রের নাম অনুসারে, ‘ফাল্গুন’ উত্তরফাল্গুনী নত্রের নাম অনুসারে, ‘চৈত্র’ চিত্রা নত্রের নাম অনুসারে।


Print
আরো খবর
    সর্বশেষ সংবাদ


    শিরোনাম
    Top